রফিক মার্চের উত্তাল সময়ে ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসে। গ্রামে এসে সে সমবয়সিদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয় যে, তারা যুদ্ধের ট্রেনিং নিতে ভারতে যাবে। পরিবারের উদ্দেশে চিরকুট লিখে সবাই রাতের আঁধারে ঘর ছাড়ে।
উদ্দীপক ও 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ তরুণ সমাজের ভূমিকা ফুটে ওঠায় আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।
তারুণ্য স্বপ্ন দেখে নতুন জীবনের নব নব অগ্রগতি সাধনের। সেসব স্বপ্ন বাস্তবায়নে, নিত্য-নতুন করণীয় সম্পাদনের জন্য নব নব শপথে বলীয়ান হয়ে তারা এগিয়ে যায় দৃঢ় পদক্ষেপে। দেশ ও জনগণের মুক্তি ও কল্যাণের সংগ্রামে জীবন বাজি রেখে লড়াই করতে এরা সদা প্রস্তুত। কবি 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় তারুণ্যের এ মহতী কর্মকাণ্ড উল্লেখ করে তাদের জয়গান গেয়েছেন।
উদ্দীপকের রফিক ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের উত্তাল সময়ে ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসে। সমবয়সিদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদেরকে নিয়ে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতিস্বরূপ ট্রেনিং নিতে ভারতে যাত্রা করে। দেশমাতৃকার দুর্দিনে রফিক ও তার দলের যুদ্ধযাত্রা 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার তারুণ্যের স্বাচ্ছন্দ্য বহিঃপ্রকাশের সমান্তরাল। কবিতার তরুণ সমাজ সর্বদা দেশ ও জাতির জন্য প্রাণপণে লড়াই করতে সদাপ্রস্তুত।
উদ্দীপক ও কবিতায় তারুণ্যের সত্যিকার প্রতিফলন ঘটেছে। দেশ ও জাতির যেকোনো বিপদে-সংগ্রামে তারা অগ্রসৈনিক। দেশমাতৃকার মান রক্ষার্থে প্রাণপণে লড়াই করার ঝুঁকি তারা হাসতে হাসতে নিতে পারে। দেশমাতৃকার মুক্তিই তাদের সবচেয়ে বড়ো আরাধ্য। তাই বলা যায় যে, 'তরুণ মানেই দেশমাতৃকার দুঃসময়ের শক্তি'- উক্তিটি যথার্থ।
আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ
স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি,
আঠারো বছর বয়সেই অহরহ
বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি ।
[ আঠারো বছর বয়সের নেই ভয়
পদাঘাতে চায় ভাঙতে পাথর বাধা,
এ বয়সে কেউ মাথা নোয়াবার নয়-
আঠারো বছর বয়স জানে না কাঁদা ।
এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য
বাষ্পের বেগে স্টিমারের মতো চলে,
প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য
সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে ।
(আঠারো বছর বয়স ভয়ংকর) *
তাজা তাজা প্রাণে অসহ্য যন্ত্রণা,
এ বয়সে প্রাণ তীব্র আর প্রখর
এ বয়সে কানে আসে কত মন্ত্রণা ।
আঠারো বছর বয়স যে দুর্বার
পথে প্রান্তরে ছোটায় বহু তুফান,
দুর্যোগে হাল ঠিকমতো রাখা ভার
ক্ষত-বিক্ষত হয় সহস্র প্রাণ ।
আঠারো বছর বয়সে আঘাত আসে
অবিশ্রান্ত; একে একে হয় জড়ো,
এ বয়স কালো লক্ষ দীর্ঘশ্বাসে
এ বয়স কাঁপে বেদনায় থরোথরো
তবু আঠারোর শুনেছি জয়ধ্বনি,
এ বয়স বাঁচে দুর্যোগে আর ঝড়ে,
বিপদের মুখে এ বয়স অগ্রণী
এ বয়স তবু নতুন কিছু তো করে ।
এ বয়স জেনো ভীরু, কাপুরুষ নয়
পথ চলতে এ বয়স যায় না থেমে,
এ বয়সে তাই নেই কোনো সংশয়—
দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে ৷৷
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?