Loading [MathJax]/jax/output/CommonHTML/jax.js

স্কাউটিং ও গার্ল গাইডিং (দ্বিতীয় অধ্যায়)

সপ্তম শ্রেণি (মাধ্যমিক ২০২৫) - শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য - | NCTB BOOK
44
44

স্কাউট ও গার্ল গাইড বিশ্বব্যাপী একটি অরাজনৈতিক সমাজসেবামূলক যুব আন্দোলন। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর তৎকালীন লেফটেন্যান্ট জেনারেল রবার্ট স্টিফেনশন স্মিথ লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল ১৯০৭ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্কাউটিং এবং ১৯১০ সালে গার্ল গাইডের ধারণা প্রবর্তন করেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্কাউটিং কার্যক্রম আরম্ভকরার আগে স্কাউটিংয়ে অংশ নিতে পারে, এমন বয়সের ছেলেমেয়েদের চাহিদা বিবেচনা করে তিনি কিছু বই প্রকাশ করেন। তার মধ্যে স্কাউট শাখার জন্য ১৯০৮ সালে 'স্কাউটিং ফর বয়েজ' এবং গার্ল গাইড আন্দোলনের জন্য 'গার্ল গাইডিং' ও 'দিব্লু বার্ড বুক' অন্যতম। আন্তর্জাতিক স্কাউট আন্দোলনের সাথে সংগতি রেখে বাংলাদেশেও বাংলাদেশ স্কাউটস ও গার্ল গাইডের কর্মকান্ডের সূচনা হয়। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে স্কাউটিং ও গার্ল গাইডিং-এর কার্যক্রম শুরু হয়।

দুঃস্থ মানবতার সেবা, নৈতিক মূল্যবোধের উন্নয়ন, সুসমন্বিত শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, ধর্মীয় সহনশীলতা প্রভৃতি গুণাবলি অর্জনের সহায়ক শক্তি হিসেবে স্কাউটিং ও গার্ল গাইডিং আন্দোলন বিশ্বব্যাপী প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছে। বাংলাদেশও এই কার্যক্রমে গর্বিত অংশীদার হিসেবে ইতোমধ্যে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।

এ অধ্যায় শেষে আমরা -
১ । স্কাউটিং কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ব্যাজ অর্জনসহ স্কাউট ও গার্ল গাইডিং-এর অন্যান্য কর্মসূচির ব্যাখ্যা করতে পারব।
২। স্কাউটিং ও গার্ল গাইডিং-এর মাধ্যমে সুশৃংখল জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ হব।
৩। প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োগ সম্পর্কে জানব এবং যথাসময়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারব।
৪। দৈনন্দিন জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু দুর্ঘটনায় প্রাথমিক চিকিৎসার সেবা প্রয়োগ করতে পারব।

Content added By

স্কাউট ও গার্ল গাইডের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও কর্মসূচি (পাঠ ১)

66
66

লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল ছিলেন স্কাউট আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ১৮৫৭ সালে ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। স্কাউটিং পদ্ধতিতে ইংল্যান্ডের বালকদের চরিত্রের বিভিন্ন গুণাবলির উন্নতি দেখে তিনি সারা বিশ্বে এই আন্দোলন ছড়িয়ে দেন। ১৯২০ সালে বিশ্ব স্কাউট সংস্থা গঠিত হয়। বিশ্ব স্কাউট সংস্থার প্রধান কার্যালয় সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় অবস্থিত। স্কাউট একজন বিশ্বজনীন অরাজনৈতিক সমাজসেবামূলক যুব আন্দোলন। স্কাউট আন্দোলনের লক্ষ্যই হচ্ছে একটি স্কাউটকে চরিত্রবান করে আদর্শ মানুষে রূপান্তরিত করা। স্কাউটিং কার্যক্রম বালকদের আত্মনির্ভর ও সুন্দর জীবন গড়ে তুলতে সহায়তা করে। ভারত বিভাগের পর
১৯৪৮ সালে ঢাকায় পূর্ববঙ্গ স্কাউট সমিতি গঠন করা হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এদেশের স্কাউট আন্দোলন এক নতুন রূপ নেয়। ১৯৭২ সালের ৯ এপ্রিল ঢাকায় দেশের স্কাউট নেতাদের এক সাধারণ সভায় বাংলাদেশ বয় স্কাউট সমিতি গঠিত হয়। ১৯৭৪ সালের ১ জুন বিশ্ব স্কাউট সংস্থা বাংলাদেশ বয় স্কাউট সমিতিকে বিশ্ব স্কাউট কনফারেন্সে ১০৫তম সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৭৮ সালের ১৮ জুন ৫ম কাউন্সিল সভায় বাংলাদেশ বয় স্কাউট সমিতির নাম বদল করে 'বাংলাদেশ স্কাউট' রাখা হয়। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কাকরাইলে এর প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। জেলা শহর গাজীপুরের অদূরে মৌচাকে স্কাউটের জাতীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অবস্থিত।

রবার্ট স্টিফেনশন স্মিথ লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল গার্ল গাইডেরও প্রতিষ্ঠাতা। তিনি স্কাউটের অনুরূপ মেয়েদের জন্যও আলাদা কর্মসূচি দিয়ে নাম দিলেন গাইডিং। অতঃপর এই আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তার বোন এগনেসকে দায়িত্ব প্রদান করেন। এগনেস তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে এই আন্দোলনকে জনপ্রিয় করে তোলেন।

গাইডিং মেয়েদেরকে
ক) ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে।
খ) সামাজিক চেতনাবোধ বৃদ্ধি করে।
গ) দায়িত্বশীল নাগরিক হবার শিক্ষা দেয়।
ঘ) সেবামূলক কাজ করার শিক্ষা দেয়।
ঙ) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যুব সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপনে সাহায্য করে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭২ সালে জাতীয় সংসদ গার্ল গাইড অ্যাসোসিয়েশনকে একটি জাতীয় সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আইন পাশ করে। ১৯৭৩ সালে এই সংগঠন বিশ্ব গার্ল গাইড এ্যাসোসিয়েশনের পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ লাভ করে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বেইলি রোডে গার্ল গাইডের প্রধান কার্যালয় অবস্থিত।

কাজ-১: স্কাউট ও গার্ল গাইড সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট ধারণা দেবেন।
Content added By

উপদল (পেট্রোল) ও ব্যাজ পদ্ধতি (পাঠ ২)

122
122

স্কাউট ও গাইডদের সকল কাজ উপদল (পেট্রোল) পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। এই পদ্ধতিতে ছয় থেকে আটজন স্কাউট ও গাইড নিয়ে একটি উপদল গঠিত হয়। উপদল কার্যক্রম পরিচালনা, উপদল পতাকা বহন ও উপদল সদস্যদের বিভিন্ন কাজে সাহায্যের জন্য প্রত্যেক উপদল থেকে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও নেতৃত্বদানে সক্ষম স্কাউট/গাইডকে নিয়ম মোতাবেক উপদল নেতা নিয়োগ করা হয়। উপদলের অন্য সদস্যদের বিভিন্ন দায়িত্ব থাকে। প্রত্যেক উপদলের আলাদা নাম, চিহ্ন, পরিচয়ের ডাক এবং কার্যক্রম পরিচালনার স্থান থাকে। উপদলের বিভিন্ন কার্যাবলি পরিচালনার সুবিধার জন্য সবার নাম ঠিকানা এবং অন্যান্য পরিচিতি মনে রাখতে হয়। মনে রাখার সুবিধার জন্য ডাইরি বা নোট বুকে সবার নাম-ঠিকানা লিখে রাখতে হয়।

উপদল পদ্ধতি ছেলেমেয়েদের সচেতন করার জন্য সবচেয়ে উত্তম পন্থা। লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল সর্বপ্রথম ভারতে এ পদ্ধতি চালু করেন। তারপর এই পদ্ধতি পৃথিবীর সব স্কাউট ও গাইড দলের মধ্যে প্রচলন করা হয়। উপদল পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ছেলেমেয়েদেরকে নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলা। এ পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিটি ছেলেমেয়ে বুঝতে পারে, তার উপদলের উন্নতির জন্য তার একটি বিশেষ ভূমিকা আছে। উপদল পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিটি স্কাউট ও গাইড কোম্পানি পর্যন্ত তার মতামত পৌঁছাতে পারে এবং তারা তাদের নিজ উপদলের (পেট্রোলের) সুবিধা অনুযায়ী কোম্পানির কার্যক্রম, পরিকল্পনা ইত্যাদি বাস্তবায়িত করতে পারে। এ পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ করে প্রতিটি স্কাউট ও গাইড আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠে এবং নিজ পরিবার ও সমাজ সম্পর্কে দায়িত্বশীল হয়।

উপদল পতাকা : উপদল পতাকা ত্রিকোণাকার সাদা জমিনবিশিষ্ট হবে। পতাকার মাঝখানে উপদলের নামের প্রাণি/পাখির মুখমণ্ডল আঁকা থাকবে। উপদলের পতাকাদণ্ড স্কাউট লাঠির সমান। উপদল পতাকার পরিমাপ হবে ৩০ সেন্টিমিটার × ২০ সেন্টিমিটার।

টেন্ডারফুট ব্যাজ: এই ব্যাজের মোট চারটি রং সবুজ, হলুদ, লাল ও সাদা।

সবুজ: আমাদের দেশের জাতীয় পতাকার রং থেকে নেওয়া হয়েছে। এই রং-এর অর্থ তারুণ্যের উদ্দীপনা, সজীবতা। এই রং আমাদের চারিপাশে গাছপালার মধ্যে ছড়িয়ে আছে।

হলুদ রং: সোনালি আঁশ থেকে নেওয়া হয়েছে।

লাল: রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে যে নতুন সূর্যের উদয় হয়েছে এটা তার প্রতীক।

চারটি সাদা স্তবক: এর অর্থ লর্ড ব্যাডেন পাওয়েলের চারটি মূলনীতি। বুদ্ধি, হাতের কাজ, স্বাস্থ্য ও সেবা। সাদা রং এর অর্থ পবিত্র, নির্মল ও ভ্রাতৃত্বের চিহ্ন। গাইডও এই রং-এর মত পবিত্র, নির্মল ও একে অপরের ভগ্নি।

ত্রিপত্র: তিনটি পাপড়ি হলুদ রং-এর অর্থ গাইড প্রতিজ্ঞার তিনটি অংশ।

ডাটা: এর অর্থ একতাবদ্ধভাবে কাজ করা।

ঢেউ: স্নেহ, মায়া, মমতা, ভালবাসা।

শাড়িতে যদি ব্যাজ লাগানো অসুবিধা হয় তা হলে ব্লাউজের কলারে বাম দিকে ব্যাজ লাগানো যায়।

এই ব্যাজের উপর অন্য কোন ব্যাজ লাগানো যাবে না। যেহেতু কষ্ট করে এই ব্যাজ অর্জন করা হয় সেহেতু অন্য ব্যাজগুলি টেন্ডারফুট ব্যাজের নিচে লাগানো যাবে। টেন্ডার ফুট ব্যাজকে প্রতিজ্ঞা (promise) ব্যাজ বলে।

টেন্ডারফুট পরীক্ষায় পাশ করার পর এবং দীক্ষাপ্রাপ্ত হওয়ার পর ফুল ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় শুধুমাত্র এই ব্যাজ পরা যায়। এই ব্যাজ বাম দিকে পরতে হয়। যদি টাই থাকে তবে টাইয়ের মাঝখানে ব্যাজ পরতে হয়।

ক) দক্ষতা ব্যাজ ও গাইড নৈপুণ্যসূচক ব্যাজ : দক্ষতা ব্যাজ প্রদান করা হয় নির্দিষ্ট কাজের জন্য নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রমের উপর দক্ষতা অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ। দক্ষতা ব্যাজ হলো চারটি-

(১) সদস্য ব্যাজ (২) স্ট্যান্ডার্ড ব্যাজ (৩) প্রোগ্রেস ব্যাজ ও (৪) সার্ভিস ব্যাজ।
(১) সদস্য ব্যাজ স্কাউট শার্টের বাম পকেটের মাঝখানে সেলাই করে পরতে হয়।
(২) স্ট্যান্ডার্ড ব্যাজ শার্টের বাম হাতার ভাঁজের ওপর কনুই ও কাঁধের মাঝখানে সেলাই করে পরতে হয়।
(৩) প্রোগ্রেস ব্যাজ স্ট্যান্ডার্ড ব্যাজের স্থলে লাগাতে হয়।
(৪) সার্ভিস ব্যাজ প্রোগ্রেস ব্যাজ সরিয়ে তার স্থানে সেলাই করে পরতে হয়।

গাইড নৈপুণ্যসূচক ব্যাজ :

১. রাঁধুনী
২. ঘর কন্যা
৩. প্রাথমিক চিকিৎসা
৪. মালিনী
৫. স্বাস্থ্য প্রতীক
৬. গৃহিনিপনা
৭. অতিথি সেবিকা
৮. বুনন প্রতীক
৯. রজকী
১০. সূচি শিল্পী
১১. হাঁস-মুরগি পালন
১২. শুশ্রুষাকারী
১৩. সেলাই
১৪. কৃষি
১৫. স্যানিটেশন
১৬. ওরাল রিহাইড্রেশন থেরাপি (ও আর টি)

খ) পারদর্শিতা ব্যাজ: বিভিন্ন বিষয়ের উপর পারদর্শিতা অর্জনের স্বীকৃতি প্রদানের নিদর্শন হলো পারদর্শিতা ব্যাজ। বর্তমানে বিশেষ তিনটি ব্যাজ গ্রুপসহ মোট ১৩টি গ্রুপে পারদর্শিতা ব্যাজের সংখ্যা ১২৬টি। পারদর্শিতা ব্যাজ স্কাউট শার্টের ডান হাতের কনুই ও কাঁধের মাঝে সেলাই করে পরতে হয়।

কাজ-১:ব্যাজ পদ্ধতির নামগুলো পোস্টারে প্রদর্শন কর।
কাজ-২:কোন ব্যাজ কোথায় পরতে হয় তা অভিনয় করে দেখাও।
Content added By

পাইওনিয়ারিং, ল্যাশিং ও টেন্ডারফুট গিরা (পাঠ ৩)

91
91

ক) পাইওনিয়ারিং: স্কাউটিং ও গার্ল গাইডিং-এ হাইকিং করার সময় তাঁবুবাসকালে দড়ির বিভিন্ন গেরো সম্পর্কে জানা ও বাস্তবে প্রয়োগ করাকে পাইওনিয়ারিং বলে। যেমন-

১) দড়ির বিভিন্ন অংশের নাম জানা ও চিহ্নিত করতে পারা।

২) দড়ির সাহায্যেও নিম্নলিখিত গেরোগুলো বাঁধতে এবং এগুলোর সঠিক ব্যবহার প্রদর্শন করতে পারবে। যেমন: বোলাইন অন দি বাইট, ক্যাটসপ, ডবল শিটবেন্ড, স্লিপারি শিটবেন্ড, ফায়ার ম্যান চেয়ার নট ইত্যাদি।

৩) সঠিক প্যাঁচের সাহায্যে চারটি লাঠি দিয়ে একটা পতাকা দন্ড তৈরি করতে পারা।

৪) সঠিক প্যাচের সাহায্যে একটা শিয়ার লেগ তৈরি করতে পারা।

গ্যাজেট: তাঁবুতে বসবাসের জন্য গাছের ডাল বা বাঁশ দিয়ে তৈরি আসবাবপত্র রাখার ব্যবস্থাকে গ্যাজেট বলে।

খ) ল্যাশিং: দু-তিনটা বাঁশ বা কাঠকে একত্রে বাঁধার জন্য দড়ি দিয়ে পেঁচিয়ে বাঁধাকে ল্যাশিং বলে। সাধারণত পুল, ঘর, মাচা, গ্যাজেট তৈরি ও গাছে ঠেকা দেওয়ার সময় ল্যাশিং ব্যবহার করা হয়। ল্যাশিং অনেক প্রকার থাকলেও স্কাউটদের প্রাথমিক পর্যায়ে চার প্রকার ল্যাশিংয়ের প্রয়োজন হয়। যথা-
১। স্কোয়ার ল্যাশিং (Square Lashing) |
২। ডায়াগোনাল ল্যাশিং (Diagonal Lashing) |
৩। পোল এন্ড শিয়ার ল্যাশিং (Pole and Sheer Lashing)।
৪। ফিগার অব এইট ল্যাশিং (Figure of Eight Lashing)।

স্কোয়ার ল্যাশিং (Square Lashing): একটি বাঁশের উপর আরেকটি বাঁশ আড়াআড়িভাবে রেখে শক্ত করে বাঁধার জন্য যে পেঁচ দেওয়া হয়, তাকে স্কোয়ার ল্যাশিং বলে। একটি বাঁশ মাটির ওপর খাড়াভাবে রেখে অপর একটি বাঁশের টুকরা ঐ বাঁশের উপর আড়াআড়ি রাখতে হবে। যে বাঁশটি খাড়াভাবে আছে, সেটি হচ্ছে পোল এবং যে বাঁশটি আড়াআড়িভাবে রাখা হয়েছে, সেটি হচ্ছে বার। এবার পোল এবং বার যেখানে মিলিত হয়েছে, সেখানে একটি বড়শি গেরো দিয়ে ঐ দড়ির চলমান অংশকে বারের উপর দিয়ে পোলকে পেছন দিক থেকে পেঁচিয়ে আবার বারের উপর রাখতে হবে। এভাবে দড়ির চলমান অংশ দিয়ে ৮/১০ বার পোল এবং বারকে জড়িয়ে পেঁচ দিতে হবে। পোল পেঁচানোর সময় দড়ি পোলের নিচে এবং উপরের প্রথমে যে দুটি পেঁচ দেওয়া হয়েছিল, পরবর্তী পেঁচগুলো দুটির মধ্যে দিতে হবে। যাতে আস্তে আস্তে পোলের এই অংশের ফাঁক বন্ধ হয়ে যায়। পোল এবং বার ৮/১০ বার পেঁচানো শেষ হলে দড়ির চলমান অংশ দিয়ে পোল এবং বারের মাঝে যে দড়ি আছে, তাকে শক্ত করে অন্ততপক্ষে ৩/৪ বার পেঁচাতে হবে। এই পেঁচানোকে ফ্রাপিং (Frapping) বলে।

স্কোয়ার ল্যাশিং

ফ্রাপিং যত শক্ত হবে, ল্যাশিং তত মজবুত হবে। ফ্রাপিং দেওয়া শেষহলে দড়ির চলমান অংশ দিয়ে বারে বড়শি গেরো দিয়ে বেঁধে ল্যাশিং শেষ করতে হবে। এভাবে স্কোয়ার ল্যাশিং বাঁধতে হয়।

ডায়াগোনাল ল্যাশিং (Diagonal Lashing): একটি দণ্ডকে অপর একটি দন্ডের উপর কোনাকুনিভাবে বা গুণন চিহ্নের (×) মতো অবস্থায় রাখতে হবে। এভাবে রাখার ফলে দুটি দন্ড যেখানে একত্রিত হয়েছে, সেখানে একটি গাড়ি টানা গেরো দিতে হবে।

দড়ির চলমান অংশের দিক পরিবর্তন করে বাইরের দিক দিয়ে দুই দন্ডকে একত্রে ৫/৭ বার পেঁচাতে হবে। এরপর যে দিক থেকে আগে পেঁচানো হয়েছে তার বিপরীত দিক থেকে দুই দণ্ডকে একত্রিত করে আগের মতো ৫/৭ বার পেঁচ দিতে হবে। এভাবে দুই দিক দিয়ে পেঁচানো শেষ হলে দন্ডের মাঝে দড়ির যে অংশ আছে, তাকে দড়ির চলমান অংশ দিয়ে শক্ত করে অন্ততপক্ষে ৩/৪ বার পেঁচ দিতে হবে। এই পেঁচ যত শক্ত হবে ল্যাশিং তত মজবুত হবে। ফ্রাপিং দেওয়া শেষ হলে যেকোনো একটি দণ্ডের সাথে দড়ির চলমান অংশের দ্বারা বড়শি গেরো দিয়ে ল্যাশিং শেষ করতে হবে। এভাবে ডায়াগোনাল ল্যাশিং বাঁধতে হয়।

কাজ-১: স্কোয়ার ল্যাশিং ও ডায়াগোনাল ল্যাশিং বেঁধে প্রদর্শন কর।
Content added By

পোল অ্যান্ড শিয়ার ও ফিগার অব এইট ল্যাশিং (পাঠ ৪)

53
53

পোল অ্যান্ড শিয়ার ল্যাশিং (Pole and Shear Lashing): পোল অ্যান্ড শিয়ার ল্যাশিংকে অনেকে শুধু শিয়ার
ল্যাশিং বলে। দুটি বাঁশ বা কাঠকে একত্রে বাঁধার জন্য যেপেঁচ দেওয়া হয়, তাকে পোল অ্যান্ড শিয়ার ল্যাশিং বলে। দুটি বাঁশ বা দন্ডকে একত্রে বেঁধে তাকে পারা হিসেবে ব্যবহার করার জন্য অথবা একটি বাঁশ বা দণ্ডকে অপর একটি বাঁশ বা দন্ডের সাথে বেঁধে তাকে লম্বা করার জন্য এই ল্যাশিং ব্যবহার করা হয়। যখন দুটি বাঁশ বা দন্ডকে মাথার দিকে একত্রে বেঁধে তাকে পায়া হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন তাকে শিয়ার লেগ বলে। যখন একটি বাঁশ বা দন্ডকে অপর একটি বাঁশ বা দণ্ডের সাথে একত্রে বেঁধে লম্বা করা হয় তখন তাকে পোল বলে। মূলত শিয়ার লেগ এবং পোল তৈরির জন্য একই ল্যাশিং ব্যবহার করা হয়। শিয়ার লেগ ও পোল করার জন্য একই ল্যাশিং ব্যবহার করা হলেও এদের মধ্যে পার্থক্য আছে। যেমন- শিয়ার লেগ তৈরির জন্য ফ্রাপিং দিতে হয়। আর পোল তৈরির জন্য ফ্রাপিং দিতে হয় না। কীভাবে পোল তৈরি ও শিয়ার লেগ তৈরি করা হয় তা নিম্নে পৃথকভাবে দেওয়া হলো-

পোল তৈরি : একটি দণ্ডের মাথায় ২০ সে:মি: নিচে অপর একটি দন্ডের নিচের অংশ রেখে দন্ডকে আগের দন্ডের পাশাপাশি রেখে নিচে রাখা দন্ডটি, যেখানে ওপরের দন্ডের সাথে মিলিত হয়েছে, তার ৪/৫ সে:মি: ওপরে দুটি দন্ডকে একত্রিত করে সেখানে দড়ির স্থির অংশ দিয়ে বড়শি গেরো বাঁধতে হবে। বড়শি গেরো বাঁধার পর দড়ির স্থিরপ্রান্তের যে বাড়তি অংশ থেকে যাবে, তাকে দড়ির চলমান অংশের সাথে পেঁচিয়ে দিতে হবে। তারপর চলমান অংশ দিয়ে দুটি দণ্ড একত্র করে নিচের দিক থেকে উপরের দিকে পেঁচ দিতে হবে। ৮/১০ বার পেঁচ দেওয়া হয়ে গেলে দণ্ডকে একত্র করে বড়শি গেরো দিয়ে ল্যাশিং শেষ করতে হবে। দুটি দপ্ত যেখানে পরস্পরের সাথে মিলিত হয়েছে, সেখানে আলাদা আলাদা ল্যাশিং দিলে সুবিধা হয় এবং বাঁধন খুব শক্ত হয়। দণ্ড কোনো দিকে হেলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। এভাবে পোল তৈরির জন্য পোল ল্যাশিং বাঁধতে হয়।

শিয়ার লেগ তৈরি: দুটি বাঁশ বা দণ্ডের নিচের অংশ সমান্তরাল রেখায় রেখে দুটি দণ্ডকে একত্র করে ওপরের যেকোনো দণ্ডে দড়ির স্থির প্রান্ত দিয়ে একটি বড়শি গেরো দিতে হবে। বড়শি গেরো দেওয়ার পর দড়ির স্থিরপ্রান্তের বাড়তি অংশ থেকে যাবে, তাকে দড়ির চলমান অংশের সাথে পেঁচিয়ে দিতে হবে। এবার দড়ির চলমান অংশ দিয়ে দুটি দণ্ডকে একত্র করে পেঁচিয়ে নিচ থেকে ওপরের দিকে যেতে হবে। লক্ষ রাখতে হবে যে দুটি দণ্ডের সাথে পেঁচ দেওয়ার সময় একটি দড়ির সাথে যেন আরেকটি দড়ি লেগে থাকে। একটি দড়ি যেন আর একটি দড়ির উপর না ওঠে। ৮/১০ বার পেঁচ দেওয়া শেষ হলে দুই দণ্ডের মাঝখানে দড়ির যে অংশ আছে, তাকে দড়ির চলমান অংশ দিয়ে শক্ত করে অন্তত পক্ষে ৪/৫ বার পেঁচ দিতে হবে। দুই দন্ডের মাঝখানের দড়িকে দড়ির চলমান অংশ দিয়ে পেঁচানোকে ফ্রাপিং (Frapping) বলে।

ফ্রাপিং যত মজবুত হবে ল্যাশিং তত শক্ত হবে। ফ্রাপিং দেওয়া শেষ হলে প্রথমে যে দণ্ডে বড়শি গেরো দিয়ে ল্যাশিং শুরু করেছিল তার বিপরীত দণ্ডে বড়শি গেরো দিয়ে ল্যাশিং শেষ করতে হবে। এভাবে শিয়ার লেগ তৈরি করা হয়।

ফিগার অব এইট ল্যাশিং (Figure of Eight Lashing): তিনটি দণ্ডের নিচের অংশকে একই সমান্তরাল রেখায় রেখে দন্ড তিনটিকে একটির পাশে আর একটি রাখতে হবে। দণ্ড তিনটি খুব কাছাকাছি থাকবে। যেকোনো দুটি দণ্ডকে বড়শি গেরো দিয়ে বাঁধতে হবে। বড়শি গেরোর মাথা যেন দণ্ডের উপর

থাকে। বড়শি গেরো বাঁধার পর দড়ির স্থির প্রান্তের যে বাড়তি অংশ থেকে যাবে, তাকে দড়ির চলমান অংশকে একটি দণ্ড বাদ দিয়ে পরবর্তী দণ্ডকে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে নিচ থেকে উপরের দিকে যেতে হবে। কমপক্ষে ৫/৭বার দড়ি পেঁচানো শেষ হলে যে দণ্ডের সাথে প্রথম বড়শি গেরো বাঁধা হয়েছিল সে দণ্ডের পার্শ্ববর্তী দণ্ডের মাঝখানে দড়ির যে অংশ আছে সে দড়িকে দড়ির চলমান অংশ দিয়ে প্রথমে কমপক্ষে তিনবার পেঁচ দিতে হবে।

পরবর্তীতে পাশের দুই দন্ডের মাঝখানে দড়ির যে অংশ আছে তাকে আবার আগের মতো করে পেঁচ দিতে হবে। এভাবে দড়ির উপর দড়ি দিয়ে পেঁচ দেওয়াকে ফ্রাপিং বলে। ফ্রাপিং যত শক্ত হবে, ল্যাশিং তত মজবুত হবে। ফ্রাপিং দেওয়া শেষ হলে বড়শি গেরো দিয়ে ল্যাশিং শেষ করতে হবে। তিনটি দণ্ড বা বাঁশকে একত্রে বেঁধে ট্রিপট তৈরি করার জন্য ফিগার অব এইট ল্যাশিং ব্যবহার করা হয়।

কাজ-১: পোল অ্যান্ড শিয়ার ল্যাশিং ও ফিগার অব এইট ল্যাশিং তৈরি করে দেখাও।
Content added By

প্রাথমিক চিকিৎসা/প্রতিবিধান (পাঠ ৫)

66
66

প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে জানার আগে প্রাথমিক চিকিৎসা কী তা তোমরা ষষ্ঠ শ্রেণিতে ধারণা পেয়েছো। প্রাথমিক চিকিৎসা বা প্রতিবিধান চিকিৎসাশাস্ত্রের একটি অংশ। প্রাথমিক চিকিৎসা হচ্ছে হঠাৎ কোনো পীড়া বা দৈব দুর্ঘটনায় হাতের কাছের জিনিসের দ্বারা রোগীকে প্রাথমিকভাবে সাহায্য করা, যাতে ডাক্তার আসার আগে রোগীর অবস্থার অবনতি না ঘটে বা জটিলতা সৃষ্টি না হয়। অর্থাৎ যেকোনো আকস্মিক দুর্ঘটনায় প্রথম শুশ্রুষা এবং সংক্ষিপ্ত উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা/ প্রতিবিধান বলা হয়।

রক্তক্ষরণ: রক্ত হলো এক প্রকার তরল পদার্থ। এর রং লাল। হিমোগ্লোবিন নামক লাল রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতিতে রক্তের রং লাল দেখায়। শরীরের কোনো স্থানে আঘাতের ফলে বা কেটে গেলে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়, এবং সেই ক্ষত হতে যে রক্ত বের হয়, তাকে রক্তক্ষরণ বা রক্তপাত বলে। বিভিন্নভাবে রক্তক্ষরণ হতে পারে যেমন-

১। মুখ দিয়ে রক্ত পড়া : মুখের ভিতরের যেকোনো অংশ থেকে রক্তপাত হলে বরফ চুষতে হবে। তাহলে রক্তপাত বন্ধ হবে। এরপর রোগীকে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে হবে।

২। নাক দিয়ে রক্ত পড়া : আঘাতজনিত বা অন্য কোনো কারণে কারো নাক দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করলে তৎক্ষণাৎ তাকে চিত করে শোয়াতে হবে অথবা বসিয়ে মাথা পেছনের দিকে হেলিয়ে রাখতে হবে। কাপড়চোপড় ঢিলা করে দিতে হবে। নাকের সামনে ও ঘাড়ের পিছনে ঠান্ডা কমপ্রেস দিতে হবে। তখন মুখ দিয়ে শ্বাসকার্য চালাতে হবে। রক্তপাত বন্ধ হবার পরও কিছুক্ষণ নাকের ছিদ্রপথে তুলো দিয়ে রাখতে হবে।

৩। শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে: কাটা স্থানটি কিছুক্ষণ পরিষ্কার হাতে চেপে ধরতে হবে। রক্ত বন্ধ হলে ব্যান্ডেজ দিয়ে বেঁধে রাখতে হবে। সাধারণত তিনটি উৎস থেকে রক্তপাত হয়। যথা-
ক) কৈশিক নালি (Capillary) একটানা স্রোতের ন্যায় রক্ত বের হয়।
খ) শিরা (Vein)-গলগল করে রক্ত বের হয়।
গ) ধমনী (Artery) ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হয়।
দুর্ঘটনায় বেশির ভাগ রক্তপাত হয় কৈশিক নালি থেকে।

রক্তপাতের প্রাথমিক চিকিৎসা:
১। রোগীকে বসানো ও শোয়ানো যায় এমন স্থানে স্থানান্তর করতে হবে। এতে রক্তপাত আপনা-আপনি কমে যাবে।
২। যে স্থান হতে রক্তপাত হচ্ছে, সে স্থান হৃৎপিন্ডের সমতার উপর তুলে ধরলে রক্তপাত অনেকটা কমে যাবে।
৩। সামান্য কেটে গেলে ঐ স্থানে রক্ত জমাট বেঁধে আপনা-আপনি রক্তপাত বন্ধ হয়।
৪। কাটা স্থানে বৃদ্ধাঙ্গুলির চাপ প্রয়োগ করলে অনেক সময় রক্তপাত বন্ধ হয়।
৫। আহত অঙ্গের নড়াচড়া বন্ধ করতে হবে।
৬। রক্তপাতের স্থানে বরফ ব্যবহার করতে হবে।
৭। রক্তপাত বধের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ চাপ দিতে হবে।
৮। ক্ষতস্থান পরিষ্কার কাপড় বা ব্যান্ডেজ দিয়ে বাঁধতে হবে।
৯। তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে বা হাসপাতালে নিতে হবে।
১০। বেশি রক্তপাত হলে টুর্নিকেট ব্যবহার করতে হবে। টুর্নিকেট অর্থ হলো প্রাথমিক বাঁধনকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে শক্ত করে তোলা। ক্ষতস্থান ঢিলা করে বেঁধে তার ভিতরে একটি কাঠি বা পেনসিল ঢুকিয়ে দিয়ে আস্তে আস্তে ঘুরালে বাঁধনটি ক্রমশ শক্ত হয়ে রক্তপাত বন্ধ হয়।

বৈদ্যুতিক শক: আজকাল শহর ও শহরতলি এবং গ্রামেও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বহু জায়গায় অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার ফলে যেকোনো সময় তড়িতাহত হয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিদ্যুৎপ্রবাহ বা কারেন্ট দুই ধরনের। এসি (AC) কারেন্ট ও ডিসি (DC) কারেন্ট। এসি কারেন্ট আকর্ষণ করে টেনে নেয়। ডিসি কারেন্ট শুধু ধাক্কা দেয়। সে জন্য এসি কারেন্ট বেশি মারাত্মক। ভেজা কাপড় বা গাছের সাথে বিদ্যুৎপ্রবাহের সংযোগের ফলে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এগুলো স্পর্শ করলে নিজেও তড়িতাহত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে: কারো শরীরে বিদ্যুতের তার জড়িয়ে গেলে বা কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে সাথে সাথে মেইন সুইচ কন্ধ করে দিতে হবে। কোনো কারণে সুইচ বন্ধ করতে না পারলে শুকনা কাঠ দিয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে ছাড়িয়ে দিতে হবে। কাঠ না পেলে শুকনা কাপড় হাতে জড়িয়ে ধাক্কা দিতে হবে। কখনো খালি হাতে ধরলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বিপদ ঘটতে পারে। কখনো গায়ে পানি দেবে না। শ্বাসক্রিয়া না চললে কৃত্রিমভাবে শ্বাসকার্য চালাতে হবে। তাড়াতাড়ি ডাক্তার দেখাতে হবে।

মচকানো: হাড়ের সংযোগ স্থান সঞ্চালনের সময় হঠাৎ মচকে গেলে বা বেঁকে গেলে সংযোগ স্থান সংলগ্ন স্নায়ুতন্ত্রের ওপর টান পড়ে বা ছিঁড়ে গিয়ে যে অসুবিধার সৃষ্টি হয় তাকে মচকানো বলে। ব্যায়াম, খেলাধুলা বা অন্যান্য কাজকর্মের সময় মাঝে মাঝে ব্যথা পাওয়া বা মচকানো অস্বাভাবিক নয়। এসব দুর্ঘটনার জন্য চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু অনেক সময় চিকিৎসকের সাহায্য পেতে দেরি হয়। তাই আহত ব্যক্তির প্রাথমিক চিকিৎসার দরকার হয়।

লক্ষণ:
১। আহত স্থানে ব্যথা অনুভূত হবে।
২। সন্ধিস্থল ফুলে যাবে।
৩। আহত স্থান বিবর্ণ হয়ে নীল বা লাল আকার ধারণ করবে।
৪। স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করা যাবে না এবং চলার সময় আহত স্থানে ব্যথা বৃদ্ধি পাবে।

প্রাথমিক চিকিৎসা:
১। আঘাতের সাথে সাথে আহত স্থানে ঠান্ডা পানি বা বরফ লাগানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
২। আহত স্থানটি নড়াচড়া করতে দেওয়া যাবে না।
৩। মচকানো স্থানটি যথাসম্ভব আরামদায়ক অবস্থায় রাখতে হবে।
৪। আহত স্থানে হাড়ভাঙার ব্যান্ডেজ প্রয়োগ করতে হবে।
৫। ব্যান্ডেজ সব সময় ভিজা রাখবে। সম্ভব হলে বরফ লাগাবে।
৬। মাংসপেশি মচকে গেলে রোগীকে সহজ ও আরামদায়ক অবস্থায় শোয়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
৭। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোগীকে ডাক্তার বা হাসপাতালে পাঠাবার ব্যবস্থা করতে হবে।

কামড়, দংশন বা হুল ফোটা: বিভিন্ন জন্তু-জানোয়ারের কামড় থেকে সাবধান থাকতে হবে। পাগলা কুকুরের মুখের লালায় জলাতঙ্ক রোগের জীবাণু থাকে। কুকুর, নেকড়ে, শিয়াল, বেজি ও ছুঁচো-এরা সবাই জলাতঙ্ক রোগের জীবাণু বহন করে। এরা কামড়ালে সাথে সাথে আহত স্থানে কার্বলিক সাবান বা পানি দিয়ে আহত স্থানটি ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং তাড়াতাড়ি হাসপাতালে পাঠাবার ব্যবস্থা করতে হবে। বিড়ালের নখ খুব তীক্ষ্ণ। বিড়াল থেকে ডিপথেরিয়া রোগ হয়। বিছা, মৌমাছি ও ভীমরুলের কামড় মারাত্মক। এরা হুল ফুটিয়ে বিষ থলি থেকে হুলের পথে বিষ ঢেলে দেয়। অনেক সময় তুলটি ভেঙে গিয়ে দংশন স্থানে লেগে থাকে। যদি হুল ফুটে থাকে তবে ক্ষতের চারদিকে চাপ দিয়ে হুলটি বের করে নিতে হবে।

সাপে কামড়ালে কামড়ের জায়গার উপরে কাপড় বা দড়ি দিয়ে শক্ত করে বাঁধতে হবে। এর ফলে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হবে এবং বিষ ছড়াতে পারবে না। ধারালো ব্লেড দিয়ে আহত জায়গা একটু গভীর করে কেটে (আধা সে: মি:) রক্ত বের করে ফেলতে হবে। ৩০ মিনিটের বেশি সময় বেঁধে রাখা যাবে না। বেশি সময় বেঁধে রাখলে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে নিচের অংশে পচন ধরতে পারে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের নিকট বা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

চোখে কিছু পড়লে : চোখ মানুষের অমূল্য সম্পদ। নানা কারণে চোখ দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে। চোখে ধুলোবালি পড়তে পারে। কাজ করার সময় কিছু ছিটকে এসে চোখে বিঁধতে পারে, কোনো রাসায়নিক পদার্থ চোখে পড়তে পারে। এরূপ কিছু চোখে পড়ে গেলে-

১। কখনই চোখ কচলানো যাবে না।
২। চোখে পানির ঝাপটা দিতে হবে।
৩। রোগীকে আলোর দিকে মুখ করে বসিয়ে আলতোভাবে চোখের দুটি পাতা খুলে দেখতে হবে। চোখে কোনো বস্তু লেগে থাকলে রুমালের কোনা ভিজিয়ে আলতোভাবে ব্রাশ করার মতো লাগিয়ে বস্তুটি তুলে নিতে হবে।
৪। রাসায়নিক কিছু চোখে পড়লে দুধ দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
৫। তাড়াতাড়ি ডাক্তার বা হাসপাতালে পাঠাবার ব্যবস্থা করতে হবে।

কানে কিছু গেলে: কানে পোকামাকড় ঢুকে গেলে সরিষার তেল বা অলিভ ওয়েল অল্প পরিমাণ ঢেলে দিলে পোকা মরে যায় এবং বের হয়ে আসে। তাছাড়া মার্বেল জাতীয় কোনো কিছু ঢুকে গেলে নড়াচড়া না করে দ্রুত ডাক্তারের নিকট বা হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

অজ্ঞান অবস্থায় করণীয় : দেহের স্নায়ুতন্ত্রের কাজের বিঘ্ন ঘটলে রোগীর জ্ঞান লুপ্ত হয়ে যায়। এ অবস্থাকে অজ্ঞান বা অচেতন অবস্থা বলে। বিভিন্ন কারণে মানুষ অজ্ঞান হয় যেমন- রোগবশত, দুর্ঘটনাজনিত, বিষক্রিয়াজনিত এবং তাপের তারতম্যজনিত কারণে। এ অবস্থায় প্রাথমিকভাবে যা করতে হবে-

১। রোগীকে ফাঁকা ও বায়ুপূর্ণ স্থানে নিয়ে যেতে হবে।
২। রোগীর জামা-কাপড়, জুতা, মোজা, কৃত্রিম দাঁত থাকলে খুলে নিতে হবে।
৩। রোগীকে চিৎ করে শুইয়ে পর্যবেক্ষণ করে কী করণীয় তা স্থির করতে হবে।
৪। লোক বেশি হলে সরাতে হবে।
৫। রক্তক্ষরণ হলে তার প্রতিবিধান করতে হবে।
৬। কোনো উত্তেজক পানীয় বা খাদ্য খাওয়ানো যাবে না।
৭। বিষজনিত কারণে অজ্ঞান হলে রোগীকে উপুড় করে বুকের নিচে বালিশ দিয়ে শুইয়ে দিতে হবে। রোগীর দুটি পা হাঁটু হতে উপরের দিকে ভাঁজ করে দিতে হবে।
৮। জ্ঞান ফেরার জন্য মুখে পানির ঝাপটা দিতে হবে। গরম চা বা কফি খাওয়াতে হবে।
৯। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোগীকে ডাক্তারের কাছে নিতে হবে।

কাজ-১: বাড়িতে, বাড়ির বাইরে, খেলার মাঠে ঘটতে পারে এমন কয়েকটি দুর্ঘটনার নাম উল্লেখ কর।
কাজ-২: খেলার মাঠে আঘাত পেয়ে নাক দিয়ে রক্ত পড়লে প্রাথমিক চিকিৎসা কীভাবে দেওয়া হয় তা বর্ণনা কর।
কাজ-৩: গত তিন মাসে তোমাদের বাড়িতে কেউ দুর্ঘটনায় পড়েছিল কি না তা নিচের ছকে পূরণ কর (দলগত কাজ)
পরিবারের সদস্যদুর্ঘটনার ধরন
১। মা
২। বাবা
৩। বোন
৪। ভাই
৫। গৃহকর্মী
Content added By

অনুশীলনী

43
43

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. 'দি ব্লু বার্ড বুক' বইটি কাদের জন্য লেখা?
ক. হলদে পাখি
খ. গার্ল গাইড
গ. বয়েজ স্কাউট
ঘ. রোভার স্কাউট

২. বিশ্ব স্কাউট সংস্থার প্রধান কার্যালয় কোথায়?
ক. লন্ডন
খ. জেনেভা
গ. ঢাকা
ঘ. নয়াদিল্লি

৩. গার্ল গাইডের প্রতিষ্ঠাতা কে?
ক. লর্ড ব্যাডেন পাওয়াল
খ. লেডি ব্যাডেন পাওয়াল
গ. এগনেস
ঘ. হেনরী ডোনান্ট

৪. উপদল পদ্ধতির সুবিধা-
i. কার্যক্রম পরিচালনা করা সহজ হয়
ii. স্কাউট স্তর চিহ্নিত করা যায়
iii. সচেতনতা বৃদ্ধি করা যায়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. iও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii

৫। উপদল পতাকায় পাট কোন রং নির্দেশ করে?
ক. সবুজ
খ. হলুদ
গ. লাল
ঘ. সাদা

নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৬ ও ৭ নং প্রশ্নের উত্তর দাও।
এস. আর বিদ্যালয়ের স্কাউট গ্রুপের ছাত্ররা বার্ষিক তাবুবাস, জাম্বুরি ও সকল স্কাউট কার্যক্রমে অংশ নেয়। প্রতি বছরই তারা বিভিন্ন পর্যায়ে পুরস্কার লাভ করে। তবে জি. এম বিদ্যালয়ের ছাত্ররা স্কাউট কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় ছিল। কিন্তু এস, আর বিদ্যালয়ের সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে জি. এম বিদ্যালয়ের ছাত্ররা স্কাউট কার্যক্রমে সক্রিয় হয়ে উঠে এবং বিভিন্ন বিষয়ে অংশ নেয়।

৬। এস.আর বিদ্যালয়ের ছাত্ররা কোনটিতে পারদর্শিতা অর্জন করেছে?
ক. প্রাথমিক প্রতিবিধান
খ. গ্যাজেট তৈরি
গ. টেন্ডারফুট ব্যাজ তৈরি
ঘ. স্যানিটেশন

৭। জি. এম উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্ররা কোনটিতে সক্রিয় হয়ে উঠে?
ক. সেলাই
খ. কৃষি
গ. স্যানিটেশন
ঘ. ল্যাশিং

৮। গ্যাজেট কী?
ক. বিভিন্ন গেরো সম্পর্কে জানা
খ. কয়েকটি বাঁশকে দড়ি দিয়ে পেঁচিয়ে বাঁধা
গ. বাঁশ দিয়ে আসবাবপত্র রাখার ব্যবস্থা করা
ঘ. কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনা করা

৯। উপদল পতাকায় সাদা রঙ কী নির্দেশ করে?
ক. তারুণ্যের উদ্দীপনা
খ. সোনালি আঁশ
গ. নতুন সূর্যোদয়
ঘ. ভ্রাতৃত্বের চিহ্ন

১০. গার্ল গাইডের উদ্দেশ্য কী?
ক. নিজেকে বড়ো মনে করা
খ. নিজের আর্থিক সুবিধা লাভ করা
গ. সেবা করার জন্য তৈরি থাকা
ঘ. সহপাঠীদের বিরোধ মীমাংসা করা

Content added By
টপ রেটেড অ্যাপ

স্যাট অ্যাকাডেমী অ্যাপ

আমাদের অল-ইন-ওয়ান মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সীমাহীন শেখার সুযোগ উপভোগ করুন।

ভিডিও
লাইভ ক্লাস
এক্সাম
ডাউনলোড করুন
Promotion