বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
(প্রবন্ধ রচনা লিখুন)ভূমিকা: মুক্তিযুদ্ধ বলতে মুক্তির জন্য যে যুদ্ধ, তাকেই বোঝায়। ১৯৭১ সালে বাংলার মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করে এবং ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জন করে স্বাধীনতার সোনালি সূর্য। বাঙালি জাতির ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ সবচেয়ে বড়ো রক্তক্ষয়ী ঘটনা। এ যুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতা আসে, জাতীয়তাবাদ ও সার্বভৌমত্ব গড়ে ওঠে।
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি: ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশির যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়। প্রায় দুইশত বছর ভারত উপমহাদেশ ইংরেজ দ্বারা শাসিত হয়। অতঃপর ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তানের জন্ম হয়। পাকিস্তান দুটি অংশে বিভক্ত ছিল। বর্তমান পাকিস্তানকে বলা হতো পশ্চিম পাকিস্তান এবং বাংলাদেশকে বলা হতো পূর্ব পাকিস্তান। নতুন রাষ্ট্রভুক্ত হওয়ার পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানের ওপর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানো শুরু করে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এর অন্যতম প্রমাণ। এ আন্দোলনেই নিহিত ছিল আমাদের স্বাধীনতার বীজ। এরপর ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন-এসব আন্দোলনের বিভিন্ন স্তর। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুলভাবে বিজয়ী হলেও শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি বরং তারা পূর্ব পাকিস্তানের ওপর আক্রমণ চালানোর গোপন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদাররা পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত মানুষের ওপর হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে।
মুক্তিযুদ্ধ শুরু: ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অতর্কিতে হামলা চালায় নিরস্ত্র বাঙালির ওপর। তারা নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায় পিলখানা, রাজারবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। ২৬শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে স্বতঃস্ফূর্ত মুক্তির সংগ্রাম।
নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম বাগানে এ সরকার শপথ গ্রহণ করে। সারা বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন কর্নেল আতাউল গণি ওসমানী। দীর্ঘ নয় মাস ধরে চলা মুক্তিযুদ্ধে বাংলার মানুষ ব্যাপক সাহসী ভূমিকা রাখে। দেশের মানুষের ওপর নির্মম নির্যাতন চালায় হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে তারা দিশাহারা হয়ে পড়ে। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। প্রায় ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা: মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভের মধ্য দিয়ে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। পরাধীন জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে মানুষ নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে বাংলার মানুষ প্রতিষ্ঠা করে এদেশের সার্বভৌমত্ব। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অসামান্য বীরত্বের সাক্ষী। আমাদের মাঝে এটি অধিকার আদায়ের চেতনা জাগিয়ে তোলে। দেশপ্রেমের অনুভূতির জাগরণ ঘটায়।
উপসংহার: ইংরেজদের হাতে বাংলার স্বাধীনতা হারানোর পর থেকেই বাংলার মানুষ স্বাধীনতা লাভের জন্য মরিয়া ছিল। ১৯৭১ সালে হারানো স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার হয় বাংলার মানুষের ত্যাগের মধ্য দিয়ে। তাই মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে বড়ো প্রেরণার নাম।
প্রবন্ধ হলো প্রকৃষ্টরূপে বন্ধনযুক্ত রচনা। অর্থাৎ অন্যান্য রচনা, যেমন- কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদির সঙ্গে প্রবন্ধ লেখার রীতি ও কৌশলের পার্থক্য রয়েছে। কবির একান্ত অনুভূতিই কবিতায় প্রকাশ পায়। গল্প হলো মানবজীবনের নির্বাচিত ঘটনার আখ্যান বা কাহিনি। উপন্যাসের পরিসর বড়। সেখানে লেখক গল্পকারের তুলনায় বেশি স্বাধীন। উপন্যাসে সমগ্র জীবন ফুটে ওঠে। নাটকে কেবলই থাকে সংলাপ। বিবরণ বা বর্ণনার সেখানে তেমন স্থান নেই। কিন্তু প্রবন্ধকে হতে হয় যুক্তি ও তথ্যনির্ভর। কাদের জন্য প্রবন্ধ লেখা হচ্ছে সেটা মনে রাখতে হয়। কোন বিষয়ে প্রবন্ধ লেখা হচ্ছে তাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রবন্ধ-রচয়িতার মেধা, জ্ঞান, প্রকাশক্ষমতা প্রবন্ধের গুণগত মান বাড়িয়ে দেয়। প্রবন্ধের ভাষা স্থির করা হয় প্রবন্ধের বিষয় অনুসারে। বিজ্ঞানের কোনো বিষয়ে প্রবন্ধ লিখতে গেলে তাতে বিজ্ঞানের পরিভাষা ব্যবহার করতে হবে। সকল বয়সের পাঠকের জন্য একই ভাষায় প্রবন্ধ লেখা যায় না। শিশুরা যে-ভাষা বুঝবে, তাদের জন্য প্রবন্ধ সেভাবে লিখতে হবে। বিষয় অনুসারে প্রবন্ধের শ্রেণিবিভাগ করা হয়। বিজ্ঞানের বিষয়কে আশ্রয় করে রচিত প্রবন্ধকে আমরা বলি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ। সমাজের সমস্যা, সংকট, অবস্থা যেসব প্রবন্ধের মূল বিষয়, সেগুলোকে বলা হয় সামাজিক প্রবন্ধ। সাহিত্যকর্মের গুণাগুণ বিশ্লেষণ করে যেসব প্রবন্ধ রচিত হয়, সেগুলোকে বলে সমালোচনামূলক প্রবন্ধ। লেখকের অনুভূতিই যখন প্রবন্ধের আকারে তুলে ধরা হয়, তখন তাকে বলে অনুভূতিনির্ভর প্রবন্ধ। এ ছাড়াও প্রবন্ধের আরও শ্রেণি নির্দেশ করা যায়।
প্রবন্ধ-রচনার কৌশল
প্রবন্ধের প্রধানত তিনটি অংশ থাকে- (ক) ভূমিকা (খ) মূল অংশ (গ) উপসংহার।
ক) ভূমিকা: যে-বিষয়ে প্রবন্ধ লেখা হয় সে-বিষয়ে শুরুতেই সংক্ষেপে প্রথম অনুচ্ছেদে একটি ধারণা দেওয়া হয়। এটিই হলো ভূমিকা। এ-অংশ হতে হবে বিষয় অনুযায়ী, আকর্ষণীয় ও সংক্ষিপ্ত।
খ) মূল অংশ: প্রবন্ধের মধ্যভাগ হলো মূল অংশ। এখানে প্রবন্ধের মূল বক্তব্য পরিবেশিত হয়। বিষয় অনুসারে এ অংশ বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বিভক্ত হতে পারে। প্রতিটি অনুচ্ছেদ যেন মূল প্রবন্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। এ-অংশে কোনো উদ্ধৃতি ব্যবহার করা হলে তা যাতে কোনোভাবেই বিকৃত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে অর্থাৎ মূল রচনায়, যেভাবে আছে সেভাবেই তা ব্যবহার করতে হবে।
গ) উপসংহার: অল্প কথায় সমাপ্তিসূচক ভাব প্রকাশ করাই উপসংহার। ব্যক্তিগত মত, সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশা এ-অংশে প্রকাশ করা যেতে পারে।
প্রবন্ধ-রচনায় দক্ষতা অর্জনের উপায়
প্রবন্ধ-রচনায় দক্ষতা অর্জন একদিনে হয় না। কিন্তু তা সাধ্যের অতীত কোনো বিষয় নয়। এজন্য করণীয় হলো-
১. প্রবন্ধের বিষয়বস্তু সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা লাভ করা।
২.দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রবন্ধ পড়া। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধ, সংবাদ, প্রতিবেদন, ভাষণ ইত্যাদি নিয়মিত পাঠ করলে নানা প্রসঙ্গে বিষয়গত ধারণা লাভ করা যায়।
৩. প্রবন্ধের বক্তব্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তুলে ধরতে হবে।
৪. প্রবন্ধ-রচনার ভাষা হবে সহজ ও সরল।
৫. প্রবন্ধে কোনো অপ্রয়োজনীয় বিষয় থাকবে না এবং একই কথার পুনরাবৃত্তি ঘটানো যাবে না।
৬. প্রবন্ধে উদ্ধৃতি, উক্তি বা প্রবাদ-প্রবচন ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু এসবের ব্যবহার যেন অতিরিক্ত পর্যায়ে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
৭.প্রবন্ধ যাতে অতিরিক্ত দীর্ঘ না হয় তা লক্ষ করতে হবে।
আমাদের বিদ্যালয়
(প্রবন্ধ রচনা লিখুন)আমার প্রিয় খেলা
(প্রবন্ধ রচনা লিখুন)বর্ষাকাল
(প্রবন্ধ রচনা লিখুন)আমার দেখা নদী
(প্রবন্ধ রচনা লিখুন)সত্যবাদিতা
(প্রবন্ধ রচনা লিখুন)আমাদের গ্রাম
(প্রবন্ধ রচনা লিখুন)১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?