জেরুজালেম হচ্ছে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের একটি প্রাচীন শহর।
"তোমার স্মৃতি যে আজানের ধ্বনি জানে না মুয়াজ্জিন"- চরণটিতে নামাজের জন্য প্রকাশ্যে আজান দেওয়ার বিষয়টি কীভাবে হজরত উমর (রা)-এর সঙ্গে জড়িত তা না জানার বিষয়কে বোঝানো হয়েছে।
'উমর ফারুক' কবিতায় কবি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর ফারুক (রা)-এর জীবনাদর্শ, চরিত্র-মাহাত্ম্য, মানবিকতা, সাহসিকতা, ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। হজরত উমরের ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মুসলমানরা উচ্চ রবে আজান দিতেন না কোরেশদের ভয়ে। তখন উমর ছিলেন কোরেশদের শ্রেষ্ঠ বীর। তিনি যখন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন, তখন থেকেই প্রকাশ্যে আজান দেওয়ার রীতি চালু হয়। মুসলমানদের প্রকাশ্যে আজানের দেওয়ার সঙ্গে উমরের স্মৃতি জড়িত, যা অনেক মুয়াজ্জিন জানেন না।
উদ্দীপকটি 'উমর ফারুক' কবিতার হজরত উমরের মানবিকতা ও মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগের দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
মানুষ সামাজিক জীব। সমাজে বসবাসকারী প্রত্যেকেই একে অন্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই সম্পর্কে বাইরে মানুষের সঙ্গে মানুষের যে হৃদয়ের বন্ধন তার মধ্য দিয়েই পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মানের মনোভাব গড়ে ওঠে।
উদ্দীপকে নিজের আনন্দ-সুখ ভুলে গিয়ে অন্যের মনের দুঃখ দূর করতে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কবি এখানে আত্মতৃপ্তি ও প্রকৃত সুখ লাভের জন্য সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা অর্থাৎ সব সময় দুঃখী মানুষের দুঃখ দূরীকরণে নিজেকে নিয়োজিত করতে বলেছেন। কবির মতে সংসারে সুখ পেতে চাইলে অন্যের দুঃখ দূর করতে হবে। উদ্দীপকের এ বিষয়টি 'উমর ফারুক' কবিতায় প্রতিফলিত উমর ফারুক (রা)-এর মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগের 'দিকটিকে নির্দেশ করেছে। উমর (রা) মানুষের সুখের জন্য বায়তুলমাল থেকে খাদ্যসামগ্রী কাঁধে করে দরিদ্র মায়ের ঘরে নিয়ে গেছেন। মানবকল্যাণের জন্যই তিনি সাম্যবাদ, সাম্যনীতি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তৎপর হয়েছিলেন।
"সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকের মূলভাব 'উমর ফারুক' কবিতার মূলভাবকে প্রতিফলিত করে না।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
সাম্যবাদের দৃষ্টিতে পৃথিবীর সব মানুষ সমান। সমাজে উঁচু-নিচু, ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র, চাকর-মনিবের যে বিভেদ তা স্বার্থপর মানুষের নিজেদের স্বার্থের জন্য তৈরি। অথচ সাম্যবাদের চেতনা নিয়ে কাজ করলে সমাজে কল্যাণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠা হতে পারে।
'উমর ফারুক' কবিতায় উমর (রা)-এর জীবনাদর্শ, চরিত্র-মাহাত্ম্য, মানবিকতা ও সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে। বিশাল মুসলিম রাষ্ট্রের সর্বাধিনায়ক হয়েও তাঁর জীবন ছিল অতি সহজ, সরল, অনাড়ম্বর। নিজ ভৃত্যকেও তিনি তাঁর সঙ্গে সমান মর্যাদা দিয়েছেন। এসব বিষয় উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। উদ্দীপকে পরোপকারে আত্মনিয়োগের মাধ্যমে প্রকৃত সুখ লাভের যে কথা বলা হয়েছে তা 'উমর ফারুক' কবিতার উমর (রা)-এর ক্ষুধাতুর শিশুদের জন্য বায়তুলমাল থেকে নিজে খাদ্য বহন করে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা।
'উমর ফারুক' কবিতায় উমর ফারুক (রা) ছিলেন একজন মহৎ ব্যক্তিত্ব। তিনি জীবনে কখনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেননি। উদ্দীপকে যে ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে তা মহৎ মানুষের কর্মের বৈশিষ্ট্যের ইঙ্গিত থাকলেও কবিতার উমর ফারুক (রা)-এর মতো নয়। এ দিক থেকে তাই বলা যায়; প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All'উমর ফারুক' কবিতাটি 'জিঞ্জীর' কাব্য থেকে সংকলিত হয়েছে।
হজরত উমর (রা)-কে 'আমিরুল মুমেনিন' বলার কারণ হলো তিনি ছিলেন সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নিরূপণকারী, বিশ্বাসীদের নেতা।
উমর ফারুক কবিতার হজরত উমর ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা। তাঁর জীবনাদর্শ ও সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সবার কাছে দৃষ্টান্তস্বরূপ। তিনি ছিলেন সবচেয়ে বিশ্বাসী। ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তিনি যেমন ছিলেন কঠোর, তেমনই মানুষের প্রতি করুণায় তিনি ছিলেন কোমলপ্রাণ। তিনি কখনই কোনো বিশ্বাস ভঙ্গ করেননি। মূলত তাঁর আদর্শবান ব্যক্তিত্বের কারণেই তাঁকে 'আমিরুল মুমেনিন' বলা হয়েছে।
একজন আদর্শ ন্যায়বান শাসকের চরিত্রের দিক থেকে চেয়ারম্যান আব্বাস আলী হজরত উমরের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
একজন শাসক মানে শুধু অন্যের ওপর কর্তৃত্ব করা নয়। একজন আদর্শ শাসক হতে হলে তাকে অনেক বিষয়ে খেয়াল রাখতে হয়। শাসক যদি শাসিতদের দুঃখে সমান দুঃখী না হন তাহলে তিনি কখনো প্রজাবান্ধব শাসক হতে পারবেন না।
'উমর ফারুক' কবিতায় হজরত উমর (রা)-এর জীবনাদর্শ, চরিত্র-মাহাত্ম্য, মানসিকতা এবং সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায়। উমর ফারুক ছিলেন একজন আদর্শ শাসক। ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তিনি নিজ পুত্রকে শাস্তি দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। তিনি প্রজাদের দুঃখ-কষ্ট হৃদয় দিয়ে অনুভব করতেন। অন্যদিকে উদ্দীপকের চেয়ারম্যান আব্বাস আলী বন্যায় তার এলাকা দুর্দশাগ্রস্ত হলেও তিনি ঢাকায় অবস্থান করেন। উপরন্তু তার ঘরে বন্যার ত্রাণসামগ্রী চুরি করে রাখতে দেখা যায়। এভাবেই একজন ন্যায়বান ও আদর্শ শাসকের চরিত্রের দিক থেকে চেয়ারম্যান আব্বাস আলী হজরত উমরের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
আব্বাস আলী চেয়ারম্যানকে উমরের মতো আদর্শ মানুষ হতে হলে একজন প্রকৃত শাসকের যেসব গুণ রয়েছে সেগুলো তাকে ধারণ করতে হবে।
শাসক ও শাসিতের মধ্যে যদি সমঝোতার সম্পর্ক না থাকে তাহলে তিনি ভালো শাসক হতে পারেন না। একজন প্রকৃত শাসক সব সময় শাসিতদের দুঃখ-কষ্ট হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেন। শাসিতদের প্রয়োজনকে নিজের প্রয়োজন ভেবে কাজ করে যান।
'উমর ফারুক' কবিতায় কবি হজরত উমরের জীবনাদর্শ, চরিত্র-মাহাত্ম্য, মানবিকতা এবং সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। খলিফা উমর (রা) ছিলেন একজন মহৎ ব্যক্তিত্ব। তাঁর চরিত্রে একাধারে বীরত্ব, কোমলতা, নিষ্ঠা ও সাম্যবাদী আদর্শের অনন্য সমন্বয় ঘটেছিল। বিশাল মুসলিম রাষ্ট্রের সর্বাধিনায়ক হয়েও তিনি অতি সহজ, সরল, অনাড়ম্বর জীবনযাপন করেছেন। প্রজাদের প্রয়োজনে তিনি ছিলেন নিবেদিত। অন্যদিকে উদ্দীপকের আব্বাস আলী চেয়ারম্যানের চরিত্র ভিন্ন। তিনি গ্রামবাসীর বিশেষ প্রয়োজনের সময়ও শুধু নিজের স্বার্থকে বড় করে দেখেছেন।
চেয়ারম্যান আব্বাস আলীকে উমরের মতো হতে হলে তার মধ্যে মানবিক দিক জাগ্রত করতে হবে। তার চরিত্রে হজরত উমরের মতো বীরত্ব, কোমলতা, নিষ্ঠা, সাম্যবাদিতা ও অন্যান্য আদর্শের সমন্বয় ঘটাতে হবে। সর্বোপরি গ্রামবাসীর দুঃখ-কষ্ট হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করলে তবেই আব্বাস আলী চেয়ারম্যান হজরত উমরের মতো আদর্শ মানুষ হতে পারবেন।
'আমির-উল-মুমেনিন' শব্দের অর্থ হলো- বিশ্বাসীদের নেতা।
"সাইমুম-ঝড়ে পড়েছে কুটির, তুমি পড়নি ক'নুয়ে" বলতে কবি খলিফা উমরের ঘর নুয়ে পড়লেও তিনি যে আদর্শচ্যুত হয়ে পড়েননি তা বুঝিয়েছেন।
অর্ধ-পৃথিবীর শাসনকর্তা হজরত উমর (রা) ছিলেন ন্যায়ের প্রতি কুসুম-কোমল আর অন্যায়ের প্রতি বজ্রসম কঠিন। তাঁর দরবার ছিল সাধারণ কুটিরের মতো। মরুভূমির সাইমুম ঝড়ে তা ভূলুণ্ঠিত হলেও তাঁর ব্যক্তিত্ব সামান্য আদর্শচ্যুত কিংবা দুর্বল হয়নি বা নুয়ে পড়েনি। এখানে উমরের দৃঢ়চেতা মানসিকতাকে কবি রূপকাকারে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!