Natus-এর শাব্দিক অর্থ birth বা জন্ম।
ইংরেজি 'Nation' শব্দটি ল্যাটিন শব্দ 'Nasci' থেকে এসেছে, যার অতীত রূপ Natus থেকে উদ্ভূত (Nasci = to born, Natus = birth, race, people); যার অর্থ জন্ম, গোষ্ঠী, জনগণ প্রভৃতি। যদিও Nation শব্দটির গ্রহণযোগ্য বাংলা প্রতিশব্দ পাওয়া যায় না। আমরা সুবিধার জন্য নেশনকে বেছে নিয়েছি।
RN Gilchrist বলেন, "Nation is a state plus something else;
the state looked at from a certain point of view, viz, that of the unity of the people organised into one state." (জাতি হলো রাষ্ট্র ছাড়াও অধিক কিছু; রাষ্ট্রকে একটি বিশেষ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে, অর্থাৎ, জাতি হলো রাষ্টের মধ্যে একটি সুগঠিত জনসমাজ।)
উদ্দীপকের ঘটনায় খাঁটি দেশপ্রেমের ধারণার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। দেশপ্রেম হলো মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি। এ বিশাল পৃথিবীর যে ভূখণ্ডে মানুষ জন্ম নেয়; যে দেশের আলো, বাতাস, মাটি ও পানিতে সে বড় হয়, সেই মাটি, দেশের প্রতি ভালোবাসা মানুষের জন্মগত একটি বিষয়। নিজ দেশের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, দায়িত্ব, কর্তব্যবোধ থেকে দেশপ্রেমের উদ্ভব। আমাদের মাতৃভূমি আমাদেরকে মায়ের মতোই আদর-সোহাগ-মমতা দিয়ে ভালোবাসায় জড়িয়ে, অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান দিয়ে লালন-পালন করে। তাই দেশকে ভালোবাসা, দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা, দেশ মাতৃকার কল্যাণে জনসাধারণের জন্য কাজ করা প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব। উদ্দীপকের রুমি ২১ বছরের টগবগে এক যুবক। বুয়েটে পড়ুয়া ছাত্রের সামনে ছিল যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার সুযোগ। ঠিক এ সময় তাঁর দেশে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগতে থাকা রুমি বেছে নেয় দেশ আর দেশের মানুষকে। এ দুইয়ের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা তাঁকে স্বপ্নের মতো জীবন গড়ার বিলাসী জীবনবোধ থেকে ফিরিয়ে আনে। যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশ মাতৃকাকে স্বাধীন করার প্রত্যয় নিয়ে। আর এসবই সম্ভব হয়েছে তাঁর অকৃত্রিম দেশপ্রেমের কারণে। যা তাঁকে নিজের প্রাণ উৎসর্গ করতেও বাধা দিতে পারেনি।
উদ্দীপকে রুমির আত্মত্যাগ একটি স্বাধীন জাতি সৃষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে।
রাজনৈতিক চেতনার দ্বারা সংঘবদ্ধ সমাজকেই জাতি বলা হয়। নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসকারী জনসমষ্টি যাদের মধ্যে ধর্ম, ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের ঐক্য রয়েছে এবং যারা সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ তারাই জাতি। একটি জনসমাজ তখনই জাতি হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে, যখন তারা জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হয় এবং রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হয়ে স্বাধীন হওয়ার চেষ্টা করে বা স্বাতন্ত্রবোধ বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকে। রুমির আত্মত্যাগ জাতি সৃষ্টির প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ স্বাধীনতা যুদ্ধ তখনই শুরু হয় যখন দেশের জনগণের মধ্যে নিজস্বতা বা জাতীয়তাবোধ সৃষ্টি হয়। জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠলে মানুষ নিজস্বতার টান অনুভব করে। যা একটি স্বাধীন জাতি সৃষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ইতিহাসের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ব্রিটিশ উপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদী শাসনের বিরুদ্ধে ভারতবাসীর আন্দোলন এবং এর ফলে ১৯৪৭ সালে ভারত পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করেছে এবং ১৯৭১ সালে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ হয়ে রুমির মতো আরও ত্রিশ লক্ষ শহীদ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষকে একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করেছে। তাই উদ্দীপকের রুমির মতো দেশপ্রেমিকের আত্মত্যাগের বিনিময়েই অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা আর বাঙালি জাতি বীরের জাতি হিসেবে পরিচিত হয়েছে বিশ্ব দরবারে।
Related Question
View AllNationality' শব্দের অর্থ জাতীয়তা।
জাতীয়তাবাদ একটি মহান আদর্শ, যা মূলত এক প্রকার মানসিক অনুভূতি। বিভিন্ন উপাদান থেকে এর উৎপত্তি। কিন্তু এ জাতীয়তাবাদ যদি এমন হয় যে, তা অন্য জাতিকে ঘৃণা করতে শেখায়, নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবতে শেখায় এবং অন্যকে নিজের অধীন রাখার মতো হীনমানসিকতাকে জাগিয়ে তোলে, তবে তা হবে উগ্র জাতীয়তাবাদ। এটি একটি বিবৃত মানসিকতা যা ব্যক্তিকে অন্ধ দেশপ্রেমে প্রলুব্ধ করে। জার্মানির হিটলার, ইতালির মুসোলিনী এরূপ জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ছিল, যার ফলাফল প্রলয়ঙ্করী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
বাঙালি জাতীয়তাবাদ একটি ঐতিহাসিক বিষয়। এর বিকাশ ঘটেছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে ভিত্তি করে, যা প্রধান শিক্ষক উদ্দীপকে উল্লেখ করেছেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদের উদ্ভব ও বিকাশের পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এক মাইলফলক। বাঙালি দামাল ছেলেরা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে নিজেদের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এক ইতিহাস রচনা করে। এ ভিত্তিতেই রচিত হয় বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশ। ৫২'র ভাষা আন্দোলন ছিল স্বাধিকার আদায়ের প্রথম ধাপ। এ আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ৫৪'র নির্বাচন, ৬২'র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬'র ছয় দফা, ৬৯'র গণঅভুত্থান, ৭০'র নির্বাচন এবং ৭১'র স্বাধীনতা অর্জিত হয়। এ দীর্ঘ পথপরিক্রমায় বাঙালির ভাষাভিত্তিক জাতীয়তার ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছে। বাঙালি জাতি এক ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত হয়। স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বিজয় অর্জনে এটি আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
জাতীয়তা একটি বহুমাত্রিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রত্যয়। এটি গড়ে ওঠার পেছনে অনেকগুলো factor কাজ করে থাকে। উদ্দীপকে প্রধান অতিথি যে কথাটি বলেছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেননা শুধু ভাষাগত মিল একটি জাতীয়তা নির্মাণের একমাত্র ভিত্তি হতে পারে না। যেমন- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা প্রভৃতি দেশের ভাষা ইংরেজি হলেও তারা প্রত্যেকে আলাদা আলাদা জাতি। বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের লোকজনের ভাষা এক হওয়া সত্ত্বেও এরা আলাদা দুটি জাতি। আবার ভারত বহু ভাষাভাষীর জনগোষ্ঠীর দেশ হলেও তাদের জাতীয়তা এক। এভাবে ভাষাগত সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্য একরূপ জাতীয়তা সৃষ্টি বা আলাদা করতে ভূমিকা পালন নাও করতে পারে। জাতীয়তা নির্মাণের পথ অত্যন্ত জটিল ধারায় আবর্তিত হয়।
জাতীয়তা নির্ধারণের অন্যান্য যেসব উপাদান রয়েছে তার মধ্যে প্রধান হলো একই ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ধর্ম, সাহিত্য, ভৌগোলিক ঐক্য, মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য, রাজনৈতিক ঐক্য, অর্থনৈতিক অভিন্ন উদ্দেশ্য ইত্যাদি। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে, বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির লোক জড়ো হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন বসবাস করছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ঐক্য তাদেরকে একই সূত্রের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে এবং শক্তিশালী জাতীয়তা নির্মাণে সহায়তা করেছে। তাদের সবার জাতীয়তা নির্ধারিত হয়েছে মার্কিনী। এরূপ কালের পরিক্রমায় দীর্ঘ পরিসরে মানুষের জীবনধারার প্রেক্ষিতে একটি জাতীয়তা গড়ে উঠেছে।
অনুরূপভাবে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী মানুষের মধ্যেও ইতিহাসের বিবর্তন ধারায় গড়ে উঠেছে জাতীয় চেতনা। এ চেতনা থেকেই সৃষ্টি হয়েছে জাতীয়তাবোধ। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই এরূপ লক্ষ করা যায়। Activate
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে।
জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ জনসমষ্টির রাষ্ট্রগুলোকে জাতি-রাষ্ট্র বলা হয়। জাতীয়তার উপাদানগুলোর মাধ্যমে সংগঠিত ও স্বাধীন হয়ে এরূপ রাষ্ট্র গঠিত হয়। জাতিরাষ্ট্র ধারণার প্রবক্তা ম্যাকিয়েভেলি। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ইত্যাদি জাতি-রাষ্ট্র।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!