ডা. চন্দ্রার গৃহকর্মীর বদহজম হওয়ায় গৃহকর্মী বিশ্রাম নিচ্ছেন। হঠাৎ বাড়ির ফ্রিজটি বিকল হওয়ায় ডা. চন্দ্রা বাজার থেকে আনা কাঁচা মাছ, মাংস, লবণ, হলুদ, বেকিং পাউডার এবং ভিনেগার নিয়ে চিন্তায় পড়লেন। ইতোমধ্যে গৃহকর্মী গোপনে বেকিং পাউডার খেয়ে সুস্থবোধ করলেন। ডা. চন্দ্রা ঘটনাটি জেনে, ভবিষ্যতে তাকে এটি না খেতে নিষেধ করলেন।
গীতাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে ডা. চন্দ্রা মাছ-মাংস সংরক্ষণের জন্য গৃহকর্মীকে উদ্দীপকে বিদ্যমান বস্তুগুলোর মধ্যে থেকে ভিনেগার ব্যবহার করতে বলবেন।
ভিনেগার হচ্ছে, অ্যাসিটিক এসিডের (CH3COOH) 5-6% জলীয় দ্রবণ। এটি জলীয় দ্রবণে আংশিক বিয়োজিত হয়ে কমসংখ্যক H+ আয়ন উৎপন্ন করে। ফলে ভিনেগারের pH এর মান 7 অপেক্ষা কম হয়।
মাছ-মাংস বা যে কোন খাদ্য দ্রব্য পচনের জন্য দায়ী হচ্ছে ব্যাকটেরিয়া। তাই ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করতে পারলেই মাছ-মাংস পচনের হাত থেকে রক্ষা পায়। ভিনেগারে বিদ্যমান H+ আয়ন, ব্যাকটেরিয়ার প্রোটিন ও ফ্যাটকে আর্দ্র বিশ্লেষিত করে, ফলে ব্যাকটেরিয়া মরে যায়। এতে করে মাছ মাংস পচনের হাত থেকে রক্ষা পায়। তাই ডা. চন্দ্রা গৃহকর্মীকে মাছ-মাংস সংরক্ষণের জন্য গৃহকর্মীকে ভিনেগার বা সিরকা ব্যবহার করতে বলেন।
আমরা মাটির উর্বরতা বাড়ানোর জন্য জমিতে বিভিন্ন প্রকার সার দেই। এই সার মূলত রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা তৈরি। তোমরা কি জানো? পাউরুটি ফোলানোর জন্য আমরা ময়দার মধ্যে বেকিং সোডা ব্যবহার করি। কোনো খাদ্য দীর্ঘদিন বাড়িতে রেখে দেওয়ার জন্য ভিনেগার বা অন্যান্য ফুড প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করি। এসব কিছুই রাসায়নিক পদার্থ। আবার, শিল্পকারখানার যে সকল বর্জ্য পরিবেশকে দূষিত করে সেগুলোও রাসায়নিক পদার্থ। আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসায়নিক পদার্থের ভূমিকা রয়েছে। এ সকল রাসায়নিক পদার্থ কীভাবে প্রস্তুত করা হয়, এগুলোর ধর্ম, ব্যবহার ইত্যাদি এই অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?