পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি শব্দকে কী বলে?

Updated: 1 year ago
  • ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  • পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  • বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত
  • অনুকার দ্বিত্ব
4.1k
ব্যাখ্যাঃ

বাংলা ব্যাকরণে, একই শব্দ পরপর দুবার ব্যবহৃত হয়ে কোনো বিশেষ অর্থ প্রকাশ করলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বা শব্দ দ্বিত্ব বলে। প্রশ্নোক্ত "পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি শব্দ" বলতে মূলত এই দ্বিরুক্ত শব্দকেই বোঝানো হয়েছে। দ্বিরুক্ত শব্দকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়: পুনরাবৃত্ত দ্বিরুক্তি, ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি এবং পদাত্মক দ্বিরুক্তি।

পুনরাবৃত্ত দ্বিরুক্তি (Repetitive Reduplication):

        
  • যখন একই শব্দ অবিকৃতভাবে বা সামান্য পরিবর্তিত হয়ে পরপর দুবার বসে বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিরুক্তি বলে। এটি মূলত একই শব্দের বারবার প্রয়োগের মাধ্যমে ক্রিয়ার ধারাবাহিকতা, তীব্রতা, আধিক্য, সামান্যতা ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ করে।
  •     
  • উদাহরণস্বরূপ: ধীরে ধীরে বাতাস বইছে (ধীর গতি), বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর (ক্রিয়ার ধারাবাহিকতা), হাসি হাসি মুখ (সাদৃশ্য), দিন দিন উন্নতি হচ্ছে (কালব্যাপী)।
  •     
  • এই ধরনের দ্বিরুক্তি 'পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি শব্দ'-এর ধারণাকে সবচেয়ে ভালোভাবে উপস্থাপন করে।

অন্যান্য বিকল্পগুলির ব্যাখ্যা:

        
  • ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বা অনুকার দ্বিত্ব (Onomatopoeic Reduplication): যে দ্বিরুক্ত শব্দগুলি কোনো প্রাকৃতিক বা জীবজন্তুর শব্দ, বস্তুর আওয়াজ বা মানুষের অনুভূতিকে অনুকরণ করে গঠিত হয়, তাদের ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি বা অনুকার দ্বিত্ব বলে। যেমন: মড়মড়, ঝমঝম, কুশুম কুশুম, ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ। এটি দ্বিরুক্তির একটি নির্দিষ্ট প্রকার, কিন্তু "পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি শব্দ" এর সাধারণ বর্ণনা নয়।
  •     
  • বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত (Reduplication with Case Endings): এটি পুনরাবৃত্ত দ্বিরুক্তির একটি প্রকার যেখানে বিভক্তিযুক্ত পদ পরপর দুবার ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘরে ঘরে (প্রতি ঘরে), হাতে হাতে (হস্তান্তরিত হওয়া), দেশে দেশে (বিভিন্ন দেশে)। এটি আরও সুনির্দিষ্ট একটি প্রকার।

সুতরাং, "পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি শব্দ" এর সবচেয়ে সঠিক এবং সাধারণ পরিভাষা হলো পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব

Satt AI
Satt AI
1 day ago

অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারায় কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে। শব্দদ্বিত্ব তিন ধরনের: অনুকার দ্বিত্ব, ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব ও পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

১. অনুকার দ্বিত্ব

পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়। প্রকাশ পায় 'এই রকম একটা' ভাব। যেমন-

অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম, কেক-টেক, ঘর-টর, গরু-টরু, ছাগল-টাগল, ঝাল-টাল, হেন-তেন, লুচিফুচি, টাট্টু-ফাটু, আগড়ম-বাগড়ম, চাকর-বাকর, এলোমেলো, ঝিকিমিকি, কচর-মচর, ঝিলমিল, শেষ- মেষ, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে।

অনুকার দ্বিত্বে অনেক সময়ে স্বরের পরিবর্তন ঘটে, যেমন-

আড়াআড়ি, খোঁজাখুঁজি, ঘোরাঘুরি, চুপচাপ, ঠেকাঠেকি, তাড়াতাড়ি, দলাদলি, দামাদামি, পাকাপাকি, বাড়াবাড়ি, মোটামুটি, টুকরো-টাকরা, ধারধোর, জোগাড়-জাগাড়।

 

২. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব

কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। যেমন – ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য কোনো ধাতব পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়। ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়। যেমন- সাঁ করে তির ছুটে যায়, সাঁ সাঁ করে তিরগুলো ছুটে যাচ্ছে, সাঁ সাঁ সাঁ করে অসংখ্য তির চারদিকে ছুটে গেল। অনেক সময়ে কল্পিত ধ্বনির ভিত্তিতেও ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব তৈরি হয়। যেমন- ফোড়া টনটন করে, গা ছমছম করে। কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ:

কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক, খুটুর-খুটুর, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধূপ, দুম দুম, ঢং ঢং, চকচক, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস, থকথকে, ফুসুর ফুসুর, ভটভট, শোঁ শোঁ, হিস হিস।

কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে। যেমন -

খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

 

৩. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব

পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে। যেমন- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্তঃ ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উত্তু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

Related Question

View All
  • ধ্বন্যাত্মক
  • পদাত্মক
  • পুনরাবৃত্ত
  • অনুকার
545
  • চকচক
  • পর পর
  • ধারধোর
  • ঘুম ঘুম
460
  • অনুকার দ্বিত্ব
  • ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  • পদদ্বিত্ব
  • পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
271
Updated: 8 months ago
  • কুটুস কুটুস
  • কেক-টেক
  • ফুসুর ফুসুর
  • কথায় কথায়
373
Updated: 1 year ago
  • ঝম ঝম
  • খক খক
  • টস টস
  • ঝিলমিল
224
Updated: 7 months ago
  • কুটকুট
  • খকখক
  • ঝিকিমিকি
  • ঢং ঢং
581
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই