যে জীবিকা উচ্চমানের বিশেষ তাত্ত্বিক শিক্ষা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও কল্যাণকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় তাকে পেশা বলে।
পেশা ও বৃত্তির মধ্যে উদ্দেশ্যগত পার্থক্য না থাকলেও কার্যক্রমগত যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
পেশা হচ্ছে জীবনধারণের একটি উপায় যেখানে দক্ষতা ও প্রযুক্তির প্রয়োজন হয়। যেমন ডাক্তারের দক্ষতার প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে বৃত্তি জীবনধারণের উপায় হলেও এজন্য কোনো দক্ষতার প্রয়োজন হয় না। যেমন- কৃষিকাজ। অর্থাৎ পেশা ও বৃত্তির মধ্যে পার্থক্য হলো পেশার ক্ষেত্রে জ্ঞান, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার প্রয়োজন হয়, কিন্তু বৃত্তির ক্ষেত্রে এগুলোর প্রয়োজন হয় না।
ডাক্তারের সমাজকর্ম অনুশীলনকারী শিক্ষার্থীর দায়িত্বে সন্তুষ্ট না হওয়ার কারণ হচ্ছে সমাজকর্ম মূল্যবোধ ও নীতিমালা অনুসরণ না করা।
উদ্দীপকে বর্ণিত মনোচিকিৎসক তমিজ উদ্দিন শ্যামলীর চিকিৎসা শুরুর আগে তার কেস স্টাডি করার জন্য মাঠপর্যায়ে অনুশীলনরত শিক্ষানবিশ সমাজকর্মীর নিকট পাঠান। সমাজকর্ম অনুশীলনকারী শিক্ষার্থী রোগীর তথ্য সংগ্রহ করেন, কেস রেকর্ড প্রস্তুত করেন। তবে ডাক্তার শিক্ষার্থীর দায়িত্বে সন্তুষ্ট হতে পারেনননি। । এর কারণ হলো, শিক্ষার্থী সমাজকর্ম পেশার নীতিমালা ও মূল্যবোধ অনুসরণ করে রোগীর কেস রেকর্ড প্রস্তুত করেননি। শিক্ষার্থীর সাথে রোগীর ভালো আচরণ না করা এবং শিক্ষার্থীর প্রায়ই রোগীর আচরণে ক্ষিপ্ত হওয়া থেকে বিষয়টি বোঝা যায়।
পেশাগত অনুশীলনের প্রথম পর্যায় হলো সমস্যাগ্রস্তকে আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ, যাতে পেশাদার কর্মী সম্পর্কে সাহায্যার্থীর ইতিবাচক ধারণা লাভ হয় এবং সমস্যা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে সমস্যা নির্ণয় ও সমাধানে সহায়তা করতে পারে। সে জন্য পেশাগত কর্মীকে সমস্যাগ্রস্তের সাথে পেশাগত সম্পর্ক স্থাপন করতে হয়। উদ্দীপকের শিক্ষার্থী সমাজকর্ম পেশার নীতিমালা অনুসরণ করেননি। এক্ষেত্রে তিনি রোগীর সাথে পেশাগত সম্পর্ক স্থাপন না করেই তথ্য সংগ্রহ করেন এবং রোগীর সাথে দায়িত্বশীল আচরণ করতে ব্যর্থ হন। ফলে রোগী সম্পর্কে সঠিক ও পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহে অসমর্থ হন। আর এ কারণেই ডাক্তার শিক্ষানবিশ সমাজকর্মীর দায়িত্বে সন্তুষ্ট হতে পারেননি।
ডাক্তারের শ্যামলীকে সুস্থ করে তুলতে পারার কারণ হচ্ছে পেশাগত নৈপুণ্য ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করা।
পেশর কতগুলো বৈশিষ্ট্য রয়েছে, সেগুলোকে একত্রে পেশার মানদণ্ড বলা হয়। এসব বৈশিষ্ট্যের আলোকে কোনো বৃত্তি পেশার মর্যাদা অর্জন করেছে কি না তা মূল্যায়ন করা হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত মনোচিকিৎসক তমিজউদ্দিন একজন পেশাদার কর্মী। শ্যামলী নামের এক রোগীর কেস তিনি গ্রহণ করেন এবং নিজ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে সুস্থ করে তোলেন। পেশাদার মানদণ্ডের আলোকে বলা যায়, উদ্দীপকের তমিজ উদ্দিন নির্দিষ্ট শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করে মনোচিকিৎসক হয়েছেন। তিনি পেশাগত নীতমালা ও মূল্যবোধ অনুসরণ করে পেশাগত দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে রোগীকে সুস্থ করে তোলেন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত মনোচিকিৎসক তমিজ উদ্দিন শ্যামলীকে সুস্থ করে তুলতে পারার কারণটি ছিল চিকিৎসাক্ষেত্রে পেশাগত শিক্ষা, নীতিমালা ও মূল্যবোধের অনুসরণ। পেশাগত দায়িত্ব পেশার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পেশাদার কর্মীরা বিশেষ নৈপুণ্য ও দক্ষতার অধিকারী হন। এটি সেবাগ্রহীতা ও সমাজকর্মী উভয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে সমাজকর্মী জীবিকা অর্জনের জন্য অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করে থাকেন। কিন্তু একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে রাতারাতি তা অর্জন করা সম্ভব নয়। আর এ কারণেই শ্যামলীর ক্ষেত্রে অনুশীলনরত শিক্ষার্থী ব্যর্থ হয়েছে। অপরদিকে মনোচিকিৎসক হিসেবে তমিজ উদ্দিন সফল হয়েছেন।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং মূল্যবোধের অনুসরণই শ্যামলীর সুস্থ হবার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
Related Question
View Allমূল্যবোধ হলো একটি মানদণ্ড, যা মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
আর্থ-সামাজিক জীবনে শিল্পবিপ্লবের প্রভাব অপরিসীম এবং এ প্রভাবের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুটি দিকই আছে।
শিল্পবিপ্লবের প্রভাব বিবেচনায় ইতিবাচক দিকই আর্থ-সামাজিক জীবনে আধুনিক সভ্যতার দ্বার উন্মোচন করেছে। উৎপাদন প্রক্রিয়ার পরিবর্তন, যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিত্য নতুন ভোগ্যপণ্যের আবিষ্কার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অকল্পনীয় সুযোগ সৃষ্টি করেছে। আবার শিল্পবিপ্লব সৃষ্ট শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটেছে, আর্থ-সামাজিক জটিলতাসহ অনেক সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে
উক্ত সংস্থাটি অর্থাৎ উদ্দীপকে বর্ণিত 'সেভ দ্য চিলড্রেন' নামক সংস্থাটির কার্যক্রম সমাজকর্মের পরিধির আওতাভুক্ত।
সমাজকর্মের পরিধি বলতে মূলত এর ব্যবহারিক দিকের প্রয়োগক্ষেত্র বা প্রয়োগ উপযোগিতাকে বোঝানো হয়। সমাজকর্মের পরিধির মধ্যে সমাজকল্যাণ কর্মসূচি বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক নীতিকে জনগণের সেবা উপযোগী করে তোলার জন্য বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষ বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। যেমন- শিশুদের কল্যাণে শারীরিক প্রতিবন্ধী কর্মসূচি, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ শিশুকল্যাণমূলক অনেক কর্মসূচি সমাজকর্মের পরিধির মধ্যে রয়েছে। এ সব কর্মসূচির সুষ্ঠু ও কার্যকরী বাস্তবায়নে অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, 'সেভ দ্য চিলড্রেন' নামক সংস্থাটি শিশুনীতি বাস্তবায়নে কাজ করে এবং শিশুর বিকাশ, অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষার বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত 'সেভ দ্য চিলড্রেন' নামক সংস্থাটির কার্যক্রম সমাজকর্মের পরিধির অন্তর্ভুক্ত।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, উদ্দীপকের সোহান তার কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজকর্মের মূল্যবোধকে ফুটিয়ে তুলেছেন।
মূল্যবোধ হলো একটি আদর্শ বা মানদণ্ড যার ভিত্তিতে মানুষের আচরণের ভালো মন্দ বিচার করা হয়। যেসব নীতিমালা, বিশ্বাস, দর্শন, ধ্যান-ধারণা সংকল্প প্রভৃতি বিভিন্ন পেশাগত আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে সেগুলোর সমষ্টিকে পেশাগত মূল্যবোধ বলে। এ মূল্যবোধের প্রেক্ষিতেই পেশাদার কর্মীদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও আচার-আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। শিশুকল্যাণমূলক কাজে নিয়োজিত সমাজকর্মীরা সমাজের অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া শিশুদের সেবায় নিয়োজিত থাকে। শিশুদের বিকাশ ও সুরক্ষার বিষয়ে নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, 'সেভ দ্য চিলড্রেন' নামক আন্তর্জাতিক সেবামূলক, একটি সংস্থায় কাজ করেন সোহান।। আন্তর্জাতিক সেবামূলক এ সংস্থাটি শিশুকল্যাণমূলক কাজ করে। শিশুনীতি বাস্তবায়ন এবং শিশুর বিকাশ, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সুরক্ষার বিষয়ে এটি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এক্ষেত্রে সোহান আন্তরিকতা ও দক্ষতার সাথে কাজ করছেন। অর্থাৎ তিনি শিশুর চাহিদা, সম্পদ, সুযোগ-সুবিধা প্রভৃতি বিষয়কে মাথায় রেখে শিশুর সর্বাধিক কল্যাণ সাধনের চেষ্টা করছেন। এগুলো সমাজকর্মের মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত। আলোচনার পরিশেষে বলা যায় যে, উল্লিখিত কার্যক্রমের সাথে জড়িত থাকার মধ্য দিয়ে সোহান সমাজকর্মের মূল্যবোধকে ফুটিয়ে তুলেছেন।
ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতি হচ্ছে সমাজকর্মের এমন একটি মৌলিক পদ্ধতি যাঁর মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিকে সমস্যা সমাধানে সক্ষম করে তোলা হয়।
স্যার উইলিয়াম বিভারিজ ইংল্যান্ডের দারিদ্র্য সমস্যা মোকাবিলার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর মত দেন। তাই তার প্রদত্ত রিপোর্টটিকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ভিত্তি বলা হয়।
ইংল্যান্ডের দারিদ্র্য ও ভবঘুরে সমস্যা মোকাবিলায় ১৯৪২ সালে বিভারিজ রিপোর্ট প্রদান করা হয়। এ রিপোর্টে সুপারিশকৃত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিই ইংল্যান্ডে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ভিত তৈরি করে। বিভারিজ রিপোর্টের ভিত্তিতেই ইংল্যান্ড সরকার আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে কল্যাণমূলক আইন প্রণয়নের প্রয়াস পেয়েছিল, যা কল্যাণ রাষ্ট্রের ভিত্তি তৈরি করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!