দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তক কে?
-
ক
লর্ড কার্জন
-
খ
লুই আই কান
-
গ
লর্ড ক্লাইভ
-
ঘ
জর্জ হ্যারিসন
রবার্ট ক্লাইভ। রবার্ট ক্লাইভ 1757-1762 সাল পর্যন্ত এবং আবার 1765-1767 সাল পর্যন্ত বাংলার গভর্নর ছিলেন। তিনি 1757 সালে পলাশিতে সিরাজ-উদ্-দৌলার বিরুদ্ধে কোম্পানির সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। রবার্ট ক্লাইভ ভারতে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন।
দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তক ছিলেন লর্ড ক্লাইভ।
দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা:
- প্রবর্তন: ১৭৬৫ সালে, ইংল্যান্ডের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসক লর্ড ক্লাইভ বাংলায় দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা চালু করেন।
- উদ্দেশ্য: এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোম্পানি প্রশাসনিক ক্ষমতা লাভ করে এবং স্থানীয় নবাবদের সাথে সামরিক চুক্তির মাধ্যমে তাদের শাসন ক্ষমতা বজায় রাখে।
- বিস্তারিত: দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার আওতায়, ইংল্যান্ডের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার প্রশাসন ও অর্থনৈতিক নীতি নিয়ন্ত্রণ করত, কিন্তু রাজ্যগুলির স্থানীয় শাসকদের নামে শাসন পরিচালনা করা হত। অর্থাৎ, ইংল্যান্ড কোম্পানি সরাসরি শাসন করতো না, বরং স্থানীয় নবাবদের মাধ্যমে শাসন পরিচালিত হতো।
এটি পরবর্তীকালে ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলায় দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল:
১. অর্থনৈতিক শোষণ:
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলায় অর্থনৈতিক শোষণ বৃদ্ধি করতে চেয়েছিল। দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা তাদেরকে স্থানীয় নবাবদের মাধ্যমে প্রশাসনিক ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ প্রদান করেছিল, যাতে তারা সরাসরি শাসনের ঝামেলা এড়াতে পারে এবং অর্থনৈতিক সম্পদ সংগ্রহ করতে পারে।
২. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা:
লর্ড ক্লাইভ এবং কোম্পানির কর্মকর্তারা উপলব্ধি করেছিলেন যে, সরাসরি শাসন পরিচালনা করা তাদের জন্য কঠিন হতে পারে। স্থানীয় নবাবদের মাধ্যমে শাসন পরিচালনা করলে, তারা স্থানীয় রাজনীতির সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতে পারবে এবং দ্রুত স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টা করতে পারবে।
৩. মাসুদপুর চুক্তি:
১৭৬৫ সালে স্যারের স্থানীয় নবাব শোজা-উদ-দৌলা, মির জাফর এবং ইংল্যান্ড কোম্পানির মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় নবাবরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব রাখতে সম্মত হন, তবে কোম্পানি তাদের প্রশাসনিক ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে।
৪. অর্থনৈতিক সুবিধা:
দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা কোম্পানির পক্ষে আরও বড় আকারের বাণিজ্যিক লাভ অর্জনের সুযোগ প্রদান করেছিল। কোম্পানি কেবলমাত্র প্রশাসনিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও দেশের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়।
৫. স্বাধীনতা এবং শাসন ক্ষমতা:
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে, কোম্পানি স্থানীয় শাসকদের সাহায্য নিয়ে তাদের শাসন ক্ষমতা বজায় রাখতে পারছিল, যা কোম্পানির শাসনব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। এতে করে কোম্পানির শাসন নীতি এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বজায় রাখা সহজ হয়ে যায়।
এই কারণে, বাংলায় দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল যা পরে ভারতের উপমহাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গভীর প্রভাব ফেলে।
দিল্লির সম্রাট শাহ আলমের নিকট দেওয়ানি লাভের পর বাংলার নবাবী শাসন ধূলিসাৎ হয়।
নবাবকে বৃত্তিভোগীতে পরিণত করে রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈত শাসন প্রবর্তন করেন ১৭৬৫ সালে।
দ্বৈত শাসন ব্যবস্থায় বাংলার নবাবের উপর শাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।
ক্লাইভ রাজস্ব আদায় ও প্রতিরক্ষার দায়িত্ব ন্যস্ত করেন কোম্পানির উপর।
দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার মারাত্মক পরিণতি হল ছিয়াত্তরের মন্বস্তর।
Related Question
View All-
ক
লর্ড বেন্টিঙ্ক
-
খ
ওয়ারেন হেস্টিংস
-
গ
লর্ড ক্লাইভ
-
ঘ
লর্ড কর্নওয়ালিস
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
Related Question
Question Analytics
মোট উত্তরদাতা
জন