সুজন মিয়া ফুলতলা গ্রামের একজন কৃষক। বাড়ি থেকে বাজারে যেতে হলে তাকে দুপুরে প্রচণ্ড রোদে চার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। বিশ্রাম নেওয়ার মতো ছায়া কোথাও নেই। তাই সে কয়েকজন কৃষকের সাথে আলোচনা করে সম্পূর্ণ রাস্তায় কিছু বনজ বৃক্ষের চারা রোপণ করে। তারা উৎপাদিত দ্রব্যগুলো চুক্তি অনুযায়ী বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেয়।
উদ্দীপকের সুজন মিয়ার উদ্যোগটি ছিল তার এলাকায় সামাজিক বনায়ন গড়ে তোলা।
দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সামাজিক বনায়নের অবদান অপরিসীম। সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে জনসাধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণ হয়। পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ, মরুবিস্তার ও ভূমিক্ষয় রোধের মাধ্যমে আমাদের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা হয়।
সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় বাগান তৈরি, পাহারা দেওয়া, রক্ষণাবেক্ষণ, আসবাবপত্র তৈরি, বিক্রয়, নার্সারি স্থাপন ইত্যাদির মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এ বনায়নে গ্রামীণ মহিলাদের অংশগ্রহণকে উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সামাজিক বনায়ন দেশের কাঠ, জ্বালানি, পশু খাদ্য, কুটির শিল্পের কাঁচামাল, ভেষজ দ্রব্য ইত্যাদির সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কৃষিকাজের অনুপযোগী পতিত ও অব্যবহৃত ভূমিতে সামাজিক বনায়ন করা হয় বলে ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হয়। ভূমির উর্বরতা ও উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং ভূমিক্ষয় রোধ হয় বা নিয়ন্ত্রণে থাকে। সামাজিক বন এলাকার পরিবেশকে ঠান্ডা, নির্মল ও দূষণমুক্ত রাখে। এমনকি আশেপাশের অঞ্চলকে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন- খরা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করে। এছাড়া বৃক্ষ মরুময়তা রোধ করে, বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কমায় ও অক্সিজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। বন্য প্রাণী খাদ্যশৃঙ্খল রক্ষা করে। বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ, অণুজীব পারস্পরিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ার মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য গতিময় রাখে। এতে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় থাকে ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ হয়।
উপরোক্ত আলোচনা সাপেক্ষে বলা যায় যে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সুজন মিয়ার গৃহীত উদ্যোগটি যথার্থ।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?