আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, কাউন্সিল মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম প্রভৃতি দলের মিলিত জোটই হলো COP (Combined Opposition Party)।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে নির্বিচারে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল বলে ২৫ মার্চ রাতকে 'কালরাত' বলা হয়।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীর নীল নকশা মোতাবেক পূর্ব পাকিস্তানে 'অপারেশন সার্চলাইট' নামক নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। ২৫ মার্চের এ রাতে পূর্ব পাকিস্তানের প্রায় ৫০ হাজার নিরস্ত্র বাঙালিকে হত্যা করা হয়েছিল। এ রাতটি পৃথিবীর ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা করে। নৃশংস গণহত্যার জন্য ২৫ মার্চ রাতকে 'কালরাত' বলা হয়।
উদ্দীপকের জানানা গুসমাও এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মিল রয়েছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৪৯ সালে 'পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ' প্রতিষ্ঠা হলেও পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে 'পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ' করা হয়। এবং পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই দলটি বাঙালিদের প্রধান রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। '৪৮ ও '৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতিদান, ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ সালে ছয় দফা কর্মসূচি পেশ, '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন, ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা ও স্বাধীনতা অর্জনে একচ্ছত্র ভূমিকা পালন করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সাম্রাজ্যবাদী ইন্দোনেশিয়া যখন পূর্ব তিমুর দেশটি দখল করে দুঃশাসন চাপিয়ে দেয় তখন জানানা গুসমাও নামের এক অকুতোভয় নেতা স্বাধীনতাকামী সংগঠন গড়ে তোলার মাধ্যমে পূর্ব তিমুরের স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। যা উপরে বর্ণিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কর্মকাণ্ডেরই অনুরূপ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের জানানা গুসমাও এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মিল রয়েছে।
"পূর্ব তিমুর যেন পূর্ব বাংলার প্রতিচ্ছবি"- উক্তিটি যথার্থ।
১৯৪৭ সালের ১৪ ও ১৫ আগস্ট ভারতীয় উপমহাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর দ্বিজাতিতত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে ২টি রাষ্ট্র গঠন করা হয়। মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হয়। ব্রিটিশদের হাত থেকে স্বাধীনতার সাথে সাথেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শাসন ও শোষণ শুরু হয়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির অধিকার হরণের চেষ্টায় লিপ্ত হয়। কিন্তু প্রতিবাদী বাঙালিরা তাদের অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করেনি। ১৯৪৮ সালের ছাত্রলীগ এবং ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করা হয়। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পরিণত হয় পূর্ব বাংলার প্রধান রাজনৈতিক দল। প্রতিবাদী বাঙালিরা '৫২তে ভাষার জন্য জীবন দেয়, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে '৬৬ এর ছয় দফা, '৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়লাভ, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ এর ভাষণে বাঙালিদের অধিকার আদায়ে সচেতন করা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ফলশ্রুতিতে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে জায়গা করে নেয়।
উদ্দীপকে পূর্ব তিমুরের ক্ষেত্রেও একই বিষয় লক্ষ করা যায়। ১৯৭৫ সালে পর্তুগালের শাসন থেকে মুক্ত হলেও সাম্রাজ্যবাদী ইন্দোনেশিয়া সামরিক অভিযানের মাধ্যমে দেশটি দখল করে নিয়ে দুঃশাসন চাপিয়ে দেয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ সংগ্রামের ফলশ্রুতিতে দেশটি ২০০২ সালে পুণরায় স্বাধীনতা লাভ করে, যা বাংলাদেশের সংগ্রামের অনুরূপ।
পরিশেষে তাই বলা যায়, 'পূর্ব তিমুর যেন পূর্ব বাংলার প্রতিচ্ছবি'।
Related Question
View Allমুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বাঙালির তথা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা হয়। সে সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র, নিরীহ ও স্বাধীনতাকামী সাধারণ জনতার ওপর হামলা করে। তারা এ দেশের নিরীহ জনগণের ওপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাদের এ অভিযানের নাম দেয় 'অপারেশন সার্চ লাইট'।
উদ্দীপকে বর্ণিত আব্রাহাম লিঙ্কনের চরিত্র ও কর্মকাণ্ডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিচ্ছবি লক্ষ করা যায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার চরিত্রে দয়া, সরলতা, উপস্থিত বুদ্ধি ও বাগ্মিতার সন্নিবেশ ঘটেছিল। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তিনি বাংলার মেহনতী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। এছাড়াও পশ্চিম পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর হাত থেকে তিনি নিরীহ বাঙালিদের রক্ষা করেন। বীর বাঙালি তার নেতৃত্বে অস্ত্রধারণ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিল।
উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি, আব্রাহাম লিঙ্কন ছিলেন দয়া, সরলতা, বাগ্মিতা ও মিষ্টি ব্যবহারের অধিকারী। রাজনীতির ক্ষেত্রে তিনি অনন্য প্রতিভার সাক্ষর রেখে গেছেন। তার এ বিষয়গুলোর সাথে আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্র এবং কর্মকাণ্ডের মিল দেখতে পাই।
উদ্দীপকের আব্রাহাম লিংকনের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। তার বলিষ্ঠ ও আপোসহীন নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।
বাঙালি জাতির মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ এবং ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যোগী হন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দান, ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন।
এছাড়া তিনি ১৯৬৬ সালের ছয়দফাভিত্তিক আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নজিরবিহীন বিজয় এবং ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা ও স্বাধীনতা অর্জনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়লে ২৬ মার্চ ১৯৭১-এর প্রথম প্রহরে তিনি সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েই বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন করে।
পরিশেষে বলা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহানায়ক এবং তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।
'শিখা চিরন্তন' ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত।
১৯৭১ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিকেল চারটা একত্রিশ মিনিটে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানের ইস্টার্ন কমান্ডের অধিনায়ক জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান লে জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পন করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!