উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও

উদ্দীপকের ভূমিরূপটির নাম কী?

Updated: 5 months ago
  • ক
    অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ
  • খ
    বর্তুলাকার গর্ত
  • গ
    ইউ আকৃতি উপত্যকা
  • ঘ
    ভি আকৃতি উপত্যকা
23
ব্যাখ্যাঃ

উদ্দীপকের চিত্রটি একটি বিশেষ ধরনের উপত্যকার প্রস্থচ্ছেদ (cross-section) নির্দেশ করে, যা দেখতে ইংরেজি 'U' অক্ষরের মতো। এই ধরনের ভূমিরূপকে ইউ আকৃতি উপত্যকা বলা হয়।

ইউ আকৃতি উপত্যকা (U-shaped Valley):

        
  • এটি প্রধানত হিমবাহের ক্ষয়কার্যের (glacial erosion) ফলে গঠিত হয়।
  •     
  • যখন কোনো হিমবাহ পর্বতের ঢাল বেয়ে নেমে আসে, তখন তার প্রবল চাপ এবং ঘর্ষণের কারণে এটি উপত্যকার পার্শ্বদেশ ও তলদেশ উভয়কেই সমানভাবে ক্ষয় করে।
  •     
  • ফলাফলস্বরূপ, উপত্যকাটি প্রশস্ত এবং গভীর হয়ে একটি সুস্পষ্ট 'U' আকৃতি ধারণ করে, যার বৈশিষ্ট্য হলো খাড়া পার্শ্বদেশ এবং চওড়া ও সমতল তলদেশ।

অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল হওয়ার কারণ:

        
  • অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ (Oxbow Lake): এটি নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট একটি বাঁকানো হ্রদ, যা সাধারণত সমভূমি অঞ্চলে দেখা যায়। উদ্দীপকের চিত্রটি কোনো হ্রদ বা জলাশয় নয়।
  •     
  • বর্তুলাকার গর্ত (Circular Pit): এটি গোলাকার বা প্রায় গোলাকার কোনো খাদ বা গর্ত, যা উল্কাপাত, বিস্ফোরণ বা অন্যান্য প্রাকৃতিক কারণে সৃষ্টি হতে পারে। উদ্দীপকের চিত্রটি একটি সুনির্দিষ্ট আকৃতির উপত্যকা, গোলাকার গর্ত নয়।
  •     
  • ভি আকৃতি উপত্যকা (V-shaped Valley): এটি সাধারণত নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত হয়, যেখানে নদী তার তলদেশের উপর বেশি ক্ষয় করে এবং পার্শ্বদেশ তুলনামূলকভাবে কম ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, ফলে উপত্যকাটি ইংরেজি 'V' অক্ষরের মতো দেখায়। উদ্দীপকের চিত্রটি V আকৃতির নয়, বরং সুস্পষ্ট U আকৃতির।

অতএব, উদ্দীপকের ভূমিরূপটি হলো ইউ আকৃতি উপত্যকা।

Satt AI
Satt AI
3 months ago

(Erosional Landforms of River)

নদীর গতিবেগের দ্বারা যে ক্ষয় সাধন হয় এবং এর ফলে যে ভূমিরূপের সৃষ্টি হয় তাকে নদীর ক্ষয়জাত ভূমিরূপ বলে।
নদীর এ ক্ষয়কাজ প্রধানত প্রাথমিক গতিতে অধিক, মধ্যগতিতে মধ্যম এবং নিম্নগতিতে নেই বললেই চলে।
নিচে নদীর প্রতিটি গতিতে যে ক্ষয়জাত ভূমিরূপের সৃষ্টি হয় তার বিবরণ দেওয়া হলো-

ক. প্রাথমিক গতিতে ক্ষয়জাত ভূমিরূপ:

১. 'V' আকৃতির উপত্যকা: প্রাথমিক গতিতে নদীর পার্শ্বক্ষয় অপেক্ষা নিম্নক্ষয় অধিক হয়। এজন্য নদীখাত অধিক গভীর হয়ে ইংরেজি 'V' অক্ষরের রূপ ধারণ করে। এজন্য নদীর এরূপ উপত্যকাকে 'V' আকৃতির উপত্যকা বলে। যেমন: পার্বত্য চট্টগ্রামের কর্ণফুলি নদীর উপত্যকা।

২. স্পার: উৎস থেকে নিম্নঢালে যাওয়ার সময় নদী এক পাড় (তীর) থেকে অন্য পাড়ে আঘাত করে অগ্রসর হয়। অবশ্য এ অবস্থায় তলদেশেরও ক্ষয় চলতে থাকে। নদীর এ ধরনের গতিধারার ফলে পর্বতগাত্রসমূহ ক্ষয় হয়ে এমনভাবে অবস্থান করে যেন দুটি করাতের দাঁতসমূহ মুখোমুখি পরস্পরের সাথে লেগে আছে। পাহাড়ের পার্শ্বদেশগুলো এভাবে পরস্পরের দিকে ঝুঁকে থাকা ভূমিরূপকে স্পার বলে। যেমন: হিমালয় পর্বতের জেনেভা স্পার (Geneva spur)।

৩. গিরিখাত: নদীর প্রবল স্রোতধারা খাড়া পর্বতগাত্র বেয়ে নিচের দিকে প্রবাহিত হলে নদীখাত ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং ক্ষয়িত পদার্থ স্রোতের সাথে বহুদূর চলে যায়। এমতাবস্থায় বড় বড় পাথরসমূহ একটি নির্দিষ্ট জায়গায় পতিত হলে গভীর ও সংকীর্ণ নদীখাতের সৃষ্টি হয়। এরূপে সৃষ্ট খাতকে গিরিখাত বলে। সিন্ধু নদে অনেক গিরিখাত আছে।

৪. ক্যানিয়ন: গিরিখাতগুলো অধিক গভীর ও খাড়া ঢালবিশিষ্ট হলে এদেরকে ক্যানিয়ন বলে। উত্তর আমেরিকার কলোরাডো নদীর গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন পৃথিবী বিখ্যাত।

৫. জলপ্রপাত: পার্বত্য অবস্থায় নদীস্রোত কোনো কঠিন শিলাস্তর থেকে কোমল শিলাস্তরে উপনীত হলে কোমল স্তরটি অধিক ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। ফলে কঠিন শিলাস্তরটি কোমল শিলাস্তর অপেক্ষা অধিক উচ্চে অবস্থান করে এবং জলধারা খাড়াভাবে নিচের দিকে পতিত হয়। জলের এরূপ পতনকে জলপ্রপাত বলে। বাংলাদেশের মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত এর উদাহরণ।

৬. খরস্রোত: পাহাড়ের ঢালু জায়গায় মাটি পর্যায়ক্রমে কঠিন ও কোমল থাকতে পারে। এমতাবস্থায় নদীস্রোত কোমল শিলাকে আস্তে আস্তে ক্ষয় করে কিন্তু কঠিন শিলা পূর্বাবস্থায় থেকে যায়। এতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলপ্রপাতের সৃষ্টি হয়। এসব জলপ্রপাত সারিবদ্ধভাবে উপর থেকে নিচের দিকে অবস্থান করে বলে এখানে নদীর স্রোত লাফাতে লাফাতে নিচের দিকে পড়ে। এরূপ প্রবাহমান সারিবদ্ধ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলপ্রপাতকে খরস্রোত বলে। যেমন: জর্জিয়ার ইনগুড়ি (Inguri) নদীতে এরূপ খরস্রোত দেখা যায়।

৭. কাসকেড : নদীপ্রবাহ সুষম ঢালপথে নিচের দিকে প্রবাহিত হলে তাকে কাসকেড বলে। মিশরের নীলনদে এ ধরনের কাসকেড রয়েছে।

৮. সুড়ঙ্গপথ বা প্রাকৃতিক সেতু: অনেক সময় নদীপথ নিচের চুন জাতীয় মৃত্তিকা ক্ষয় করলে উপরের কঠিন শিলা পূর্বাবস্থায়ই থেকে যায়। এতে কঠিন শিলাটি সেতুর ন্যায় অবস্থান করে, যা প্রাকৃতিক সেতু নামে পরিচিত। যেমন- যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ (Utah) রাজ্যের কলোরাডো নদীর প্রাকৃতিক সেতু।

৯. বর্তুলাকার গর্ত: বর্ষাকালে নদীর গতিবেগ দ্রুত বৃদ্ধি পেলে নদীর পানি অনেক সময় ক্ষুদ্র পরিসরে গোলাকার ঘূর্ণিপ্রবাহ সৃষ্টি করে। এ ঘূর্ণন অনেক সময় নদীগর্ভে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি করে যা বর্তুলাকার গর্ত নামে আখ্যায়িত। বাংলাদেশে প্রবল বর্ষার সময় পানি প্রবাহ বেশি থাকায় পদ্মা ও মেঘনার মিলিত স্থানে এ ধরনের ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়।

খ. মধ্যগতিতে ক্ষয়জাত ভূমিরূপ:
১. সর্পিল বাঁক: মধ্যগতিতে নদী অববাহিকায় শিলা নরম থাকায় পানির স্রোতের আঘাতে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এমতাবস্থায় নদী এঁকেবেঁকে অগ্রসর হয়। নদীর গতিপথে এ ধরনের ভূমিরূপকে সর্পিল বাঁক বলা হয়। বাংলাদেশে বহু সর্পিল বাঁক বিশিষ্ট নদী রয়েছে। যেমন: সুরমা নদী।

২. নদীছেদন: নদী আঁকাবাঁকা অবস্থায় চলতে থাকলে এবং বাঁকের বৃদ্ধি ঘটলে নদী আঁকাবাঁকা পথ ছেড়ে কোনো এক সময় হঠাৎ সোজা পথ বেছে নেয়। এ সোজা পথকেই নদীছেদন বলে। যেমন: পদ্মার শাখা মধুমতি নদী।

৩. নদীমঞ্চ: মধ্যগতিতে নদীর পানি অসমানভাবে হ্রাস বৃদ্ধির ফলে নদী অসমানভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং সিঁড়ির ন্যায় ভূপ্রকৃতির সৃষ্টি করে। এরূপ ভূপ্রকৃতিকে নদীমঞ্চ বলে। যেমন: মেঘনা নদীর নিম্ন অববাহিকা।

গ. নিম্নগতিতে ক্ষয়জাত ভূমিরূপ: নদীর নিম্নগতিতে ক্ষয়জাত ভূমিরূপ হয় না বললেই চলে। তবে বদ্বীপ অঞ্চলের চরসমূহ বন্যা, জোয়ার, নদীর গতি পরিবর্তন বা অন্য কোনো নৈসর্গিক কারণে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নতুন ভূমিরূপের সৃষ্টি করতে পারে।
নদীর ক্ষয়কার্য একটি চলমান প্রক্রিয়া। বস্তুত ভূত্বকের পরিবর্তনকারী শক্তিসমূহের মধ্যে নদীর দ্বারাই ভূত্বকের সর্বাধিক পরিবর্তন সাধিত হয়ে থাকে।

ভূমিরূপ পরিবর্তন. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এর লেখা বই

Related Question

View All
Updated: 9 months ago
  • ক
    স্পার, গিরিখাত
  • খ
    জলপ্রপাত, নদীমঞ্চ
  • গ
    কাসকেড, পশ্চাৎাল
  • ঘ
    ক্যানিয়ন, পললকোণ
1.4k
Updated: 1 year ago
  • ক
    কাসকেড
  • খ
    খরস্রোত
  • গ
    নদীমঞ্চ
  • ঘ
    জলপ্রপাত
1.1k
  • ক
    কাসকেড
    0%
    0 votes
  • খ
    খরস্রোত
    0%
    0 votes
  • গ
    জলপ্রপাত
    0%
    0 votes
  • ঘ
    গিরিখাত
    0%
    0 votes
329
  • ক
    ব-দ্বীপ অবস্থায়
    0%
    0 votes
  • খ
    সমভূমি অবস্থায়
    0%
    0 votes
  • গ
    পার্বত্য অবস্থায়
    0%
    0 votes
  • ঘ
    মালভূমি অবস্থায়
    0%
    0 votes
1.3k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই