অপারেটিং সিস্টেমের প্রকারভেদ: ব্যাচ প্রসেসিং, মাল্টিপ্রোগ্রামিং, টাইম শেয়ারিং, রিয়েল টাইম

অপারেটিং সিস্টেমের ভূমিকা (Introduction to Operating System) - অপারেটিং সিস্টেম (Operating System) - Computer Science

873

অপারেটিং সিস্টেম বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, এবং এগুলির বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহারের পদ্ধতি ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। প্রধান কয়েকটি প্রকারভেদ হলো ব্যাচ প্রসেসিং, মাল্টিপ্রোগ্রামিং, টাইম শেয়ারিং, এবং রিয়েল টাইম অপারেটিং সিস্টেম। নিচে এই প্রকারভেদগুলো ব্যাখ্যা করা হলো:

১. ব্যাচ প্রসেসিং অপারেটিং সিস্টেম

  • সংজ্ঞা: ব্যাচ প্রসেসিং অপারেটিং সিস্টেমে বিভিন্ন কাজ (jobs) একত্রে সংগ্রহ করে একটি ব্যাচ হিসেবে প্রসেস করা হয়। ব্যবহারকারীরা তাদের কাজ প্রস্তুত করে সিস্টেমে জমা দেয়, এবং অপারেটিং সিস্টেম সেগুলি একত্রে লাইন অনুযায়ী প্রসেস করে।
  • উদাহরণ: পুরনো মেইনফ্রেম কম্পিউটারগুলোতে যেমন IBM-এর সিস্টেমে ব্যাচ প্রসেসিং ব্যবহৃত হত।
  • বৈশিষ্ট্য:
    • কাজগুলো সিরিয়ালভাবে সম্পন্ন হয়।
    • ব্যবহারকারীর সাথে সরাসরি যোগাযোগের প্রয়োজন নেই।
    • সময় সাশ্রয়ী, তবে একক কাজ ধীরগতিতে হতে পারে।

২. মাল্টিপ্রোগ্রামিং অপারেটিং সিস্টেম

  • সংজ্ঞা: মাল্টিপ্রোগ্রামিং অপারেটিং সিস্টেম একই সময়ে একাধিক প্রোগ্রাম এক্সিকিউট করতে পারে। এই সিস্টেমটি CPU-এর ব্যবহার সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যায়, যাতে একটি প্রোগ্রাম অপেক্ষায় থাকাকালীন অন্য প্রোগ্রাম প্রসেস হতে পারে।
  • উদাহরণ: Unix-এর প্রাথমিক সংস্করণ।
  • বৈশিষ্ট্য:
    • CPU-এর কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে উচ্চ দক্ষতা।
    • একাধিক কাজ সমান্তরালে চালানো হয়।
    • কম সময়ের মধ্যে বেশি কাজ সম্পন্ন করা যায়।

৩. টাইম শেয়ারিং অপারেটিং সিস্টেম

  • সংজ্ঞা: টাইম শেয়ারিং অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারীদেরকে সিস্টেমের সম্পদ একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভাগ করে দেয়। এতে একাধিক ব্যবহারকারী একসঙ্গে সিস্টেম ব্যবহার করতে পারে, যেখানে CPU সময় ভাগ করে বিভিন্ন কাজ প্রসেস করে।
  • উদাহরণ: Multics, আধুনিক Unix এবং Linux সিস্টেম।
  • বৈশিষ্ট্য:
    • রেসপন্স টাইম দ্রুত।
    • ব্যবহারকারীদের মধ্যে সময়ের ভাগ করার মাধ্যমে একযোগে কাজ।
    • সিস্টেমের সহজলভ্যতা বৃদ্ধি পায়।

৪. রিয়েল টাইম অপারেটিং সিস্টেম

  • সংজ্ঞা: রিয়েল টাইম অপারেটিং সিস্টেম নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রসেস সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়, যা গুরুত্বপূর্ণ বা সময়সংবেদনশীল কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিক্রিয়া জানায়।
  • উদাহরণ: Air Traffic Control সিস্টেম, রোবোটিক্স নিয়ন্ত্রণ সিস্টেম।
  • বৈশিষ্ট্য:
    • নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিক্রিয়া জানানো আবশ্যক।
    • দুটি প্রকারে বিভক্ত: Hard Real-Time (যেখানে সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে হবে) এবং Soft Real-Time (যেখানে সময় কিছুটা শিথিল হতে পারে)।
    • নির্ভরযোগ্যতা এবং পূর্বানুমেয়তা বেশি।
Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...