আমরা শিক্ষার্থী হিসেবে সফল হবার উপায় জেনেছি। জেনেছি নিজের জীবনের প্রাত্যহিক কাজের কথা। তোমরা এখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছ। এর পরে নিশ্চয়ই অষ্টম শ্রেণিতে পড়বে। এভাবে একদিন হয়ত বিদ্যালয়ের পড়া শেষ করে কেউ কলেজে, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে, কেউবা কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করবে। একসময় পড়া শেষে তোমরা হয়ত কোনো পেশায় অর্থাৎ কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করবে। তোমরা কি কখনো চিন্তা করেছো কী ধরনের কাজ বা পেশা তোমাদের পছন্দ? এই পেশায় যেতে হলে তোমাদেরকে কী কী পড়তে হবে? কী কী যোগ্যতা অর্জন করতে হবে? এবারে এসো আমরা দেখি পড়ালেখা শিখে কীভাবে আমরা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারি। শুধু তা-ই নয়, আমরা আরও খুঁজে বের করবো কর্মক্ষেত্রে সফল হবার গুণগুলো।
এই অধ্যায় শেষে আমরা-
রাশেদ আর ইভা অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এসো দেখি তারা কী নিয়ে আলোচনা করছে।
ইভা: এই রাশেদ, কোথায় যাচ্ছো? তোমাকে এত চিন্তিত দেখাচ্ছে যে!
রাশেদ: খুবই চিন্তায় আছি ইভা। চাচার বাড়ি যাচ্ছি, চাচা-চাচির সাথে একটি বিষয়ে আলোচনা করতে।
ইভা: ও আচ্ছা! কী বিষয় জানতে পারি?
রাশেদ: নিশ্চয়ই। অষ্টম শ্রেণিতো প্রায় শেষ হয়ে এলো। সামনের বছরেই তো আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোন শাখায় পড়ব বিজ্ঞান, মানবিক, নাকি ব্যবসায় শিক্ষা শাখায়। ইভা, তুমি কোন শাখায় পড়বে?
ইভা: আমি ঠিক করেছি মানবিক শাখায় পড়াশোনা করব। আমার এ বিষয়ে বেশ আগ্রহ আছে। দিনার কথা মনে আছে, সে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় কাঠ দিয়ে চমৎকার সব জিনিস বানাতো?
রাশেদ: হ্যাঁ, কিন্তু তাকে তো আমাদের স্কুলে দেখি না।
ইভা: সে অষ্টম শ্রেণি শেষ করে বৃত্তিমূলক শিক্ষায় পড়ছে। কারণ তার হাতে-কলমে কাজ করতে খুব ভালো লাগে। আর ভবিষ্যতেও সে এমন কাজ করে উপার্জন করতে চায় যেখানে হাতে-কলমে কাজ করার অনেক সুযোগ আছে। তোমার নিজের কোনো আগ্রহ নেই কোনো বিষয়ে?
রাশেদ: আমি ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় পড়তে চাই। কিন্তু আমার বাবা-মার ইচ্ছা আমি বড়ো হয়ে ডাক্তার হই। তাই তাঁরা চান যেন আমি বিজ্ঞান শাখায় পড়ি।
ইভা: তুমি কেন ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় পড়তে চাও? তুমি ভবিষ্যতে কী হতে চাও?
রাশেদ: আ....আ....... ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ের পড়াশোনা আমার বেশ সহজ মনে হয় তাই। কিন্তু কী হতে চাই তাতো চিন্তা করি নি।
ইভা: কিন্তু তুমি কোন শাখায় পড়বে তা ঠিক করার আগে তোমার অনেক কিছুই চিন্তা করা উচিত। আমার বোন শাহিদার স্বপ্ন ছিল তিনি প্রকৌশলী হবেন। কিন্তু আমাদের পরিবারের লোকজন ভেবেছিলেন মেয়েদের জন্য মানবিক শাখাই বেশি উপযুক্ত হবে। তাই তিনি মানবিক শাখা বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু তারই এক বান্ধবী তখন বিজ্ঞান শাখায় পড়েছিলেন। এখন তিনি প্রকৌশলী। শাহিদা এখনও দুঃখ করে বলে, 'তখন যদি ভালো করে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতাম, তবে হয়ত আমার স্বপ্নটাও পূরণ হতো'।
রাশেদ: তুমি ঠিকই বলেছো ইভা। আমি এখন সব বিষয় ভালো করে চিন্তা করে তবেই সিদ্ধান্ত নিবো
কাজ এসো দলে বসে নিচের প্রশ্ন দুটির উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি এবং শ্রেণিতে উপস্থাপন করি। |
আজকের এই ক্লাসে আমরা বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, মানবিক শাখা এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ধারার মোট চার জন শিক্ষার্থীকে আমাদের শ্রেণিকক্ষে আমন্ত্রণ জানাব। আমরা চাই এই ধারা এবং শাখাগুলো সম্পর্কে জানতে।
দলগত কাজ চলো আমরা সবাই চারটি দলে ভাগ হই। প্রতি দলে সবাই গোল হয়ে বসি আর আমন্ত্রিত একজন শিক্ষার্থী বড়ো ভাই বা বড়ো আপাকে মধ্যখানে বসাই। এবারে আমরা তার কাছ থেকে জেনে নিই তিনি যে শাখায় বা ধারায় পড়ছেন সেটি সম্পর্কে। কেন তিনি এই শাখায় পড়ছেন তাও জেনে নিই। নিচের বিষয়গুলো যেন আমাদের আলোচনা থেকে বাদ না পড়ে যায় সে বিষয়ে লক্ষ রাখি আর প্রয়োজনীয় তথ্য সংক্ষেপে একজন খাতায় লিখে রাখি।
আলোচনা শেষে প্রত্যেক দল চারটি ছোট পোস্টার পেপারে সেই নির্দিষ্ট শাখা/ধারা সংক্রান্ত উপর্যুক্ত চারটি বিষয়বস্তু সংক্ষেপে তুলে ধরি। এবারে যার যার দলের পোস্টারগুলো শ্রেণিকক্ষের এক এক কোণে টাঙিয়ে দিই। এরপর একটি নির্দিষ্ট দলের পোস্টারগুলো বাকি তিন দলের সদস্যরা মিলে ঘুরে ঘুরে দেখি। তখন সেই দলটি অন্য দলের সদস্যদের পোস্টারে লেখা বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা/বিশ্লেষণ করে বোঝাবে। আলোচনার ফলাফল লিপিবদ্ধ করার জন্য বা পোস্টারে উপস্থাপন করার জন্য এই ধরনের একটি ছক ব্যবহার করা যেতে পারে। |
শিক্ষার ধারা | শাখা/বিভাগ | যেসব বিষয়ে পড়তে হয় | যে সকল পেশা/বৃত্তি নির্বাচনের সুযোগ রয়েছে |
সাধারণ শিক্ষা | বিজ্ঞান শাখা | ||
মানবিক শাখা | |||
ব্যবসায় শিক্ষা শাখা | |||
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা |
*এ কাজে একটি শ্রেণি কার্যক্রম বরাদ্দ করতে হবে।
ছোটোবেলা থেকেই জুঁই এর সবচেয়ে পছন্দের কাজ ছিল টিভিতে সংবাদ দেখা। দেশ বিদেশের খবর জানতে তার খুবই ভালো লাগে। ঘরে বসেই কতো না খবরাখবর জানা যায়। এজন্যই ছোটোবেলা থেকেই তার ইচ্ছা সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে নেওয়া। তার ইচ্ছা তিনি মানুষের কাছে সংবাদ পৌঁছে দিবেন। এজন্য তিনি প্রথম থেকেই পরিকল্পনা করেছেন ভবিষ্যতে তিনি কোন শাখায় পড়বেন, কোন বিষয়ে পড়বেন। তিনি মানবিক শাখা নির্বাচন করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে 'সাংবাদিকতা' বিষয় বেছে নেন পড়ার জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি দেখেছেন অনেকেই না বুঝে পড়া মুখস্থ করে। কিন্তু তিনি বরাবরই বুঝে পড়তেন। তাতে তিনি পড়ায় আনন্দও খুঁজে পেতেন। আজ তিনি বিখ্যাত সাংবাদিক। সবাই তাকে চেনে, শ্রদ্ধা করে। তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সংগ্রহ করেন এবং তা খুব চমৎকারভাবে সরাসরি টিভিতে সম্প্রচার করা হয়।
তার বন্ধু শিলুও সাংবাদিক। তিনি একদিন জুঁইকে ফোন করে বললেন, নারে, তুইই ঠিক কাজ করেছিলি। আমি না বুঝে মুখস্থ করেছি। যা পড়েছি তা এখন কাজে লাগাতে পারছি না। চেষ্টা করেও এখন ভালো সাংবাদিক হতে পারছি না। মনে মনে বলি, 'তখন যদি জুঁই এর মতো মনোযোগ দিয়ে বুঝে পড়ার চেষ্টা করতাম!'
মানুষ জীবনযাপন, আত্মমর্যাদাবোধ, দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মতৃপ্তি ইত্যাদির জন্য বিভিন্ন পেশা বা বৃত্তি বেছে নেয়। যেমন: কেউ শিক্ষকতা করেন, কেউ হন স্থপতি। তাঁরা বিভিন্ন দালানকোঠা ও অন্যান্য জিনিসের নকশা করেন। কেউ হন কাঠ মিস্ত্রি, যিনি কাঠ দিয়ে বিভিন্ন জিনিস বানান। এই যে একেক জন মানুষের একেক পেশা বা বৃত্তি, তাদের এই কাজগুলো করার জন্য দরকার হয় সেই বিষয়ে জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা। যেমন: যিনি ইংরেজির শিক্ষক তাকে ইংরেজি ভাষা ভালো করে রপ্ত করতে হবে, জানতে হবে কী কী বিষয় পড়াতে হবে, কীভাবে পড়াতে হবে ইত্যাদি। আবার যিনি স্থপতি তার জানতে হবে কীভাবে ঘর বাড়ির নক্শা তৈরি করা যায়। আসলে সব মানুষের তো আর সব বিষয় জানার দরকার হয় না, এতো কিছু জানা সম্ভবও নয়। তাই সে যে পেশা বা বৃত্তিতে যাবে সেটি ভালোভাবে করার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান আর দক্ষতাটি অন্তত তার থাকা প্রয়োজন। বলতে পারো এটি কীভাবে মানুষ অর্জন করতে পারে? পড়াশোনা হলো একটি উপায় যার মধ্য দিয়ে মানুষ বিভিন্ন বিষয় জানতে পারে, বুঝতে পারে, ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করতে পারে। তাই পড়ালেখা ও ভবিষ্যৎ কর্ম পরিকল্পনা পরস্পর নির্ভরশীল।
এসো এবারে আমরা শিক্ষার উচ্চতর স্তর ও বিভিন্ন শাখাগুলো সম্পর্কে জানি।
আমাদের দেশে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত স্তরকে আমরা বর্তমানে শিক্ষার প্রাথমিক স্তর বলে থাকি। প্রাথমিক শিক্ষা বাংলাদেশের সকল শিশুর জন্য বাধ্যতামূলক। শুধু তা-ই নয়, সরকার বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের লেখাপড়ার সুযোগ করে দিয়েছে। প্রাথমিক স্তর শেষ করে অর্থাৎ পঞ্চম শ্রেণির পর শিশুরা একটি পরীক্ষা দেয়। এটি হলো প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা। এটি পাশ করার পর শিশু ভর্তি হয় ষষ্ঠ শ্রেণিতে। তার পর সপ্তম, অষ্টম ইত্যাদি। নবম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ইচ্ছা করলে সাধারণ ধারার শিক্ষায় পড়াশোনা করতে পারে অথবা কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ধারায় যেতে পারে। সাধারণ ধারায় পড়লে নবম শ্রেণিতে সে বিজ্ঞান, মানবিক অথবা ব্যবসায় শিক্ষা এই তিনটি শাখার যেকোনো একটিতে যেতে পারে। সে কোনো শাখায়/ধারায় পড়বে তার উপর তার ভবিষ্যতের উচ্চশিক্ষা আর পেশা ও বৃত্তি নির্বাচন নির্ভর করবে। এছাড়া অষ্টম শ্রেণি, দশম শ্রেণি এবং দ্বাদশ শ্রেণি শেষে দেশের সব শিক্ষার্থীদের একটি করে পাবলিক পরীক্ষা দিতে হয়। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনুযায়ী নিচে শিক্ষার বিভিন্ন স্তরগুলো দেখানো হলো:-
আমরা দেখেছি যে আমাদের পেশা নির্বাচন ও আমাদের শিক্ষা জীবনের শাখা নির্বাচন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। এসো আমরা এ বিষয়ে একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করি।
বিতর্কের জন্য আলোচনা
আমরা শ্রেণির সকল শিক্ষার্থী দুটি দলে ভাগ হই। প্রতিটি দলের জন্য একটি বিতর্কের বিষয় লটারি করে নির্বাচন করি। এবার প্রতিটি দল আবার 'পক্ষ' ও 'বিপক্ষ' এ দুটি দলে বিভক্ত হই। প্রতিটি দল আলাদাভাবে বসে তাদের বিষয়টির পক্ষে/বিপক্ষে যুক্তিগুলো আলোচনা করে লিখে রাখব। এবারে দল থেকে তিন জন বক্তা ঠিক করি যারা এ সমস্ত যুক্তি উপস্থাপন করতে পারবে। এছাড়া বিতর্কের মূল্যায়ন বা বিচারের জন্য একটি মানদণ্ড তৈরি করতে হবে।
সেটি এরকম হতে পারে:
বিতর্কের বিষয় ১
'পেশার কথা চিন্তা করে শিক্ষার শাখা নির্বাচন নয় বরং শিক্ষার শাখা নির্বাচন করে সেই অনুযায়ী পেশা নির্বাচন করা জরুরি'।
*এ বিতর্কে দুটি শ্রেণি কার্যক্রম বরাদ্দ করতে হবে।
বিতর্কের বিষয় ২
'নিজের যোগ্যতা নয় বরং শাখা নির্বাচনের সময় নিজের আগ্রহকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।'
*এ বিতর্কে দুটি শ্রেণি কার্যক্রম বরাদ্দ করতে হবে।
বিতর্ক প্রতিযোগিতা
বিষয়-১ | পক্ষ | দল-১ | ৩ জন ৫ মিনিট করে = ১৫ মিনিট | উভয় দল থেকে দলনেতা ৩ মিনিট যুক্তি খণ্ডনের জন্য পাবেন |
বিপক্ষ | দল-২ | ৩ জন ৫ মিনিট করে = ১৫ মিনিট | ||
বিষয়-২ | পক্ষ | দল-৩ | ৩ জন ৫ মিনিট করে = ১৫ মিনিট | উভয় দল থেকে দলনেতা ৩ মিনিট যুক্তি খণ্ডনের জন্য পাবেন |
বিপক্ষ | দল-৪ | ৩ জন ৫ মিনিট করে = ১৫ মিনিট |
বিতর্ক প্রতিযোগিতার জন্য তোমরা উপরের সময়সূচিটি মেনে চলতে পার অথবা তোমাদের ক্লাসের সময়সূচি অনুযায়ী কিছু পরিবর্তন করে নিতে পার। যেদিন দল ১ ও ২ বিতর্কে অংশ নিবে সেদিন দল ৩, ৪ এর সদস্যদের মধ্য থেকে ১জন সময় সতর্ককারী এবং ৫জন বিচারক (শিক্ষকসহ) এবং ৬জন হিসাবকারী হিসেবে কাজ করবে।
সময় সতর্ককারীর কাজ
সময় লক্ষ করে ঘণ্টা বাজিয়ে বিতার্কিকদের সতর্ক করে দিবে। সে প্রত্যেক বিতার্কিকের সময় শেষ হবার ১ মিনিট আগে ও সময় শেষ হবার সাথে সাথে ঘণ্টা বাজাবে। কাজটি সে করবে মনোযোগসহ ঘড়ির কাঁটা লক্ষ করে।
বিচারকের কাজ
শিক্ষকসহ পাঁচ জন বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বিচারকদের প্রত্যেকের কাছে কাগজ থাকবে যেখানে তিনি পূর্ব নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে প্রত্যেক বিতার্কিককে নম্বর দিবেন।
হিসাবকারীর কাজ
পাঁচজন বিচারক একেকজন একেক হিসাবকারীকে তাদের প্রদত্ত নম্বরগুলো হিসেবের জন্য দিবেন। প্রত্যেক হিসাবকারী বিচারকের দেওয়া নম্বরগুলো যোগ করে প্রত্যেক বিতার্কিকের প্রাপ্ত নম্বর এবং দলের নম্বর হিসেব করবেন। এবারে একজন চূড়ান্ত হিসাবকারী প্রত্যেক বিতার্কিককে দেওয়া পাঁচ জন বিচারকের নম্বর যোগ করে ৫ দিয়ে ভাগ করে প্রত্যেক দলের গড় নম্বর হিসেব করবে। হিসেব শেষে তা শিক্ষককে দেওয়া হবে। তিনি ফলাফল ঘোষণা করবেন।
আমরা যদি আমাদের ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে চিন্তা করি তবে আমাদের তিন টি ধাপে চিন্তা করলে সুবিধা হয়।
ধাপ ১
নিজেকে জানা
কে এই 'আমি'?
প্রথমেই নিজের আগ্রহ, পছন্দ, অপছন্দ, সবল ও দুর্বল দিক, অর্জনসমূহ, মূল্যবোধ, আকাঙ্ক্ষা ইত্যাদি বিষয়গুলো ভালোভাবে জানার চেষ্টা করতে হবে।
জোড়ায় কাজ
এসো নিজের 'আগ্রহ' জানি
তোমার পছন্দের ১০টি কাজের একটি তালিকা তৈরি কর। তার পাশের কলাম বরাবর এটি করতে কোন কোন মানুষ বা কী কী জিনিস দরকার হয় তা লিখ। এটি তুমি গত এক মাসে কতবার করেছো তা উল্লেখ কর তার পাশের কলামে। এবারে ছকটি পড়ে তোমার কী মনে হচ্ছে? তোমার আগ্রহ অনুযায়ী কী কী পেশা তোমার জন্য উপযুক্ত হবে তার তালিকা তৈরি কর।
পছন্দের কাজ | যেসব জিনিস বা যন্ত্রের প্রয়োজন | গত ১ মাসে যতবার কাজটি করেছি | কাজটি কোন ধরনের (একাধিক ধরন হতে পারে)* |
ছবি আঁকা | রং, তুলি, কাগজ, পেনসিল, রাবার | ৬/৭ বার | যন্ত্র বা জিনিসপত্র নিয়ে কাজ |
ধাপ ২
কর্ম বা পেশা ও শিক্ষাসংক্রান্ত বিষয় জানা
আমি কোন পথে চলেছি?
এবারে আমাদের জানতে হবে ভবিষ্যতে আমার শিক্ষা ক্ষেত্রে কী ধরনের সুযোগ রয়েছে, শিক্ষা শেষে কর্ম বা পেশার কী কী সুযোগ রয়েছে?
একক ও জোড়ায় কাজ
'যখন আমার বয়স ৩০'
কল্পনা কর 'যখন আমার বয়স ৩০ তখন আমি নিজেকে কী অবস্থায় দেখতে চাই?'। মনে কর ৩০ বছর বয়সে তুমি একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেছ। এবার নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা কর এবং এর ভিত্তিতে একটি ছোটো লেখা লিখ।
ক) তুমি কোন শহরে/দেশে বাস করছ?
(ঢাকা, বাংলাদেশ/নিউইয়র্ক, আমেরিকা ...)
খ) তুমি কোন ধরনের বাসায় থাক?
গ) তোমার সাথে আর কে কে আছেন? (বাবা/মা/স্বামী/স্ত্রী/ছেলে/মেয়ে/আত্মীয়/বন্ধু ...)
ঘ) তুমি কোন ধরনের কাজ বা পেশায় নিয়োজিত?
ঙ) তোমার কাজের পোশাকটি কী রকম?
চ) তুমি প্রতিদিন কখন/কতক্ষণ কাজ কর? (সকাল থেকে সন্ধ্যা, ৯-৫টা ...)
ছ) তোমার কাজের স্থানটি কোথায়? সেখানে তুমি কীভাবে যাও?
জ) সেখানে তুমি কী ধরনের কাজ কর? (যেমন- লেখার কাজ/কম্পিউটারে কাজ/মানুষের সাথে বসে আলোচনা...)
ঝ) কাজ শেষে বাসায় ফিরে অবসরে কী কর? (টেলিভিশন দেখা, মাছ ধরা....)
ঞ) কোনো একটি দিনের ঘটে যাওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনার বর্ণনা দাও।
ধাপ ৩
কর্ম বা পেশা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ
আমি কীভাবে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি?
একক ও জোড়ায় কাজ: এক বন্ধু আরেক বন্ধুর সাক্ষাৎকার নাও এবং সংক্ষেপে নোট রাখ।
১. তোমার আগ্রহের বিষয় কী?
২. তোমার কী কী ধরনের দক্ষতা ও গুণ রয়েছে?
৩. তোমার কী কী বিষয় ভালো লাগে?
৪. তোমার কী কী বিষয় অপছন্দ?
৫. তোমার স্বপ্নের পেশার সাথে এসব কল্পনা কতটুকু সংশ্লিষ্ট?
*এ কাজে একটি শ্রেণি কার্যক্রম বরাদ্দ করতে হবে।
মনে রাখা প্রয়োজন, এই সিদ্ধান্ত এমন নয় যা কোনোভাবে পরিবর্তন করা যাবে না। বরং সময়ের সাথে সাথে আগ্রহ, ইচ্ছা, চাহিদা ইত্যাদির পরিবর্তনে এই সিদ্ধান্তও বদলাতে পারে। তবে সঠিক সময়ে নির্দিষ্ট একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। শিক্ষায় নির্দিষ্ট স্তরে শাখা নির্বাচন করলে আমাদের নির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ ঘটে। আবার অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
ছোটো দলে কাজ: নিচে উচ্চ শিক্ষার কিছু বিষয়বস্তু এবং কিছু পেশার নাম দেওয়া হয়েছে। তোমার জানা উচ্চশিক্ষার অন্যান্য বিষয় এবং তোমার চেনাজানা অন্যান্য পেশার নামও তালিকায় যোগ করতে পার। কোন কোন শাখার শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে/কলেজে কোন কোন বিষয় পড়তে পারবে তা তীর চিহ্ন দিয়ে দেখাও। আবার শিক্ষার্থীরা সে বিষয়গুলো পড়ে কোন কোন পেশায় যেতে পারবে তাও তীর চিহ্ন দিয়ে দেখাও। শিক্ষক বোর্ডে কাজটি করার পরে নিজেদের করা কাজ মিলিয়ে নাও।
আজকে শ্রেণিকক্ষে আমরা স্কুলের প্রাক্তন দুজন শিক্ষার্থীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি যাঁরা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। নিচের প্রশ্নপত্র অনুসরণ করে আমরা তাঁদের সাক্ষাৎকার নিতে পারি।
১. আপনি যখন শিক্ষার্থী ছিলেন তখন আপনার প্রিয় বিষয়গুলো কী ছিল?
২. আপনি কোন শাখা নির্বাচন করেছিলেন? কেন?
৩. কোনটি আপনার স্বপ্নের পেশা ছিল? আপনি কীভাবে এই পেশায় এলেন?
৪. আপনার মতে শাখা নির্বাচন বা পেশা নির্বাচনে কী কী বিষয় বিবেচনা করা উচিত?
৫. আপনার জীবনে এমন কোনো ঘটনা বা গল্প আছে কি যা আপনাকে শাখা বা ধারা নির্বাচনে প্রভাবিত করেছে? থাকলে সেগুলো কী?
৬. আপনার জীবনে এসকল গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে কে/কারা সাহায্য করেছেন? কীভাবে?
৭. আপনি কি কখনো ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন? করে থাকলে তা আমাদের বলবেন কি?
সাগর ও তার মাসাগর খুব চঞ্চল। তার দুষ্টুমিতে সারা গ্রামের লোক ব্যতিব্যস্ত। আজকে এর গাছের আম পাড়ে তো কাল অন্যজনের পোষা পাখি উড়িয়ে দেয়। দুষ্টু হলেও সে ছিল খুবই মা ভক্ত। মার জন্য তার ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার কোনো শেষ নেই। সে বড়ো হতে থাকে কিন্তু পড়ালেখায় তার একদমই মনোযোগ নেই। মন শুধু দুষ্টুমিতে ভরা। সে যখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র, তখন হঠাৎই তার মায়ের মারাত্মক এক রোগ ধরা পড়ে। অনেক চেষ্টা করে ডাক্তার তার মাকে সুস্থ করে তুলেন। সেই থেকে সাগরের কী যে হলো! দুষ্টুমি বন্ধ করে পড়ালেখায় খুব মনোযোগী হলো সে। সে বলল, আমি ডাক্তার হব। অনেক মানুষের মাকে সুস্থ করে তুলব। |
দেখলেতো সাগরের ঘটনাটি। এরকম অনেক ঘটনা বা চিন্তাভাবনা আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থাকে প্রভাবিত করে।
একেক ধরনের কাজ করতে একেক ধরনের যোগ্যতা, দক্ষতা দরকার হয়। তবে কিছু সাধারণ দক্ষতা বা গুণ আছে যেগুলো যেকোনো পেশাতেই সফল হবার জন্য দরকার পড়ে। তোমরা কি এই দক্ষতা বা গুণগুলো চিন্তা করে বের করতে পারবে?
কাজ
এসো দলে ভাগ হয়ে প্রত্যেক দলে কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার গুণগুলো খুঁজে বের করি এবং খাতায় লিখি।
এবার এগুলো শ্রেণিতে উপস্থাপন কর এবং অন্য দলের উপস্থাপিত যে গুণগুলো তোমার খাতায় লেখা নেই সেগুলো যোগ কর।
কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় গুণাবলি
|
এখানে পেশাগত জীবনে সফল হবার জন্য কিছু গুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তোমরা সবাই কয়েকটি দলে ভাগ হও। এবারে তোমরা প্রত্যেক দল উপরের তালিকা থেকে কয়েকটি গুণাবলি নির্ধারণ কর। এরপর একটি পেশার কথা চিন্তা কর যেটি সম্পর্কে তোমরা কিছুটা জানো, যেমন-শিক্ষকতা, ব্যবসায়, চিকিৎসা সেবা ইত্যাদি। দলে বসে চিন্তা করো তোমাদের নির্ধারিত সেই পেশার কোনো মানুষের তালিকায় চিহ্নিত গুণগুলো না থাকলে কী কী অসুবিধা হতে পারে? প্রত্যেক ক্ষেত্রে উদাহরণ দেওয়ার চেষ্টা কর।
প্রয়োজনীয় গুণাবলি | এটি না থাকলে কী কী অসুবিধা হতে পারে? | কল্পিত একটি ঘটনা (উদাহরণ হিসেবে) |
১. | ||
২. |
পেশাগত এ দক্ষতাগুলোর ভিত্তি মূলত ৩টি
শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্য লাভের উপায় নিয়ে পোস্টার অঙ্কন
ষষ্ঠ শ্রেণিতে তোমাদের সাথে শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্যলাভের জন্য বিভিন্ন গুণ এবং সেগুলো অর্জনের বিভিন্ন উপায় আলোচনা করা হয়েছে। লক্ষ করেছ কি, সেই গুণাবলির কিছু কিছু কর্মক্ষেত্রে সফল হবার জন্যও প্রয়োজন? এবারে এসো আমরা শিক্ষা ক্ষেত্রে সাফল্য লাভের উপায় নিয়ে পোস্টার অঙ্কন করব। এজন্য নিচের নির্দেশনাসমূহ অনুসরণ করব:
আমরা সবাই দলে ভাগ হয়ে আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্য লাভের বিভিন্ন উপায়গুলো লিখি।
এবারে প্রতিটি দল তাদের উপায়গুলো ক্লাসের সবাইকে পড়ে শোনাবে এবং প্রত্যেকে গুরুত্বপূর্ণ ৫টি উপায় নির্বাচন করবে পোস্টার অঙ্কনের জন্য।
এবারে দলে বসে প্রত্যেক দল প্রতিটি উপায়ের জন্য একটি করে মোট ৫টি পোস্টার তৈরি করবে। পোস্টারটিতে শিরোনাম, উপায় সম্পর্কে মূলকথা, সেটি সংক্রান্ত ছবি, ছড়া ইত্যাদি থাকতে পারে। প্রত্যেক দল আজ তাদের পোস্টারগুলো প্রদর্শনের জন্য টাঙিয়ে দিবে। প্রত্যেকে ঘুরে ঘুরে পোস্টারগুলো দেখবে, প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট দলকে প্রশ্ন করবে।
|
১. অষ্টম শ্রেণি শেষে শিক্ষার্থীরা কোন পথটি বেছে নিতে পারে?
ক. বিজ্ঞান, মানবিক অথবা ব্যবসায় শিক্ষা শাখা
খ. চিকিৎসা অথবা প্রকৌশল পেশা
গ. কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ধারা
ঘ. মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা
২. শাখা নির্বাচনের উপর কোনটি নির্ভরশীল?
ক. ভবিষ্যতের পেশা নির্বাচন
খ. পরের ক্লাসে উত্তীর্ণ হওয়া
গ. মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়া বা না দেওয়া
ঘ. বিদ্যালয়ের নিয়মকানুন
৩. পরীক্ষার কোন ধারাবাহিকতাটি সঠিক?
ক. প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী → মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট → নিম্নমাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট → উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট
খ. প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী → নিম্নমাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট → মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট → উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট
গ. নিম্নমাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট → মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট → প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী → উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট
ঘ. নিম্নমাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট → প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী → মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট → উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট
৪. শিক্ষাক্ষেত্রে সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজন-
i. নিজের পছন্দমতো শাখা/ধারা নির্বাচন
ii. ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখা
iii. কঠিন বিষয় না বুঝলে মুখস্থ করে ফেলা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. ii
খ. iii
গ. i ও ii
ঘ. i. ii ও iii
মিথুন অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তার ইচ্ছা বড়ো হয়ে সে ব্যাংকার হবে। তার বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল বের হয়েছে। সে বিজ্ঞান বিষয়ে সবচেয়ে ভালো করেছে। এখন তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সে কোন শাখায় ভর্তি হবে।
ক. শিক্ষা জীবন কী?
খ. শিক্ষার্থীর শাখা নির্বাচনের আগে কোন বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত? ব্যাখ্যা কর।
গ. মিথুনের ভবিষ্যৎ পেশার কথা চিন্তা করলে তার জন্য উপযুক্ত শাখা কোনটি? বর্ণনা কর।
ঘ. মিথুন যদি বিজ্ঞান শাখা নির্বাচন করে তাহলে তার কী সুবিধা বা কী অসুবিধা হতে পারে তা বিশ্লেষণ কর।
Read more