আবদুর রবের একমাত্র ছেলে ফয়সাল। লেখাপড়ায় সে বেশ ভালো। ফয়সালের মামা তাকে ঢাকায় এনে লেখাপড়া করাতে চান। কিন্তু ফয়সাল গ্রামের এ চমৎকার পরিবেশ ছেড়ে কোলাহলপূর্ণ ঢাকায় যেতে চায় না।
হিয়া শব্দের অর্থ হৃদয়।
ঝিঙে ফুল
কাজী নজরুল ইসলাম
ঝিঙে ফুল! ঝিঙে ফুল!
সবুজ পাতার দেশে ফিরোজিয়া ফিঙে-কুল- ঝিঙে ফুল।
গুলে পর্ণে
লতিকার কর্ণে
ঢলঢল স্বর্ণে
ঝলমল দোলো দুল- ঝিঙে ফুল ॥
পাতার দেশের পাখি বাঁধা হিয়া বোঁটাতে, গান তব শুনি সাঁঝে তব ফুটে ওঠাতে।
পউষের বেলাশেষ
পরি জাফরানি বেশ
মরা মাচানের দেশ
করে তোলো মঞ্জুল- ঝিঙে ফুল ॥
শ্যামলী মায়ের কোলে সোনামুখ খুকু রে, আলুথালু ঘুমু যাও রোদে গলা দুপুরে।
প্রজাপতি ডেকে যায়-
‘বোঁটা ছিঁড়ে চলে আয়!’
আসমানে তারা চায়-
‘চলে আয় এ অকূল!’ ঝিঙে ফুল ॥
তুমি বলো-'আমি হায়
ভালোবাসি মাটি-মা'য়,
চাই না ও অলকায়-
ভালো এই পথ-ভুল!' ঝিঙে ফুল ॥
Related Question
View Allঅলকা বা স্বর্গ অনেক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে পরিপূর্ণ থাকলেও কবি এ স্বদেশের প্রকৃতিকে রেখে অন্য কোথাও যেতে চান না- এটাই ঝিঙে ফুলের প্রতীকে বোঝানো হয়েছে।
'ঝিঙে ফুল' কবিতায় কবির প্রকৃতিপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যায়। পৌষের বেলাশেষে সবুজ পাতার এ দেশে জাফরান রং নিয়ে ঝিঙে ফুল মাচার উপর ফুটে আছে। প্রজাপতি তাকে বোঁটা ছিঁড়ে চলে আসার জন্য ডাকছে। আকাশে চলে যাওয়ার জন্য ডাকছে তারা। কিন্তু সে সুখ-ঐশ্বর্যে পরিপূর্ণ স্বর্গের চেয়ে পৃথিবীকে বেশি ভালোবাসে। তাই সে মাটিকে ভালোবেসে মাটি-মায়ের কাছেই থাকবে- আলোচ্য চরণে এ কথাই বোঝানো হয়েছে।'
জন্মভূমির শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করার আহ্বানের দিক থেকে ফয়সালের মামার চাওয়া 'ঝিঙে ফুল' কবিতার প্রজাপতির ডাকের সঙ্গে সম্পর্কিত।
জন্মভূমির সঙ্গে সবার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। স্বর্গ সুখের নিশ্চয়তা পেলেও মানুষ জন্মভূমিকে ছেড়ে যেতে চায় না।
'ঝিঙে ফুল' কবিতায় ঝিঙে ফুলকে বোঁটা ছিঁড়ে আসার জন্য প্রজাপতি ডাকছে। কিন্তু ঝিঙে ফুল মাটিকে ভালোবেসে মাটির কাছেই থাকবে। উদ্দীপকে ফয়সালের মামা ভালো পড়াশুনার জন্য চেনা-জানা পরিবেশ ছেড়ে ফয়সালকে ঢাকায় নিয়ে যেতে চান। এভাবেই জন্মমাটির শেকড় বিচ্ছিন্ন করার আহ্বানের দিক থেকে ফয়সালের মামার চাওয়াl 'ঝিঙে ফুল' কবিতার প্রজাপতির ডাকের সঙ্গে সম্পর্কিত।
"ফয়সাল এবং ঝিঙে ফুলের ইচ্ছা যেন একই সূত্রে গাঁথা।"-উক্তিটি যথার্থ।
মানুষ বা প্রকৃতি যে যেখানে যে পরিবেশে বড় হয় সেখানে আত্মীয়তার সম্পর্ক অনুভব করে। কিছুতেই সে তার চিরচেনা-পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চায় না।
উদ্দীপকে ফয়সালের মামা ফয়সালকে ঢাকায় নিয়ে যেতে চান পড়াশুনা করানোর জন্য। কিন্তু ফয়সাল তার নিজ অবস্থানকেই ভালোবেসে অন্য কোথাও যেতে চায় না। 'ঝিঙে ফুল' কবিতায় ঝিঙে ফুলকে প্রজাপতি ডাকছে বোঁটা ছিড়ে চলে আসার জন্য, আকাশে চলে যাওয়ার জন্য ডাকছে তারা। কিন্তু সে মাটিকে ভালোবেসে মাটি-মায়ের কাছেই থাকবে।
কোনো কিছুর মোহেই নিজ জন্মস্থানকে ছেড়ে' না যাওয়ার দিক দিয়ে ফয়সাল ও ঝিঙে ফুলের ইচ্ছা যেন একই সূত্রে গাঁথা। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
ঝিঙে ফুল মা-মাটির পরশেই ভালো থাকতে চায়, ‘তাই সে অলকায় যেতে চায় না।’
ঝিঙে ফুল সবুজ পাতার মাঝে যখন ফোটে তখন তার অপরূপ সৌন্দর্য যেন সবাই মুগ্ধ করে। ঝলমল করে দোলা ঝিঙে ফুল যেন পৌষের, শেষ বেলাতেও প্রকৃতির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। কিন্তু মাঝে মাঝে যেন এই ঝিঙে ফুল অবহেলিত হয়, যখন রোদের মাঝেও ঝিঙে ফুল তার মায়ের কোলে ঘুমায় তখন। প্রজাপতি তাকে ডাকে বোঁটা ছিঁড়ে আকাশে চলে আসতে, কিন্তু ঝিঙে ফুল তাতে রাজি হয় না। সে তার সৌন্দর্য নিয়ে মা-মাটিকে আঁকড়ে ধরেই বাঁচতে চায়। এই জীবনই যেন তার কাছে শান্তিময়। তাই ঝিঙে ফুল অলকায় যেতে চায় না।
উদ্দীপকের ঝরনার সঙ্গে 'ঝিঙে ফুল' কবিতার ঝিঙে ফুলের মিল রয়েছে ।
বাংলাদেশ অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ। মানুষ প্রকৃতির এ সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়। আর প্রকৃতি আমাদের তার রূপ ও সৌন্দর্য দিয়ে বিমোহিত করে।
উদ্দীপকে চঞ্চল ঝরনার কথা বলা হয়েছে, যে চপল পায়ে কেবল ছুটে চলে। তার চলার ছন্দে তৈরি হয় অপরূপ সৌন্দর্য। পাথরের উপর যখন ঝরনার জলরাশি পড়ে তখন তার সৌন্দর্য ঝিলিক দিয়ে ওঠে। তার সৌন্দর্যে মন ভোলে সৌন্দর্য প্রেমিকের। 'ঝিঙে ফুল' কবিতাও বলা হয়েছে ঝিঙে ফুলের সৌন্দর্যের কথা। পৌষের শেষ বেলায় ঝিঙে ফুলের সৌন্দর্যে মরা মাচান বিকশিত হয়। মাটির বুকে সোনালি দুপুরে ঝিঙে ফুলের সৌন্দর্য অসাধারণ। তাই বলা যায় যে, সৌন্দর্যের দিক থেকে উদ্দীপকের ঝরনার সঙ্গে 'ঝিঙে ফুল' কবিতার ঝিঙে ফুলের মিল রয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!