লিভারে যে শক্ত দণ্ড কোনো অবলম্বনের ওপর ভর করে মুক্তভাবে ওঠানামা করে বা ঘোরে সেই দন্ডটিই ফালক্রাম।
কোন বস্তুর গতি অবস্থার পরিবর্তন করতে হলে যে প্রভাব প্রয়োগ করতে হয় তাকে বলা হয় বল। বল প্রয়োগে স্থিতিশীল বস্তু গতিশীল হয়, গতিশীল বস্তুর বেগ পরিবর্তিত হয়, কিংবা গতিশীল বস্তু স্থিতিশীল হয়। বলের আছে বিভিন্ন রূপ। বল প্রয়োগেরও আছে বিভিন্ন কৌশল। এইসব কৌশলে বল প্রয়োগ করে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব, এবং কাজকে সহজ করাও সম্ভব। বলের প্রয়োগ দ্বারা সম্পন্ন কাজকে সহজ করে যেসব কল তাদের বলা হয যন্ত্র। এই অধ্যায়ে তোমরা বল সম্বন্ধে জানবে। সেই সাথে সরল কিছু যন্ত্র সম্বন্ধেও জানবে।
এই অধ্যায় শেষে আমরা
- বল ব্যাখ্যা করতে পারব।
- বস্তুর ওপর বিভিন্ন প্রকার বলের প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব।
- বিভিন্ন ধরনের সরল যন্ত্রের কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- বিভিন্ন প্রকার সরল যন্ত্রের সুবিধা তুলনা করতে পারব।
- মানব দেহের বিভিন্ন অঙ্গের সাথে সরল যন্ত্রের কাজের তুলনা করতে পারব।
- আমাদের জীবনে বলের প্রভাব এবং সরল যন্ত্রের অবদান উপলব্ধি করব।
- ব্যবহারিক জীবনে সরল যন্ত্রের ব্যবহার করতে পারব।
Related Question
View Allসরল যন্ত্র নিম্নোক্ত উপায়ে কাজ করা সহজ করে-
১. প্রযুক্ত বলকে কয়েকগুণ বৃদ্ধি করে।
২. কম বল প্রয়োগে কোনো কাজ সম্পন্ন করে।
৩. বলকে কোনো একটি সুবিধাজনক দিকে প্রয়োগ করে।
৪. গতি ও দূরত্ব বৃদ্ধি করে।
উদ্দীপক থেকে পাই, হেলানো তলের উচ্চতা = ৫ মিটার
যান্ত্রিক সুবিধা = ৬
A থেকে B এর দূরত্ব = হেলানো তলের দৈর্ঘ্য = ?
আমরা জানি, যান্ত্রিক সুবিধা=হেলানো তলের দৈর্ঘ্য/হেলানো তলের দৈর্ঘ্য
বা, হেলানো তলের দৈর্ঘ্য =হেলানো তলের উচ্চতা যান্ত্রিক সুবিধা
= ৫ মিটার ৬ = ৩০ মিটার
অতএব, A থেকে B এর দূরত্ব ৩০ মিটার।
লোকটি ড্রামটি তুলতে সরল যন্ত্র ব্যবহার করবেন। কারণ সাধারণভাবে ড্রামটি উপরে তুলতে তার যে পরিমাণ শক্তি লাগবে, সরল যন্ত্র ব্যবহার করে তার চেয়ে অনেক কম শক্তি ব্যয় করে তিনি ড্রামটি উপরে তুলতে পারবেন। এক্ষেত্রে তিনি বড় কাঠ, বাঁশ অথবা লোহার লম্বা দন্ড ব্যবহার করতে পারেন, যা হেলানো তল হিসেবে কাজ করে। হেলানো তলও একটি সরল যন্ত্র যার সাহায্যে কোনো ভারী বস্তুকে সহজেই নিচ থেকে উপরে তোলা যায়। ড্রামটিকে ঐ হেলানো তলের উপর দিয়ে গড়িয়ে উপরে তোলা যায়। এক্ষেত্রে দূরত্ব বেশি অতিক্রম করলেও বল প্রয়োগ করতে হয় কম।
সরল যন্ত্রের ক্ষেত্রে, আমরা জানি,
বল বলবাহুর দৈর্ঘ্য= ভার ভারবাহুর দৈর্ঘ্য
অতএব, হেলানো তলের ক্ষেত্রে, বল বলবাহুর দৈর্ঘ্য
ভার ভারবাহুর দৈর্ঘ্য
ভার হেলানো তলের উচ্চতা
যান্ত্রিক সুবিধা বল=ভার/বল=হেলানো তলের দৈর্ঘ্য/হেলানো তলের উচ্চতা
সুতরাং আমরা দেখি যে, হেলানো তলের দৈর্ঘ্য অর্থাৎ লোকটির ব্যবহৃত কাঠ বা বাঁশের দৈর্ঘ্য যত বেশি হবে, তার যান্ত্রিক সুবিধা তত - বেশি হবে এবং ড্রামটি তত সহজে উপরে তোলা যাবে।
লিভার হলো একটি সরল যন্ত্র, যাতে একটি শক্ত দণ্ড কোনো অবলম্বনের বা কোনো কিছুর উপর ভর করে মুক্তভাবে ওঠানামা করে বা ঘোরে।
তৃতীয় শ্রেণির লিভারে ভার ও ফালক্রাম থাকে দুই প্রান্তে। এক্ষেত্রে বল এদের মাঝখানে প্রযুক্ত হয়। ফলে বল বা চাপ ভারের যত কাছাকাছি হয় কাজ করা তত সহজ হয়। মূলত তৃতীয় শ্রেণির লিভারে বল বাহুর দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে বা ভার বাহুর দৈর্ঘ্য কমিয়ে যান্ত্রিক সুবিধা বৃদ্ধি করা যায়।
মনি ও শিল্পীর ব্যবহৃত যন্ত্রটি হলো স্ট্যাপলার।
মূলনীতি: স্ট্যাপলার মেশিনে সাধারণত বল কার্যকর হয় এর দুটিঅংশের মাঝখানে। অংশ দুটি একপ্রান্তে লাগানো থাকে এবং অপর প্রান্ত প্রয়োজনমতো উপর নিচ করা যায়। লাগানো অংশটি ফালক্রামের মতো কাজ করে। লাগানো অংশের অপর প্রান্তে থাকে পিন, যা ভারবাহুর কাজ করে। এর মাঝখানে বল প্রয়োগ করতে হয়। এখানে বলবাহুর দৈর্ঘ্য পরিবর্তন করলে যান্ত্রিক সুবিধাও পরিবর্তন হয়। বলবাহুর দৈর্ঘ্য বেশি হলে যান্ত্রিক সুবিধাও বেশি হয়। স্ট্যাপলার মেশিনের ক্ষেত্রে যত সামনের দিকে চাপ প্রয়োগ করা যায় ততই সুবিধা কারণ এক্ষেত্রে বলবাহুর দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায় এবং সাথে সাথে যান্ত্রিক সুবিধাও বৃদ্ধি পায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!