চলে যাবো- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ

প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,

এ বিশ্বকে এ-শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি- 

নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।

অবশেষে সব কাজ সেরে, 

আমার দেহের রক্তে নতুন শিশুকে

করে যাব আশীর্বাদ, 

তারপর হব ইতিহাস ॥

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

'জীবন-সঙ্গীত' কবিতাটির ইংরেজি নাম 'A Psalm of Life'।

উত্তরঃ

মানুষের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান; তাই কবি 'বৃথা জন্ম এ সংসারে' বলতে নিষেধ করেছেন। 

মানুষ নানা কারণে আশাহত হয়ে নিজের জীবনকে ব্যর্থ মনে করে হতাশায় ভোগে, যা কোনোক্রমেই উচিত নয়। কারণ মানুষের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান। অন্যদিকে জগতের কল্যাণের জন্য মানুষের জীবন। শুধু ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখে মানুষের কাতর হওয়া মানবতাবোধ-বিরোধী। তিনি মনে করেন ছোট্ট এ জীবন যুদ্ধক্ষেত্রের মতো। সেখানে যুদ্ধ করে নিজের জীবনের মহিমাকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কাজেই 'বৃথা জন্ম' বলে হতাশ না হয়ে জীবনকে কর্মময় করে তুলতে হবে।

উত্তরঃ

'জীবন-সঙ্গীত' কবিতার মানবজীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।

সাধারণ মানুষ সংসার বলতে শুধু নিজের চারপাশের আত্মীয়স্বজনকেই বোঝে। কিন্তু মহৎ হৃদয় মানুষের কাছে সমগ্র বিশ্বই তাঁদের সংসার। তাঁরা দুঃখে-সুখে মগ্ন হয়ে থাকতে পারেন না। সুন্দর জীবনটাকে মানবজাতির কল্যাণে উৎসর্গ করাই তাঁদের একমাত্র উদ্দেশ্য।

উদ্দীপকের কবি নিজের জীবনের শেষ রক্তবিন্দুর বিনিময়ে পৃথিবীকে জঞ্জালমুক্ত করার প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করেছেন। তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে বসবাস উপযোগী করতে চান। আর সেই মহতী হাতে আশীর্বাদ করতে চান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। তার আগ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণও করতে চান না। 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায়ও আমরা এই সুন্দর আর মহৎ আহ্বানটিই শুনতে পাই। সেখানে সংসারে সংসারী সেজে নিজের কাজ নিয়মিত করে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্য দিয়েই বিশ্বের কল্যাণ সাধিত হবে।

উত্তরঃ

"জীবন-সঙ্গীত' কবিতা ও উদ্দীপকের মূল সুরই হচ্ছে জীবনবাদ।"- মন্তব্যটি যথার্থ। 

সময় গতিশীল, জীবনও তারই সঙ্গে চলে। সময় অসীম কিন্তু জীবন ক্ষুদ্র, পদ্মপাতার নীরের মতো। তাই এ জীবনে অতীত বা ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করে কাতর হওয়া ঠিক না। মহাজ্ঞানী ও মহাজনের পথ অনুসরণ করে জীবনকে সার্থক করে তুলতে হবে। আর জীবনকে ভালোবাসতে হবে। জীবনকে ভালোবাসাই হলো জীবনবাদের মূল কথা।

উদ্দীপকেও আমরা একই সুরের প্রতিধ্বনি শুনতে পাই। জীবন অবিনশ্বর নয়। অথচ এখানে কর্মের মধ্য দিয়ে জীবনকে অবিনশ্বর করে তোলার কথা বলা হয়েছে। 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় পৃথিবীকে সুন্দর করার তথা সমগ্র সংসারকে সুন্দর করার মাধ্যমে জীবনেরই জয়গান করেছেন কবি। তাই জীবনকে হতাশায় জড়িয়ে বৃথা ক্ষয় করা উচিত নয়। নিজের জীবনকে সাফল্যমণ্ডিত করে তোলার জন্য লক্ষ্য স্থির করতে হবে। কাজের মাধ্যমে সেই লক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করতে হবে।

সময় নদীর স্রোতের মতোই বহমান। কারও জন্য অপেক্ষা করে না। 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় তাই সময়কে শৈবালে জমে থাকা জলের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। উদ্দীপকের কবিও বৃথা সময় অপচয় করতে রাজি নন। যতক্ষণ দেহে প্রাণ আছে এ পৃথিবীর জঞ্জাল সরিয়ে তিনি নবজাতকের বাসযোগ্য বিশ্ব গড়ে তুলতে চান। এখানেই উদ্দীপক ও 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতার আবেদন সার্থক হয়ে উঠেছে।

636

বলো না কাতর স্বরে                    বৃথা জন্ম এ সংসারে

                       এ জীবন নিশার স্বপন,

দারা পুত্র পরিবার                        তুমি কার কে তোমার

                     বলে জীব করো না ক্ৰন্দন;

মানব-জনম সার,                        এমন পাবে না আর

                     বাহ্যদৃশ্যে ভুলো না রে মন;

কর যত্ন হবে জয়,                        জীবাত্মা অনিত্য নয়

                     ওহে জীব কর আকিঞ্চন ।

করো না সুখের আশ,                    পরো না দুখের ফাঁস

                      জীবনের উদ্দেশ্য তা নয়,

সংসারে সংসারী সাজ,                    করো নিত্য নিজ কাজ,

                      ভবের উন্নতি যাতে হয় ।

দিন যায় ক্ষণ যায়,                          সময় কাহারো নয়,

                      বেগে ধায় নাহি রহে স্থির,

সহায় সম্পদ বল,                            সকলি ঘুচায় কাল,

                       আয়ু যেন শৈবালের নীর ।

সংসার-সমরাঙ্গনে                           যুদ্ধ কর দৃঢ়পণে,

                        ভয়ে ভীত হইও না মানব;

কর যুদ্ধ বীর্যবান,                            যায় যাবে যাক প্ৰাণ

                          মহিমাই জগতে দুর্লভ।

মনোহর মূর্তি হেরে,                          ওহে জীব অন্ধকারে,

                          ভবিষ্যতে করো না নির্ভর

অতীত সুখের দিনে,                         পুনঃ আর ডেকে এনে,

                            চিন্তা করে হইও না কাতর ।

মহাজ্ঞানী মহাজন,                          যে পথে করে গমন,
                          হয়েছেন প্রাতঃস্মরণীয়,

সেই পথ লক্ষ্য করে                         স্বীয় কীর্তি ধ্বজা ধরে

                          আমরাও হব বরণীয়

সমর-সাগর-তীরে,                         পদাঙ্ক অঙ্কিত করে

                         আমরাও হব হে অমর;

সেই চিহ্ন লক্ষ করে,                     অন্য কোনো জন পরে,

                         যশোদ্বারে আসিবে সত্বর ।

করো না মানবগণ,                      বৃথা ক্ষয় এ জীবন,

                        সংসার-সমরাঙ্গন মাঝে;

সঙ্কল্প করেছ যাহা,                       সাধন করহ তাহা,

                       রত হয়ে নিজ নিজ কাজে ।
 

Related Question

View All
উত্তরঃ

'বাহ্যদৃশ্য' শব্দের অর্থ বাইরের জগতের চাকচিক্যময় রূপ বা জিনিস।

Sharif
Sharif
2 years ago
2.3k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews