সামাজিক মূল্যবোধ হলো সামাজিক মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করার নীতি ও আদর্শ।
রাষ্ট্র প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধাকে অধিকার বলা হয়। অধিকার বলতে বোঝায় সমাজের সকলের জন্য কল্যাণকর কতকগুলো সুযোগ-সুবিধা। অধিকার ব্যতীত ব্যক্তির জীবনের পরিপূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়। অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত, অনুমোদিত ও সংরক্ষিত হয়। রাষ্ট্রের অনুমোদন ব্যতীত কোনো সুযোগ-সুবিধা অধিকার বলে গণ্য হয় না।
এর লেকচার লেকড়াত লেকচার শোকচার
এজন্য বলা হয় রাষ্ট্র প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধাই হলো অধিকার।
উদ্দীপকের আলোকে জাফর সাহেবের জীবনে সামাজিক মূল্যবোধের যে সব উপাদান ফুটে উঠেছে তা নিচে আলোচনা করা হলো-
নাগরিক সচেতনতা ও কর্তব্যবোধ
নাগরিক সচেতনতা ও কর্তব্যবোধ নাগরিকের অন্যতম গুণ। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নাগরিকদের যেমন অধিকার দান করেছে, তেমনি তাদের নিকট কিছু কিছু কর্তব্যও দাবি করে। উদ্দীপকে জাফর সাহেব সচেতন নাগরিক হওয়ায় সে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সত্ত্বেও সবসময় অন্যের কল্যাণের কথা ভাবেন। এজন্য জাফর সাহেবের জীবনে সামাজিক মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান নাগরিক সচেতনতা ও কর্তব্যবোধ ফুটে উঠেছে।
নীতি ও ঐতিহ্যবোধ যে সমাজের নাগরিকের মধ্যে নীতি ও
ঐতিহ্যবোধ যত বিকশিত হয়েছে সে সমাজের নাগরিকদের জীবনে সামাজিক মূল্যবোধ ততো বেশি সুদৃঢ় হয়েছে। সমাজে কারো ক্ষতি না করা, কারো মনে কষ্ট না দেওয়া, অন্যের মঙ্গল কামনা করাই হচ্ছে নীতি ও ঐতিহ্যবোধ। উদ্দীপকে জাফর সাহেবের জীবনে সামাজিক মূল্যবোধের এই উপাদানটিও পরিলক্ষিত হয়েছে। কেননা তিনি অন্যের কল্যাণের কথা ভাবেন।
সামাজিক ন্যায়বিচার: সামাজিক ন্যায়বিচার সামাজিক মূল্যবোধের
অন্যতম একটি উপাদান। সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হলেই ব্যক্তি স্বাধীনতা ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষিত হবে। উদ্দীপকে জাফর সাহেব। সকল মানুষের সুবিচার পাওয়ার জন্য যেহেতু নিরন্তন চেষ্টা করেন সেহেতু তার মধ্যে সামাজিক মূল্যবোধের এই উপাদানটিও পরিলক্ষিত হয়েছে।
সততা: সততা সামাজিক মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। উদ্দীপকে জাফর সাহেবের মধ্যে সামাজিক মূল্যবোধের এই উপাদানটিও লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে বর্ণিত সামাজিক মূল্যবোধের উপাদান ছাড়াও আরও যেসব উপাদান রয়েছে সে সব উপাদানসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
আইনের শাসন: আইনের শাসন সামাজিক মূল্যবোধের সর্বাপেক্ষা
গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ব্যক্তির স্বাধীনতা, সাম্য ও অধিকার রক্ষার জন্য আইনের শাসন অপরিহার্য। আইনের শাসন না থাকলে জনগণ তাদের অধিকার পায় না এবং জনগণের মধ্যে সামাজিক মূল্যবোধ ও জাগ্রত হয় না। এ জন্য আইনের শাসন সামাজিক মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ। উপাদান, যা উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি।
সৌজন্যবোধ: সৌজন্যবোধ সামাজিক মূল্যবোধের অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কার সাথে কীরূপ ব্যবহার করতে হবে এবং কে কতটুকু সম্মান পাওয়ার অধিকারী এ বিষয়গুলো সামাজিক মূল্যবোধ থেকে নাগরিকগণ শিখে থাকে। এ উপাদানটিও উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি।
শৃঙ্খলাবোধ: বিশ্বে যে জাতি যতবেশি শৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত। সমাজজীবনের সর্বক্ষেত্রে পরিবার থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ, অফিস, আদালত সর্বত্র শৃঙ্খলার প্রয়োজন। শৃঙ্খলা মানুষের সামাজিক মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করে। এ উপাদানটিও উদ্দীপকে উল্লেখ নেই।
সহনশীলতা: সহনশীলতা সুনাগরিকের অন্যতম গুণ। নাগরিকের মধ্যে অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা করার মতো সহিষ্ণুতা থাকতে হবে। কেননা সামাজিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে সহনশীলতা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান।
উদ্দীপকে বর্ণিত সামাজিক মূল্যবোধের পাশাপাশি উপরোক্ত উপাদানগুলোও সামাজিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করে।
Related Question
View Allআইন হলো- সার্বভৌম শাসকের আদেশ"- কথাটি বলেছেন জন অস্টিন।
সুশাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো আইনের শাসন।
আইনের শাসন বলতে মূলত বোঝানো হয় রাষ্ট্রীয় জীবনে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মানবাধিকারের সংরক্ষণকে। সংখ্যালঘু ও রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এর শর্ত। স্বাধীন নিরপেক্ষ এবং দুর্নীতিমুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। এটি জনগণের অধিকার রক্ষার রক্ষাকবচ।
আইনের শাসন গণতন্ত্রের ভিত্তি। মমতাজ সাহেব গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় লেখনী ধারণ করেন।
তিনি আইনের শাসনকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় মূল্যবোধের বিকাশের মূল হিসেবে দেখেছেন। যথাযথ আইনের শাসনের মাধ্যমে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। জনগণের জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির নিশ্চয়তা লাভ করে। আইনের শাসনের মাধ্যমে 'সকল নাগরিক সমান' এ নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগে সমান সুযোগের ভিত্তিতে সবাই বিচার লাভ করবে। দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে সবাই নিরাপত্তা লাভ করবে। আইনের শাসনের এ বিষয়গুলো মূলত গণতন্ত্রের সাথে খুব ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রধানত সংখ্যাগুরুর মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত শাসনব্যবস্থা। এতে সংখ্যালঘুরাও সমান সুযোগ পাবে, মত প্রকাশের সমান অধিকার থাকবে। আইনের শাসন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে, গণতন্ত্র চর্চাকে পরিশীলিত করে এবং সুশাসন নিশ্চিত করে।
প্রচলিত সাধারণ অর্থানুসারে আইন হলো কতকগুলো বিবিবিধান যা মানুষ সামাজিক প্রাণী হিসেবে মানতে বাধ্য থাকে। অন্যদিকে, স্বাধীনতা বলতে যা খুশি তাই করার ক্ষমতাকে বোঝায়। আপাতদৃষ্টিতে আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী দুটি বিষয়। কিন্তু মমতাজ সাহেবের উত্থাপিত বিষয়টি আমাদেরকে বলতে চাচ্ছে যে, আইন স্বাধীনতার সহায়ক।
বস্তুত আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। আইন স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক। আইন না থাকলে স্বাধীনতা থাকতে পারে না। আইন আছে বলেই স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করা যায়। আইন স্বাধীনতাকে সম্প্রসারিত করে। উইলোবি এজন্যই বলেছেন যে, "আইন আছে বলেই স্বাধীনতা রক্ষা পায়।" অন্যদিকে, স্বাধীনতা না থাকলে আইন অর্থহীন হয়ে যায়। কেননা পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকলে আইনের প্রয়োগ সম্ভব হয় না। আইন আছে বলেই কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আইনের বলেই স্বাধীন বাংলার মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার ফিরে পেয়েছে। আইন না থাকলে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার অর্থহীন হয়ে যায়। আইনের মাধ্যমে প্রাপ্ত অধিকার দ্বারাই জনগণ সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে স্বাধীনতা লাভ করে। আইন না থাকলে দুর্বলের স্বাধীনতা রক্ষা করা কতটা সম্ভব হতো তা প্রশ্ন সাপেক্ষ ব্যাপার। এজন্যই বলা যায়, সাংবাদিক মমতাজ সাহেবের উত্থাপিত বিষয়টি যথার্থ।
আব্রাহাম লিংকন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট।
মূল্যবোধ বলতে তুলনামূলক অর্থমূল্য বা অন্তর্নিহিত গুণাবলিকে বোঝানো হয়। আর সমাজে প্রচলিত মূল্যবোধ বলতে বোঝানো হয় এমন রীতিনীতি, আদর্শ ও লক্ষ্য যা সামাজিকভাবে অনুমোদিত এবং সমর্থিত। সমাজের বৃহত্তর অংশ দ্বারা মূল্যবোধ সমর্থিত হতে হবে। এটি কোনো স্থির বিষয় নয়। সমাজ-স্থান-কাল-পাত্রভেদে মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!