১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে আত্মদানকারী শহিদদের স্মরণে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে শহিদ মিনার জেগে ওঠে।
'বুকের ভেতর শহিদ মিনার ওঠে।'- এ চরণটিতে শহিদদের আত্মীয়স্বজন যারা প্রিয়জন হারিয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের হৃদয়ে যেন এক-একটি শহিদ মিনার গড়ে উঠেছে এই অনুভূতিই প্রকাশ পেয়েছে। ফাগুন মাস এলে প্রকৃতিতে বসন্তের হাওয়া লাগে। কোকিল কুহুকুহু ডাকে মুখর করে তোলে চারদিক। কিন্তু বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে যাঁরা প্রিয়জনদের হারিয়েছেন তাঁদের বুক ছিঁড়ে আসে কান্নার শব্দ। তাঁদের বুকের ভেতর গড়ে ওঠে শহিদ মিনার।
ফাগুনটা খুব ভীষণ দস্যি মাস
পাথর ঠেলে মাথা উঁচোয় ঘাস।
হাড়ের মতো শক্ত ডাল ফেঁড়ে
সবুজ পাতা আবার ওঠে বেড়ে।
সকল দিকে বনের বিশাল গাল
ঝিলিক দিয়ে প্রত্যহ হয় লাল।
বাংলাদেশের মাঠে বনের তলে
ফাগুন মাসে সবুজ আগুন জ্বলে।
ফাগুনটা খুব ভীষণ দুঃখী মাস
হাওয়ায় হাওয়ায় ছড়ায় দীর্ঘশ্বাস
ফাগুন মাসে গোলাপ কাঁদে বনে
কান্নারা সব ডুকরে ওঠে মনে।
ফাগুন মাসে মায়ের চোখে জল
ঘাসের ওপর কাঁপে যে টলমল।
ফাগুন মাসে বোনেরা ওঠে কেঁদে
হারানো ভাই দুই বাহুতে বেঁধে।
ফাগুন মাসে ভাইয়েরা নামে পথে
ফাগুন মাসে দস্যু আসে রথে।
ফাগুন মাসে বুকের ক্রোধ ঢেলে
ফাগুন তার আগুন দেয় জ্বেলে।
বাংলাদেশের শহর গ্রামে চরে
ফাগুন মাসে রক্ত ঝরে পড়ে।
ফাগুন মাসে দুঃখী গোলাপ ফোটে
বুকের ভেতর শহিদ মিনার ওঠে।
সেই যে কবে কয়েকজন খোকা
ফুল ফোটালো-রক্ত থোকা থোকা-
গাছের ডালে পথের বুকে ঘরে
ফাগুন মাসে তাদেরই মনে পড়ে।
সেই যে কবে-তিরিশ বছর হলো-
ফাগুন মাসের দু-চোখ ছলোছলো।
বুকের ভেতর ফাগুন পোষে ভয়-
তার খোকাদের আবার কী যে হয়!
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?