'জীবন-সঙ্গীত' কবিতাটির ইংরেজি নাম 'A Psalm of Life'।
মানুষের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান; তাই কবি 'বৃথা জন্ম এ সংসারে' বলতে নিষেধ করেছেন।
মানুষ নানা কারণে আশাহত হয়ে নিজের জীবনকে ব্যর্থ মনে করে হতাশায় ভোগে, যা কোনোক্রমেই উচিত নয়। কারণ মানুষের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান। অন্যদিকে জগতের কল্যাণের জন্য মানুষের জীবন। শুধু ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখে মানুষের কাতর হওয়া মানবতাবোধ-বিরোধী। তিনি মনে করেন ছোট্ট এ জীবন যুদ্ধক্ষেত্রের মতো। সেখানে যুদ্ধ করে নিজের জীবনের মহিমাকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কাজেই 'বৃথা জন্ম' বলে হতাশ না হয়ে জীবনকে কর্মময় করে তুলতে হবে।
'জীবন-সঙ্গীত' কবিতার মানবজীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।
সাধারণ মানুষ সংসার বলতে শুধু নিজের চারপাশের আত্মীয়স্বজনকেই বোঝে। কিন্তু মহৎ হৃদয় মানুষের কাছে সমগ্র বিশ্বই তাঁদের সংসার। তাঁরা দুঃখে-সুখে মগ্ন হয়ে থাকতে পারেন না। সুন্দর জীবনটাকে মানবজাতির কল্যাণে উৎসর্গ করাই তাঁদের একমাত্র উদ্দেশ্য।
উদ্দীপকের কবি নিজের জীবনের শেষ রক্তবিন্দুর বিনিময়ে পৃথিবীকে জঞ্জালমুক্ত করার প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করেছেন। তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে বসবাস উপযোগী করতে চান। আর সেই মহতী হাতে আশীর্বাদ করতে চান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। তার আগ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণও করতে চান না। 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায়ও আমরা এই সুন্দর আর মহৎ আহ্বানটিই শুনতে পাই। সেখানে সংসারে সংসারী সেজে নিজের কাজ নিয়মিত করে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্য দিয়েই বিশ্বের কল্যাণ সাধিত হবে।
"জীবন-সঙ্গীত' কবিতা ও উদ্দীপকের মূল সুরই হচ্ছে জীবনবাদ।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
সময় গতিশীল, জীবনও তারই সঙ্গে চলে। সময় অসীম কিন্তু জীবন ক্ষুদ্র, পদ্মপাতার নীরের মতো। তাই এ জীবনে অতীত বা ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করে কাতর হওয়া ঠিক না। মহাজ্ঞানী ও মহাজনের পথ অনুসরণ করে জীবনকে সার্থক করে তুলতে হবে। আর জীবনকে ভালোবাসতে হবে। জীবনকে ভালোবাসাই হলো জীবনবাদের মূল কথা।
উদ্দীপকেও আমরা একই সুরের প্রতিধ্বনি শুনতে পাই। জীবন অবিনশ্বর নয়। অথচ এখানে কর্মের মধ্য দিয়ে জীবনকে অবিনশ্বর করে তোলার কথা বলা হয়েছে। 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় পৃথিবীকে সুন্দর করার তথা সমগ্র সংসারকে সুন্দর করার মাধ্যমে জীবনেরই জয়গান করেছেন কবি। তাই জীবনকে হতাশায় জড়িয়ে বৃথা ক্ষয় করা উচিত নয়। নিজের জীবনকে সাফল্যমণ্ডিত করে তোলার জন্য লক্ষ্য স্থির করতে হবে। কাজের মাধ্যমে সেই লক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করতে হবে।
সময় নদীর স্রোতের মতোই বহমান। কারও জন্য অপেক্ষা করে না। 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় তাই সময়কে শৈবালে জমে থাকা জলের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। উদ্দীপকের কবিও বৃথা সময় অপচয় করতে রাজি নন। যতক্ষণ দেহে প্রাণ আছে এ পৃথিবীর জঞ্জাল সরিয়ে তিনি নবজাতকের বাসযোগ্য বিশ্ব গড়ে তুলতে চান। এখানেই উদ্দীপক ও 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতার আবেদন সার্থক হয়ে উঠেছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!