ছড়ার ছন্দকে কী বলে?
ছড়ার ছন্দকে কী বলে?
-
ক
স্বরবৃত্ত
-
খ
মাত্রাবৃত্ত
-
গ
অক্ষরবৃত্ত
-
ঘ
গদ্যছন্দ
স্বরবৃত্ত: স্বরবৃত্ত ছন্দে স্বরধ্বনির সংখ্যার উপর নির্ভর করে পর্বের মাত্রা সংখ্যা। এই ছন্দে রচিত কবিতা আবৃত্তি করার সময় দ্রুত পড়তে হয়। এই ছন্দ ছড়ায় বেশি ব্যবহৃত হয় বলে একে ছড়ার ছন্দও বলা হয়। এই ছন্দে মূল পর্বে মাত্রার সংখ্যা ৪।
সঠিক উত্তরটি হলো: স্বরবৃত্ত।
ছড়ার ছন্দকে স্বরবৃত্ত ছন্দ বা শ্বাসাঘাত প্রধান ছন্দ বলা হয়। এই ছন্দে প্রতিটি পর্বের আদিতে একটি করে শ্বাসাঘাত বা ঝোঁক পড়ে। প্রতিটি অক্ষরের জন্য এক মাত্রা ধরা হয় এবং শব্দের শেষে ব্যঞ্জনবর্ণ থাকলে তা পরের অক্ষরের সাথে যুক্ত হয়ে যায় না, বরং নিজেই এক মাত্রা হিসেবে গণ্য হয়। এই ছন্দ দ্রুত লয়যুক্ত এবং সহজবোধ্য, যা ছড়ার বৈশিষ্ট্য।
অন্যান্য ছন্দের বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে:
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ: এই ছন্দে স্বর ও ব্যঞ্জনের সঠিক মাত্রা গণনা করা হয়। যুগ্মধ্বনিকে (স্বর + ব্যঞ্জন) দুই মাত্রা এবং মুক্তধ্বনিকে (কেবল স্বর) এক মাত্রা ধরা হয়। এটি মধ্যম লয়যুক্ত ছন্দ।
অক্ষরবৃত্ত ছন্দ: এই ছন্দে অক্ষরের সংখ্যা গণনা করা হয়। প্রতিটি মুক্তাক্ষর এক মাত্রা এবং প্রতিটি বদ্ধাক্ষর দুই মাত্রা হিসেবে গণ্য হয়, তবে পংক্তির শেষে বদ্ধাক্ষর এক মাত্রা হয়। এটি ধীর লয়যুক্ত ছন্দ, যা মহাকাব্য ও দীর্ঘ কবিতার জন্য ব্যবহৃত হয়।
গদ্যছন্দ: এটি ছন্দহীন, পদ্যের মতো বিন্যস্ত বাক্য। এতে কোনো নির্দিষ্ট মাত্রাবিন্যাস বা অক্ষরের মিল থাকে না, তবে এতে এক ধরনের অভ্যন্তরীণ সুর বা প্রবাহ থাকে।
ছন্দ কাব্যের গতিসৌন্দর্য সৃষ্টির প্রধান উপাদান। হাজার বছরের বাংলা কাব্যে কবিরা আবেগ, ভাব ও নান্দনিকতা প্রকাশের জন্য নানা ছন্দ নির্মাণ ও বিকাশ ঘটিয়েছেন। ভারতবর্ষে ছন্দচর্চার সূচনা বৈদিক যুগে; বাল্মীকির অনুষ্টুপ্ ছন্দকে আদি ছন্দ বলা হয়। সংস্কৃত ছন্দের ধারাই পরবর্তীকালে বাংলা ছন্দের ভিত্তি গড়ে তোলে, যদিও বাংলা ছন্দের বিকাশে কবিদের নিজস্ব সৃষ্টিশীলতাই মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।
বাংলা কাব্যের ছন্দ প্রধানত তিন প্রকার— মাত্রাবৃত্ত, স্বরবৃত্ত ও অক্ষরবৃত্ত। চর্যাপদ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত এই তিন ছন্দই বাংলা কাব্যে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ছন্দ। এটি মাত্রার উপর নির্ভরশীল এবং চর্যাপদে এর প্রাথমিক রূপ দেখা যায়। বৈষ্ণব পদাবলিতে এর পরিণত ও বৈচিত্র্যময় ব্যবহার লক্ষণীয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মাত্রাবৃত্ত ছন্দকে অক্ষরবৃত্তের প্রভাব থেকে মুক্ত করে এর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করেন—এটাই তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ অবদান।
স্বরবৃত্ত ছন্দ বাংলা ভাষার ধ্বনিগত স্বভাবের সঙ্গে সবচেয়ে সঙ্গতিপূর্ণ। এটি শ্বাসাঘাতপ্রধান, দ্রুত ও প্রাণবন্ত। লোকগান, বাউল, পাঁচালি, শ্যামাসঙ্গীত ও আধুনিক ছড়ায় এর ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের ধামালি ছন্দকে স্বরবৃত্তের প্রাচীন রূপ হিসেবে ধরা হয়।
অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যের প্রধান ও সর্বাধিক ব্যবহৃত ছন্দ। এটি তানপ্রধান ও গদ্যঘনিষ্ঠ। মধ্যযুগে পয়ার ছন্দের মাধ্যমে এর ব্যাপক ব্যবহার হয়, বিশেষত রামায়ণ, মহাভারত ও মঙ্গলকাব্যে। পয়ার ছন্দের বিভিন্ন রূপ—মহাপয়ার, ভঙ্গপয়ার, তরল পয়ার ইত্যাদি—ক্রমে বিকশিত হয়। মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তনের মাধ্যমে অক্ষরবৃত্ত ছন্দে আধুনিক গতি আনেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ও কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা ছন্দের আধুনিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁদের সৃষ্টিশীল পরীক্ষার মাধ্যমে বাংলা ছন্দ আরও বিজ্ঞানসম্মত, প্রাণবন্ত ও ভাবপ্রকাশে সক্ষম হয়ে উঠেছে।
Related Question
View Allমাইকেল মধুসূদন দত্ত কোন ছন্দপ্রথা ভেঙ্গে নতুন ছন্দ গড়লেন?
-
ক
স্বরবৃত্ত
-
খ
পয়ার
-
গ
মাত্রাবৃত্ত
-
ঘ
গদ্যছন্দ
'হে দারিদ্র, তুমি মোরে করেছ মহান'- এ চরণটি কোন ছন্দে রচিত ?
-
ক
স্বরবৃত্ত
-
খ
অক্ষরবৃত্ত
-
গ
মাত্রাবৃত্ত
-
ঘ
অমৃত্তাক্ষর
ছড়ার ছন্দকে কী বলে?
-
ক
স্বরবৃত্ত
-
খ
মাত্রাবৃত্ত
-
গ
অক্ষরবৃত্ত
-
ঘ
গদ্যছন্দ
কোন কবি বাংলায় অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তন করেন?
-
ক
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
-
খ
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
-
গ
জীবনানন্দ দাশ
-
ঘ
সুকান্ত ভট্টাচার্য
নিচের কোনটিকে ছড়ার ছন্দ বলা হয়?
-
ক
মাত্রাবৃত্ত
-
খ
স্বরবৃত্ত
-
গ
অক্ষরবৃত্ত
-
ঘ
মুক্তক অক্ষরবৃত্ত
মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রবর্তিত ছন্দ-
-
ক
অমিত্রাক্ষর
-
খ
মিত্রাক্ষর
-
গ
বদ্ধাক্ষর
-
ঘ
যুক্তাক্ষর
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!