সমাজকর্মের একটি উল্লেখযোগ্য মূল্যবোধ হলো সকলকে সমান সুযোগ দান।
জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার অন্তর্নিহিত পৃথক সত্তা ও মর্যাদার স্বীকৃতি প্রদান করাকে ব্যক্তি মর্যাদার স্বীকৃতি বলে।
সমাজকর্মে বিশ্বাস করা হয়, সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তিই বিশেষ মর্যাদা ও মূল্যের অধিকারী। আর পৃথক সত্তার স্বীকৃতিদান ব্যতীত যেমন মানুষের কল্যাণ আনয়ন সম্ভব নয়, তেমনি সমাজের কল্যাণও অসম্ভব। তাই সমাজকর্মে পৃথক সত্তার কোনো একটিকে নয় বরং সকল শ্রেণির মানুষের সমান মর্যাদা প্রদান করাই হলো ব্যক্তি মর্যাদার স্বীকৃতি।
সমাজকর্মী হিসেবে মেহনাজের কাজে যেসব গুণাবলি ফুটে উঠেছে তা হলো- গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আত্মনিয়ন্ত্রণে বিশ্বাসী।
উদ্দীপকে মেহনাজ একজন সমাজকর্মী। তিনি সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির সমস্যাসমূহ সঠিকভাবে বোঝার ক্ষমতা রাখেন। নিজেকে তিনি খোলাখুলিভাবে প্রকাশ করেন। তার দায়িত্ববোধের কারণে অনেক হতাশাগ্রস্ত সেবাগ্রহীতা তাদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে। এ সকল বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মেহনাজের মধ্যে সমাজকর্মের কতিপয় গুণাবলি প্রতিভাত হয়ে ওঠে।
সমাজকর্মের সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে মানুষের মতামত, চিন্তাধারা, দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মদক্ষতা প্রয়োগের সুযোগ দানের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের। যথাযথ অনুসরণের মাধ্যমে সমাজকর্মীরা সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়ায় সাহায্যপ্রার্থীর অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা দান করেন। মানুষকে তার নিজের ভাগ্য নির্ধারণের সুযোগ দানই আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার। সমাজকর্ম মানুষকে তার চাহিদা, পছন্দ, সামর্থ্য ও ক্ষমতানুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সে অনুযায়ী নিজেকে গড়ে তোলার অধিকার দানে বিশ্বাসী। সমাজকর্ম জাতি, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি নির্বিশেষে সকল মানুষকে সমমর্যাদা দিয়ে থাকে। ব্যক্তির মর্যাদায় পৃথক সত্তার স্বীকৃতি দান ব্যতীত ব্যক্তিগত ও সামাজিক কল্যাণ আনয়ন সম্ভব নয়। মেহনাজের মধ্যে সমাজকর্মের উক্ত গুণাবলি লক্ষ করা যায়।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, সমাজকর্মী হিসেবে সফলতা পেতে মেহনাজের গুণাবলি সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
একজন সমাজকর্মী সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিদের সমস্যাসমূহ সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করেন, নিজেকে খোলাখুলিভাবে প্রকাশ করেন এবং তার সমর্থন ও দায়িত্ববোধের কারণে অনেক হতাশাগ্রস্ত সেবাগ্রহীতা আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়। এসব গুণাবলি মেহনাজের মধ্যেও লক্ষ করা যায়।
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের যথাযথ প্রয়োগ মানুষের আত্মোপলব্ধি ও প্রত্যক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। গণতান্ত্রিক অধিকারের মাধ্যমে ব্যক্তি তার ব্যক্তিত্ব বিকাশের পথ খুঁজে পায়। আত্মসাহায্য, নিজ উদ্যোগ এবং দায়িত্ববোধ প্রভৃতি মানবিক গুণাবলি বিকাশের উত্তম, পদ্ধতি হলো গণতন্ত্র। এভাবে গণতান্ত্রিক উপায় মেহনাজের কাজে সফলতা আনতে সহায়তা করতে পারে। মেহনাজের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারমূলক মূল্যবোধ মানুষকে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করে; সমাজের সার্বিক কল্যাণ ও উন্নয়নে সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা বিধান করে; মানুষের আত্মোপলব্ধি বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদেরকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। তাই সমাজকর্মীরা সাহায্যার্থীর সামর্থ্য ও ক্ষমতার যথাযথ মূল্যায়ন করতে সক্ষম হয়। এ ভাবে মেহনাজের কাজে আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারমূলক মূল্যবোধ সফলতা অর্জনে সহায়তা করে। ব্যক্তির সহজাত মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতিমূলক মূল্যবোধ মেহনাজের কাজে সফলতা আনতে সক্ষম হয়। কারণ এ মূল্যবোধের মাধ্যমে ব্যক্তি মর্যাদার স্বীকৃতি সাহায্যার্থীর সুপ্ত ক্ষমতা বিকাশে সহায়ক হয়। এতে সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়ায় ব্যক্তি সক্রিয় সহযোগিতা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের অনুপ্রেরণা লাভ করে এবং পেশাগত সম্পর্ক স্থাপনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
পরিশেষে বলা যায় যে, উপরিউক্ত তাৎপর্যপূর্ণ গুণাবলিই সমাজকর্মী মেহনাজের কাজে সফলতা আনতে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছে
Related Question
View Allমূল্যবোধ হলো একটি মানদণ্ড, যা মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
আর্থ-সামাজিক জীবনে শিল্পবিপ্লবের প্রভাব অপরিসীম এবং এ প্রভাবের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুটি দিকই আছে।
শিল্পবিপ্লবের প্রভাব বিবেচনায় ইতিবাচক দিকই আর্থ-সামাজিক জীবনে আধুনিক সভ্যতার দ্বার উন্মোচন করেছে। উৎপাদন প্রক্রিয়ার পরিবর্তন, যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিত্য নতুন ভোগ্যপণ্যের আবিষ্কার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অকল্পনীয় সুযোগ সৃষ্টি করেছে। আবার শিল্পবিপ্লব সৃষ্ট শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটেছে, আর্থ-সামাজিক জটিলতাসহ অনেক সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে
উক্ত সংস্থাটি অর্থাৎ উদ্দীপকে বর্ণিত 'সেভ দ্য চিলড্রেন' নামক সংস্থাটির কার্যক্রম সমাজকর্মের পরিধির আওতাভুক্ত।
সমাজকর্মের পরিধি বলতে মূলত এর ব্যবহারিক দিকের প্রয়োগক্ষেত্র বা প্রয়োগ উপযোগিতাকে বোঝানো হয়। সমাজকর্মের পরিধির মধ্যে সমাজকল্যাণ কর্মসূচি বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক নীতিকে জনগণের সেবা উপযোগী করে তোলার জন্য বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষ বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। যেমন- শিশুদের কল্যাণে শারীরিক প্রতিবন্ধী কর্মসূচি, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ শিশুকল্যাণমূলক অনেক কর্মসূচি সমাজকর্মের পরিধির মধ্যে রয়েছে। এ সব কর্মসূচির সুষ্ঠু ও কার্যকরী বাস্তবায়নে অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, 'সেভ দ্য চিলড্রেন' নামক সংস্থাটি শিশুনীতি বাস্তবায়নে কাজ করে এবং শিশুর বিকাশ, অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষার বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত 'সেভ দ্য চিলড্রেন' নামক সংস্থাটির কার্যক্রম সমাজকর্মের পরিধির অন্তর্ভুক্ত।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, উদ্দীপকের সোহান তার কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজকর্মের মূল্যবোধকে ফুটিয়ে তুলেছেন।
মূল্যবোধ হলো একটি আদর্শ বা মানদণ্ড যার ভিত্তিতে মানুষের আচরণের ভালো মন্দ বিচার করা হয়। যেসব নীতিমালা, বিশ্বাস, দর্শন, ধ্যান-ধারণা সংকল্প প্রভৃতি বিভিন্ন পেশাগত আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে সেগুলোর সমষ্টিকে পেশাগত মূল্যবোধ বলে। এ মূল্যবোধের প্রেক্ষিতেই পেশাদার কর্মীদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও আচার-আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। শিশুকল্যাণমূলক কাজে নিয়োজিত সমাজকর্মীরা সমাজের অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া শিশুদের সেবায় নিয়োজিত থাকে। শিশুদের বিকাশ ও সুরক্ষার বিষয়ে নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, 'সেভ দ্য চিলড্রেন' নামক আন্তর্জাতিক সেবামূলক, একটি সংস্থায় কাজ করেন সোহান।। আন্তর্জাতিক সেবামূলক এ সংস্থাটি শিশুকল্যাণমূলক কাজ করে। শিশুনীতি বাস্তবায়ন এবং শিশুর বিকাশ, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সুরক্ষার বিষয়ে এটি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এক্ষেত্রে সোহান আন্তরিকতা ও দক্ষতার সাথে কাজ করছেন। অর্থাৎ তিনি শিশুর চাহিদা, সম্পদ, সুযোগ-সুবিধা প্রভৃতি বিষয়কে মাথায় রেখে শিশুর সর্বাধিক কল্যাণ সাধনের চেষ্টা করছেন। এগুলো সমাজকর্মের মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত। আলোচনার পরিশেষে বলা যায় যে, উল্লিখিত কার্যক্রমের সাথে জড়িত থাকার মধ্য দিয়ে সোহান সমাজকর্মের মূল্যবোধকে ফুটিয়ে তুলেছেন।
ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতি হচ্ছে সমাজকর্মের এমন একটি মৌলিক পদ্ধতি যাঁর মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিকে সমস্যা সমাধানে সক্ষম করে তোলা হয়।
স্যার উইলিয়াম বিভারিজ ইংল্যান্ডের দারিদ্র্য সমস্যা মোকাবিলার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর মত দেন। তাই তার প্রদত্ত রিপোর্টটিকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ভিত্তি বলা হয়।
ইংল্যান্ডের দারিদ্র্য ও ভবঘুরে সমস্যা মোকাবিলায় ১৯৪২ সালে বিভারিজ রিপোর্ট প্রদান করা হয়। এ রিপোর্টে সুপারিশকৃত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিই ইংল্যান্ডে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ভিত তৈরি করে। বিভারিজ রিপোর্টের ভিত্তিতেই ইংল্যান্ড সরকার আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে কল্যাণমূলক আইন প্রণয়নের প্রয়াস পেয়েছিল, যা কল্যাণ রাষ্ট্রের ভিত্তি তৈরি করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!