বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পে নারী শ্রমিকদের উন্নয়নের জন্য
i. বেশি বেশি ওভার টাইম করতে হবে
ii. সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে
iii. সরকারি বেসরকারি সংস্থাকে এগিয়ে আসতে হবে

নিচের কোনটি সঠিক?

Updated: 5 months ago
  • ক
    i ও ii
  • খ
    i ও iii
  • গ
    ii ও iii
  • ঘ
    i, ii ও iii
26
Add Explanation

(Female Workers in Garment Industries of Bangladesh)

আমাদের দেশের তিন যুগ পূর্বে (আশির দশকে) গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠা লাভ করে। পর্যায়ক্রমে ৮০% নারী এই শিল্পের প্রধান শ্রম শক্তি হয়ে ওঠেছে। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে প্রচুর নারী কাজ করছে। কিশোরী থেকে তিরিশোর্ধ পর্যন্ত নারীদের এখানে নিয়োগ দেয়া হয়। অভাব অনটনে জর্জরিত নারীরা গার্মেন্টস শিল্পে নিয়োজিত হয় তার জীবন জীবিকা রক্ষার তাগিদে। তবে সবার চাকুরীর স্থায়ীত্ব বা বেতনের নিশ্চয়তা নেই। মালিকের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে চাকুরী থাকবে কি থাকবে না। গার্মেন্টস এ নারীদের শ্রমের অবমূল্যায়ন করা হয়। একই কাজে নারীদের তুলনায় পুরুষের বেতন বেশি ধরা হয়। ।। এই বিকাশমান শিল্পে নারী শ্রমিকরা ছুটি পায় রাত ৮ টার পর। অনেক সময় রাস্তা-ঘাটে এরা বিপদগ্রস্ত হয়। গার্মেন্টস এ ছুটির নিয়ম সরকারী ছুটির নিয়ম নীতির বাইরে। এ অবস্থা কর্মজীবী নারীর শিল্প ও পরিবারের জন্য অশুভ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

নির্ধারিত ছুটিতে তাদেরতো ন্যায়সংগত অধিকার আছে। তবে আইন কানুনের কথা বললে চাকুরী টিকে থাকে না। এই ভয়ে কেউ মুখ ফুটে কিছু বলে না। সামাজিক ভাবে নারীর মূল্যায়ন কম বলে নারীর শ্রম বাজারও সস্তা। এক সময় মালিকরা গ্রাম-গঞ্জ থেকে নারীদের এনে গার্মেন্টস শিল্পে নিয়োজিত করার চেষ্টা করেন। ফলে গার্মেন্টস শিল্প উত্তরোত্তর বিকশিত হয় এবং নারীরা উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। কিন্তু তাদের জীবন চলে অতিশয় সংকটের মধ্যে। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে শ্রমিকের যে মজুরি তা জীবন ধারণের জন্য অপ্রতুল। তার উপর নারী শ্রমিদের বেতন পুরুষ শ্রমিকদের তুলনায় অনেক অংশে কম। আর তারই সুযোগে শিল্প মালিকরা স্বল্পমূল্যে নারী শ্রমিকদের দিয়ে পরিচালিত করে তাদের শিল্প-কারখানাগুলো গড়ে তুলে নারীর জন্য সস্তা শ্রম বাজার। যখন বাংলাদেশ কৃষি নির্ভর অর্থনীতি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে পোশাক শিল্পে স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলছে, সাফল্যের এমন সময় পোষাক শিল্পের মূল চালিকা শক্তি যে শ্রমিক তাদের জীবন জীবিকার মান খুবই নিম্ন। শিল্প বিকাশের নামে প্রতিনিয়ত চলছে শ্রমিক নির্যাতন। তারই জ্বলন্ত প্রমাণ তাজরীন ফ্যাশন, রানা প্লাজা, ট্যাম্পাকো, ফুজি নীটওয়্যার সহ শত শত নাম। আর তার সাথে জড়িত সহস্র শ্রমিকের রক্ত ও জীবনের অগ্নিদগ্ধ চিত্র। মালিকের এই নির্মমতা আরও নগ্ন হয় নারী শ্রমিকের বেলায়। শ্রমিকেরা যে মজুরি পায় তাতে তাদের জীবনধারণ তথা পরিবারের অন্য সদস্যদের চালানো অত্যন্ত কঠিন ও পীড়াদায়ক হয়। তার পরেও জীবনধারণের তীব্র প্রয়োজনে সকল সংকট মোকাবেলা করেও তারা গার্মেন্টস শিল্পে, শ্রম দান করে। শ্রমিকদের এই সংকটময় জীবনের পরেও এই সামাজিক অবস্থানে তাদের ওপর সামাজিক, পারিবারিক বহুধা বিপত্তি চলে। দেশের প্রচলিত শম আইনে শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কে যাই কিছু বলা হয়ে থাকুক না কেন সেই সুযোগ লাভেরও পরিবেশ বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে বর্তমান নয়। সরকার আইন করে গর্ভধারিণী মায়েদের মাতৃত্বকালীন ছুটির সময় ছয় মাস নির্ধারণ করলেও তা ভোগ করার ক্ষেত্রে বেশির ভাগ নারী শ্রমিকরা বঞ্চিত হয়। কারণ যখনই কারখানা কর্তৃপক্ষ জানতে পারেন যে কোনো নারী শ্রমিক অন্তঃস্বত্তা সুকৌশলে তাকে চাকুরিচ্যুত করার দৃঢ় পন্থা অবলম্বন করা হয়। শ্রমিকদের কোনো ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ না থাকায় তাদের সচেতনতা বৃদ্ধির সুযোগ নেই। ফলে মালিক পক্ষ সম্পূর্ণভাবে শ্রমিকদের এই অসহায়ত্বের সুযোগ গ্রহণ করেন। শ্রম আইনে নারী শ্রমিকের জন্য ওভার টাইম করানোর নির্দিষ্ট সময় সীমা নির্ধারিত থাকলেও নারী শ্রমিকদের নির্বিচারে ওভার টাইম করানো হয়। এই বিষয়ে আইনসিদ্ধ কোনো নিয়ম মানার বালাই গার্মেন্টস শিল্পে নাই। বিশেষত ওভার টাইম করানোর পরেও শ্রমিকদের মজুরি দেওয়া হয় না। এক্ষেত্রে মালিকের পক্ষের ম্যানেজমেন্ট বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সততার পরিচয় দেয় না। অথচ গার্মেন্টস মালিকরা বলে থাকেন, নারী শ্রমিকরা পুরুষ শ্রমিকের চেয়ে মনোযোগী এবং কাজও ভালো করেন। পারিশ্রমিকও কম দিয়ে কাজ করানো যায়। তাই সব দিক থেকে নারী শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো সুবিধাজনক। আর এজন্যই গার্মেন্টস শিল্পে নারীদের অবদান অনস্বীকার্য। নারীদের ভূমিকা অসীম।

সুপারিশ: বাংলাদেশে পোশাক শিল্পে নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। নারীদের যথাযথ সুযোগ সুবিধা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের আরো দক্ষ করার ব্যবস্থা নিতে হবে। শ্রম আইন মেনে চলা ও কাজের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অতি জরুরি। বাংলাদেশের পোশাক শিল্প উন্নয়ন ও পোশাক শিল্পে কর্মরত নারী শ্রমিকদের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি সংস্থা ও মানবাধিকার কর্মীদের এগিয়ে আসতে হবে।

খনিজ ও শক্তি সম্পদ-মো: আবদুল কুদ্দুস স্যারে লেখা বই

শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই