বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নানা চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়ে আসছে। এ দেশের সুস্থ ধারার চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে একটি বড় অংশ জুড়ে আছে এই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্রগুলো। এ চলচ্চিত্রগুলোর অনেকগুলোতে যেমন সরাসরি যুদ্ধের ভয়াবহতা উঠে এসেছে। যেমন: চাষী নজরুল ইসলামের ওরা ১১ জন (১৯৭২), সংগ্রাম (১৯৭৩),হাঙ্গর নদীর গ্রেনেড (১৯৯৭), নাসির উদ্দীন ইউসুফের একাত্তরের যীশু (১৯৯৩)। সেই সাথে কিছু চলচ্চিত্রে প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধকে উপস্থাপন না করে পরোক্ষভাবে এর ভয়াবহতাকে উপস্থাপন করা হয়েছে। উপস্থাপন করা হয়েছে যুদ্ধের স্বীকার হওয়া শরণার্থী বা পালিয়ে বেড়ানো মানুষের জীবনাবেগকে। এ ধরনের চলচ্চিত্রের মধ্যে আছে, তারেক মাসুদের মুক্তির গান (১৯৯৫), হুমায়ূন আহমেদের শ্যামল ছায়া (২০০৩), মোরশেদুল ইসলামের খেলাঘর (২০০৬)। এছাড়াও কিছু চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে যুদ্ধ পূর্বকালীন ও যুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশে এর প্রভাব ও রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি ও বাস্তবতা নিয়ে। এ ধরনের চলচ্চিত্রের মধ্যে আছে, জহির রায়হানের জীবন থেকে নেওয়া (১৯৭১), খান আতাউর রহমানের এখনো অনেক রাত (১৯৯৭), হারুন-উর-রশিদের মেঘের অনেক রং (১৯৭৬), নারায়ণ ঘোষ মিতার আলোর মিছিল (১৯৭৪)। উল্লেখ্য যে, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মার্কিন চলচ্চিত্রকার লিয়ার লেভিন জয় বাঙলা নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মার্ণের কাজ শুরু করেছিলেন কিন্তু তা শেষ করতে পারেন নি।
চলচ্চিত্র
প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ও পরিচালক
পরিচালক
প্রামাণ্য চলচ্চিত্র
জহির রায়হান
“Stop Genocide (1971)” , “A state is Born (1971)”
বাবুল চৌধুরী
“Innocent Millions (1971)”
তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ
“মুক্তির গান (১৯৯৫)”
আলমগীর কবির
“Liberation Fighters (1972)”
বছর
চলচ্চিত্রের নাম
পরিচালক
মুক্তির তারিখ
টীকা
১৯৮৪
আগামী
মোরশেদুল ইসলাম
—
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র
১৯৮৫
হুলিয়া
তানভীর মোকাম্মেল
—
—
১৯৮৫
চাক্কি
এনায়েত করিম বাবুল
—
—
১৯৮৬
প্রত্যাবর্তন
মোস্তফা কামাল
—
—
১৯৮৮
সূচনা
মোরশেদুল ইসলাম
—
—
১৯৮৮
ছাড়পত্র
জামিউল রহমান লেমন
—
—
১৯৮৯
বখাটে
হাবিবুল ইসলাম হাবিব
—
—
১৯৮৯
দুরন্ত
খান আখতার হোসেন
—
—
স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও পরিচালক
পরিচালক
স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র
খান আখতার হোসেন
“দুরন্ত”
নাসির উদ্দীন ইউসুফ
“একাত্তরের যীশু”
মোস্তফা কামাল
“প্রত্যাবর্তন”
সুমন আহমেদ
“নীল দংশন”
তানভীর মোকাম্মেল
“হুলিয়া” , “জীবনঢুলী”: এই ছবিতে নিম্নবর্ণের দরিদ্র ঢাকি "জীবনকৃষ্ণ দাস" এর জীবন এবং তার এলাকায় ঘটে যাওয়া নারকীয় হত্যাযজ্ঞ আবির্ভূত হয়েছে।
পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও পরিচালক
পরিচালক
পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র
চাষী নজরুল ইসলাম
“ওরা ১১ জন (১৯৭২)” , “হাঙ্গর নদী গ্রেনেড (১৯৯৭)” “ধ্রুবতারা)” (২০০৬)
আলমগীর কবির
“ধীরে বহে মেঘনা (১৯৭৩)”
খান আতাউর রহমান
“আবার তোরা মানুষ হ” , “এখনও অনেক রাত (১৯৯৭)”
সুভাষ দত্ত
“অরুণোদয়ের অগ্নি সাক্ষী (১৯৭২)”
হুমায়ুন আহমেদ
“আগুনের পরশমণি (১৯৯৫)”
গীতা মেহতা
“ডেডলাইন বাংলাদেশ (১৯৭২)”
মমতাজ আলী
“রক্তাক্ত বাংলা (১৯৭২)”
জহির রায়হান
জীবন থেকে নেয়া (১৯৭০)
নাসির উদ্দীন ইউসুফ
একাত্তরের যীশু (১৩ই জুুুন ১৯৯৩)
তানভীর মোকাম্মেল
জীবনঢুলী (২০১৩)
হাবিবুর রহমান
অলাতচক্র (২০২১) মুক্তিযুুুদ্ধের ওপর নির্মিত প্রথম থ্রিডি(3D) চলচ্চিত্র।
শ্যাম বেনেগাল
মুুুুজিব একটি জাতির রুপকার (২০২৩) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনি ওপর নির্মিত