'বর্ষ' শব্দের অর্থ বছর হলে অর্থের কী ধরনের পরিবর্তন হয়?

Updated: 1 year ago
  • অর্থসংকোচ
  • অর্থপ্রসার
  • অর্থ-বদল
  • অর্থের উন্নতি
912
ব্যাখ্যাঃ

একটি শব্দের অর্থ যখন তার পূর্বের নির্দিষ্ট অর্থ থেকে প্রসারিত হয়ে বা ব্যাপকতা লাভ করে নতুন ও বিস্তৃত অর্থে ব্যবহৃত হয়, তখন তাকে অর্থপ্রসার (Semantic Extension/Broadening) বলে।

যেমন:

        
  • 'কালি' শব্দটি পূর্বে কেবল 'মসি' বা 'ভুসোকালি' অর্থে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এটি যেকোনো রঙের তরল পদার্থের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যা লেখার কাজে লাগে। এটি অর্থপ্রসার।
  •     
  • 'তেল' শব্দটি পূর্বে শুধু 'তিল থেকে উৎপন্ন রস' অর্থে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে যেকোনো স্নেহজাতীয় তরল পদার্থকে (যেমন: সর্ষের তেল, নারকেলের তেল, পেট্রোল) 'তেল' বলা হয়। এটিও অর্থপ্রসার।

'বর্ষ' শব্দটি মূলত 'বর্ষাকাল' বা 'বৃষ্টি' অর্থে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু বর্তমানে এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের সমষ্টি, অর্থাৎ 'বছর' অর্থে ব্যবহৃত হয়। এখানে শব্দের অর্থ একটি নির্দিষ্ট ঋতু থেকে প্রসারিত হয়ে পূর্ণাঙ্গ সময়কালকে নির্দেশ করছে, তাই এটি অর্থপ্রসার।

অন্যান্য অপশনগুলোর সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা:

        
  • অর্থসংকোচ (Semantic Contraction/Narrowing): যখন একটি শব্দের ব্যাপক অর্থ থেকে সংকুচিত হয়ে একটি নির্দিষ্ট বা সীমিত অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন: 'অন্ন' (পূর্বে সব খাদ্য) এখন শুধু 'ভাত' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
  •     
  • অর্থ-বদল (Semantic Change/Shift): যখন একটি শব্দের পূর্বের অর্থের সঙ্গে বর্তমান অর্থের কোনো সম্পর্ক থাকে না এবং সম্পূর্ণ নতুন অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন: 'গবেষণা' (পূর্বে গরু খোঁজা) এখন 'বিশেষ অনুসন্ধান' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
  •     
  • অর্থের উন্নতি (Semantic Amelioration): যখন কোনো শব্দের অর্থ খারাপ বা সাধারণ অবস্থা থেকে উন্নত বা ভালো অর্থে রূপান্তরিত হয়। যেমন: 'মহাজন' (পূর্বে শুধু বড় লোক বা ঋষি) এখন সম্মানিত ব্যবসায়ী বা ধনাঢ্য ব্যক্তি অর্থে ব্যবহৃত হয়।
Satt AI
Satt AI
1 day ago

এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি শব্দের মূল অংশকে শব্দমূল বলে। শব্দমূলের এক নাম প্রকৃতি। প্রকৃতি দুই ধরনের: নামপ্রকৃতি ও ক্রিয়াপ্রকৃতি। ক্রিয়াপ্রকৃতির অন্য নাম ধাতু। নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়। নামপ্রকৃতির উদাহরণ: মা, গাছ, শির, লতা ইত্যাদি। ধাতুর উদাহরণ: কর্, যা, চল্, ধূ ইত্যাদি।

নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোর নাম উপসর্গ ও প্রত্যয়:

উপসর্গ: যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে। 'পরিচালক' শব্দের 'পরি' অংশ একটি উপসর্গ।

প্রত্যয়: যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে। 'সাংবাদিক' শব্দের 'ইক' অংশ একটি প্রত্যয়।

উপসর্গ ও প্রত্যয় দিয়ে তৈরি শব্দকে সাধিত শব্দ বলা হয়। উপসর্গ ও প্রত্যয় ছাড়া শব্দ গঠনের আরো কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান প্রক্রিয়া হলো সমাস, যার মাধ্যমে একাধিক শব্দ এক শব্দে পরিণত হয়। যেমন 'হাট' ও 'বাজার' শব্দ দুটি সমাসবদ্ধ হয়ে হয় 'হাটবাজার'। এছাড়া কোনো শব্দের দ্বৈত ব্যবহারে নতুন শব্দ গঠিত হলে তাকে বলে শব্দদ্বিত্ব, যেমন 'ঠক' ও 'ঠক' মিলে গঠিত হয় 'ঠকঠক', একইভাবে 'অঙ্ক' ও অনুরূপ ধ্বনি 'টঙ্ক' মিলে হয় 'অঙ্কটঙ্ক'।

শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ। পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক। লগ্নক চার ধরনের:

বিভক্তি: ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।

বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলোকে সলগ্নক পদ এবং যেসব পদে লগ্নক থাকে না সেগুলোকে অলগ্নক পদ বলে। 'ছেলেরা ক্রিকেট খেলে' এই বাক্যের 'ছেলেরা' ও 'খেলে' সলগ্নক পদ আর 'ক্রিকেট' অলগ্নক পদ।

শব্দ ও পদের মধ্যকার কয়েকটি পার্থক্য নিচে দেখানো হলো

শব্দ

পদ

১. প্রতিটি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব শব্দভান্ডার থাকে। সাধারণত অভিধানে তা সংকলিত হয়।১. শব্দ যখন বাক্যে স্থান পায়, তখন তার নাম হয় পদ।
২. অভিধানের শব্দগুলো বিচ্ছিন্ন ও পরস্পর সম্পর্কহীন।২. বাক্যের মধ্যে পদগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
৩. শব্দের অংশ উপসর্গ ও প্রত্যয়।৩. পদের অংশ বিভক্তি, নির্দেশক, বচন ও বলক।
৪. গঠনগতভাবে শব্দ দুই শ্রেণির: মূল শব্দ ও সাধিত শব্দ।৪. গঠনগতভাবে পদ দুই রকমের: অলগ্নক পদ ও সলগ্নক পদ।
৫. শব্দ শুধু রূপতত্ত্বের আলোচ্য।৫. পদ একইসঙ্গে রূপতত্ত্ব ও বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য।

Related Question

View All
Updated: 11 months ago
  • পানসে
  • দাপট
  • কাটতি
  • চতুর্থ
649
  • অর্থ-বদল
  • অর্থপ্রসার
  • অর্থ সংকোচ
  • অর্থের উন্নতি
319
  • ধ্বনিতত্ত্ব
  • রূপতত্ত্ব
  • বাক্যতত্ত্ব
  • অর্থতত্ত্ব
295
  • বাচ্যার্থ
  • লক্ষ্যার্থ
  • গৌণার্থ
  • অর্থপ্রসার
336
  • অর্থবদল
  • অর্থের উন্নতি
  • অর্থসংকোচ
  • অর্থপ্রসার
286
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই