‘একাত্তরের ডায়েরী’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
-
ক
জাহানারা ইমাম
-
খ
সৈয়দ শামসুল হক
-
গ
শেখ মুজিবুর রহমান
-
ঘ
সুফিয়া কামাল
একাত্তরের ডায়েরী সুফিয়া কামাল এর লেখা
‘একাত্তরের ডায়েরী’ ফ্ল্যাপে লেখা কিছু কথা
১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদের মাতামহের বাড়িতে সুফিয়া কামালের জন্ম। মা সাবেরা বানু এবং বাবা সৈয়দ আব্দুল বারি। পারিবারিক পরিমণ্ডলে সাহিত্য - পত্রিকা ও গল্প পড়তে - পড়তেই সাহিত্যচর্চার অনুপ্রাণিত হন।মাত্র ১৪ বছর বয়সে বরিশাল থেকে ‘তরুণ’ পত্রিকায় ‘সৈনিক বধূ’ গল্পটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত রচনা। লেখালেখির কাজ সুফিয়াকে লুকিয়ে করতে হয়েছে - বিশেষ করে বাংলা ভাষার চর্চা ছিলো না। সীমাবদ্ধ ছিল আরবি, ফারসি, উর্দুতে। মায়ের ঐকান্তিক সহযোগিতায় সুফিয়া বাংলা বলতে, পড়তে ও লিখতে শেখেন। লুকিয়ে লুকিয়ে কবিতা রচনা করতে - করতেই সওগাতে প্রকাশিত হল তার প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ যা সাথে - সাথেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। প্রথম গ্রন্থ রচয়িতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ‘সাঁঝের মায়া’ কাব্যসমগ্র প্রকাশের মাঝে। কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে দীর্ঘ চিঠি লিখে কাব্যচর্চায় উৎসাহিত করেন। প্রকৃতপক্ষে ‘সাঁঝের মায়া’ গ্রন্থের ভূমিকাটি তাঁরই লেখা।বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ তাঁর কবিতা পড়ে তাঁকে আর্শীবাণী পাঠিয়েছিলেন এই বলে, ‘তোমার কবিত্ব আমাকে বিস্মিত করে। বাংলা সাহিত্যে তোমার স্থান উচ্চে এবং ধ্রুত তোমার প্রতিষ্ঠা আমার আশির্বাদ গ্রহণ করো।’ (সেলিম জাহাঙ্গীর, সুফিয়া কামাল, নারী উদ্যোগ কেন্দ্র, ঢাকা ১৯৯৩ পৃ - ৬৪) সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরুদ্দীন তাঁর সাহিত্য - জীবনে উৎসাহের বিরাট উৎস হিসেবে কাজ করেছেন।
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা
একাত্তরের ডায়েরী প্রথম সংস্করণ খুব দ্রুত শেষ হয়ে গেলে আবারও তা প্রকাশের জন্য প্রচুর তাগাদা আসে। শেষ পর্যন্ত জাগৃতি প্রকাশনীই স্বেচ্ছায় প্রকাশের দায়িত্ব নিল দ্বিতীয় সংস্করণের। আমার একমাত্র প্রত্যাশা আজকের প্রজন্ম জানুক সেদিনগুলো কেমন সংগ্রামমুখর ছিল। সবাইকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ
সুফিয়া কামাল
৩১.১.৯৫
ভূমিকা
কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন মনন ও সৃজনশীলতায় অগ্রগামী নারী। যে সময়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন, নিজের সহজাত জ্ঞান ও মেধা দিয়ে সেই সময়কে অতিক্রম করেছিলেন এগিয়ে থাকা মানুষের শাণিত বোধে। যে বয়সে মানুষের বিবেচনা ও অভিজ্ঞতার সঞ্চয় হয় সে বয়সে তাঁর সময়কে তিনি উৎসর্গ করেছিলেন মানব কল্যাণের প্রয়োজনে। তাঁর রচিত ‘একাত্তরের ডায়েরী’ গ্রন্থ এই বিবেচনার সবটুকু প্রেরণা থেকে রচিত। ডায়েরির শুরু হয়ে ডিসেম্বর ৩০, ১৯৭০ তারিখে। শেষ হয়েছে ডিসেম্বর ৩১, শুক্রবার। পুরো এক বছর সময়। তবে প্রতিদিনের প্রতিদিনের দিনলিপি নয়।মাঝে মাঝে কিন্তু কিছু তারিখ বাদ দিয়ে লিখেছেন।
১০৭০ সালের ১২ নভেম্বর ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়েছিল বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল। দুর্যোগে বিপর্যন্ত মানুষের হাতে রিলিফ সামগ্রী তুলে দিতে তিনি গিয়েছিলেন। পটুয়াখালির ধানখালি চর এলাকায়। রিলিফ দিয়ে ঢাকার ফিরলেন ৮ জানুয়ারি।
সত্তরের জলোচ্ছ্বোসের পরে ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল পাকিস্তানের সাধারন নির্বাচন। এই নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করেছিল আওয়ামী লীগ।পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান বাঙালি নেতার হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি শুরু করলেন। শেষ পর্যন্ত ১ মার্চ ১৯৭১ সালে গণপরিষদের অধিবেশন ডাকা হয়েছিল। ১মার্চ, সোববার রাত দশটায় কবি লিখছেন, ‘বিক্ষুদ্ধ বাংলা।’ ভুট্ট্যো সাহেব পরিষদে যোগ দিবেন না সিন্ধান্তে পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি রইল। ১২টায় এ খবর প্রচারিত হওয়ায়, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেল। এভাবে বিভিন্ন তারিখে তিনি দেশের পরিস্থিতির কথা নানাভাবে বর্ণনা করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসের দলিল হিসেবে এই ডায়েরির তথ গবেষণার উপাদান হিসেবে কাজ করবে।ডায়েরির একটি বিশেষ দিক এই যে কোনো কোনো তারিখে তিনি শুধু একটি কবিতা লিখেছেন। একজন কবি এভাবেই নিজের প্রকাশ ঘটান। এপ্রিল ১, বৃহস্পতিবার। রাত আটটায় তিনি লেখাটি শেষ করেছেন এভাবে : ‘কারফিউ চলছে। প্লেনের আসা - যাওয়ার বিরাম নেই। কাল থেকে নাকি ব্যাঙ্ক সব খোলা হবে। আট আনায় তিনটি পান কিনলাম। বাংলার ইতিহাস কে রচনা করবে?’ শেষের বাক্যটি অন্য বাক্যগুলোর চেয়ে ভিন্ন। কিন্তু কোনোবাবেই এটি কোনো আকস্মিক বাক্য নয়।কারণ ২৫ শের রাতে গণহত্যার পরে শুরু হয়ে গেছে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত হবে বাঙালির নতুন ইতিহাস। তিনি আহবান করছেন ইতিহাস রচয়িতাকে।এখানেই চিহ্নিত হয় তাঁর আগ্রগামী চিন্তার স্বরূপ। ডিসেম্বর ১৬, বৃহস্পতিবার লিখছেন, ‘আজ ১২ টায় বাংলাদেশ যুদ্ধ বিরতির পর মুক্তিফৌজ ঢাকার পথে পথে এসে আবার সোচ্চার হল ‘জয় বাংলা’ উচ্চারণে। আল্লাহর কাছে শোকর।’
ডিসেম্বর ২৯ তারিখে একটি কবিতা লিখেছেন। কবিতাটি শুরু হয়েছে নিজের মেয়ের কথা দিয়ে লিখেছেন : ‘আমার ‘দুলু’র মুখ দেখি আজ বাংলার ঘরে ঘরে শ্বেত বাস আর শূন্য দু’হাত নয়নে অশ্রু ঝরে’..... শেষ হয়েছে এদুটি লাইন দিয়ে: ‘সুন্দর কর মহামহীয়ান কর এ বাংলাদেশ এই মুছিলাম অশ্রুর ধারা দুঃখের কেউ শেষ।’ কবিতাটি বেশ বড় কষ্ট থেকে আশায় ফিরে এসেছেন তিনি। ডায়েরী শেষ হয়েছে ডিসেম্বর ৩১, শুক্রবার। শেষ বাক্যটি লিখেছেন, ‘১৯৭১ আজ শেষ হয়ে গেল। জানিনা, আগামী কালের দিন কিভাবে শুরু হবে।’ তিনি বিশাল প্রত্যাশায় তাকান নি আগামী দিনের দিকে। বরং খানিকটুকু দ্বিধা প্রকাশ করেছেন। স্বাধীনতার ঊনচল্লিশ বছরে তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশে অনেক অপূর্ণতা এখনো রয়ে গেছে।
একাত্তরের ডায়েরী
| Title | একাত্তরের ডায়েরী |
| Author | সুফিয়া কামাল |
| Publisher | হাওলাদার প্রকাশনী |
| ISBN | 9789848964033 |
| Edition | 8th Edition, 2018 |
| Number of Pages | 208 |
| Country | বাংলাদেশ |
| Language | বাংলা |
সুফিয়া কামাল (১৯১১-১৯৯৯)
বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কবি, লেখিকা, সমাজসেবক, নারীবাদী ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ সুফিয়া কামাল। তাঁর কবিতার বিষয় প্রেম, প্রকৃতি, ব্যক্তিগত অনুভূতি, বেদনাময় স্মৃতি, জাতীয় উৎসবাদি, স্বদেশানুরাগ, ধর্মানুভূতি এবং মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। পাকিস্তান সরকার বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতির ওপর দমননীতির অংশ হিসেবে রবীন্দ্রনাথকে নিষিদ্ধ করলে তিনি তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
সুফিয়া কামাল ২০ জুন, ১৯১১ সালে বরিশালের শায়েস্তাবাদের রাহাত মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস- কুমিল্লা।
তিনি 'মহিলা পরিষদ' (১৯৭০) এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। বর্তমানে এর নাম 'বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ'।
তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
বাংলাদেশের প্রথম আধুনিক মহিলা কবি সুফিয়া কামাল। তিনি 'জননী সাহসিকা' নামে পরিচিত।
তিনি ছিলেন রবীন্দ্র কাব্যধারার গীতিকবিতা রচয়িতা।
তিনি শিশুদের সংগঠন 'কচিকাঁচার মেলা' (১৯৫৬) প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি 'বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার' (১৯৬২), 'একুশে পদক' (১৯৭৬), 'বেগম রোকেয়া পদক' (১৯৯২), 'স্বাধীনতা পুরস্কার' (১৯৯৭) পান।
বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম ছাত্রী হলের নামকরণ করা হয়েছে তাঁর নামে 'বেগম সুফিয়া কামাল হল'।
সুফিয়া কামাল ১৯১৮ সালে কলকাতায় রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তাঁর একান্ত প্রচেষ্টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'রোকেয়া হল' এর নামকরণ করা হয়।
তিনি ২০ নভেম্বর, ১৯৯৯ সালে মারা যান। বাংলাদেশে তিনিই প্রথম নারী যাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।
মাত্র বার বছর বয়সে মামাতো ভাই সৈয়দ নেহাল হোসেনের সাথে বিয়ে হয়। তখন নাম হয় সুফিয়া এন হোসেন। ১৯৩২ সালে নেহাল হোসেন যক্ষ্মা রোগে মারা গেলে ১৯৩৯ সালে তিনি চট্টগ্রামের লেখক কামালউদ্দিন আহমদকে বিয়ে করেন। তখন থেকে সুফিয়া কামাল নাম ব্যবহার করেন।
এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল তাঁর মেয়ে।
সুফিয়া কামাল রচিত প্রথম সাহিত্যকর্মের নাম
'সৈনিক বধূ' (১৯২৩): এটি তাঁর প্রথম গল্প, যা বরিশালের 'তরুণ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
'বাসন্তী' (১৯২৬): এটি তাঁর প্রথম কবিতা, যা 'সওগাত' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলোঃ
'সাঁঝের মায়া' (১৯৩৮): এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্য। এর মুখবন্ধ লিখে দেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ১৯৮৪ সালে এটি রুশ ভাষায় সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে প্রকাশিত হয়।
এ কাব্যের কবিতা: 'তাহারেই পড়ে মনে', 'রূপসী বাংলা'।
'উদাত্ত পৃথিবী' (১৯৬৪): এ কাব্যের বিখ্যাত কবিতা 'জাগো তবে অরণ্য কন্যারা', 'আমার দেশ'।
'মোর জাদুদের সমাধি পরে' (১৯৭২): এ কাব্যের কবিতাগুলো মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে লেখা।
'মায়া কাজল' (১৯৫১), 'মন ও জীবন' (১৯৫৭), 'শান্তি ও প্রার্থনা' (১৯৫৮), 'দিওয়ান' (১৯৬৬), 'অভিযাত্রিক' (১৯৬৯), 'মৃত্তিকার ঘ্রাণ' (১৯৭০)।
অভিযাত্রিক (কাব্য) | সুফিয়া কামাল |
অভিযাত্রিক (উপন্যাস | বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় |
তাঁর প্রকাশিত অন্যান্য রচনাবলিঃ
শিশুতোষ গ্রন্থ: 'নওল কিশোরের দরবারে' (১৯৮২): এ গ্রন্থের কবিতা 'সাম্য' (মিলিত সেবা ও সাম্য প্রীতিতে)।
'ইতল বিতল' (১৯৬৫)
গল্প : 'কেয়ার কাঁটা' (১৯৩৭)।
ভ্রমণকাহিনি: 'সোভিয়েতের দিনগুলো' (১৯৬৮)।
আত্মজীবনী : 'একালে আমাদের কাল' (১৯৮৮)।
স্মৃতিকথা : 'একাত্তরের ডায়েরী' (১৯৮৯)।
Related Question
View All-
ক
বুদ্ধদেব বসু
-
খ
দেবী চৌধুরাণী
-
গ
সেলিনা হোসেন
-
ঘ
সুফিয়া কামাল
-
ক
নিমন্ত্রণ
-
খ
কবর
-
গ
তাহারেই পড়ে মনে
-
ঘ
বনলতা সেন
-
ক
সেলিনা হোসেন
-
খ
সুফিয়া কামাল
-
গ
নুরজাহান বেগম
-
ঘ
রিজিয়া রহমান
-
ক
বেগম রোকেয়া
-
খ
নীলিমা ইব্রাহীম
-
গ
সেলিনা হোসেন
-
ঘ
বেগম সুফিয়া কামাল
-
ক
নূরজাহান বেগম
-
খ
সেলিনা হোসেন
-
গ
বেগম সুফিয়া কামাল
-
ঘ
নীলিমা ইব্রাহিম
-
ক
বেগম রোকেয়া
-
খ
সুফিয়া কামাল
-
গ
জাহানারা ইমাম
-
ঘ
শামসুন্নাহার মাহমুদ
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
Related Question
Question Analytics
মোট উত্তরদাতা
জন