অংশ-১: "একি অপরূপ রূপে মা তোমায়
হেরিনু পল্লি-জননী
ফুলে ও ফসলে কাদা মাটি জলে
ঝলমল করে লাবণী"
অংশ-২: 'জন্মেছি মাগো তোমার কোলেতে
মরি যেন এই দেশে।"
উদ্দীপকের অংশ-২ 'আবার আসিব ফিরে' কবিতায় মূলভাবেরই প্রকাশ- উক্তিটি যথার্থ।
বাংলা প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্য আমাদের মন ভুলায়। আমরা যেন মাতৃভূমির সৌন্দর্যকে ভালো না বেসে থাকতে পারি না। এদেশের বুকে জন্ম নিয়েছি, আবার এখানেই আমরা মরতে চাই। মাতৃভূমির সঙ্গে আমাদের রয়েছে এমনই অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক।
উদ্দীপকের অংশ ২-এ কবির অত্যুজ্জ্বল স্বদেশপ্রেম প্রকাশ পেয়েছে। কবি তার দেশকে এতটাই ভালোবাসেন যে এদেশ তিনি জন্মেছেন এবং এদেশেই মৃত্যুবরণ করতে চান। এ ভাবটি 'আবার আসিব ফিরে' কবিতার মূলভাবেরই প্রকাশ। কারণ আলোচ্য কবিতায়ও কবি বলেছেন মৃত্যুর পরও জন্মভূমির সাথে তার সম্পর্ক শেষ হবে না।
'আবার আসিব ফিরে' কবিতায় কবি দেখিয়েছেন যে, তিনি এদেশকে খুবই ভালোবাসেন। তিনি মনে করেন- যখন তাঁর মৃত্যু হবে তখন দেশের সঙ্গে তার মমতার বাঁধন শেষ হবে না। তিনি বাংলার রূপময় প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যাবেন। কবিতার এই মূল কথাটি উদ্দীপকের ২নং অংশে প্রকাশ পেয়েছে। সুতরাং বলা যায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে- এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয়— হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে;
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঁঠাল-ছায়ায়;
হয়তো বা হাঁস হবো— কিশোরীর ঘুঙুর রহিবে লাল পায়,
সারাদিন কেটে যাবে কলমির গন্ধভরা জলে ভেসে ভেসে;
আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ খেত ভালোবেসে
জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলার এ সবুজ করুণ ডাঙায়,
হয়তো দেখিবে চেয়ে সুদর্শন উড়িতেছে সন্ধ্যার বাতাসে,
হয়তো শুনিবে এক লক্ষ্মীপেঁচা ডাকিতেছে শিমুলের ডালে,
হয়তো খইয়ের ধান ছড়াতেছে শিশু এক উঠানের ঘাসে;
রূপসার ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক সাদা ছেঁড়া পালে
ডিঙা বায়; – রাঙা মেঘ সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে
দেখিবে ধবল বক; আমারেই পাবে তুমি ইহাদের ভিড়ে –
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?