নিচের কোন স্কেলটি পৃথিবীর সকল দেশে ব্যবহার উপযোগী?

Updated: 5 months ago
  • ক
    বর্ণনামূলক
  • খ
    প্রতিভূ অনুপাত
  • গ
    রৈখিক
  • ঘ
    কর্ণীয়
19
ব্যাখ্যাঃ

ভূগোল শাস্ত্রে মানচিত্রের স্কেল বলতে বোঝায় মানচিত্রের দুটি বিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্বের সাথে পৃথিবীর ঐ দুটি বিন্দুর প্রকৃত দূরত্বের অনুপাত। মানচিত্র স্কেল সাধারণত তিন প্রকারের হয়:

        
  1.         বর্ণনামূলক স্কেল (Verbal Scale): এই স্কেলে মানচিত্রের স্কেল সরাসরি ভাষায় প্রকাশ করা হয়, যেমন – "১ সেন্টিমিটার সমান ১ কিলোমিটার" বা "১ ইঞ্চি সমান ১ মাইল"। এই স্কেল ব্যবহার করা সব দেশে উপযোগী নয় কারণ এটি ভাষা এবং একক পদ্ধতির (যেমন, মেট্রিক বা ইম্পেরিয়াল) উপর নির্ভরশীল। এক দেশের ভাষা ও একক পদ্ধতি অন্য দেশের মানুষের কাছে বোধগম্য না হতে পারে।     
  2.     
  3.         প্রতিভূ অনুপাত স্কেল (Representative Fraction - RF): এই স্কেলে মানচিত্রের দূরত্ব ও ভূমির প্রকৃত দূরত্বের অনুপাত একটি ভগ্নাংশ বা অনুপাত আকারে প্রকাশ করা হয়, যেমন – ১:৫০,০০০ বা ১/৫০,০০০। এই স্কেলটি একক-নিরপেক্ষ (unitless) এবং ভাষা-নিরপেক্ষ হওয়ায় পৃথিবীর সকল দেশে ব্যবহার উপযোগী। এটি একটি গাণিতিক প্রকাশ, যা যেকোনো দেশের ব্যক্তি তার নিজস্ব একক পদ্ধতির মাধ্যমে পরিমাপ করতে পারে।     
  4.     
  5.         রৈখিক স্কেল বা লেখচিত্র স্কেল (Graphical/Linear Scale): এই স্কেলে মানচিত্রের নিচে একটি রেখা টেনে সেটিকে কয়েকটি সমান অংশে ভাগ করে ভূমির প্রকৃত দূরত্ব নির্দেশ করা হয়। এই স্কেলটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার উপযোগী কারণ এটি ভাষা ও একক পদ্ধতির উপর নির্ভরশীল নয়। ব্যবহারকারী যেকোনো দেশের হোক না কেন, সে এই রেখাটির সাথে তার মানচিত্রের দূরত্ব তুলনা করে প্রকৃত দূরত্ব নির্ণয় করতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যদি মানচিত্রটিকে বড় বা ছোট করা হয় (ফটোকপি বা ডিজিটাল জুমের মাধ্যমে), তাহলে রৈখিক স্কেলটিও মানচিত্রের সাথে আনুপাতিকভাবে পরিবর্তিত হয়, ফলে স্কেলের নির্ভুলতা বজায় থাকে। এই সুবিধার কারণে রৈখিক স্কেলকে পৃথিবীর সকল দেশে ব্যবহারের জন্য সবচেয়ে উপযোগী বলে মনে করা হয়।
  6.     
  7.         কর্ণীয় স্কেল (Diagonal Scale): এটি রৈখিক স্কেলেরই একটি উন্নত রূপ যা ক্ষুদ্রতর দূরত্ব পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি সরাসরি একটি স্বতন্ত্র স্কেলের প্রকারভেদ নয়, বরং রৈখিক স্কেলের একটি বিশেষ প্রয়োগ।

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায়, রৈখিক স্কেলই পৃথিবীর সকল দেশে ব্যবহার উপযোগী, কারণ এর নির্ভুলতা বজায় থাকে এমনকি মানচিত্রের আকার পরিবর্তিত হলেও, এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট ভাষা বা পরিমাপ এককের উপর নির্ভরশীল নয়।

Satt AI
Satt AI
4 months ago

(Presentation of Scales)

কোনো মানচিত্র বা নকশায় প্রধানত তিনটি উপায়ে স্কেল ব্যবহার করে অবস্থান ও দূরত্ব নির্ণয় করা হয়- (i) বর্ণনার সাহায্যে, (ii) রেখাচিত্র অঙ্কনের সাহায্যে এবং (iii) প্রতিভূ অনুপাতের বা সংখ্যা সূচক ভগ্নাংশের সাহায্যে।

(i) বর্ণনার সাহায্যে (By statement): ১" = ১ মাইল বা ১ ইঞ্চি = ১০ মাইল বা ১০০ মাইল = ১" প্রভৃতি বলে কথার মাধ্যমে স্কেল বর্ণনা করা হয়। স্কেল নির্দেশের বিভিন্ন উপায়ের মধ্যে এটা হচ্ছে সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি, কারণ এ উপায়ে সরাসরি দূরত্ব বর্ণনা করা হয়। কিন্তু বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন দূরত্বজ্ঞাপক পদ্ধতি প্রচলিত থাকায় দেশভেদে বর্ণনার ব্যতিক্রম করতে হয়। অন্যথায় সাধারণ মানুষের কাছে স্কেলে বর্ণিত বিষয় বোধগম্য হয় না। রাশিয়ায় প্রচলিত রৈখিক পদ্ধতি অনুযায়ী ১ মাগেনিয়াম = ১০০০ ভার্টস স্কেলে বর্ণিত মানচিত্রের প্রকৃত দূরত্ব ইংরেজি বা বাংলাদেশী ও ভারতীয়দের পক্ষে বোধগম্য নয়। আবার মানচিত্রকে ক্ষুদ্রাকৃতি (reduced) বা বৃহদাকৃতি (enlarged) করলে এতে বর্ণিত স্কেল নতুন মানচিত্রের জন্য অকেজো হয়ে পড়ে।

(ii) রেখাচিত্র অঙ্কনের সাহায্যে (By drawing): বর্ণনাকে রেখা মাপনী অঙ্কনের মাধ্যমে দেখানো যায়। এ পদ্ধতির প্রধান বৈশিষ্ট্য এই যে, মানচিত্রের কোনো দু'টি স্থানের মধ্যস্থিত দূরত্ব এই রেখাচিত্র হতে সহজে বুঝতে পারা যায়। যেমন: রেখাচিত্র থেকে বুঝা গেল যে, মানচিত্রের দু'টি স্থানের মধ্যস্থিত দূরত্ব যদি ১ ইঞ্চি হয় তা হলে তার প্রকৃত দূরত্ব ৫০০ মাইল। সুতরাং ৪" লম্বা রেখা অঙ্কন করে তাকে ৪ ভাগে ভাগ করলে প্রতিভাগে ৫০০ মাইল হিসেবে ৪ ইঞ্চিতে ৫০০ মাইল × ৪ = ২,০০০ মাইল স্থান সূচিত করবে। এ ধরনের স্কেলে অপেক্ষাকৃত স্বল্প দূরত্ব বোঝাবার জন্য বাম দিকের প্রথম ঘরটিকে পুনরায় ক্ষুদ্র ৫ ভাগে ভাগ করলে প্রতি ভাগ ১০০ মাইল করে হবে। এ পদ্ধতির অপর একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে, মানচিত্রটিকে ক্ষুদ্রাকৃতি (reduced) বা বৃহদাকৃতি (enlarged) করলে সঙ্গে সঙ্গে ক্ষুদ্র বা বৃহৎ মানচিত্রের রৈখিক মাপনীটিও ক্ষুদ্র বা বৃহৎ হয়ে যায়।

(iii) প্রতিভূ অনুপাতের সাহায্যে (By representative fraction): প্রতিভূ অনুপাত বা সংখ্যা সূচক ভগ্নাংশের অংশ দু'টি। প্রথম অংশকে লব (numerator) এবং দ্বিতীয় অংশকে হর (denominator) বলে। উভয়ের মধ্যে আনুপাতিক চিহ্ন':' থাকে। প্রতিভূ অনুপাতে লব অংশে ১ এবং হর অংশে একটি বৃহৎ অঙ্ক থাকে। প্রতিভূ অনুপাতে লব অংশে মানচিত্রের ১ একক প্রকৃত ভূমির (হর অংশের) দূরত্বের অনুরূপ এককের প্রতিভূ স্বরূপ। যেমন: ১ মাইলে ৬৩৩৬০ ইঞ্চি হয়। এখন ১" = ১ মাইল, এ বর্ণনাকে প্রতিভূ অনুপাতে দেখাতে হলে তা ১: ৬৩৩৬০ হবে।

প্রতিভূ অনুপাত স্কেল দু'টি স্থানের দূরত্বের সম্পর্ক বোঝায় বলে প্রথম রাশি ও দ্বিতীয় রাশির মধ্যে অনুপাতের চিহ্ন দিতে

হয়। এ অনুপাতকে ভগ্নাংশ রূপেও দেখান যায়; অর্থাৎ একে ১/৬৩৩৬০ বা ১৬৩৩৬০রূপেও লেখা হয়। বর্ণিত উদাহরণে মানচিত্রের ১ একক ভূমির ৬৩৩৬০ একক দূরত্বের প্রতিভূ। এরূপ প্রতিভূ অনুপাতে মাইল, গজ, ফুট, ইঞ্চি, কিলোমিটার, মিটার বা সেন্টিমিটার প্রভৃতি কিছুই লিখতে হয় না। লব অংশের একক হর অংশের সমজাতীয় রাশির প্রতিভূ হওয়ায় লবটি ১ ইঞ্চি হলে, হর রাশিটি ৬৩৩৬০ ইঞ্চি, লবটি ১ সেন্টিমিটার হলে হর রাশিটি ৬৩৩৬০ সেন্টিমিটার হবে। যে মানচিত্রে 'বর্ণনা' ও 'রেখাচিত্র' পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে সে মানচিত্র কেবল সেই জাতীয় দৈর্ঘ্য নির্ণয় প্রণালি প্রচলিত এমন দেশে ব্যবহৃত হতে পারে, অন্য দেশে নয়। কিন্তু যে মানচিত্রে প্রতিভূ অনুপাত (R.F: representative fraction) ব্যবহৃত হয় তা যেকোনো দেশে ব্যবহৃত হতে পারে। সুতরাং, অধিকাংশ মানচিত্রে প্রতিভূ অনুপাত ব্যবহৃত হয়। অনেক সময় উক্ত প্রতিভূ অনুপাতের সাথে এর রৈখিক চিত্র সন্নিবেশিত থাকে।

বিভিন্ন প্রকার স্কেলের উদাহরণ: মধুপুর গ্রামের পূর্ব-পশ্চিমে দূরত্ব ০.৯ কিলোমিটার যা মানচিত্রে ৩০ সে. মি. দ্বারা দেখানো হয়েছে, মানচিত্রটির প্রতিভূ অনুপাত এবং রৈখিক চিত্রে একটি সরল মাপনী দ্বারা ফুট দেখাও।

উত্তর: মানচিত্রে ৩০ সে. মি.= ভূমিতে ০.৯ কি. মি. [বর্ণনামূলক স্কেল]

মানচিত্রে ১ সে. মি. = ভূমিতে ০.৯৩০ কি. মি

=০.৯৩০× ১০০০ × ১০০ কি. মি.

= ৩০০০ সে. মি.

প্র. অ. = ১:৩০০০ [প্রতিভূ অনুপাত]

মানচিত্রে ১ ইঞ্চি = ভূমিতে ৩০০০ ইঞ্চি

মানচিত্রে ৬ ইঞ্চি = ভূমিতে ৩০০০ × ৬১২ফুট

= ১৫০০ ফুট

স্কেলের ব্যবহার (Use of scale)

i. মানচিত্র অঙ্কনে স্কেল দরকার।
ii. মানচিত্রকে ছোট বা বড় করতে স্কেল প্রয়োজন।
iii. মানচিত্রের দু'টি স্থানের মধ্যকার প্রকৃত দূরত্ব নির্ণয়ে স্কেল প্রয়োজন।
iv. মানচিত্র থেকে কোনো স্থানের ক্ষেত্রফল বা আয়তন বের করার জন্য স্কেল প্রয়োজন।
V. কোনো এলাকায় বা অঞ্চলে জরিপকার্য করার জন্য স্কেল দরকার।
vi. মানচিত্রে প্রদর্শিত রেলপথ, নৌপথ ও কাঁচা-পাকা রাস্তার দৈর্ঘ্য নির্ণয়ের জন্য স্কেল দরকার।
vii. কোনো বৃহৎ এলাকার মানচিত্র স্বল্প পরিসর কাগজে অঙ্কনের জন্য স্কেল প্রয়োজন।
viii. মানচিত্র পঠন-পাঠনে স্কেল প্রয়োজন।
ix. স্কেলে প্র. অ. দেওয়া থাকলে মানচিত্র যেকোনো দেশে পাঠ উপযোগী হয়।
Χ. মানচিত্র থেকে ভূমির কোনো কিছুর অবস্থান নির্ণয়ে স্কেলের ব্যবহার করতে হয়।

ব্যবহারিক মানচিত্র ও স্কেল-কে. আশরাফুল আলম ও মো. শরিফুল ইসলাম স্যার এর লেখা বই

শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই