Academy

কালাম, আবুল ও হাফিজ একই গ্রামে বাস করে। তাদের অবস্থা তেমন ভালো নয়। কোনো মতে দিন অতিবাহিত করে। এ কারণে হাজি সাহেব তার জাকাতের টাকা দিয়ে আবুলকে একটা রিক্সা, কালামকে একটা ভ্যানগাড়ি আর হাফিজকে একটা সেলাই মেশিন কিনে দিলেন। তিনি বললেন, তোমরা পরিশ্রম করে খাও আর তোমাদের সাধ্যমতো গরিব মানুষের উপকার করো। কিছুদিন পর হাজি সাহেব তাদের পরীক্ষা করার জন্য এক ভিক্ষুককে পাঠালেন তাদের কাছে সাহায্য চাইতে। আবুল আর কালাম কোনো সাহায্যই করলো না। কিন্তু হাফিজ বিনা পয়সায় ভিক্ষুকের জামাটা সেলাই করে দিল।

"হাফিজের কাজের মধ্যেই 'সততার পুরস্কার' গল্পের মূল শিক্ষা নিহিত"-কথাটি বিশ্লেষণ কর। (উচ্চতর দক্ষতা)

Created: 9 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago
Ans :

'সততার পুরস্কার' গল্পের মূল শিক্ষা হলো সততা, পরোপকার ও নৈতিক মূল্যবোধ অর্জন যা উদ্দীপকে হাফিজের কাজের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে।

'সততার পুরস্কার' গল্পে ফেরেশতার অনুগ্রহে অন্ধ ব্যক্তিটির চোখ ভালো হয়ে যায় এবং তার অবস্থার উন্নতির জন্য তাকে একটি গাভিন ছাগল দেয়। ধীরে ধীরে সে একটি ছাগল থেকে বহু ছাগলের মালিক হয়ে যায়। কিছুদিন পর তাকে পরীক্ষা করার জন্য ফেরেশতা বিপদগ্রস্ত এক বিদেশির ছদ্মবেশে হাজির হলেন। ফেরেশতা তার দুরবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কিছু সাহায্য করতে বললেন। সে নির্দ্বিধায় ফেরেশতার ইচ্ছামতো সব কিছু দিতে রাজি হলো। আল্লাহ তার উপর খুশি হলেন ও তার সম্পদ তারই রয়ে গেল। তাই গল্পটির মূল বাণী হচ্ছে আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষা করেন ও সৎ লোককে যথাযথ পুরস্কার দেন।

উদ্দীপকে আমরা দেখি যাকাতের টাকা থেকে হাফিজকে একটি সেলাই মেশিন কিনে দেওয়া হয়। কিছুদিন পর হাজি সাহেব তাকে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য এক ভিক্ষুককে পাঠালে সে ভিক্ষুককে বিনা পয়সায় তার জামা সেলাই করে দেয়। সুতরাং তার মধ্যে সততা, পরোপকার ও নৈতিক মূল্যবোধ রয়েছে।

উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, হাফিজের কাজের মধ্যেই সততার পুরস্কার গল্পের মূল শিক্ষা নিহিত।

9 months ago

সততার পুরস্কার

সেকালে আরব দেশে তিনটি লোক ছিল- একজনের সর্বাঙ্গে ধবল, একজনের মাথায় টাক, আরেকজনের দুই চোখ অন্ধ। আল্লাহ তাহাদের পরীক্ষার জন্য এক ফেরেশতা পাঠাইলেন। ফেরেশতা হইলেন আল্লাহর দূত। তাহারা নূরের তৈয়ারী। এমনি কেহ তাহাদিগকে দেখিতে পায় না। আল্লাহর হুকুমে তাহারা সকল কাজ করিয়া থাকেন।

ফেরেশতা মানুষের রূপ ধরিয়া প্রথমে ধবলরোগীর নিকটে আসিলেন। তিনি তাহাকে বলিলেন, কী তুমি সবচেয়ে ভালোবাসো?

ধবলরোগী বলিল, আহা! আমার গায়ের রং যদি ভালো হয়। সকলে যে আমাকে বড় ঘৃণা করে।
স্বর্গীয় দূত তাহার গায়ে হাত বুলাইয়া দিলেন। তাহার রোগ সারিয়া গেল। তাহার গায়ের চামড়া ভালো হইল।
তারপর আল্লাহর দূত পুনরায় তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, এখন তুমি কী চাও?
সে বলিল, আমি উট চাই।
দূত তাহাকে একটি গাভিন উট দিয়া বলিলেন, এই লও। ইহাতে তোমার ভাগ্য খুলিবে। তারপর সেই ফেরেশতা টাকওয়ালার কাছে গিয়া বলিলেন, কী তুমি সবচেয়ে ভালোবাসো?
সে বলিল, আহা! আমার এই রোগ যদি সারিয়া যায়। যদি আমার মাথায় চুল উঠে!
আল্লাহর দূত তাহার মাথায় হাত বুলাইয়া দিলেন। তাহার টাক সারিয়া গেল। তাহার মাথায় চুল গজাইল। দূত পুনরায় বলিলেন, এখন তুমি কী চাও?
সে বলিল, গাভি।
তিনি তাহাকে একটি গাভিন গাই দিয়া বলিলেন, এই লও। ইহাতে তোমার ভাগ্য খুলিবে।
তারপর স্বর্গীয় দূত অন্ধের কাছে গেলেন। গিয়া বলিলেন, কী তুমি সবচেয়ে ভালোবাসো?
সে বলিল, আল্লাহ্ আমার চোখ ভালো করিয়া দিন। আমি যেন লোকের মুখ দেখিতে পাই।
স্বর্গীয় দূত তাহার চোখে হাত বুলাইয়া দিলেন। তাহার চোখ ভালো হইয়া গেল।
তারপর তিনি তাহাকে বলিলেন, এখন তুমি কী চাও?
সে বলিল, আমি ছাগল চাই।

স্বর্গীয় দূত তাহাকে একটি গাভিন ছাগল দিয়া বলিলেন, এই লও। ইহাতে তোমার ভাগ্য খুলিবে।
তারপর উটের বাচ্চা হইল, গাভির বাছুর হইল, ছাগলের ছানা হইল। এই রকম করিয়া উটে, গাভিতে, ছাগলে তাহাদের মাঠ বোঝাই হইয়া গেল।
কিছুদিন পর আবার সেই ফেরেশতা পূর্বের মতো মানুষের রূপ ধরিয়া, সেই যে আগের ধবলরোগী ছিল, তাহার নিকট উপস্থিত হইলেন।
সেখানে গিয়া তিনি বলিলেন, আমি এক বিদেশি। বিদেশে আসিয়া আমার সব পুঁজি ফুরাইয়া গিয়াছে। এখন আল্লাহর দয়া ছাড়া আমার আর দেশে ফিরিবার উপায় নাই। যিনি তোমারে সুন্দর গায়ের রং দিয়াছেন, সুন্দর চামড়া দিয়াছেন, আর এত ধনদৌলত দিয়াছেন, তাঁহার দোহাই দিয়া তোমার কাছে একটি উট চাহিতেছি।
সে বলিল, উটের অনেক দাম, কী করিয়া দিই?
স্বর্গীয় দূত বলিলেন, ওহে! আমি যেন তোমাকে চিনিতে পারিতেছি। তুমি না ধবলরোগী ছিলে, আর সকলে তোমাকে ঘৃণা করিত? তুমি না গরিব ছিলে, পরে আল্লাহ তোমাকে ধনদৌলত দিয়াছেন?
সে বলিল, না, তা কেন? এসব তো আমার বরাবরই আছে।
স্বর্গীয় দূত বলিলেন, আচ্ছা! যদি তুমি মিথ্যা বলিয়া থাক, তবে তুমি যেমন ছিলে আল্লাহ আবার তোমাকে তাহাই করিবেন।
তারপর স্বর্গীয় দূত পূর্বে যে টাকওয়ালা ছিল, তাহার কাছে গেলেন। সেখানে গিয়া আগের মতো একটি গাভি চাহিলেন। সেও ধবলরোগীর মতো তাহাকে কিছুই দিল না। তখন স্বর্গীয় দূত বলিলেন, আচ্ছা, যদি তুমি মিথ্যা কথা বলিয়া থাক, তবে যেমন ছিলে আল্লাহ তোমাকে আবার তেমনি করিবেন।
তারপর স্বর্গীয় দূত পূর্বে যে অন্ধ ছিল, তাহার কাছে গিয়া বলিলেন, আমি এক বিদেশি। বিদেশে আমার সম্বল ফুরাইয়া গিয়াছে। এখন আল্লাহর দয়া ছাড়া আমার দেশে পৌঁছিবার আর কোনো উপায় নাই। যিনি তোমার চক্ষু ভালো করিয়া দিয়াছেন, আমি তোমাকে সেই আল্লাহর দোহাই দিয়া একটি ছাগল চাহিতেছি; যেন আমি সেই ছাগল-বেচা টাকা দিয়া দেশে ফিরিয়া যাইতে পারি।
তখন সে বলিল, হ্যাঁ ঠিক তো। আমি অন্ধ ছিলাম, পরে আল্লাহ আমাকে দেখিবার ক্ষমতা দিয়াছেন। আমি গরিব ছিলাম, তিনি আমাকে আমির করিয়াছেন। তুমি যাহা চাও লও। আল্লাহর কসম, আল্লাহর উদ্দেশ্যে যে জিনিস লইতে তোমার মন চায়, তাহা যদি তুমি না লও, তবে আমি তোমাকে কিছুতেই ভালো লোক বলিব না।
ফেরেশতা তখন বলিলেন, বাস্। তোমার জিনিস তোমারই থাক। তোমাদের পরীক্ষা লওয়া হইল। আল্লাহ তোমার উপর খুশি হইয়াছেন, আর তাহাদের উপর বেজার হইয়াছেন।

Content added || updated By

Related Question

View More

স্বর্গীয় দূত তিনজন ইহুদিকে পরীক্ষা করেছিলেন।

মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য স্বর্গীয় দূত মানুষের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন।

ফেরেশতা হলেন আল্লাহর দূত। আল্লাহর হুকুমে তাঁরা সকল কাজ করে থাকেন। আল্লাহ আরব দেশের তিনটি লোককে পরীক্ষার জন্য এক ফেরেশতাকে পাঠিয়েছিলেন। ফেরেশতা মানুষের রূপ ধরে ঐ তিন ব্যক্তির কাছে গিয়েছিলেন, যেন তাঁর আসল পরিচয় বোঝা না যায়। এতে করে পরবর্তীতে সেই মানুষদের সততার পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়েছিল।

কালাম ও আবুলের কাজের মধ্যে 'সততার পুরস্কার' গল্পের অকৃতজ্ঞতা ও স্বার্থপরতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

আরব দেশের তিন জন অসহায় ও রোগাক্রান্ত লোককে পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ একজন ফেরেশতা পাঠান। ফেরেশতার অনুগ্রহে এই তিন জনেরই শারীরিক ত্রুটি দূর হলো। শুধু তাই নয়, ফেরেশতার কৃপায় প্রথম জন একটি উট থেকে বহু উটের, দ্বিতীয় জন একটি গাভি থেকে বহু গাভির এবং তৃতীয় জন একটি ছাগল থেকে বহু ছাগলের মালিক হয়ে গেল। কিন্তু কিছুদিন পর এদের পরীক্ষা করার জন্য ফেরেশতা গরিব বিদেশির ছদ্মবেশে এদের কাছে হাজির হলেন। তিনি একেক জনের কাছে গিয়ে তাদের আগের দুরবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাকে কিছু সাহায্য করতে বললেন। প্রথম দুজন তাদের আগের অবস্থার কথা অস্বীকার করে ছদ্মবেশী ফেরেশতাকে খালি হাতে বিদায় দিল। যার মাধ্যমে তাদের স্বার্থপরতার দিকটি ফুটে ওঠে।

উদ্দীপকেও আমরা দেখতে পাই হাজি সাহেব জাকাতের টাকা দিয়ে আবুলকে একটা রিক্সা ও কালামকে ভ্যানগাড়ি কিনে দিলে তারা স্বাবলম্বী হয়। কিছুদিন পর হাজি সাহেব তাদের পরীক্ষা করার জন্য এক ভিক্ষুককে পাঠালে আবুল ও কালাম কোনো সাহায্য করেনি। সুতরাং এখানেও স্বার্থপরতা ও অকৃতজ্ঞতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

'সততার পুরস্কার' গল্পে কৃতজ্ঞ ব্যক্তি অন্ধ লোকটি।

ধবলরোগী ফেরেশতার কাছে তার রোগের কথা বলতে গিয়ে উক্ত কথাটি বলে।

আল্লাহর হুকুমে ফেরেশতা ধবলরোগীর কাছে গিয়ে জানতে চান সে কী সবচেয়ে ভালোবাসে। জবাবে সে বলে তার গায়ের ধবল রোগ যদি ভালো হয় তবে সে সবচেয়ে সুখী হবে। কারণ এই রোগকে সবাই খুব ঘৃণা করে।

উদ্দীপকের হরিপদ 'সততার পুরস্কার' গল্পের অন্ধ সৎ লোকটিকে নির্দেশ করে।

মানুষের অন্যতম গুণগুলোর মধ্যে একটি হলো সততা। সৎ ব্যক্তিকে সকলে ভালোবাসে। সৎ ব্যক্তি কখনো কারও সঙ্গে অন্যায় করে না।

উদ্দীপকের হরিপদ একজন দরিদ্র ব্যক্তি। কোনো এক অফিস থেকে সে তার প্রাপ্য টাকা পায়। টাকাটি তারা খামে ভরে হরিপদকে দেয়। স্টেশনে এসে হরিপদ খাম খুলে দেখে তার পাওনা চল্লিশ টাকা নয়।

খামে রয়েছে এগারোশ টাকা। সে টাকাটি ফেরত দিতে চায়। কারণ এত টাকার মালিক সে নয়। স্ত্রী বাধা দিলে হরিপদ তাকে বোঝাতে চেষ্টা করে। 'সততার পুরস্কার' গল্পের অন্ধ লোকটিও সৎ। অন্ধ লোকটি আল্লাহ্ অনুগ্রহের কথা স্মরণে রেখেছে এবং ফেরেশতাকে সাহায্য করেছে। তাই বলা যায় যে, সৎ হওয়ার দিক থেকে উদ্দীপকের হরিপদ আলোচ্য গল্পের অন্ধ সৎ লোকটিকে নির্দেশ করে।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...