কোনটি বাউল গানের বৈশিষ্ট্য?
কোনটি বাউল গানের বৈশিষ্ট্য?
-
ক
বীরত্বগাথা ও ভক্তিমূলক
-
খ
মানবিক আবেগ ও দৈনন্দিন জীবন
-
গ
আধ্যাত্মিক প্রেম ও অন্তর্গত অনুসন্ধান
-
ঘ
পল্লী জীবনের সুখ দুঃখ
বাউল গান বাউল সম্প্রদায়ের আধ্যাত্মিক গান। পরমাত্মা বা স্রষ্টার প্রতি গভীর ভালোবাসায় এই গানের সুর। বাউল গানের মধ্য দিয়েই বাউল সাধনার প্রকাশ এবং গানের মধ্য দিয়েই তাঁরা জীবনদর্শনকে প্রকাশ করেন। বাউলরা বিশ্বাস করেন যে, স্রষ্টা বাইরে কোথাও নেই; বরং মানুষের শরীরের ভিতরেই তাঁর বাস। বাউল গানের স্রষ্টা লালন শাহ। বাংলাদেশের কুষ্টিয়া বাউল গানের কেন্দ্রভূমি; তবে পশ্চিমবঙ্গেও এটি প্রসার লাভ করেছে। বাউলগানকে এদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বড় উপাদান হিসেবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন বাউল সংগীতের অপরিসীম সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগত গুরুত্ব বিবেচনা করে ২০০৫ সালে একে 'Masterpiece of the Oral and Intangible Heritage of Humanity' হিসেবে ঘোষণা দেয়। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে ইউনেস্কো বাংলাদেশের বাউল সংগীতকে 'Intangible Cultural Heritage of Humanity' হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।
বাউল গান 'বাউল' শব্দটি এসেছে বাউর' শব্দ থেকে যার অর্থ হচ্ছে বাতুল অথবা পাগল। বাউলরা কখনো রীতিবন্ধনের মধ্যে আবদ্ধ থাকতে চান না। তারা সংসারত্যাগী মুক্ত পুরুষ। বাউলদের সাধনাই হচ্ছে সঙ্গীতচর্চা। ‘UNESCO’ বাউল গানকে ২৫ নভেম্বর, ২০০৫ সালে ‘A Masterpiece of the Oral and Intangible Heritage Humanity' বলে স্বীকৃতি দিয়েছে।
মানবতার বাহক লালন শাহ্ বাউল সাধক ও বাউল কবি হিসেবে খ্যাত। প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যালাভ না করলেও নিজের সাধনায় হিন্দু- মুসলমান শাস্ত্র সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান ও ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধি মুক্ত এক সর্বজনীন ভাবরসে ঋদ্ধ বলে তাঁর রচিত গান বাংলায় হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয় ।
লালন শাহ্ অক্টোবর, ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে (১ কার্তিক, ১১৭৯) ঝিনাইদহের হরিশপুর গ্রামে / কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালির ভাঁড়ারা গ্রামে এক হিন্দু কায়স্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ।
কথিত আছে যে, তিনি কোন এক সময় এক বাউল দলের সঙ্গী হয়ে গঙ্গাস্নানে যান। পথিমধ্যে বসন্ত রোগাক্রান্ত হলে সঙ্গীরা তাঁকে নদীর তীরে ফেলে যান। সিরাজ শাহ নামক জনৈক বাউল সাধক তাঁকে কুড়িয়ে নেন এবং তার কাছে লালিত-পালিত হন ।
- লালন সাঁই এর পিতৃপ্রদত্ত নাম ছিল লালনচন্দ্র কর।
- লালনের একমাত্র যে স্কেচটি প্রচলিত সেটি অঙ্কন করেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
- সিরাজ শাহের মৃত্যুর পর তিনি কুষ্টিয়ার ছেউরিয়া গ্রামে আখড়া স্থাপন করেন।
- তিনি আধ্যাত্মিক ও মরমি রসব্যঞ্জনায় সমৃদ্ধ বাউল সংগীতের জন্য বিখ্যাত ।
- লালনকে বিশ্বসমাজে পরিচিত করণে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।রবীন্দ্রনাথ লালনের ২৯৮টি গান সংগ্রহ করে সংরক্ষিত করেন। এর মধ্যে ২০টি গান তিনি ‘প্রবাসী' পত্রিকায় প্রকাশ করেন
- তিনি ১৭ অক্টোবর, ১৮৯০ সালে (বাংলা- ১লা কার্তিক, ১২৯৭) মারা যান ।
কিছু বিখ্যাত বাউ্ল গানঃ
১. খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়...
২. মিলন হবে কত দিনে...
৩. আমি অপার হয়ে বসে আছি...
৪. সময় গেলে সাধন হবে না...
৫. সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে...
৬. কেউ মালা কেউ তসবি গলায়...
৭. আপন ঘরে বোঝাই সোনা পরে করে লেনা দেনা...
Related Question
View All-
ক
রবীন্দ্র সংগীত
-
খ
নজরুল সংগীত
-
গ
ভাটিয়ালি গান
-
ঘ
বাউল গান
-
ক
ইউনেস্কো
-
খ
ইউনিসেফ
-
গ
ইউএনডিপি
-
ঘ
ইউএনএফপিএ
-
ক
মরমীবাদ
-
খ
মারেফাত
-
গ
আধ্যাত্ম্য বিষয়ক
-
ঘ
প্রেম বিষয়ক
-
ক
মানিকগঞ্জ
-
খ
মুন্সিগঞ্জ
-
গ
নারায়ণগঞ্জ
-
ঘ
সুনামগঞ্জ
-
ক
হাসন রাজার গান
-
খ
রবীন্দ্র সঙ্গীত
-
গ
ভজন
-
ঘ
লালন গীতি
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
Related Question
Question Analytics
মোট উত্তরদাতা
জন