প্রজারঞ্জনের জন্য বাবুর কোন কাজ আরম্ভ করেছিলেন? 

Updated: 1 year ago
  • শত্রুদের ক্ষমা
  • সাহসিকতা প্রদর্শন
  • ছদ্মবেশ ধারণ
  • বিধর্মীদের মন জয়
655
ব্যাখ্যাঃ

বাবুর যখন ভারতে তাঁর সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করছিলেন, তখন এই অঞ্চলে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের বসবাস ছিল। একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ সাম্রাজ্য গড়ে তোলার জন্য কেবল একটি নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসারীদের নয়, বরং সকল ধর্মাবলম্বী প্রজাদের আস্থা ও সমর্থন অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। 'প্রজারঞ্জন' বলতে প্রজাদের সন্তুষ্ট রাখা এবং তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা বোঝায়। বাবরের মতো একজন নতুন শাসকের জন্য 'বিধর্মীদের মন জয়' করা ছিল এই প্রজারঞ্জনের একটি মৌলিক কৌশল, যা সাম্রাজ্যের ভিত্তি মজবুত করতে এবং সকল শ্রেণির মানুষের আনুগত্য নিশ্চিত করতে সাহায্য করত। এটি শুধু রাজনৈতিক কৌশলই ছিল না, বরং সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল।

অন্যান্য বিকল্পগুলো এই প্রেক্ষাপটে ততটা উপযুক্ত নয়:

        
  • 'শত্রুদের ক্ষমা' একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা যুদ্ধের পরের পদক্ষেপ হতে পারে, যা সরাসরি সাধারণ প্রজাদের 'প্রজারঞ্জন' এর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয় না।
  •     
  • 'সাহসিকতা প্রদর্শন' একজন শাসকের ব্যক্তিগত গুণ, যা যুদ্ধক্ষেত্রে বা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রকাশ পায়, কিন্তু এটি সরাসরি 'প্রজারঞ্জন' এর একটি কাজ নয়।
  •     
  • 'ছদ্মবেশ ধারণ' প্রজাদের অবস্থা জানার একটি পদ্ধতি হতে পারে, কিন্তু এটি 'বিধর্মীদের মন জয়' করার মতো একটি ব্যাপক ও মৌলিক 'প্রজারঞ্জন' কৌশল নয়, যা একটি বহুধর্মীয় সমাজে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য।
Satt AI
Satt AI
3 weeks ago

পানিপথে হত। দখল করিয়া দিল্লির শাহিগদি, 

          দেখিল বাবুর এ-জয় তাঁহার ফাঁকি, 

ভারত যাদের তাদেরি জিনিতে এখনো রয়েছে বাকি।

      গর্জিয়া উঠিল সংগ্রাম সিং, ‘জিনেছ মুসলমান,

          জয়ী বলিব না এ দেহে রহিতে প্রাণ ।

               লয়ে লুণ্ঠিত ধন

দেশে ফিরে যাও, নতুবা মুঘল, রাজপুতে দাও রণ।'

               খানুয়ার প্রান্তরে

সেই সিংহেরো পতন হইল বীর বাবুরের করে।

এ বিজয় তার স্বপ্ন-অতীত, যেন বা দৈব বলে

সারা উত্তর ভারত আসিল বিজয়ীর করতলে।

কবরে শায়িত কৃতঘ্ন দৌলত,          

          বাবুরের আর নাই কোনো প্রতিরোধ।

দস্যুর মতো তুষ্ট না হয়ে লুণ্ঠিত সম্পদে,

জাঁকিয়া বসেছে মুঘল সিংহ দিল্লির মসনদে। 

মাটির দখলই খাঁটি জয় নয় বুঝেছে বিজয়ী বীর,

বিজিতের হৃদি দখল করিবে এখন করেছে স্থির।

            প্রজারঞ্জনে বাবুর দিয়াছে মন,

হিন্দুর-হৃদি জিনিবার লাগি করিতেছে সুশাসন,

            ধরিয়া ছদ্মবেশ

ঘুরি পথে পথে খুঁজিয়ে প্রজার কোথায় দুঃখ ক্লেশ।

চিতোরের এক তরুণ যোদ্ধা রণবীর চৌহান

             করিতেছে আজি বাবুরের সন্ধান,

কুর্তার তলে কৃপাণ লুকায়ে ঘুরিছে সে পথে পথে

         দেখা যদি তার পায় আজি কোনো মতে

                    লইবে তাহার প্রাণ,

শোণিতে তাহার ক্ষালিত করিবে চিতোরের অপমান। 

                    দাঁড়ায়ে যুবক দিল্লির পথ-পাশে

লক্ষ করিছে জনতার মাঝে কেবা যায় কেবা আসে।

             হেন কালে এক মত্ত হস্তী ছুটিল পথের পরে

                   পথ ছাড়ি সবে পলাইয়া গেল ডরে। 

                         সকলেই গেল সরি

কেবল একটি শিশু রাজপথে রহিল ধুলায় পড়ি।

                       হাতির পায়ের চাপে

'গেল গেল' বলি হায় হায় করি পথিকেরা ভয়ে কাঁপে।

                      ‘কুড়াইয়া আন ওরে’ 

সকলেই বলে অথচ কেহ না আগায় সাহস করে। 

সহসা একটি বিদেশি পুরুষ ভিড় ঠেলে যায় ছুটে, 

‘কর কী কর কী” বলিয়া জনতা চিৎকার করি উঠে।

       করি-শুণ্ডের ঘর্ষণ দেহে সহি

পথের শিশুরে কুড়ায়ে বক্ষে বহি

       ফিরিয়া আসিল বীর।

চারি পাশে তার জমিল লোকের ভিড়।

বলিয়া উঠিল এক জন, 'আরে এ যে মেথরের ছেলে,

ইহার জন্য বে-আকুফ তুমি তাজা প্রাণ দিতে গেলে?

          খুদার দয়ায় পেয়েছ নিজের জান,

    ফেলে দিয়ে ওরে এখন করগে স্নান।'

    শিশুর জননী ছেলে ফিরে পেয়ে বুকে

            বক্ষে চাপিয়া চুমু দেয় তার মুখে।

বিদেশি পুরুষে রাজপুত বীর চিনিল নিকটে এসে,

এ যে বাদশাহ স্বয়ং বাবুর পর্যটকের বেশে।

          ভাবিতে লাগিল, 'হরিতে ইহারই প্রাণ

          পথে পথে আমি করিতেছি সন্ধান?

          বাবুরের পায়ে পড়ি সে তখন লুটে 

কহিল সঁপিয়া গুপ্ত কৃপাণ বাবুরের করপুটে,” 

‘জাঁহাপনা, এই ছুরিখানা দিয়ে আপনার প্রাণবধ 

করিতে আসিয়া একি দেখিলাম! ভারতের রাজপদ 

          সাজে আপনারে, অন্য কারেও নয়। 

বীরভোগ্যা এ বসুধা এ কথা সবাই কয়,

           ভারত-ভূমির যোগ্য পালক যেবা,

তাহারে ছাড়িয়া, এ ভূমি অন্য কাহারে করিবে সেবা?

            কেটেছে আমার প্রতিহিংসার অন্ধ মোহের ঘোর,

                              সঁপিনু জীবন, করুন এখন দণ্ডবিধান মোর।'
            রাজপথ হতে উঠায়ে যুবকটিরে

                                  কহিল বাবুর ধীরে,

‘বড়ই কঠিন জীবন দেওয়া যে জীবন নেওয়ার চেয়ে; 

জান না কি ভাই? ধন্য হলাম আজিকে তোমারে পেয়ে

                         আজি হতে মোর শরীর রক্ষী হও; 

প্রাণ-রক্ষকই হইলে আমার, প্রাণের ঘাতক নও।'

Related Question

View All
  • কবি সম্রাট
  • স্বভাব কবি
  • কবিশেখর
  • জগত্তারিনী
1k
Updated: 3 weeks ago
  • কাব্যগ্রন্থ
  • নাটক
  • উপন্যাস
  • প্রহসন
1.1k
Updated: 1 year ago
  • জসীমউদদীন
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  • কালিদাস রায়
  • কাজী নজরুল ইসলাম
791
  • ১৯৭৫
  • ১৯৭৬
  • ১৯৭৭
  • ১৯৭৮
650
  • দৌলত খাঁকে
  • রণবীরকে
  • সংগ্রাম সিংকে
  • ইব্রাহিম লোদিকে
478
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই