কোন শাসনামলে বাংলা লিপির স্থায়ী রূপ তৈরি করে অক্ষর গঠনের কাজ শুরু হয়?
-
ক
সেন আমলে
-
খ
গুপ্ত আমলে
-
গ
পাঠান আমলে
-
ঘ
পাল আমলে
-
ঙ
কোনোটিই নয়
উত্তর: A. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
‘বৈকুন্ঠের উইল’ অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি বিখ্যাত সামাজিক উপন্যাস. এটি ১৯১৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়. উপন্যাসের কাহিনীতে গ্রামীণ সমাজব্যবস্থা, পারিবারিক সংঘাত এবং বৈকুণ্ঠ মজুমদারের দুই ছেলে গোকুল ও বিনোদের মধ্যকার সম্পর্কের জটিলতা অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে. অন্যদিকে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘আনন্দমঠ’ ও ‘দুর্গেশনন্দিনী’র মতো ঐতিহাসিক উপন্যাসের জন্য পরিচিত এবং সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর ‘পালামৌ’ ভ্রমণকাহিনীর জন্য প্রসিদ্ধ।
উত্তর: D. ফতেহ লোহানী
আর্নেস্ট হেমিংওয়ের বিশ্বখ্যাত উপন্যাস ‘দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’ (The Old Man and the Sea)-এর প্রথম এবং সার্থক বঙ্গানুবাদ করেন বিখ্যাত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও চলচ্চিত্রকার ফতেহ লোহানী। তিনি এই ক্ল্যাসিক উপন্যাসটির ভাবার্থ বজায় রেখে অত্যন্ত চমৎকারভাবে বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন। অন্যদিকে, ফজল লোহানী ছিলেন একজন প্রখ্যাত টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব এবং কামাল লোহানী ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী।
উত্তর: D. তিন
বাংলা সাহিত্যে প্রথাগত বা প্রধান ছন্দ মূলত তিন প্রকার। এগুলো হলো— স্বরবৃত্ত ছন্দ (যাকে দলবৃত্ত বা ছড়ার ছন্দও বলা হয়), মাত্রাবৃত্ত ছন্দ (যাতে কলার ওপর ভিত্তি করে মাত্রা গণনা করা হয়) এবং অক্ষরবৃত্ত ছন্দ (যা মূলত তানপ্রধান বা মিশ্রবৃত্ত ছন্দ)। এই তিন প্রকার ছন্দই বাংলা কবিতার মূল কাঠামো গঠন করে।
উত্তর: C. আল মাহমুদ
'কালের কলস' আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদের একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থে কবি গ্রামীণ জীবন, লোকজ উপাদান এবং আধুনিক নাগরিক চেতনার এক চমৎকার সমন্বয় ঘটিয়েছেন। অন্যদিকে, আহসান হাবিবের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'রাত্রিশেষ', শামসুর রাহমানের 'প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে' এবং ফররুখ আহমদের শ্রেষ্ঠ কাব্য 'সাত সাগরের মাঝি'।
উত্তর: B. উরগ
বুকে ভর দিয়ে চলে যে প্রাণী তাকে এক কথায় বলা হয় 'উরগ'। 'উর' শব্দের অর্থ বক্ষ বা বুক এবং 'গ' বলতে গমনকারীকে বোঝানো হয়; যেমন—সাপ। অন্যদিকে, 'বিহগ' বলতে আকাশেবিচরণকারী পাখিকে বোঝায় এবং 'মোরগ' একটি নির্দিষ্ট গৃহপালিত পাখি। 'পারগ' শব্দের অর্থ হলো কোনো বিষয়ে দক্ষ বা পারদর্শী এমন ব্যক্তি।
উত্তর: D. শক্তি
এই প্রবাদে ‘মুখ’ শব্দটি আক্ষরিক অর্থ বা অঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি, বরং এটি ব্যক্তির সামর্থ্য বা শক্তি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। যখন কেউ তার যোগ্যতা, সামাজিক মর্যাদা বা ক্ষমতার চেয়ে বেশি অহংকার বা ধৃষ্টতা দেখিয়ে কথা বলে, তখন তাকে এই প্রবাদটি দিয়ে সর্তক করা হয়। অর্থাৎ, ব্যক্তির শক্তির তুলনায় তার কথা যখন অনেক বেশি বড় বা দাম্ভিক হয়ে যায়, তখনই বলা হয় ‘যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা’।
উত্তর: B. স্পষ্টভাষী
'ঠোঁট-কাটা' একটি জনপ্রিয় বাংলা বাগধারা, যার অর্থ হলো স্পষ্টভাষী বা এমন ব্যক্তি যিনি কোনো দ্বিধা ছাড়াই মুখের ওপর সত্য কথা বলেন। এটি কখনও কখনও 'স্পষ্টবাদী' বা 'বেহায়া' অর্থেও ব্যবহৃত হয়, তবে পরীক্ষার প্রশ্নগুলোতে সাধারণত 'স্পষ্টভাষী' উত্তরটিকেই সঠিক হিসেবে ধরা হয়। অন্যদিকে, অহঙ্কারী বোঝাতে 'পায়াভারী' এবং পক্ষপাতদুষ্ট বোঝাতে 'একচোখা' বাগধারাটি ব্যবহার করা হয়।
উত্তর: D. আবগারি শুল্ক
'Excise duty' একটি প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক পরিভাষা, যার সঠিক বাংলা প্রতিশব্দ হলো 'আবগারি শুল্ক'। এটি মূলত দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত বা প্রস্তুতকৃত পণ্যের ওপর আরোপিত এক প্রকার পরোক্ষ কর। অন্যদিকে, অতিরিক্ত কর বলতে 'Surcharge' বা 'Additional Tax' বোঝায় এবং দায়িত্ব সংক্রান্ত বিষয়গুলো 'Duty' শব্দের ভিন্ন অর্থ (যেমন- Responsibility) থেকে আসে, যা এখানে প্রাসঙ্গিক নয়।
উত্তর: D. ভণ্ড
'তুলসী বনের বাঘ' একটি বহুল ব্যবহৃত বাংলা বাগধারা, যার অর্থ হলো ভণ্ড, মোনাফেক বা প্রচ্ছন্ন শয়তান. তুলসী গাছকে হিন্দুধর্মে অত্যন্ত পবিত্র হিসেবে গণ্য করা হয়, আর বাঘ একটি হিংস্র প্রাণী। যখন কোনো ব্যক্তি লোকসমাজে নিজেকে পরম ধার্মিক বা সাধু হিসেবে জাহির করেন কিন্তু বাস্তবে তিনি ক্ষতিকর বা শয়তান প্রকৃতির হন, তখন তাকে বিদ্রূপ করে 'তুলসী বনের বাঘ' বলা হয়. এই ধরনের ব্যক্তিদের ভণ্ডামি সাধারণত বাইরে থেকে চট করে ধরা যায় না
উত্তর: A. শিক্ষণ
সংস্কৃত ধাতুর সাথে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠনের নিয়মানুসারে, 'শিক্ষ্' ধাতুর সাথে 'অন' (বা বিশেষ ক্ষেত্রে 'কন') প্রত্যয় যুক্ত হয়ে 'শিক্ষণ' শব্দটি গঠিত হয়। এখানে 'শিক্ষ' মূল অংশ এবং 'অন' প্রত্যয় মিলে শিক্ষা দেওয়ার কাজ বা প্রক্রিয়াকে বোঝায়। বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী, 'ক্ষ'-এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' ব্যবহৃত হয়, তাই সঠিক বানানটি হবে 'শিক্ষণ'।
উত্তর: D. মুক্তি
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম হলো ‘মুক্তি’। তিনি যখন করাচি ব্যারাকে ৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টনে সৈনিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তখন ১৯১৯ সালের জুলাই মাসে কলকাতার 'বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা'-য় এটি প্রকাশিত হয়। অন্যদিকে, 'বিদ্রোহী
' নজরুলের সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতা যা ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। 'রাখালী ' হলো পল্লীকবি জসিমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ এবং 'ছাড়পত্র কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
উত্তর: D. চর্যাপদ
চর্যাপদ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম বা আদি নিদর্শন। ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন। এটি মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের রচিত এক ধরনের সাধন-সংগীত বা পদসংকলন। পাল আমলে (দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে) এই পদগুলো রচিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। চর্যাপদের ভাষা ছিল 'সন্ধ্যা ভাষা' বা আলো-আঁধারি ভাষা, যা প্রাচীন বাংলা ভাষার রূপ বুঝতে গবেষকদের সাহায্য করে। ১৯১৬ সালে এটি 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
উত্তর: C. প্রমথ চৌধুরী
বাংলা গদ্য সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক হিসেবে প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮–১৯৪৬) স্বীকৃত। তাঁর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে প্রকাশিত 'সবুজপত্র' পত্রিকা বাংলা সাহিত্যের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এর আগে বাংলা গদ্য প্রধানত 'সাধু রীতিতে' (তৎসম শব্দবহুল ও দীর্ঘ ক্রিয়াপদ) লেখা হতো। প্রমথ চৌধুরীই প্রথম জোরালোভাবে যুক্তি দেন যে, মুখের জীবন্ত ভাষাকেই সাহিত্যের বাহন করা উচিত। তাঁর এই আন্দোলনের ফলেই বাংলা সাহিত্যে আধুনিক চলিত রীতির শক্ত ভিত্তি স্থাপিত হয়। তাঁর মতে, "ভাষা মানুষের মুখ হতে কলমের মুখে আসে, কলমের মুখ হতে মানুষের মুখে নয়।"
উত্তর: B. ১৯২৯
আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩শে অক্টোবর পুরান ঢাকার মাহুতটুলিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক। তাঁর কবিতায় নাগরিক জীবন, মধ্যবিত্তের মনস্তত্ত্ব এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনা অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটে উঠেছে। ১৯২৯ সালে জন্ম নেওয়া এই কবি বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে বাংলা সাহিত্যের এক অপরিহার্য স্তম্ভে পরিণত হন এবং তাঁকে 'নাগরিক কবি' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
উত্তর: B. সামাজিক
'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র একটি কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসে গ্রামীণ সমাজের কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস এবং ধর্মকে পুঁজি করে একশ্রেণির সুবিধাবাদী মানুষের শোষণের চিত্র ফুটে উঠেছে। উপন্যাসের মূল চরিত্র 'মজিদ' একটি নামহীন কবরকে 'মোদাচ্ছের পীরের মাজার' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে ধর্মভীতি ছড়িয়ে কীভাবে নিজের প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তার করে, লেখক তা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে দেখিয়েছেন। এটি কেবল ধর্মের অপব্যবহার নয়, বরং গ্রামীণ সমাজকাঠামোর গভীর বিশ্লেষণ এবং মানুষের জীবনসংগ্রামের এক অনন্য আখ্যান।
উত্তর: B. জসীমউদ্দীন
'এক পয়সার বাঁশি' কাব্যগ্রন্থটি পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় কিশোর কবিতা সংকলন। ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত এই বইটিতে শিশুদের জন্য লেখা চমৎকার সব কবিতা ও ছড়া স্থান পেয়েছে। জসীমউদ্দীন তাঁর সহজ-সরল ভাষা এবং গ্রামীণ আবহের মাধ্যমে শিশুদের মনের বিচিত্র কল্পনা ও গ্রামবাংলার লোকজ জীবনকে এই কাব্যে জীবন্ত করে তুলেছেন। তাঁর কবিতার ছন্দে পল্লী প্রকৃতির রূপ এবং সাধারণ মানুষের সহজ সুখ-দুঃখের প্রতিচ্ছবি পাওয়া যায়, যা এই গ্রন্থটিকে শিশুসাহিত্যের এক অনন্য সম্পদে পরিণত করেছে।
উত্তর: D. আরণ্যক
'আরণ্যক' কথাশিল্পী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং কালজয়ী একটি উপন্যাস। ১৯৩৯ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসটি লেখকের নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে রচিত। এতে বিহারের পূর্ণিয়া জেলার লবলটুলিয়া ও আজমাবাদ অঞ্চলের অরণ্যপ্রকৃতি এবং সেখানকার আদিবাসী ও সাধারণ মানুষের সহজ-সরল জীবনের অসাধারণ এক আখ্যান ফুটে উঠেছে। এটি কেবল একটি উপন্যাস নয়, বরং প্রকৃতির প্রতি মানুষের গভীর মমত্ববোধের এক শৈল্পিক দলিল। বিভূতিভূষণ এখানে জঙ্গলকে কোনো জড় বস্তু হিসেবে নয়, বরং একটি জীবন্ত সত্তা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
উত্তর: C. হুমায়ুন কবির
'নদী ও নারী' কালজয়ী এই উপন্যাসটির রচয়িতা প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ ও সাহিত্যিক হুমায়ুন কবির। এটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটির মূল উপজীব্য হলো নদীমাতৃক বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদ এবং পদ্মা নদীর তীরবর্তী মানুষের জীবনসংগ্রাম। বিশেষ করে চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য যে নদীর ভাঙা-গড়ার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং তাদের জীবনে নারীর ভূমিকা ও সামাজিক টানাপোড়েন— এই বিষয়গুলো লেখক অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এই উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে একটি বিখ্যাত চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে।
উত্তর: B. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বাংলা সাহিত্যের ধ্রুপদী বিচারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে 'মহাকবি' হিসেবে চিহ্নিত করা হয় না। যদিও তাঁর সাহিত্যিক প্রতিভা বিশ্বজনীন এবং তিনি প্রায় সব শাখায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন, কিন্তু মহাকাব্যের নির্দিষ্ট গঠনশৈলী (যেমন: স্বর্গবিন্যাস, যুদ্ধবিগ্রহের বর্ণনা, অতিপ্রাকৃত শক্তির উপস্থিতি এবং কোনো সুদূরপ্রসারী ঐতিহাসিক বা পৌরাণিক কাহিনীর বিশাল ক্যানভাস) অনুযায়ী তিনি কোনো 'মহাকাব্য' রচনা করেননি। রবীন্দ্রনাথ মূলত তাঁর অনন্য গীতিকবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস এবং নাটকের জন্য বিশ্বখ্যাত।
উত্তর: A. সুকুমার রায়
'আবোল-তাবোল' বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ ননসেন্স ছড়ার সংকলন এবং এটি সুকুমার রায়ের অমর সৃষ্টি। ১৯২৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে কবি অদ্ভুত সব কাল্পনিক চরিত্র, যেমন— খিচুড়ি, হাঁসজারু, বকচ্ছপ এবং মজার মজার পরিস্থিতির মাধ্যমে এক বিচিত্র জগৎ তৈরি করেছেন। তাঁর ছড়ার ছন্দ ও শব্দচয়ন এতটাই নিপুণ যে, এটি ছোট-বড় সব বয়সের পাঠকদের কাছে সমান জনপ্রিয়। সুকুমার রায় কেবল এই ছড়াগুলো লিখেই ক্ষান্ত হননি, বইটির প্রতিটি চরিত্রের অদ্ভুত সব ছবিও তিনি নিজেই এঁকেছিলেন।
উত্তর: C. বিহারীলাল চক্রবর্তী
বাংলা সাহিত্যে বিহারীলাল চক্রবর্তীকে (১৮৩৫–১৮৯৪) 'ভোরের পাখি' বলা হয়। এই বিশেষ উপাধিটি তাঁকে প্রদান করেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বিহারীলালের আগে বাংলা কবিতা ছিল মূলত আখ্যানধর্মী বা কাহিনীনির্ভর। তিনিই প্রথম বাংলা কবিতায় কবির ব্যক্তিগত আবেগ, অনুভূতি এবং হৃদয়ের স্নিগ্ধ প্রকাশ ঘটান, যাকে আমরা আধুনিক 'গীতিকবিতা' বলি। যেমন ভোরের পাখির কলতানের মাধ্যমে নতুন দিনের শুভ সূচনা হয়, তেমনি বিহারীলালের হাত ধরেই বাংলা কবিতায় আধুনিক গীতি-মাধুর্যের নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল বলে তাঁকে এই নামে অভিহিত করা হয়।
উত্তর: A. কল্যাণীয়াসু
বাংলা পত্রলিখন বা সম্বোধনের ক্ষেত্রে লিঙ্গভেদে ভিন্ন ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করা হয়। যখন কোনো কনিষ্ঠ বা সমবয়সী নারীকে স্নেহের সাথে সম্বোধন করা হয়, তখন 'কল্যাণীয়াসু' শব্দটি ব্যবহৃত হয়। এটি 'কল্যাণীয়া' (স্ত্রীলিঙ্গ) শব্দের সাথে 'সু' প্রত্যয় যোগ করে গঠিত হয়েছে। প্রাচীন এবং মার্জিত পত্ররীতিতে নারীদের ক্ষেত্রে এই সম্বোধনটিই শুদ্ধ ও প্রচলিত।
উত্তর: C. চাঁদের অমাবস্যা
চাঁদের অমাবস্যা প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একটি বিখ্যাত মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। এটি ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু কোনো রাজনৈতিক আদর্শ বা আন্দোলন নয়, বরং একজন যুবকের (শিক্ষক) চেতনার সংকট এবং তার নৈতিক দোটানা। উপন্যাসে দেখা যায়, এক অমাবস্যার রাতে একটি হত্যাকাণ্ড দেখে ফেলার পর নায়কের অবচেতন মনে যে টানাপোড়েন শুরু হয়, লেখক মূলত তারই শৈল্পিক রূপায়ন ঘটিয়েছেন। এটি মূলত অস্তিত্ববাদ এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের এক অনন্য উদাহরণ।
উত্তর: B. হেলাল হাফিজ
'যে জলে আগুন জ্বলে' আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় এবং কালজয়ী একটি কাব্যগ্রন্থ, যা কবি হেলাল হাফিজের অমর সৃষ্টি। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত এই একটিমাত্র কাব্যগ্রন্থ কবিকে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা এনে দেয়। এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলোতে প্রেম, বিরহ এবং দ্রোহের এক অনন্য মেলবন্ধন লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা তাঁর বিখ্যাত লাইন— "এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার শ্রেষ্ঠ সময় তার / এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার শ্রেষ্ঠ সময় তার" এই গ্রন্থেই সংকলিত হয়েছে। দীর্ঘকাল নিভৃতে থাকলেও এই একটি বইয়ের মাধ্যমেই তিনি বাংলা কবিতার পাঠকদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।
উত্তর: C. যেমন কুকুর তেমনি মুগুর
ইংরেজি প্রবচন 'Desperate disease requires desperate remedies' এর সারমর্ম হলো, যখন কোনো সমস্যা অত্যন্ত জটিল বা ভয়াবহ আকার ধারণ করে, তখন তা সমাধানের জন্য সাধারণ ব্যবস্থার বদলে কঠোর বা চরম কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। বাংলা প্রবচন 'যেমন কুকুর তেমনি মুগুর' ঠিক একই মানসিকতা ও পরিস্থিতিকে নির্দেশ করে। এখানে 'কুকুর' বলতে কোনো অবাধ্য বা আক্রমণাত্মক সমস্যা/ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে এবং 'মুগুর' হলো তাকে দমন করার জন্য প্রয়োজনীয় কঠোর হাতিয়ার বা ব্যবস্থা। অর্থাৎ, পরিস্থিতি যতখানি প্রতিকূল, তার প্রতিকারও ততখানি কঠোর হওয়া উচিত।
উত্তর: B. মধ্য যুগে
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মধ্য যুগকে (১২০১-১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ) অনুবাদ সাহিত্যের স্বর্ণযুগ বলা হয়। এই সময়েই বাঙালি কবিরা প্রথম সংস্কৃত, আরবি এবং ফার্সি ভাষার কালজয়ী ধর্মীয় ও লৌকিক গ্রন্থগুলো বাংলা ভাষায় অনুবাদ করতে শুরু করেন।
Related Question
View All-
ক
সংস্কৃতি লিপি
-
খ
চীনা লিপি
-
গ
আরবি লিপি
-
ঘ
ব্রাহ্মী লিপি
-
ক
পাল আমল
-
খ
গুপ্ত আমল
-
গ
সেন আমল
-
ঘ
মুঘল আমল
-
ঙ
কোনটিই নয়
-
ক
খরোষ্ঠী লিপি
-
খ
কুটিল লিপি
-
গ
নাগরী লিপি
-
ঘ
গুপ্ত লিপি
-
ক
গুপ্ত লিপি
-
খ
দেবনাগরী লিপি
-
গ
নাগরী লিপি
-
ঘ
ব্রাহ্মী লিপি
-
ক
অশোক
-
খ
চন্দ্রগুপ্ত
-
গ
কণিঙ্ক
-
ঘ
মহীপাল
-
ক
সংস্কৃত লিপি
-
খ
আরবি লিপি
-
গ
চিনা লিপি
-
ঘ
ব্রাহ্মী লিপি
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
Related Question
Question Analytics
মোট উত্তরদাতা
জন