Skill

ওয়ার্ডপ্রেস (Wordpress)

993

ওয়ার্ডপ্রেস হলো একটি ওপেন সোর্স কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (CMS), যা ওয়েবসাইট এবং ব্লগ তৈরি করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি PHP এবং MySQL ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এবং ওয়ার্ল্ডওয়াইড প্রায় ৪০% ওয়েবসাইট এই প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। WordPress ব্যবহারকারীদের কোনো প্রোগ্রামিং দক্ষতা ছাড়াই ওয়েবসাইট বা ব্লগ তৈরি এবং পরিচালনা করতে সাহায্য করে।


WordPress: বিস্তারিত বাংলা টিউটোরিয়াল

ভূমিকা

WordPress হলো বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (CMS), যা দিয়ে সহজেই ওয়েবসাইট তৈরি ও ম্যানেজ করা যায়। এটি ওপেন-সোর্স এবং ফ্রি, অর্থাৎ যে কেউ এটি ব্যবহার করে নিজের প্রয়োজনমতো ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারে। প্রথমত, এটি ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে শুরু হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে এটি ব্যবসায়িক, ই-কমার্স এবং অন্যান্য ধরনের ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

WordPress এর ইতিহাস

  • ২০০৩ সালে Matt Mullenweg এবং Mike Little প্রথমে WordPress তৈরি করেন। এটি মূলত b2/cafelog নামের একটি পুরানো প্রোজেক্টের উপর ভিত্তি করে তৈরি।
  • প্রথম থেকেই WordPress ব্যবহারকারীদের সহজে ব্লগ তৈরি ও প্রকাশ করতে সাহায্য করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এটি আরও শক্তিশালী এবং বৈশিষ্ট্যসমৃদ্ধ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
  • বর্তমানে, ইন্টারনেটে প্রায় ৪০% ওয়েবসাইট WordPress ব্যবহার করে তৈরি।

WordPress এর প্রধান ফিচারস

  1. সহজ ব্যবহারযোগ্যতা: WordPress এর ইন্টারফেস সহজ এবং ব্যবহারকারীবান্ধব।
  2. থিম ও প্লাগইন সাপোর্ট: WordPress এর মাধ্যমে সহজেই থিম পরিবর্তন এবং প্লাগইন যোগ করা যায়।
  3. SEO ফ্রেন্ডলি: WordPress SEO অপ্টিমাইজেশনের জন্য অনেক প্লাগইন এবং ফিচার সাপোর্ট করে।
  4. রেসপন্সিভ ডিজাইন: WordPress দিয়ে তৈরি সাইটগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইল ডিভাইসের সাথে মানিয়ে যায়।
  5. মাল্টিমিডিয়া সাপোর্ট: WordPress সহজেই ইমেজ, ভিডিও, অডিও এবং অন্যান্য মাল্টিমিডিয়া ফাইল সাপোর্ট করে।

WordPress ইনস্টলেশন গাইড

WordPress ইনস্টল করার কয়েকটি পদ্ধতি আছে। নিচে স্থানীয় (Localhost) এবং সার্ভারে WordPress ইনস্টল করার ধাপগুলো উল্লেখ করা হলো।

১. Localhost-এ WordPress ইনস্টলেশন

WordPress আপনি নিজের কম্পিউটারে স্থানীয়ভাবে (localhost) ইনস্টল করতে পারেন। এজন্য আপনাকে XAMPP বা MAMP এর মতো একটি লোকাল সার্ভার ইনস্টল করতে হবে।

ধাপ ১: XAMPP ইনস্টল করা

  1. প্রথমে XAMPP ডাউনলোড এবং ইনস্টল করুন।
  2. XAMPP চালু করুন এবং Apache এবং MySQL সার্ভিসটি চালু করুন।

ধাপ ২: WordPress ডাউনলোড করা

  1. WordPress এর অফিসিয়াল সাইট থেকে WordPress ডাউনলোড করুন।
  2. ডাউনলোড করা জিপ ফাইলটি XAMPP এর htdocs ফোল্ডারে আনজিপ করুন।

ধাপ ৩: ডাটাবেস তৈরি করা

  1. ব্রাউজারে যান এবং http://localhost/phpmyadmin এ প্রবেশ করুন।
  2. একটি নতুন ডাটাবেস তৈরি করুন (উদাহরণস্বরূপ, wordpress নাম দিন)।

ধাপ ৪: WordPress ইনস্টল করা

  1. ব্রাউজারে যান এবং http://localhost/your-folder-name লিখে এন্টার চাপুন।
  2. ইনস্টলেশন উইজার্ড চালু হবে। এখানে ভাষা নির্বাচন, ডাটাবেসের তথ্য (ডাটাবেস নাম, ইউজারনেম root, পাসওয়ার্ড ফাঁকা) দিয়ে ফর্ম পূরণ করুন।
  3. আপনার সাইটের নাম এবং অ্যাডমিন অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ইনস্টলেশন সম্পন্ন করুন।

২. সার্ভারে WordPress ইনস্টলেশন

যদি আপনি লাইভ ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান, তাহলে আপনাকে একটি হোস্টিং সার্ভিস এবং ডোমেইন নাম লাগবে। বেশিরভাগ হোস্টিং সার্ভিস WordPress ইনস্টল করার জন্য সহজ ওয়ান-ক্লিক অপশন দিয়ে থাকে।

ধাপ ১: হোস্টিং এবং ডোমেইন সেটআপ

  1. আপনার পছন্দমতো একটি হোস্টিং সার্ভিস নির্বাচন করুন (যেমন Bluehost, HostGator, SiteGround)।
  2. একটি ডোমেইন নাম এবং হোস্টিং প্ল্যান কিনুন।

ধাপ ২: cPanel থেকে WordPress ইনস্টল করা

  1. হোস্টিং প্রোভাইডার এর cPanel এ লগইন করুন।
  2. Softaculous বা WordPress Installer খুঁজুন এবং তাতে ক্লিক করুন।
  3. আপনার ডোমেইন নির্বাচন করুন এবং ইনস্টলেশন ফর্ম পূরণ করে WordPress ইনস্টলেশন সম্পন্ন করুন।

WordPress এর থিম ও প্লাগইন ব্যবহারের ধাপ

১. থিম ইনস্টল করা

থিম WordPress ওয়েবসাইটের ডিজাইন এবং লেআউট নিয়ন্ত্রণ করে।

  1. WordPress এর ড্যাশবোর্ডে লগইন করুন।
  2. Appearance > Themes এ যান।
  3. Add New তে ক্লিক করুন এবং বিনামূল্যে থিম খুঁজুন অথবা পেইড থিম আপলোড করুন।
  4. পছন্দমত থিম নির্বাচন করে ইনস্টল ও অ্যাক্টিভেট করুন।

২. প্লাগইন ইনস্টল করা

প্লাগইন WordPress এর ফাংশনালিটি বাড়ায়।

  1. WordPress ড্যাশবোর্ড থেকে Plugins > Add New এ যান।
  2. পছন্দমত প্লাগইন সার্চ করে ইনস্টল এবং অ্যাক্টিভেট করুন।
  3. জনপ্রিয় প্লাগইনগুলির মধ্যে রয়েছে Yoast SEO, WooCommerce, Contact Form 7 ইত্যাদি।

WordPress দিয়ে কী কী কাজ করা যায়

  1. ব্লগিং: WordPress মূলত ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে জনপ্রিয়।
  2. ব্যবসায়িক ওয়েবসাইট: ব্যবসা পরিচালনার জন্য WordPress একটি কার্যকরী প্ল্যাটফর্ম।
  3. ই-কমার্স সাইট: WooCommerce প্লাগইন ব্যবহার করে WordPress এর মাধ্যমে ই-কমার্স সাইট তৈরি করা যায়।
  4. পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট: পোর্টফোলিও বা ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য WordPress ব্যবহার করা হয়।

WordPress এর সুবিধা

  1. সহজ ইন্টারফেস: কোনো প্রোগ্রামিং জ্ঞান ছাড়াই WordPress ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়।
  2. SEO ফ্রেন্ডলি: WordPress এর SEO অপ্টিমাইজেশনের জন্য প্রচুর প্লাগইন এবং ফিচার আছে।
  3. রেসপন্সিভ ডিজাইন: WordPress থিমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইল ডিভাইসের জন্য মানানসই হয়।
  4. ব্যাপক কমিউনিটি সাপোর্ট: WordPress এর বিশাল কমিউনিটি রয়েছে, যারা বিভিন্ন টিউটোরিয়াল, ডকুমেন্টেশন এবং সহায়তা প্রদান করে।
  5. উপলভ্য প্লাগইন ও থিম: WordPress এর জন্য হাজারো বিনামূল্যের প্লাগইন এবং থিম পাওয়া যায়।

WordPress এর অসুবিধা

  1. নিরাপত্তা ঝুঁকি: যেহেতু এটি খুবই জনপ্রিয়, তাই WordPress সাইটগুলো হ্যাকিং-এর জন্য টার্গেট হতে পারে।
  2. কাস্টমাইজেশন সীমাবদ্ধতা: কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য বা কাস্টম ডিজাইন তৈরি করতে প্রোগ্রামিং জ্ঞান প্রয়োজন হতে পারে।
  3. গতি কমাতে পারে: অনেক বেশি প্লাগইন বা ভারী থিম ব্যবহার করলে সাইটের লোডিং সময় বাড়তে পারে।

WordPress বনাম অন্যান্য CMS

বিষয়WordPressJoomlaDrupal
সহজ ব্যবহারখুবই সহজমাঝারিজটিল
কাস্টমাইজেশনসীমিতউন্নতঅত্যন্ত উন্নত
SEO সুবিধাশক্তিশালীভালোউন্নত
ব্রাউজার সাপোর্টসকল ব্রাউজারে সমর্থনসকল ব্রাউজারে সমর্থনসকল ব্রাউজারে সমর্থন
কমিউনিটি সাপোর্টবিশালমাঝারিছোট

WordPress শেখার জন্য রিসোর্স

  1. WordPress অফিসিয়াল ডকুমেন্টেশন: https://wordpress.org/support/
  2. YouTube টিউটোরিয়াল: বিভিন্ন YouTube চ্যানেলে WordPress শেখার টিউটোরিয়াল উপলব্ধ।
  3. বই: "WordPress for Beginners" বইটি পড়তে পারেন।

কিওয়ার্ড

  • CMS (Content Management System): কনটেন্ট পরিচালনার সফটওয়্যার।
  • থিম: সাইটের ডিজাইন এবং লেআউট।
  • প্লাগইন: সাইটে অতিরিক্ত ফিচার যোগ করার টুল।
  • ড্যাশবোর্ড: সাইট ম্যানেজমেন্টের জন্য WordPress এর ব্যাকএন্ড।

উপসংহার

WordPress একটি শক্তিশালী, ব্যবহারবান্ধব এবং নমনীয় কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম যা দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি, পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা যায়। এর অসংখ্য ফিচার এবং সুবিধার কারণে এটি ছোট থেকে বড় সব ধরনের প্রোজেক্টের জন্য উপযুক্ত। WordPress শেখা সহজ এবং এর বিপুল কমিউনিটি সাপোর্টের কারণে এটি বর্তমানে ওয়েব ডেভেলপারদের প্রথম পছন্দ।

ওয়ার্ডপ্রেস হলো একটি ওপেন সোর্স কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (CMS), যা ওয়েবসাইট এবং ব্লগ তৈরি করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি PHP এবং MySQL ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এবং ওয়ার্ল্ডওয়াইড প্রায় ৪০% ওয়েবসাইট এই প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। WordPress ব্যবহারকারীদের কোনো প্রোগ্রামিং দক্ষতা ছাড়াই ওয়েবসাইট বা ব্লগ তৈরি এবং পরিচালনা করতে সাহায্য করে।


WordPress: বিস্তারিত বাংলা টিউটোরিয়াল

ভূমিকা

WordPress হলো বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (CMS), যা দিয়ে সহজেই ওয়েবসাইট তৈরি ও ম্যানেজ করা যায়। এটি ওপেন-সোর্স এবং ফ্রি, অর্থাৎ যে কেউ এটি ব্যবহার করে নিজের প্রয়োজনমতো ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারে। প্রথমত, এটি ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে শুরু হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে এটি ব্যবসায়িক, ই-কমার্স এবং অন্যান্য ধরনের ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

WordPress এর ইতিহাস

  • ২০০৩ সালে Matt Mullenweg এবং Mike Little প্রথমে WordPress তৈরি করেন। এটি মূলত b2/cafelog নামের একটি পুরানো প্রোজেক্টের উপর ভিত্তি করে তৈরি।
  • প্রথম থেকেই WordPress ব্যবহারকারীদের সহজে ব্লগ তৈরি ও প্রকাশ করতে সাহায্য করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এটি আরও শক্তিশালী এবং বৈশিষ্ট্যসমৃদ্ধ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
  • বর্তমানে, ইন্টারনেটে প্রায় ৪০% ওয়েবসাইট WordPress ব্যবহার করে তৈরি।

WordPress এর প্রধান ফিচারস

  1. সহজ ব্যবহারযোগ্যতা: WordPress এর ইন্টারফেস সহজ এবং ব্যবহারকারীবান্ধব।
  2. থিম ও প্লাগইন সাপোর্ট: WordPress এর মাধ্যমে সহজেই থিম পরিবর্তন এবং প্লাগইন যোগ করা যায়।
  3. SEO ফ্রেন্ডলি: WordPress SEO অপ্টিমাইজেশনের জন্য অনেক প্লাগইন এবং ফিচার সাপোর্ট করে।
  4. রেসপন্সিভ ডিজাইন: WordPress দিয়ে তৈরি সাইটগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইল ডিভাইসের সাথে মানিয়ে যায়।
  5. মাল্টিমিডিয়া সাপোর্ট: WordPress সহজেই ইমেজ, ভিডিও, অডিও এবং অন্যান্য মাল্টিমিডিয়া ফাইল সাপোর্ট করে।

WordPress ইনস্টলেশন গাইড

WordPress ইনস্টল করার কয়েকটি পদ্ধতি আছে। নিচে স্থানীয় (Localhost) এবং সার্ভারে WordPress ইনস্টল করার ধাপগুলো উল্লেখ করা হলো।

১. Localhost-এ WordPress ইনস্টলেশন

WordPress আপনি নিজের কম্পিউটারে স্থানীয়ভাবে (localhost) ইনস্টল করতে পারেন। এজন্য আপনাকে XAMPP বা MAMP এর মতো একটি লোকাল সার্ভার ইনস্টল করতে হবে।

ধাপ ১: XAMPP ইনস্টল করা

  1. প্রথমে XAMPP ডাউনলোড এবং ইনস্টল করুন।
  2. XAMPP চালু করুন এবং Apache এবং MySQL সার্ভিসটি চালু করুন।

ধাপ ২: WordPress ডাউনলোড করা

  1. WordPress এর অফিসিয়াল সাইট থেকে WordPress ডাউনলোড করুন।
  2. ডাউনলোড করা জিপ ফাইলটি XAMPP এর htdocs ফোল্ডারে আনজিপ করুন।

ধাপ ৩: ডাটাবেস তৈরি করা

  1. ব্রাউজারে যান এবং http://localhost/phpmyadmin এ প্রবেশ করুন।
  2. একটি নতুন ডাটাবেস তৈরি করুন (উদাহরণস্বরূপ, wordpress নাম দিন)।

ধাপ ৪: WordPress ইনস্টল করা

  1. ব্রাউজারে যান এবং http://localhost/your-folder-name লিখে এন্টার চাপুন।
  2. ইনস্টলেশন উইজার্ড চালু হবে। এখানে ভাষা নির্বাচন, ডাটাবেসের তথ্য (ডাটাবেস নাম, ইউজারনেম root, পাসওয়ার্ড ফাঁকা) দিয়ে ফর্ম পূরণ করুন।
  3. আপনার সাইটের নাম এবং অ্যাডমিন অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ইনস্টলেশন সম্পন্ন করুন।

২. সার্ভারে WordPress ইনস্টলেশন

যদি আপনি লাইভ ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান, তাহলে আপনাকে একটি হোস্টিং সার্ভিস এবং ডোমেইন নাম লাগবে। বেশিরভাগ হোস্টিং সার্ভিস WordPress ইনস্টল করার জন্য সহজ ওয়ান-ক্লিক অপশন দিয়ে থাকে।

ধাপ ১: হোস্টিং এবং ডোমেইন সেটআপ

  1. আপনার পছন্দমতো একটি হোস্টিং সার্ভিস নির্বাচন করুন (যেমন Bluehost, HostGator, SiteGround)।
  2. একটি ডোমেইন নাম এবং হোস্টিং প্ল্যান কিনুন।

ধাপ ২: cPanel থেকে WordPress ইনস্টল করা

  1. হোস্টিং প্রোভাইডার এর cPanel এ লগইন করুন।
  2. Softaculous বা WordPress Installer খুঁজুন এবং তাতে ক্লিক করুন।
  3. আপনার ডোমেইন নির্বাচন করুন এবং ইনস্টলেশন ফর্ম পূরণ করে WordPress ইনস্টলেশন সম্পন্ন করুন।

WordPress এর থিম ও প্লাগইন ব্যবহারের ধাপ

১. থিম ইনস্টল করা

থিম WordPress ওয়েবসাইটের ডিজাইন এবং লেআউট নিয়ন্ত্রণ করে।

  1. WordPress এর ড্যাশবোর্ডে লগইন করুন।
  2. Appearance > Themes এ যান।
  3. Add New তে ক্লিক করুন এবং বিনামূল্যে থিম খুঁজুন অথবা পেইড থিম আপলোড করুন।
  4. পছন্দমত থিম নির্বাচন করে ইনস্টল ও অ্যাক্টিভেট করুন।

২. প্লাগইন ইনস্টল করা

প্লাগইন WordPress এর ফাংশনালিটি বাড়ায়।

  1. WordPress ড্যাশবোর্ড থেকে Plugins > Add New এ যান।
  2. পছন্দমত প্লাগইন সার্চ করে ইনস্টল এবং অ্যাক্টিভেট করুন।
  3. জনপ্রিয় প্লাগইনগুলির মধ্যে রয়েছে Yoast SEO, WooCommerce, Contact Form 7 ইত্যাদি।

WordPress দিয়ে কী কী কাজ করা যায়

  1. ব্লগিং: WordPress মূলত ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে জনপ্রিয়।
  2. ব্যবসায়িক ওয়েবসাইট: ব্যবসা পরিচালনার জন্য WordPress একটি কার্যকরী প্ল্যাটফর্ম।
  3. ই-কমার্স সাইট: WooCommerce প্লাগইন ব্যবহার করে WordPress এর মাধ্যমে ই-কমার্স সাইট তৈরি করা যায়।
  4. পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট: পোর্টফোলিও বা ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য WordPress ব্যবহার করা হয়।

WordPress এর সুবিধা

  1. সহজ ইন্টারফেস: কোনো প্রোগ্রামিং জ্ঞান ছাড়াই WordPress ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়।
  2. SEO ফ্রেন্ডলি: WordPress এর SEO অপ্টিমাইজেশনের জন্য প্রচুর প্লাগইন এবং ফিচার আছে।
  3. রেসপন্সিভ ডিজাইন: WordPress থিমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইল ডিভাইসের জন্য মানানসই হয়।
  4. ব্যাপক কমিউনিটি সাপোর্ট: WordPress এর বিশাল কমিউনিটি রয়েছে, যারা বিভিন্ন টিউটোরিয়াল, ডকুমেন্টেশন এবং সহায়তা প্রদান করে।
  5. উপলভ্য প্লাগইন ও থিম: WordPress এর জন্য হাজারো বিনামূল্যের প্লাগইন এবং থিম পাওয়া যায়।

WordPress এর অসুবিধা

  1. নিরাপত্তা ঝুঁকি: যেহেতু এটি খুবই জনপ্রিয়, তাই WordPress সাইটগুলো হ্যাকিং-এর জন্য টার্গেট হতে পারে।
  2. কাস্টমাইজেশন সীমাবদ্ধতা: কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য বা কাস্টম ডিজাইন তৈরি করতে প্রোগ্রামিং জ্ঞান প্রয়োজন হতে পারে।
  3. গতি কমাতে পারে: অনেক বেশি প্লাগইন বা ভারী থিম ব্যবহার করলে সাইটের লোডিং সময় বাড়তে পারে।

WordPress বনাম অন্যান্য CMS

বিষয়WordPressJoomlaDrupal
সহজ ব্যবহারখুবই সহজমাঝারিজটিল
কাস্টমাইজেশনসীমিতউন্নতঅত্যন্ত উন্নত
SEO সুবিধাশক্তিশালীভালোউন্নত
ব্রাউজার সাপোর্টসকল ব্রাউজারে সমর্থনসকল ব্রাউজারে সমর্থনসকল ব্রাউজারে সমর্থন
কমিউনিটি সাপোর্টবিশালমাঝারিছোট

WordPress শেখার জন্য রিসোর্স

  1. WordPress অফিসিয়াল ডকুমেন্টেশন: https://wordpress.org/support/
  2. YouTube টিউটোরিয়াল: বিভিন্ন YouTube চ্যানেলে WordPress শেখার টিউটোরিয়াল উপলব্ধ।
  3. বই: "WordPress for Beginners" বইটি পড়তে পারেন।

কিওয়ার্ড

  • CMS (Content Management System): কনটেন্ট পরিচালনার সফটওয়্যার।
  • থিম: সাইটের ডিজাইন এবং লেআউট।
  • প্লাগইন: সাইটে অতিরিক্ত ফিচার যোগ করার টুল।
  • ড্যাশবোর্ড: সাইট ম্যানেজমেন্টের জন্য WordPress এর ব্যাকএন্ড।

উপসংহার

WordPress একটি শক্তিশালী, ব্যবহারবান্ধব এবং নমনীয় কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম যা দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি, পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা যায়। এর অসংখ্য ফিচার এবং সুবিধার কারণে এটি ছোট থেকে বড় সব ধরনের প্রোজেক্টের জন্য উপযুক্ত। WordPress শেখা সহজ এবং এর বিপুল কমিউনিটি সাপোর্টের কারণে এটি বর্তমানে ওয়েব ডেভেলপারদের প্রথম পছন্দ।

Promotion

Are you sure to start over?

Loading...