Academy

দেশকে তাই যতটা পারা যায় কাছে থেকে দেখতে হবে। দেশ মানে এর মানুষ, জনপদ, নদী, আকাশ, প্রান্তর, পাহাড়, সমুদ্র এইসব। দেশ হলো আসলে জননীর মতো। মা যেমন স্নেহ মমতা ভালোবাসা। দিয়ে আমাদের আগলে রাখেন, দেশও তেমনই তার আলো বাতাস সম্পদ দিয়ে আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। মাকে আমরা যেমন ভালোবালি, দেশকেও তেমনই ভালোবাসতে হবে। দেশকে ভালোবাসার মধ্য দিয়েই সার্থক হয়ে উঠবে আমাদের জীবন।

"চেতনাগত দিক থেকে উদ্দীপক এবং 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতা একে অপরের পরিপূরক।"- বিশ্লেষণ কর। (উচ্চতর দক্ষতা)

Created: 6 months ago | Updated: 6 months ago
Updated: 6 months ago
Ans :

"চেতনাগত দিক থেকে উদ্দীপক এবং 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতা একে অপরের পরিপূরক।”- মন্তব্যটি যথার্থ।

দেশ ও মা আমাদের কাছে অত্যন্ত ভালোবাসা ও শ্রম্বার। তাই দেশ ও মায়ের প্রতি আমাদের সচেতন ও দায়িত্বশীল থাকা উচিত।

উদ্দীপকে দেশের মানুষ প্রকৃতি সবকিছুর প্রতিই ভালোবাসা ফুটে উঠেছে। দেশ কীভাবে আমাদেরকে মায়ের মতো আগলে রাখে সেদিকটি প্রকাশ পেয়েছে। 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতায় দেশের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার দিকটি প্রকাশিত হয়েছে। দেশের প্রকৃতি, দেশের সার্বিক সম্পদ কীভাবে কবির হৃদয়জুড়ে স্থান পেয়েছে সেদিকটি ফুটে উঠেছে।

উদ্দীপক ও কবিতায় দেশের প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধার দিকটি ব্যক্ত হয়েছে। তাই বলা যায়, চেতনার দিক থেকে উদ্দীপক এবং 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতা একে অপরের পরিপূরক।

5 months ago

বঙ্গভূমির প্রতি

রেখো, মা, দাসেরে মনে,      এ মিনতি করি পদে।
                           সাধিতে মনের সাধ
                           ঘটে যদি পরমাদ,
মধুহীন করো না গো।           তব মনঃকোকনদে।
                         প্রবাসে, দৈবের বশে,
                         জীব-তারা যদি খসে
এ দেহ-আকাশ হতে,          নাহি খেদ তাহে।
                         জন্মিলে মরিতে হবে, 

                       অমর কে কোথা কবে,
চিরস্থির কবে নীর,               হায় রে, জীবন-নদে?
                      কিন্তু যদি রাখ মনে,
                     নাহি, মা, ডরি শমনে;

 মক্ষিকাও গলে না গো        পড়িলে অমৃত-হ্রদে।
                     সেই ধন্য নরকুলে,
                  লোকে যারে নাহি ভুলে,
মনের মন্দিরে সদা             সেবে সর্বজন
                কিন্তু কোন গুণ আছে, 

                  যাচিব যে তব কাছে,
হেন অমরতা আমি,            কহ, গো, শ্যামা জন্মদে।
                  তবে যদি দয়া কর,

                  ভুল দোষ, গুণ ধর
অমর করিয়া বর            দেহ দাসে, সুবরদে! !
                ফুটি যেন স্মৃতি-জলে, 

                 মানসে, মা, যথা ফলে
মধুময় তামরসকী          বসন্ত, কী শরদে

Content added By

Related Question

View More

বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মহাকাব্যের নাম 'মেঘনাদবধ কাব্য'।

কবি দেশমাতৃকার স্মৃতিতে পদ্মফুলের মতো ফুটে থাকার জন্য বর প্রার্থনা করেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর জন্মভূমিকে প্রচণ্ড ভালোবাসেন। তিনিও চান তাঁর প্রিয় জন্মভূমি যেন তাকে মনে রাখেন, হৃদয়ে স্থান দেন। দেশমাতৃকার স্মৃতিতে পদ্মফুলের মতো ফুটে থাকার মধ্য দিয়ে তিনি অমরতা লাভ করতে চান। কবি আকুলভাবে তাঁর স্বদেশের কাছে সেই বর প্রার্থনা করেন।

উদ্দীপকের প্রথম কবিতাংশে বাংলার প্রকৃতিতে কবির অমরতা লাভের আকাঙ্ক্ষা ও স্বদেশপ্রেম প্রকাশ পেয়েছে। 'ফুটি যেন স্মৃতি-জলে' চরণটির মধ্য দিয়েও এ কথাই প্রকাশ পায়।

সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি। এদেশের প্রতি রয়েছে আমাদের সীমাহীন ভালোবাসা। বাংলা-মায়ের কোলে তাই সব বাঙালি অনন্তকাল স্থান পেতে চায়।

উদ্দীপকের প্রথম স্তবকের কবি মৃত্যুর পর পুনর্জন্ম হলে মানুষ অথবা শঙ্খচিল-শালিকের বেশে বাংলা-মায়ের কোলে ফিরে আসার আকুতি প্রকাশ করেছেন। কবির এ আকুতির মধ্য দিয়ে বাংলার প্রকৃতিতে অমরতা লাভের ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশ পেয়েছে অকৃত্রিম স্বদেশপ্রেম। কবির এই স্বদেশপ্রেমের অনুভূতি ও অমরতা লাভের আকাঙ্ক্ষা 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার প্রশ্নোক্ত চরণটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। একজন বাংলা-মায়ের কাছে ফিরে আসতে চেয়েছেন, অন্যজন বাংলা-মা যেন তাঁকে মনে রাখে এবং তিনি যেন মায়ের স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে থাকতে পারেন অনন্তকাল সেই মিনতি জানিয়েছেন।

"দ্বিতীয় কবিতাংশ এবং 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার মূল সুর একই"- মন্তব্যটি যথার্থ।

আমাদের জন্মভূমি বিচিত্র উপাদানে সজ্জিত। যেমন প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর তেমনই এ দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে।

'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতায় স্বদেশের প্রতি কবির শ্রদ্ধা ও একাত্মতা তীব্রভাবে প্রকাশ পেয়েছে। কবি স্বদেশকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। স্বদেশের প্রতিটি বস্তু তাঁকে আকর্ষণ করে। তাই কবি বাংলা-মাকে আকুতি জানিয়েছেন তিনি যেন ছেলেকে ভুলে না যান। আকাঙ্ক্ষা জানিয়েছেন চির স্মরণীয় হওয়ার এবং দেশমাতার স্মৃতিতে পদ্ম ফুলের মতো ফুটে থাকার। উদ্দীপকের দ্বিতীয় কবিতাংশেও দেশ বা পৃথিবীর প্রতি কবির ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। কবি দেশ, দেশের মানুষের মাঝে তথা এ সুন্দর পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে চান। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এই প্রকৃতি এই পৃথিবী ছেড়ে চিরতরে চলে যেতে চান না।

দেশমাতৃকার প্রতি উদ্দীপকের কবি ও আলোচ্য কবিতার কবি উভয়েরই টান সীমাহীন। উভয় জায়গায়ই দেশ ও দেশের প্রকৃতিকে ভালোবাসা এবং মানবহৃদয়ে বেঁচে থাকার আকুতি প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশ পেয়েছে স্বদেশের স্মৃতিতে ঠাঁই পাওয়ার আকুলতা। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

6 জীবন-নদের নীর স্থির নয় কেন? (অনুধাবন)

Created: 6 months ago | Updated: 6 months ago
Updated: 6 months ago

সুখ-দুঃখ নিয়েই মানুষের জীবন চলমান বলে জীবন-নদের নীর স্থির নয়।

জাগতিক নিয়মে জীবন বয়ে চলে। কখনো জীবনে দুঃখ এসে ভর করে, কখনোবা আবার সুখের স্রোতে ভেসে চলে। নদীর ধারা যেমন প্রতিনিয়ত বয়ে চলে, জীবনও তাই। প্রকৃতির নিয়মেই রাতের শেষে
দিন হয়, আবার দিনের শেষে রাত আসে। জীবনেও এমন দুঃখ-দুর্দশায় মেঘ ঘনিয়ে অন্ধকার রাত হয়, আবার হাসি-আনন্দে জীবন ভরে ওঠে। এভাবে প্রকৃতির নিয়মেই জীবন-নদের নীর স্থির নয়।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...