রিনার বিয়ে হয়েছে দুই বছর হলো। কিন্তু প্রায় সময়ই তাকে স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতনের শিকার হতে হয়। কারণ, তার বাবা শ্বশুর বাড়ির চাহিদামতো টাকা-পয়সা ও আসবাবপত্র দিতে পারেননি। রিনার মতো মেয়েদের নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষার জন্য বাংলাদেশ সরকার ১৯৮০ সালে একটি আইন প্রণয়ন করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি হলো যৌতুক যা সমাজে ব্যাপক | নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশের নারী নির্যাতন একটি নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। আমাদের দেশে সাধারণত যে সব কারণে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে তার মধ্যে যৌতুক অন্যতম। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় বিয়ের পূর্বশর্ত হিসেবে বর পক্ষ কনে পক্ষের কাছে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বা বিলাসজাত দ্রব্য যৌতুক হিসেবে দাবি করে। আবার অনেক ক্ষেত্রে বিয়ের আগে কোনো শর্ত বা প্রতিশ্রুতি না থাকলেও বরপক্ষ বিয়ের পর যৌতুক দাবি করে।
সাধারণত কনেপক্ষ যৌতুক দিতে অস্বীকার করলে বর বা তার পরিবার স্ত্রীর ওপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দাবির পরিমাণ ক্রমাগত বাড়তেই থাকে। এর ফলে অনেক সময় মেয়ের বাবা ছেলে পক্ষের দাবি মেটাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। কখনও কখনও দেখা যায় কনে লজ্জায় বা পিতার অসামর্থ্যের কথা ভেবে বার বার যৌতুক চাইতে অস্বীকার করে। এতে তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। এক সময় সে সইতে না পেরে আত্মহত্যার নেতিবাচক ও চরম পথ বেছে নেয়। এর ফলে উভয় পরিবারই সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। যৌতুকের কারণে পারিবারিক অশান্তির পাশাপাশি সামাজিক অস্থিরতারও সৃষ্টি হয়। তাই বলা যায়, যৌতুক সমাজে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?