যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি সহযোগে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।
ব্যাপন প্রক্রিয়ায় পদার্থের অণুগুলো অধিক ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বের দিকে যায়। ফলে উভয় স্থানে অণুগুলোর ঘনত্ব সমান হয়। ব্যাপনকারী পদার্থের অণু-পরমাণুগুলোর গতিশক্তির প্রভাবে এক প্রকার চাপ সৃষ্টি হয় যার প্রভাবে অধিক ঘনত্বযুক্ত স্থান থেকে কম ঘনত্বযুক্ত স্থানে অণুগুলো ছড়িয়ে পড়ে। এ প্রকার চাপকে ব্যাপন চাপ বলে।
উদ্দীপকের স্থান অর্থাৎ সুন্দরবনের বাতাস শীতল হওয়ার কারণ হচ্ছে উদ্ভিদের প্রস্বেদন প্রক্রিয়া। নিচে কারণ ব্যাখ্যা করা হলো-সুমি তার বাবার সাথে সুন্দরবনে বেড়াতে গিয়েছিল। সুন্দরবনে অনেক গাছ থাকায় প্রস্বেদনও অনেক বেশি হয়েছিল। আর তাই পরিবেশ শীতল ছিল এবং বনের ভিতরের বাতাস শীতল ছিল। আমরা জানি, গাছ যে পরিমাণ শোষণ করে তার অধিকাংশই পাতা ও অন্যান্য অঙ্গের মাধ্যমে প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় বের করে দেয়। ফলে গাছের দেহ ঠান্ডা থাকে এবং পাতার আর্দ্রতা বজায় রাখে। আর গাছের দেহ ঠান্ডা ও পাতার অর্দ্রেতা যথাযথ থাকার কারণেই সুন্দরবনের স্থান শীতল ছিল।
উদ্দীপকে সুমির বাবার বলা উদ্ভিদের বিশেষ প্রক্রিয়াটি হলো প্রস্বেদন। নিচে প্রস্বেদন প্রক্রিয়ার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-
উদ্ভিদ জীবনে প্রস্বেদন একটি অনিবার্য প্রক্রিয়া। প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদ তার দেহ থেকে পানি বের করে দিয়ে অতিরিক্ত পানির চাপ থেকে মুক্ত করে। প্রস্বেদনের ফলে কোষ রসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্তঃঅভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে। প্রস্বেদনের ফলে সৃষ্ট চাপের কারণে পানি উদ্ভিদের শীর্ষ পর্যন্ত পৌছে।
এ প্রক্রিয়ার ফলে উদ্ভিদের দেহ ঠান্ডা থাকে এবং পাতা আর্দ্রতা বজায় থাকে। প্রস্বেদনের কারণেই খাদ্য তৈরির জন্য অবিরাম পানি সরবরাহ সম্ভব হয়। আবার পানিচক্রে বাষ্পীভবনে প্রস্বেদন ভূমিকা রাখে। এমনকি প্রস্বেদনের ফলে প্রচুর পানি বাষ্পাকারে বায়ুমন্ডলে পৌছে যা পরিবেশের জন্য উপকারী।
অর্থাৎ উপরোক্ত আলোচনা প্রেক্ষিতে বলা যায় উদ্ভিদের জীবনে প্রস্বেদন প্রক্রিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম।
উদ্ভিদ মূলের সাহায্যে মাটি থেকে পানি ও পানিতে দ্রবীভূত খনিজ লবণ শোষণ করে এবং সেই পানি ও রস কাণ্ডের ভিতর দিয়ে পাতায় পৌঁছায়। আবার দেহে শোষিত পানি উদ্ভিদ বাষ্প আকারে দেহ থেকে বের করে দেয়। উদ্ভিদ যে প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন গ্যাস ত্যাগ করে, দেহে পানি ও পানিতে দ্রবীভূত খনিজ লবণ শোষণ করে ঐ রস দেহের নানা অঙ্গে পরিবহন করে ও দেহ থেকে পানি বাষ্প আকারে বের করে দেয় সেই সব প্রক্রিয়া ব্যাপন, অভিস্রবণ, শোষণ, পরিবহন ও প্রস্বেদনের মাধ্যমে ঘটে।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
• ব্যাপন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব;
• অভিস্রবণ প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব;
• প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের পানি পরিত্যাগ ব্যাখ্যা করতে পারব;
• উদ্ভিদের পানি শোষণ ব্যাখ্যা করতে পারব।
Related Question
View Allউদ্ভিদ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি ও খনিজ লবণ মূলরোম দ্বারা শোষণ করে।
ব্যাপন ও অভিস্রবণের মধ্যে দুটি পার্থক্য নিচের ছকে দেখানো হলো-
ব্যাপন | অভিস্রবণ |
১. ব্যাপন হচ্ছে কোনো পর্দার বাঁধা ছাড়া ঘন দ্রবণ থেকে দ্রব্যের অণুর পাতলা দ্রবণের দিকে ছড়িয়ে পড়া। | ১. অভিস্রবণ হচ্ছে অর্ধভেদ্য পর্দার ভেতর দিয়ে পাতলা দ্রবণ থেকে ঘন দ্রবণের দিকে দ্রাবকের চলন। |
২. ব্যাপন প্রক্রিয়ায় দ্রব ও দ্রাবক' উভয়ের ব্যাপন ঘটে। | ২. অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় শুধু দ্রাবকের ব্যাপন ঘটে। |
উদ্দীপকে যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেন্ট এর ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে তা হলো ব্যাপন। নিচে ব্যাপন প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করা হলো-
আমরা জানি সব পদার্থই কতকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণু দিয়ে তৈরি। এ অণুগুলো গতিশীল বা চলমান অবস্থায় থাকে। তরল ও গ্যাসের ক্ষেত্রে অণুগুলোর চলন দ্রুত হয় এবং বেশি ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বের দিকে অণুগুলো ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে যতক্ষণ না অণুগুলোর ঘনত্ব দুই স্থানে সমান হয়। অণুগুলোর এরূপ চলন প্রক্রিয়াকে বলে ব্যাপন। ব্যাপনকারী পদার্থের অণু-পরমাণুগুলোর গতিশক্তির প্রভাবে এক প্রকার চাপ সৃষ্টি হয় যার প্রভাবে অধিক ঘনত্বযুক্ত স্থান থেকে কম ঘনতযুক্ত স্থানে অণুগুলো ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণেই সেন্ট এর ঘ্রাণ ব্যাপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রক্রিয়াটি হলো ব্যাপন। নিচে ব্যাপন প্রক্রিয়াটি গুরুত্ব আলোচনা করা হলো-
জীবের সব রকম শারীরবৃত্তীয় কাজে ব্যাপন প্রক্রিয়া ঘটে। উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের সময় বাতাসের কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে। এ অত্যাবশ্যক কাজ ব্যাপন দ্বারা সম্ভব হয়। জীবকোষে শ্বসনের সময় গ্লুকোজ জারণের জন্য অক্সিজেন ব্যবহৃত হয়। ব্যাপন ক্রিয়ার দ্বারা কোষে অক্সিজেন প্রবেশ করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড বের হয়ে যায়। উদ্ভিদ দেহে শোষিত পানি বাষ্পাকারে প্রস্বেদনের মাধ্যমে দেহ থেকে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বের করে দেয়।
উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর থেকে পাতার মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বলে।
উদ্ভিদ পরিবহনের পথ বলতে বুঝায় জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুকে।
কারণ জাইলেম ও ফ্লোয়েম নামক পরিবহন টিস্যুর মাধ্যমে উদ্ভিদে পরিবহন ঘটে। জাইলেম উদ্ভিদে ঊর্ধ্বমুখী পরিবহন পথ হিসেবে কাজ করে। জাইলেমের মাধ্যমে মূল দ্বারা শোষিত পানি পাতায় পৌছে। আর ফ্লোয়েম উদ্ভিদে নিম্নমুখী পরিবহন পথ হিসেবে কাজ করে। ফ্লোয়েমের মাধ্যমে পাতায় উৎপন্ন তরল খাদ্য সারা দেহে পরিবাহিত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!