'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার অষ্টকের মিলবিন্যাস হলো- কখকখকখখক।
'প্রজারূপে রাজরূপ সাগরের দিতে বারি-রূপ কর তুমি' বলতে কপোতাক্ষ নদের সাগরকে বারিরূপ কর বা রাজস্ব দেওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতার আবরণে তাঁর অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। কবি দূর প্রবাসে বসেও শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের কলকল ধ্বনি শুনতে পান। সেই নদের কথা বলতে গিয়ে কবি বলেছেন প্রজা যেমন রাজাকে কর বা রাজস্ব দেয় কপোতাক্ষ নদও তেমনই সাগরকে তার জল কর বা রাজস্ব হিসেবে দিচ্ছে। প্রশ্নোক্ত বাক্যে এই কথাটিই বোঝানো হয়েছে।
উদ্দীপকের প্রথমাংশে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার স্মৃতিকাতরতার সাদৃশ্য বোঝানো হয়েছে।
জন্মভূমির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। কোনো কারণে কেউ মাতৃভূমি ছেড়ে দূরে গেলে তার অন্তরে স্বদেশের নদ-নদী-জল, মাটি-মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা জেগে ওঠে। যত উন্নত পরিবেশের সঙ্গে সে জীবনকে জড়াক না কেন, জন্মভূমিকে কখনই সে ভুলতে পারে না।
উদ্দীপকের কবির চোখে জন্মভূমির শৈশবের সাধারণ বিষয়গুলো অনির্বচনীয় সৌন্দর্য নিয়ে ধরা পড়েছে। কবির মনে পড়ে পল্লিমায়ের সেই শান্ত-স্নিগ্ধ কোল, ঝাউশাখে বুনো লতা বেঁধে মনের আনন্দে দোল খাওয়ার সুখস্মৃতিগুলোর কথা, শৈশবের খুনসুটির কথা। উদ্দীপকের কবির এই স্মৃতিকাতরতা এবং স্বদেশপ্রেম 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায়ও প্রকাশিত। 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবি দূর প্রবাসে বসে মাতৃভূমি ও শৈশবের প্রিয় কপোতাক্ষ নদের কথা মনে করে কাতর হয়েছেন। মাতৃভূমির প্রতি কবির এই আকর্ষণ এবং জন্মভূমি মায়ের বুকে ফিরে আসার ব্যাকুলতা তার স্বদেশপ্রেমের চেতনাকে বিশিষ্টভাবে উন্মোচিত করেছে, যা উদ্দীপকের কবির চেতনার মাঝে প্রতিফলিত। মাতৃভূমির প্রতি গভীর অনুরাগ ও স্মৃতিকাতরতার দিক দিয়ে উদ্দীপকের ভাবের সঙ্গে আলোচ্য কবিতার সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
"উদ্দীপকের দ্বিতীয়াংশ এবং 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার ঘটকের ভাবধারা একই সূত্রে গাঁথা।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
ইংরেজিতে Sonnet বাংলায় চতুর্দশপদী কবিতা। চৌদ্দ চরণ-সমন্বিত ভাবসংহত সুনির্দিষ্ট কবিতা সনেট। বাংলা সাহিত্যে অনেকেই সনেট রচনা করেছেন। সনেটে প্রথমত থাকে ভাবের প্রবর্তনা এবং পরবর্তীতে ভাবের পরিণতি।
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতাটি একটি সনেট জাতীয় কবিতা। এ কবিতার প্রথম আট চরণ বা অষ্টকে রয়েছে ভাবের প্রবর্তনা এবং পরবর্তী ছয় চরণ মানে ষটকে রয়েছে ভাবের পরিণতি। ষটকে কবির ভাবের পরিণতি প্রকাশ পেয়েছে। তিনি কিছুতেই কপোতাক্ষ নদকে ভুলতে পারেন না। কপোতাক্ষ নদ ছাড়া অন্য কোনো নদ-নদীর জল কবির তৃষা মেটাতে পারে না। কবি তাই ফিরে আসতে চান মাতৃভূমিতে। কিন্তু তিনি আশঙ্কা করেন কখনো ফিরতে পারবেন কিনা। উদ্দীপকের দ্বিতীয়াংশের অনুভূতি যেন 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার ঘটকের ভাব। কারণ এখানে কবি অপরূপা জন্মভূমিকে ফিরে পাওয়ার আকুলতা ব্যক্ত করেছেন। যেখানেই যান তাঁর মনে প্রিয় জন্মভূমির স্মৃতি সদা জাগরুক।
উদ্দীপকের কবি বিদেশ-বিভূঁইয়ে জন্মভূমিকে স্মরণ করে নীরবে অশ্রু বিসর্জন করেছেন এবং কখনই জন্মভূমির সঙ্গে মিলিত হওয়ার আশা ত্যাগ করেননি। 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবিও সুদূর প্রবাসে বসে স্বদেশের নদের কথা মনে করেছেন। পুনরায় তার কাছে ফিরে আসার অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেছেন। তাই বলা হয়েছে, উদ্দীপকের দ্বিতীয়াংশের অনুভূতি 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার ঘটকের ভাবে ফুটে উঠেছে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!