শাহাদাত বলতে ধর্ম, ন্যায় ও সত্য রক্ষার বা প্রতিষ্ঠার কাজে নিহত হওয়াকে বোঝায়।
সিঁথি
হাসান রোবায়েত
ভাই মরল রংপুরে সেই
রংপুরই তো বাংলাদেশ
নুসরাতেরা আগুন দিল
দোজখ যেন ছড়ায় কেশ।
কওমি তরুণ দাঁড়ায়া ছিল
কারবালারই ফোরাতে
শাহাদাতের আগুন দিয়া
খুনির আরশ পোড়াতে।
পোলা গেছে মাইয়া গেছে
দুয়ার খুইলা রাখছে মায়
ভাই-বইনে আইছে ফিরা
রক্তভেজা খাটিয়ায়।
মরা পুতরে কোলে নিয়া
মা ফিরছে অটোতে
রোজ পোলারে খোঁজে অহন
আইডি কাডের ফটোতে।
চক্ষু দিল পা-ও দিল
সারা বাংলায় কাফন শ্যাষ
গোরস্থানে কান্দে শহিদ-
পঙ্গু যেন হয় না দ্যাশ।
মায়ের ওড়না বাইন্ধা মাথায়
পুত মিছিলে হারাইল প্রাণ
ঘাস কান্দে গাছ কান্দে কান্দে
বাঁশের গোরস্থান।
খোদার আরশ কাঁইপা ওঠে
শুইনা বাপের হাহাকার
একটা মানুষ মারার লাগি
কয়টা গুলি লাগে ছার?

লাশের ভিতর লাশ ডুইবা যায়
রাতের হাওয়ায় কিসের লাল
সারা আকাশ ছাইয়া আছে
কোন শহিদের গায়ের শাল?
চিরকালই স্বাধীনতা
আসে এমন রীতিতে
কত রক্ত লাইগা আছে
বাংলাদেশের সিঁথিতে।

Related Question
View Allপ্রশ্নোক্ত উত্তিতে দেশ যেন তার তরুণ সন্তানদের হারিয়ে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পঙ্গুত্ববরণ না করে শহিদদের সেই আশঙ্কা ব্যক্ত হয়েছে।
'সিঁথি' কবিতায় দেশ রক্ষার্থে নিজের জীবন দেওয়া শহিদরা দেশকে কতটা ভালোবাসতেন তার পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। তাঁরা মরে গেলেও এই বাংলাদেশের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা একবিন্দুও কমেনি। তাঁরা এই বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেন যে, এই জন্মভূমি যেন কোনোভাবেই অত্যাচারীর কবলে পড়ে না থাকে।
উদ্দীপকের প্রথম অংশটিতে 'সিঁথি' কবিতায় ছাত্র-জনতার আত্মদানের বিষয়টি স্বাধীনতাকামী মানুষের রক্তাগঙ্গায় ভাসার কথায় ফুটে উঠেছে।
'সিঁথি' কবিতায় সাম্প্রতিক বাংলাদেশের এক নির্মম ও মর্মন্তুদ অভিজ্ঞতার প্রকাশ ঘটেছে। অগুনতি মানুষের আত্মদানের বিনিময়ে রচিত হয়েছে এক অসামান্য মৃত্যুগাথা। শাসক পক্ষের মরণ-কামড় উপেক্ষা করে প্রাণ দিয়েছে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা। অনেকে হারিয়েছে চোখ, হাত, পাসহ নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। পুরো দেশই যেন পঙ্গু হয়ে যাওয়ার অবস্থা।
উদ্দীপকের প্রথম অংশে স্বাধীনতাকামী মানুষের চিরন্তন এক প্রশ্ন ফুটে উঠেছে- আর কত রক্ত দিলে স্বাধীনতা আসবে? স্বাধীনতার জন্য রক্তদান ও খাণ্ডবদাহন বা ভয়ংকর যন্ত্রণাকাতর জীবনের মুখোমুখি হওয়াই যেন অবধারিত নিয়তি। 'সিঁথি' কবিতায় বিগত 'জুলাই-বিপ্লব'-এর যে বর্ণনা ফুটে উঠেছে তাতেও উদ্দীপকের মতো হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের চিত্রই ফুটে উঠেছে।
তেজি তরুণের লড়াকু মনোভাবে বিপ্লব তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছানোর পথ পাবে- এ মনোভাব ফুটে ওঠায় মন্তব্যটি যথার্থ।
'সিঁথি' কবিতায় ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের বর্ণনা ফুটে উঠেছে। অসংখ্য ছাত্র-জনতা এতে শাহাদাত বরণ করেন। বিশেষত তরুণসমাজ শুরু থেকেই পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে বুক পেতে দিয়েছে। লাশের পর লাশ হয়ে ফিরেছে তরুণরা। কিন্তু সাফল্য না আসা পর্যন্ত তারা সংগ্রাম চালিয়ে গেছে।
উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে তেজি তরুণসমাজের হার না মানা সংগ্রামী মনোভাব ফুটে উঠেছে। তাদের পদভারে নতুন পৃথিবী বা স্বাধীন সার্বভৌম জাতির আবির্ভাব অত্যাসন্ন। 'সিঁথি' কবিতাতেও তেজি তরুণসমাজের অকাতরে জীবন দেওয়ার বর্ণনা ফুটে উঠেছে। স্বাধীনতার জন্য চিরকালই এমন জীবন দেওয়ার রীতি চলমান। 'জুলাই-বিপ্লবে'ও তা প্রমাণিত হয়েছে।
'সিঁথি' কবিতায় রংপুরে শহিদ আবু সাঈদের রক্ত দানের মাধ্যমে রক্তাক্ত গণ অভ্যুত্থানের সূচনার কথা বলা হয়েছে। এরপর ছত্রে-ছত্রে তরুণসমাজের রক্ত দানের কথা বর্ণিত হয়েছে। অসংখ্য শহিদের রক্ত মাড়িয়ে, দেশ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হয়েছে। এ কৃতিত্ব তেজি তরুণসমাজের, যা উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশেও বর্ণিত হয়েছে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশটি 'সিঁথি' কবিতার মূলবক্তব্য- কথাটি যথার্থ।
প্রতিবাদের স্ফুলিঙ্গ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া অর্থে প্রশ্নোক্ত পঙ্ক্তিটি করা হয়েছে।
'সিথি' কবিতায় সাম্প্রতিক বাংলাদেশের এক নির্মম অভিজ্ঞতার প্রকাশ ঘটেছে। শাসকপক্ষের মরণকামড় উপেক্ষা করে প্রাণ দিয়েছে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা। শাসকের গুলিতে রংপুরে আন্দোলন করার সময় আন্দোলনকারী এক ভাই শহিদ হন। রংপুরে ভাইয়ের নিহতের খবর সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে সমগ্র দেশে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। পুরো বাংলাদেশ যেন একখণ্ড রংপুর হয়ে ওঠে। এজন্য কবি বলেছেন, 'রংপুরই তো বাংলাদেশ'।
'সিঁথি' কবিতার ভয়াবহতার বিষয়টি উদ্দীপকের প্রথম অংশের সাথে সংগতিপূর্ণ।
'সিঁথি' কবিতায় সাম্প্রতিক বাংলাদেশের এক নির্মম ও বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার প্রকাশ ঘটেছে। শিক্ষার্থী-জনতার অভ্যুত্থান ২০২৪-এ অগণিত মানুষ আত্মত্যাগ করেছে। শাসকপক্ষের মরণ-কামড়ে প্রাণ দিয়েছে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা। রক্তস্নাত হয়েছে বাংলার মাটি।
উদ্দীপকের কবিতাংশে সাকিনা বিবি ও হরিদাসীরা অত্যাচারে সর্বস্বান্ত হয়েছে, স্বজন হারিয়েছে। শহরে ট্যাংক এসে ছাত্রাবাস, বস্তি উজাড় করেছে। শত্রুরা রাইফেল ও মেশিনগান থেকে গুলি করেছে যত্রতত্র। উদ্দীপকের মতো ভয়াবহতা সিঁথি' কবিতায়ও প্রতিফলিত হয়েছে। রংপুরে আন্দোলনকারী এক ভাইয়ের মৃত্যুর প্রতিবাদে পুরো বাংলাদেশ রুখে দাঁড়ালে শাসকপক্ষ মরণ-কামড় দেয়। পুলিশের গুলিতে নিহত সন্তানের লাশ পড়ে থাকে রক্তভেজা খাটিয়ায়। মায়ের ওড়না মাথায় দিয়ে মিছিলে যাওয়া ছেলে ফিরে আসে লাশ হয়ে। গণবিরোধী শাসকের আঘাতে রক্তস্নাত হয়ে ওঠে সমগ্র বাংলাদেশ। তাই বলা যায়, ভয়াবহতার দিক থেকে উদ্দীপক ও 'সিঁথি' কবিতা সংগতিপূর্ণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!