নতুন সিকিউরিটি ইস্যু ও বিক্রয়সংক্রান্ত ব্যয়কে উত্তরণ ব্যয় বলে।
কর সুবিধার কারণে অগ্রাধিকার শেয়ারের ব্যয় ঋণের ব্যয় থেকে বেশি । ঋণপত্র ইস্যু করলে কোম্পানি অগ্রাধিকার শেয়ারের তুলনায় কর সুবিধা পায়। অগ্রাধিকার শেয়ারের লভ্যাংশ কর বাদযোগ্য আয় নয়। কর সুবিধার কারণে ঋণপত্রের ব্যয় অগ্রাধিকার শেয়ারের ব্যয়ের তুলনায় কম বলে কোম্পানির মূলধন ব্যয় হ্রাস পায়। কিন্তু অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যু করলে এর লভ্যাংশের ওপর কোনো কর রেয়াত পাওয়া যায় না।
যমুনা লি. এর ভার আরোপিত মূলধন ব্যয় নির্ণয় :
এখানে
প্রতিটি সাধারণ শেয়ারের বিক্রয়মূল্য (Po) = ৫০ টাকা
চলতি বছরের লভ্যাংশ = ৭ টাকা
লভ্যাংশ বৃদ্ধির হার (g) = ১০ % বা ০.১০
শেয়ার প্রতি প্রত্যাশিত লভ্যাংশ
= ৭ (১+০.১০)
= ৭.৭০ টাকা
আমরা জানি,
সাধারণ শেয়ারের ব্যয়,
=
=
=
= ২৫.৪০ %
অগ্রাধিকার শেয়ারের ব্যয় ৯%
করপরবর্তী ঋণ মূলধন ব্যয়,
Kd= করপূর্ব ঋণের ব্যয় (১ – কর হার)
=
আবার,
মোট মূলধনে সাধারণ শেয়ারের ভার,
মোট মূলধনে অগ্রাধিকার শেয়ারের ভার,
মোট মূলধনে ঋণকৃত মূলধনের ভার,
আমরা জানি
ভার আরোপিত গড় মূলধন ব্যয়,
=
=
= ১৮.৬০%
সুতরাং যমুনা লি. এর ভার আরোপিত মূলধন ব্যয় ১৮.৬০%।
পরিবর্তিত অবস্থায় ভার আরোপিত মূলধন ব্যয় নির্ণয় :
ঋণ মূলধন আরো ৫,০০,০০০ টাকা হলে মোট ঋণ মূলধন হবে ( ২,০০,০০০+৫,০০,০০০)=৭,০০,০০০ টাকা
সেক্ষেত্রে মোট মূলধন হবে = (২৫,০০,০০০ + ৫,০০,০০০) = ৩০,০০,০০০ টাকা
এখানে, লভ্যাংশ বেড়ে ৮ টাকা হলে শেয়ার প্রতি বর্তমান লভ্যাংশ = ৮ টাকা
লভ্যাংশ বৃদ্ধির হার (g) = ১০ % বা ০.১০
শেয়ার প্রতি প্রত্যাশিত লভ্যাংশ
= ৮(১ + ০.১০)
= ৮.৮০ টাকা
হ্রাসকৃত শেয়ার প্রতি মূল্য ( P০ )=৪০ টাকা
সাধারণ শেয়ারের ব্যয় ,
=
= ৩২ %
অগ্রাধিকার শেয়ারের ব্যয় = ৯ %
ঋণ মূলধন ব্যয় = ৬ % ('গ' নং থেকে প্রাপ্ত)
আবার,
মোট মূলধনে সাধারণ শেয়ারের ভার,
মোট মূলধনে অগ্রাধিকার শেয়ারের ভার,
মোট মূলধনে ঋণকৃত মূলধনের ভার,
আমরা জানি,
ভার আরোপিত গড় মূলধন ব্যয়,
= (০.৫০ ৩২%) + (০.২৭৯%) + (০.২৩ ৬%)
= (১৬% + ২.৪৩% + ১.৩৮%)
= ১৯.৮১%
সুতরাং যমুনা কোম্পানি যদি ঋণ মূলধন আরো ৫,০০,০০০ টাকা বৃদ্ধি করে, লভ্যাংশ বেড়ে ৮ টাকা হয় এবং শেয়ারের মূল্য হ্রাস পেয়ে ৪০ টাকা হয় তবে উক্ত কোম্পানির ভার আরোপিত মূলধন ব্যয় হবে ১৯.৮১%।
Related Question
View Allইক্যুইটি মূলধন ও ঋণ মূলধনের মিশ্রণকে মূলধন কাঠামো বলে।
যৌথমূলধনী কোম্পানির মূলধনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশকে সাধারণ শেয়ার বলে।
সাধারণ শেয়ার মূলধনের ব্যয় বলতে সাধারণত লভ্যাংশ ও শেয়ারমূল্য বৃদ্ধিজনিত লাভ থেকে প্রত্যাশিত আয়ের হারকে বোঝায়। অন্যভাবে, সাধারণ শেয়ারের ব্যয় বলতে বিনিয়োগকারীদের সাধারণ শেয়ারে বিনিয়োগ হতে প্রত্যাশিত আয়ের হারকে বোঝায়। এছাড়া সাধারণ শেয়ারের সাথে শেয়ার ইস্যু ও বিক্রয়জনিত খরচ জড়িত। তাই বলা যায়, 'সাধারণ শেয়ার মূলধনের ব্যয় আছে'।
নুসরাত লি.-এর সাধারণ শেয়ার মূলধন ব্যয় নির্ণয় :
এখানে
সাধারণ শেয়ারের বাজারমূল্য ( P০ )= ২০০ টাকা
প্রত্যাশিত লভ্যাংশ (D1) = ১৫ টাকা
লভ্যাংশ বৃদ্ধির হার (g) = ৪ % বা, ০.০৪
আমরা জানি,
সাধারণ শেয়ার মূলধন ব্যয়,
=
= ১১.৫০%
সুতরাং নুসরাত লি.-এর সাধারণ শেয়ার মূলধন ব্যয় ১১.৫০%।
নুসরাত লি.-এর ভারযুক্ত গড় মূলধন ব্যয় নির্ণয় :
এখানে,
সাধারণ শেয়ারের ব্যয় (K) = ১১.৫০% ['গ' নং থেকে প্রাপ্ত]
অগ্রাধিকার শেয়ারের ব্যয় (Kp) = ৮%
করপূর্ববর্তী ঋণের ব্যয় (K) = ১০%
কর হার (T) = ৪০% বা, ০.৪০
করপরবর্তী ঋণ মূলধন ব্যয় = = ৬%
আবার,
সাধারণ শেয়ারের ভার
অগ্রাধিকার শেয়ারের ভার
ঋণ মূলধন (বন্ড) এর ভার
আমরা জানি,
ভারযুক্ত গড় মূলধন ব্যয়,
WACC = WeKe + WpKp + WdKd
= ৯.১৫ %
সুতরাং নুসরাত লি.-এর ভারযুক্ত গড় মূলধন ব্যয় ৯.১৫%।
নিট আয়ের যে অংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বণ্টন না করে কারবারে সংরক্ষণ করা হয় তাকে সংরক্ষিত আয় বলে।
ইক্যুইটি মূলধন ও ঋণ মূলধনের মিশ্রণকে মূলধন কাঠামো বলে। কারবারে সঠিক মূলধন কাঠামো নির্বাচন করার ক্ষেত্রে মূলধন ব্যয় তাৎপর্য বহন করে। কারণ ইক্যুইটি ও ঋণ মূলধনের মিশ্রণের অনুপাতের ওপর মূলধন কাঠামোর খরচ নির্ভর করে। বিকল্প অনুপাতে মূলধন ব্যয় কম হলে সে মূলধন কাঠামো গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!