১. রাত্রে যদি সূর্য শোকে ঝরে অশ্রুধারা
সূর্য নাহি ফেরে কভু ব্যর্থ হয় তারা
সময়ের মূল্য বুঝে করে যারা কাজ
তারা আজ স্মরণীয় জগতের মাঝ।
২. ছুটবো মোরা দেশ-বিদেশে
ছুটবো মোরা গ্রহণ পথে
তরুণ দলের এই অভিযান
তরুণ আলোর মুক্তির রথে।
"উদ্দীপক-২ অংশের তরুণ দল যেন 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতার কবির কাঙ্ক্ষিত প্রতিনিধিদল" মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষের জীবন নানা সমস্যা ও সংকটে পরিপূর্ণ। মানুষকে প্রতিনিয়ত প্রতিকূল অবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয়। জীবনকে হতাশায়-নিরাশায় জড়িয়ে ব্যর্থ মনে না করে জীবনে উন্নতির জন্য পরিশ্রম করার উচিত।
উদ্দীপক-২ অংশে তরুণ দলের দৃপ্ত অভিযানের কথা বলা হয়েছে। তরুণরা দেশ-বিদেশে ছুটে চলবে; অন্ধকার পথ আলোয় ভরিয়ে তুলবে। তারা তারুণ্যশক্তির যথাযথ ব্যবহার করে জীবনকে সাফল্যমণ্ডিত করে তুলবে। উদ্দীপক-২ অংশের এই চেতনা 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় প্রতিফলিত কবির দীপ্ত চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় কবি সংসারে টিকে থাকার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে বলেছেন। জীবনপথের নানা সমস্যা-সংকটের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে বলেছেন। কারণ মানবজীবন অত্যন্ত মূল্যবান। ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়েই সেই জীবনকে সার্থক করে তুলতে হয়। নানা ঘাত-প্রতিঘাত দেখে যারা ভয়ে কর্মপথ থেকে পিছিয়ে যায় তারা জীবনে কখনই সাফল্য অর্জন করতে পারে না।
'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় কবি মানবজীবনের প্রকৃত অর্থ ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেছেন। তিনি মানুষের জীবনের কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে পদ্মপাতার শিশির বিন্দুর মতো ক্ষণস্থায়ী জীবনকে সার্থক করে তুলতে বলেছেন। সংসারের দুঃখ-যন্ত্রণা, কাতরতা পিছনে ফেলে প্রচন্ড সাহস নিয়ে তারা যেন এগিয়ে যায়। কবির এ প্রত্যাশাই যেন প্রকাশ পেয়েছে উদ্দীপক-২ অংশে তরুণদের দৃপ্ত অভিযানে। তারা তরুণ আলোর মুক্তির রথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করেছে। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
বলো না কাতর স্বরে বৃথা জন্ম এ সংসারে
এ জীবন নিশার স্বপন,
দারা পুত্র পরিবার তুমি কার কে তোমার
বলে জীব করো না ক্ৰন্দন;
মানব-জনম সার, এমন পাবে না আর
বাহ্যদৃশ্যে ভুলো না রে মন;
কর যত্ন হবে জয়, জীবাত্মা অনিত্য নয়
ওহে জীব কর আকিঞ্চন ।
করো না সুখের আশ, পরো না দুখের ফাঁস
জীবনের উদ্দেশ্য তা নয়,
সংসারে সংসারী সাজ, করো নিত্য নিজ কাজ,
ভবের উন্নতি যাতে হয় ।
দিন যায় ক্ষণ যায়, সময় কাহারো নয়,
বেগে ধায় নাহি রহে স্থির,
সহায় সম্পদ বল, সকলি ঘুচায় কাল,
আয়ু যেন শৈবালের নীর ।
সংসার-সমরাঙ্গনে যুদ্ধ কর দৃঢ়পণে,
ভয়ে ভীত হইও না মানব;
কর যুদ্ধ বীর্যবান, যায় যাবে যাক প্ৰাণ
মহিমাই জগতে দুর্লভ।
মনোহর মূর্তি হেরে, ওহে জীব অন্ধকারে,
ভবিষ্যতে করো না নির্ভর
অতীত সুখের দিনে, পুনঃ আর ডেকে এনে,
চিন্তা করে হইও না কাতর ।
মহাজ্ঞানী মহাজন, যে পথে করে গমন,
হয়েছেন প্রাতঃস্মরণীয়,
সেই পথ লক্ষ্য করে স্বীয় কীর্তি ধ্বজা ধরে
আমরাও হব বরণীয়
সমর-সাগর-তীরে, পদাঙ্ক অঙ্কিত করে
আমরাও হব হে অমর;
সেই চিহ্ন লক্ষ করে, অন্য কোনো জন পরে,
যশোদ্বারে আসিবে সত্বর ।
করো না মানবগণ, বৃথা ক্ষয় এ জীবন,
সংসার-সমরাঙ্গন মাঝে;
সঙ্কল্প করেছ যাহা, সাধন করহ তাহা,
রত হয়ে নিজ নিজ কাজে ।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?