পূর্বের ও পরের ধ্বনির প্রভাবে ধ্বনির যে-পরিবর্তন তা-ই ধ্বনি-পরিবর্তন। যেমন- এক (অ্যা) + টি = একটি- একটি শব্দের পূর্বের ধ্বনিটি হলো অ্যা আর পরের ধ্বনিটি ই। স্বরধ্বনি দুটি উচ্চারণের দিক থেকে এক শ্রেণির নয়। অ্যা হলো নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি আর ই হলো উচ্চ-স্বরধ্বনি। এখানে সেভাবেই অ্যা + ই = অ্যা>এ হয়েছে। সন্ধিতে এভাবেই ধ্বনি পরিবর্তিত হয়। সন্ধি শব্দের অর্থই হলো মিলন। অর্থাৎ দুটি ধ্বনি মিলে একটি ধ্বনি হয়। যেমন- মহা আকাশ মহাকাশ; দিক অন্ত দিগন্ত। প্রথম উদাহরণে আ + আ = আ এবং দ্বিতীয় উদাহরণে ক + অ = ক>গ হয়েছে।
সন্ধির ফলে ধ্বনি কীভাবে পরিবর্তিত হয় তা ধ্বনিতাত্ত্বিক প্রতিবেশ লক্ষ করলে বোঝা যায়। এখানে দুটি প্রতিবেশের সঙ্গে আমরা পরিচিত হই- (ক) একই শব্দের মধ্যে পরিবর্তন বা মিলন এবং (খ) দুটি শব্দের মধ্যে পরিবর্তন বা মিলন। উপরের দৃষ্টান্তের 'একটি' শব্দের ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণির পরিবর্তন ঘটেছে। 'বিদ্যালয়' শব্দে আমরা দ্বিতীয় শ্রেণির পরিবর্তন বা মিলন দেখি- বিদ্যা আলয় (আ+আ=আ)। সন্ধিকে ধ্বনির পরিচয় অনুযায়ী ভাগ করতে গিয়ে তার দুটি বিভাগ নির্দেশ করা হয়- স্বরসন্ধি ও ব্যঞ্জনসন্ধি। নিচে এ-বিষয়ে আলোচনা করা হলো।
স্বরসন্ধি: ধ্বনির পরিবর্তন বা মিলন যখন স্বরধ্বনির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে তখন তাকে বলে স্বরসন্ধি। যেমন- হিত + অহিত = হিতাহিত (অ+ অ = আ)
ব্যঞ্জনসন্ধি: স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি, ব্যঞ্জনধ্বনি ও স্বরধ্বনি বা ব্যঞ্জনধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি মিলে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে। যেমন- মুখ+ছবি = মুখচ্ছবি (অ+ছ=চ্ছ); উৎ+চারণ উচ্চারণ = (ত্+চ=চ্চ)।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বাংলা ভাষায় আগত সংস্কৃত শব্দগুলোর সন্ধির নিয়ম ঐ ভাষার ব্যাকরণ দ্বারা নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। এগুলো আমাদের সেভাবেই শিখতে ও ব্যবহার করতে হবে। উদাহরণে এগুলো সেভাবেই দেখানো হলো:
১. অ-ধ্বনির পরে অ থাকলে উভয়ে মিলে আ হয়। যেমন- অ+অ=আ : নব+অন্ন নবান্ন; সূর্য+অস্ত=সূর্যাস্ত।
২. অ-এর পরে আ থাকলে উভয়ে মিলে আ হয়। যেমন- অ+আ=আ : হিম+আলয় হিমালয়; গ্রন্থ+আগার= গ্রন্থাগার।
৩. আ-এর পরে অ থাকলে উভয়ে মিলে আ হয়। যেমন- আ+অ=আ : তথা+অপি=তথাপি; মহা+অর্ঘ =মহার্ঘ।
৪. আ-এর পরে আ থাকলে উভয়ে মিলে আ হয়। যেমন- আ+আ=আ : মহা+আশয় = মহাশয়; কারা+আগার = কারাগার।
৫. ই+ই = ঈ। যেমন- অতি+ইত = অতীত; রবি+ইন্দ্র = রবীন্দ্র।
৬. ই-ধ্বনির পরে ঈ থাকলে উভয়ে মিলে ঈ-ধ্বনি হয়। যেমন- ই+ঈ=ঈ : পরি+ঈক্ষা = পরীক্ষা; প্রতি+ঈক্ষা=প্রতীক্ষা।
৭. ঈ-ধ্বনির পরে ই থাকলে উভয়ে মিলে ঈ-ধ্বনি হয়। যেমন- ঈ-ই=ঈ সুধী+ইন্দ্র=সুধীন্দ্র; শচী+ইন্দ্র=শচীন্দ্র।
৮. ঈ ধ্বনির পর ঈ থাকলে উভয়ে মিলে ঈ-ধ্বনি হয়। যেমন- ঈ+ঈ=ঈ সতী+ঈশ=সতীশ; শ্রী+ঈশ=শ্রীশ।
৯. অবা আধ্বনির পরে ই বা ঈ-ধ্বনি থাকলে উভয়ে মিলে এ-ধ্বনি হয়। যেমন- অ+ই=এ স্ব+ইচ্ছা=স্বেচ্ছা; শুভ+ইচ্ছা শুভেচ্ছা।
১০. অ+ঈ=এ। যেমন- অপ+ঈক্ষা =অপেক্ষা; নর+ঈশ =নরেশ।
১১.আ+ই=এ। যেমন- যথা+ইচ্ছা =যথেচ্ছা।
১২. আ+ঈ=এ। যেমন- মহা+ঈশ =মহেশ, ঢাকা+ঈশ্বরী=ঢাকেশ্বরী।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
সন্ধির মাধ্যমে উচ্চারণে স্বাচ্ছন্দ্য আসে এবং শ্রুতিমাধুর্য বাড়ে। সন্ধি ভাষাকে সংক্ষিপ্ত করে।