খনার বচনে প্রাধান্য পেয়েছে -

Updated: 4 months ago
  • শিল্প
  • কৃষি
  • সাহিত্য
  • বিজ্ঞান
3.1k
উত্তরঃ

পুবে ধনু নিত্য ঝরাখনার বচনে প্রাধান্য পেয়েছে - কৃষি

পুবে ধনু নিত্য ঝরা

পচ্চিমে ধনু নিত্য খরা

(খনার এ বচনে বলা হয়েছে, আষাঢ় - শ্রাবণ মাসে পুব আকাশে রংধনু দেখা দিলে বৃষ্টি হবে এবং পশ্চিমে দেখা গেলে খরা হবে।১)

‘খনা’ কি ‘খনার বচন’ নিয়ে বিদ্যমান আলাপ কি নথিতে আমরা বরাবর ছকবদ্ধ কিছু একরৈখিক ধরন ও সূত্র দেখতে পাই। যদিও খনা কি খনার বচন নিয়ে গুরুত্ব তৈরি করার মতো লেখালেখি আমাদের নাগাল কি হদিসে তেমন একটা নেই। মহামতি খনা তাঁর অমর সৃষ্টি ‘খনার বচনের’ ভেতর দিয়েই আমাদের ইতিহাসে জোরদার দৃশ্যমানতা তৈরি করেছেন। হয়তো সেই কারণেই খনাবিষয়ক আলোচনায় প্রধান হয়ে ওঠে কেবল তাঁর বচনসমূহ। বচনভিন্ন খনা বারবার আমাদের অধিপতি আলাপের ঘেরাটোপ থেকে বিচ্ছিন্ন কি অদৃশ্য হয়ে যান বা তাঁকে আড়াল করে রাখা হয়। এমনকি খনার বচন নিয়ে আলাপের সূত্রগুলো তাঁর বচনের ‘কৃষি ও আবহাওয়ার সম্বন্ধকে’ এমন কায়দায় উপস্থাপন করে বারবার, যেখান থেকে আমরা খনার বচনের বিজ্ঞান - দর্শন নয় কেবল ‘কৃষি কি আবহাওয়ার উপযোগিতামূলক পরামর্শই’ ঠাহর করতে পারি। সচরাচর খনার ‘বিদুষী’, ‘জ্যোতিষী’, ‘কৃষি বচন রচয়িতা’, ‘কিংবদন্তি’ ইত্যাদি পরিচয় নির্মাণেরই চল প্রতিষ্ঠিত। ‘খনার বচনও’ সচরাচর ‘লোকসংস্কৃতির’ এক প্রবল বলপ্রয়োগে বন্দী, যেখান থেকে নিম্নবর্গের রূপান্তরধর্মী জীবন কি আখ্যানের কোনো আন্দাজ পাওয়া যায় না। খনা কি খনার বচন নিয়ে যত ধরনের লেখালেখি হাতের নাগালে পাওয়া যায়, সেসব লেখালেখির ধরন ও কাঠামো প্রায় একই। প্রচলিত নথিগুলো পয়লা খনার জন্মবৃত্তান্ত বর্ণনা করে (যা জন্মরহস্য বলে একধরনের দক্ষিণ এশীয় ফ্যান্টাসি তৈরি করে), পরবর্তীতে তাঁর একধরনের ‘সংক্ষিপ্ত জীবনী’ তুলে ধরে। এসব জীবনীর একটা প্রধান অংশজুড়েই খনাকে পরিবারকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে টেনে টেনে সামাজিকীকরণ করা হয়। খনার শ্বশুর, স্বামী, রাক্ষসপুরীতে বড় হওয়া ও জ্যোতিষজ্ঞান লাভ, রাজদরবার সব মিলিয়ে খনাকে ‘প্রকাশ’ করা হয়। রয়েছে খনার জন্মস্থান বিতর্ক এবং বচনের ভাষিক বাহাস। তারপর খনার বচনগুলোর একটা সংকলন তুলে দেওয়া হয়। ছন্দোবদ্ধ বচনটির পর একটি বর্ণনামূলক মানে দেওয়া হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বচনগুলো শ্রেণীকরণ করে ব্যবহূত হতে দেখা যায়। যেমন, কৃষিবিষয়ক বচন, তিলতত্ত্ব, হলুদবিষয়ক, কচুবিষয়ক, বৃষ্টি গণনা, কলার চাষবিষয়ক ইত্যাদি। খনার এক বচন ছাড়া প্রচলিত অধিকাংশ রচনায় খনাকে ‘ইতিহাসের এক নিষ্ক্রিয় ও প্রতিরোধহীন’ ব্যক্তি হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে ‘খনার জিহ্বা কেটে নেওয়ার ঘটনাকে’ পুরুষতান্ত্রিক নিপীড়ন ও নারীর জ্ঞানকে প্রান্তিক করে তোলার উদাহরণ হিসেবে ব্যাখা দেওয়া হয়। কেউ কেউ খনার বচনের ‘জনমত’ ও গ্রহণযোগ্যতাকেও প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন। সবকিছু মিলিয়ে অধিপতি জ্ঞানকাণ্ডের খনা - ভাবনাসমূহ খনা কি খনার বচনকে ‘লোকসংস্কৃতি ও গ্রামীণ কৃষিসমাজের বিষয়’ হিসেবে এক প্রশ্নহীন অপরত্বের২ মোড়কে সমাজ রূপান্তরের ধারাপাত থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। এর ধারাবাহিকতায় দেখা যায়, নিম্নবর্গের যাপিতজীবন ও রাষ্ট্রবিকাশের আখ্যান থেকে খনা কি খনাদের সৃষ্টি ও দর্শনকে ‘অস্বীকৃত’ ও ‘অবাঞ্ছিত’ করে রাখা হয়। যাপিতজীবনের দেনদরবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে খনাদের ‘ধরাছোঁয়ার বাইরের অচিন রূপকথা কি নাগালহীন কিংবদন্তি’ করে তোলা হয়। ক্ষমতাবানদের রচিত ইতিহাসে কেবল খনা নয়, উলগুলান বা মুণ্ডা বিদ্রোহের কারিগর বীরসা মুণ্ডা কি হুল বা সাঁওতাল বিদ্রোহের নেতা ফুলমণি মুর্মুদেরও এভাবেই ‘অপর’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। নিরন্তর বিজ্ঞানমনস্কতা কি সামাজিক বোঝাপড়া দিয়ে তখন এসব চরিত্র কি তাদের চিন্তা ও দর্শন নিম্নবর্গের নাগালের বাইরে থেকে যায়। আর সেখান থেকেই আজকের আলাপখানি৩ শুরু করতে চাইছি। খনা ও খনার বচনের বিজ্ঞান - দর্শনকে আজকের আলাপে বোঝার চেষ্টা করব। আলাপের সূত্র ধরে খনার বৃত্তান্ত, প্রচলিত আখ্যান ও কাহিনিগুলো আমাদের টানতে হবে ক্ষমতার রাজনীতি ও ইতিহাসের বৈষম্যের ব্যাকরণকে স্পষ্ট করার জন্য। আলাপের ক্ষেত্রে একটা রাজনৈতিক তাত্ত্বিক পাটাতন অনেকখানি জরুরি হয়ে দাঁড়ায়। নিম্নবর্গের প্রতিরোধী জ্ঞানকাণ্ডের বিজ্ঞানমনস্কতা আলাপের অলিগলি ঘুরতে আমাদের টানটান রাখবে। প্রতিবেশ - নারীবাদী৪ তত্ত্ব - তালাশের ভেতর দিয়ে চলতি আলাপ তার আসর জমানোর মানত করেছে। বাংলা ও ইংরেজিতে প্রকাশিত খনা ও খনার বচন নিয়ে লেখালেখিগুলোর প্রায় গরিষ্ঠভাগই (যা পাওয়া গেছে এ শর্তকে মেনে) চলতি আলাপে টেনে আনা হয়েছে। খনার বচনের ক্ষেত্রে নিজস্ব সংগ্রহ, রাস্তা কি মেলাতে বিক্রীত বই থেকে শুরু করে গবেষণা পুস্তক - জার্নাল - পত্রিকা - সাময়িকী এবং ওয়েবদুনিয়াতে যা পাওয়া গেছে তা - ও গুরুত্ব দিয়ে আলাপের সঙ্গী হয়েছে। খনার বচন এবং খনার বিজ্ঞান - দর্শনকে জানতে - বুঝতে দেশের নানান প্রান্তে গ্রামীণ জনপদে নিম্নবর্গের বাহাস ও দেনদরবার কাজে লেগেছে। নিম্নবর্গের এই প্রজ্ঞা ও গতিই বিজ্ঞানের সত্যকে প্রকাশ করে, খনার বচন কি খনার দর্শন জীবনব্যাপী যে সত্যের সীমানা তৈরি করেছে। চলতি আলাপ থেকে আমরা অধিপতি জ্ঞানকাণ্ডের ক্ষমতার বলপ্রয়োগ ও নিম্নবর্গের জ্ঞানদুনিয়ার প্রান্তিকীকরণ ও নিরন্তর টিকে থাকার লড়াইয়ের ধরনটিও বোঝার চেষ্টা করব। কারণ খনা ও খনার বচনকে দাবিয়ে রাখার মৌলিক সূত্র ও কারণ ক্ষমতার রাজনীতির ভেতরেই সীমাবদ্ধ।

ডাক ও খনার বচন প্রাচীন যুগের সৃষ্টি হলেও মধ্যযুগের শুরুতে এগুলো সমৃদ্ধি লাভ করে। একসময়ে বাংলাদেশে ডাক ও খনার বচন ব্যাপক প্রচলিত ছিল।

ক) ডাকের বচন: বৌদ্ধদের জ্ঞানপুরুষ ডাক। এ বৌদ্ধ সমাজেই ডাকের বচনের উৎপত্তি হয়েছিল। কৃষক ও কৃষাণীরা এগুলো মুখস্থ রাখতেন। ডাক কোন একক ব্যক্তি বিশেষের নাম নাও হতে পারে। হয়ত একাধিক ব্যক্তি কালক্রমে বিশেষ জ্ঞানের যে পদগুলো রচনা করেছেন তাকেই ডাকের বচন বলা হয়। ডাকের বচন 'ডাকের কথা' বা 'ডাক পুরুষের কথা' নামেও পরিচিত। এতে জ্যোতিষ, ক্ষেত্রতত্ত্ব ও মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। যেমন:

  • ঘরে আখা বাইরে রাঁধে, অল্প কেশ ফুলাইয়া বাঁধে।

খ) খনার বচন: কৃষি ও আবহাওয়ার কথা প্রাধান্য পেয়েছে।

খনা: খনার বচন প্রধানত কৃষিভিত্তিক। খনার বচন ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়। বৌদ্ধ সমাজে যেমন ডাকের বচনের উৎপত্তি হয়েছিল, তেমনি হিন্দু সমাজে খনার বচনের সৃষ্টি হয়েছিল। এ বচনগুলি জ্যোতির্বিদ্যায় পারদর্শী এক বিদুষী বাঙালি নারীর রচিত বলে ধরে নেয়া হয়। খনার বচনগুলির মাধ্যমে প্রধানত কৃষি, আবহাওয়া, সমাজের পরিচয় সম্পর্কে বহুবিধ ধারণা পাওয়া যায়। যেমন:

  • কাঁচায় না নোয়ালে বাঁশ, পাকলে করে ঠাস ঠাস।
  • একে তো নাচুনি বুড়ি, তার উপর ঢোলের বাড়ি।
  • কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত।
  • আলো হাওয়া বেধ না, রোগ ভোগে মরো না।
  • উনা ভাতে দুনা বল, অতি ভাতে রসাতল।
  • আউশ ধানে চাষ লাগে তিন মাস।
  • আগে খাবে মায়ে, তবে পাবে পোয়ে।
  • গাছে গাছে আগুন জ্বলে, বৃষ্টি হবে খনায় বলে।
  • তেলা মাথায় ঢালো তেল, শুকনো মাথায় ভাঙ্গ বেল।
  • দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ।
  • ভাত দেবার মুরোদ নাই, কিল দেবার গোসাঁই।

Related Question

View All
  • ছন্দ-বৈচিত্র
  • হাস্যরস
  • বিদেশি শব্দের আধিক্য
  • ভণিতার উপস্থিতি
47
Updated: 3 months ago
  • সামাজিক মঙ্গলবোধ
  • শুদ্ধ জীবন-যাপন রীতি
  • রাষ্ট্র পরিচালনা নীতি
  • লৌকিক প্রণয় সঙ্গীত
241
Updated: 6 months ago
  • শুদ্ধ জীবনযাপন রীতি
  • সামাজিক মঙ্গলবোধ
  • রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি
  • লৌকিক প্রণয়সঙ্গীত
297
Updated: 5 months ago
  • শুদ্ধ জীবন যাপন রীতি
  • সামাজিক মূল্যবোধ
  • রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি
  • লৌকিক প্রণয় সঙ্গীত
906
Updated: 10 months ago
  • শুদ্ধ জীবন যাপন রীতি
  • সামাজিক মঙ্গলবোধ
  • রাষ্ট্রপরিচালনার নীতি
  • লৌকিক প্রণয় সঙ্গীত
576
Updated: 3 months ago
  • শিল্প

  • কৃষি

  • সাহিত্য

  • বিজ্ঞান

1.1k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই