হাফিজ সাহেব একজন ধর্মভীরু মুসলমান। তিনি নিয়মিত মসজিদে গিয়ে জামাআতে নামায আদায় করেন। তিনি জেনেছেন, ইসলামে মানুষের বিভিন্ন অবস্থার কথা বিবেচনা করে সালাত আদায়ের অবস্থা উপযোগী বিধান প্রণয়ন করা হয়েছে। তাই তিনি ইমাম সাহেবের কাছ থেকে মাসবুক ও মুসাফির অবস্থায় নামায আদায়ের বিধান জেনে নিয়েছেন।
(ক)
মাসবুক কে?
(জ্ঞানমূলক)
যে ব্যক্তি এক বা একাধিক রাকাআত শেষ হওয়ার পর ইমামের সাথে জামাআতে অংশগ্রহণ করে তাকে মাসবুক বলে।
'ইবাদত' আরবি শব্দ। এর অর্থ দাসত্ব, বন্দেগি, আনুগত্য ইত্যাদি। আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসুলুল্লাহ (স.) প্রদর্শিত পন্থায় জীবন পরিচালিত করাকেই ইবাদত বলে। সালাত, সাওম, যাকাত, হজ ইত্যাদি আমরা যেমনি ইবাদত হিসেবে পালন করে থাকি, তেমনি জীবনের প্রতিটি কাজ ইসলামি বিধি-বিধান মোতাবেক সম্পন্ন করাও ইবাদতের অংশ। আল্লাহ জিন ও মানবসন্তানকে তার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন।
এ অধ্যায় শেষে আমরা-
- জামাআতে সালাত আদায়ের গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব।
- ইমাম ও মুক্তাদির দায়িত্ব ও কর্তব্য বর্ণনা করতে পারব।
- বিভিন্ন প্রকার সালাতের পরিচয় মাসুকের সালাত, মুসাফিরের সালাত, রুণ ব্যক্তির সালাত, জুমুআর সালাত, ঈদের সালাত, জানাযার সালাত, তারাবিহের সালাত, তাহাজ্জুদের সালাত, আওয়াবিনের সালাত ও ইশরাকের সালাত সম্পর্কে বলতে পারব।
- সালাতের আধ্যাত্মিক, নৈতিক, সামাজিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
- সাওমের ধারণা, প্রকারভেদ এবং সাওম ভঙ্গের কারণ, সাওম মাকরুহ হওয়ার কারণ, সাওমের কাযা ও কাফ্ফারা সম্পর্কে বলতে পারব।
- সাহারি ও ইফতারের পরিচয়, সময়সূচি ও গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব।
- ইতিকাফ এবং সাদাকাতুল ফিতরের ধারণা, তাৎপর্য ও আদায়ের নিয়ম ব্যাখ্যা করতে পারব।
- সাওমের নৈতিক উপকার সম্পর্কে বলতে পারবে। বাস্তব জীবনে সংযম, সহমর্মিতা ও সহিষ্ণুতা অনুশীলনে সাওমের (রোজার) গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিশ্লেষণ করতে পারব।
Related Question
View Allআল্লাহ প্রদত্ত ও রাসুলুল্লাহ (স.) প্রদর্শিত পন্থায় জীবন পরিচালিত করাই ইবাদত।
'মুসাফির' আরবি শব্দ। এর অর্থ ভ্রমণকারী। কমপক্ষে ৪৮ মাইল দূরবর্তী কোনো স্থানে যাওয়ার নিয়তে কোনো ব্যক্তি বাড়ি থেকে বের হলে শরিয়তের পরিভাষায় তাকে মুসাফির বলে। এমন ব্যক্তি গন্তব্যস্থলে পৌঁছে কমপক্ষে পনের দিন অবস্থানের নিয়ত না করা পর্যন্ত তার জন্য মুসাফিরের হুকুম প্রযোজ্য হবে।
জমির উদ্দিনের মনোভাবে ইসলামের ফরজ ইবাদত পালনে অবহেলা ও উদাসীনতা প্রকাশ পায়।
আমরা জানি, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের ন্যায় প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধিমান, স্বাধীন, মুসলিম পুরুষের ওপর জুমার সালাত আদায় করা ফরজ। আর এর অস্বীকারকারী কাফির। অবহেলা করে কেউ এ সালাত আদায় না করলে সে ফাসিক হয়ে যাবে।
জমির উদ্দিন সারাদিন মাঠে কাজ করেন। নামাযের সময় হলে খেতের পাশে কাপড় বিছিয়ে নামায আদায় করেন। জুমার দিনে মসজিদে না গিয়ে যোহর সালাত আদায় করেন। এক্ষেত্রে তিনি কাজের অজুহাত দাঁড় করান। সুতরাং জমির উদ্দিনের কাজকে আমরা ফিসক হিসেবে গণ্য করতে পারি। কারণ তিনি জুমার সালাত অস্বীকার করেননি। বরং কাজের ক্ষতি হবার কথা বলে নামাযে অবহেলা করেছেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জহির উদ্দিনের বক্তব্যটি হলো, "জুমার নামায আদায় করার জন্য শরিয়তের কিছু বিধান রয়েছে।" জুমার নামায বিষয়ে জহির উদ্দিনের এ বক্তব্য পাঠ্যবইয়ের আলোকে সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও যথার্থ।
পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের ন্যায় প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধিমান, স্বাধীন, মুসলিম পুরুষের ওপর জুমার সালাত আদায় করা ফরজ। জুমার ওয়াক্তে প্রথমে মসজিদে গিয়ে তাহিয়্যাতুল ওযু ও দুখুলুল মসজিদ দুই দুই রাকাআত করে নফল সালাত আদায় করতে হয়। ফরজের আগে চার রাকাআত কাবল্লাল জুমা ও পরে চার রাকাআত বা'দাল জুমা আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। জুমার সালাতের জন্য দুটি আযান দেওয়া হয়। প্রথম আযান মসজিদের বাইরে মিনারে, দ্বিতীয়টি মসজিদের ভিতরে ইমাম সাহেব খুতবা দিতে মিম্বরে বসলে দেওয়া হয়। জুমার দুই রাকাআত ফরজের পূর্বে ইমাম সাহেব মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুতবা দেন। মুসল্লিদের খুতবা শোনা ওয়াজিব। এ সময় কথা বলা, অনর্থক কিছু করা নিষেধ। খুতবা শেষে ইমামের সাথে দুই রাকাআত ফরজ সালাত অন্যান্য ফরজ সালাতের ন্যায় আদায় করতে হয়। জুমার ফরজের জন্য জামাআত শর্ত। জামাআত ছাড়া জুমার সালাত হয় না।
সুতরাং বলা যায়, পাঠ্যবইয়ের আলোকে জহির উদ্দিনের উল্লিখিত বক্তব্য যথার্থ।
'মুসাফির' আরবি শব্দ। মুসাফিরের আভিধানিক অর্থ ভ্রমণকারী এবং শরিয়তের ভাষায় কমপক্ষে ৪৮ মাইল দূরবর্তী কোনো স্থানে যাওয়ার নিয়তে কোনো ব্যক্তি বাড়ি থেকে বের হলে এবং ১৫ দিনের কম অবস্থান করলে তাকে মুসাফির বলে।
মাসবুক হিসেবে হাফিজ সাহেব ইসলামি শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে সালাত আদায় করবেন।
মাসবুক হিসেবে একজন মুসল্লি সালাত আদায় করতে গিয়ে ইমামকে যে অবস্থায় পাবে সে অবস্থাতেই নিয়ত করে সালাতে শামিল হবেন। তারপর ইমামের সাথে যথারীতি রুকু, সিজদা করে তাশাহহুদ পাঠের জন্য বসে যাবেন। ইমাম সালাম ফেরালে তিনি সালাম না ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে যাবেন এবং ছুটে যাওয়া রাকআতে আউযুবিল্লাহ, বিস্মিল্লাহ্ পড়ার পর সূরা ফাতিহার সঙ্গে অন্য একটি সূরা পড়বেন। এরপর রুকু, সিজদা করে যথারীতি তাশাহহুদ, দরুদ, দু'আ মাসুরা পড়ে সালাম ফিরিয়ে সালাত শেষ করবেন।
হাফিজ সাহেব যদি ইমামকে শেষ বৈঠকে পায় তবে ইমাম সালাম ফেরালে তিনি যথারীতি উপরে বর্ণিত নিয়ম অনুসারে ছুটে যাওয়া অংশ আদায় করবেন। অর্থাৎ একাকী সালাত আদায় করলে যেভাবে আদায় করতে হয় ঠিক সেভাবেই সালাত শেষ করবেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!