মৃগয়া শব্দের দ্বারা হরিণ বোঝালে অর্থের কী ধরনের পরিবর্তন হয়?

Updated: 5 months ago
  • অর্থপ্রসার
  • অর্থসংকোচ
  • অর্থ-বদল
  • অর্থের উন্নতি
713
ব্যাখ্যাঃ

শব্দের অর্থের পরিবর্তন বিভিন্নভাবে হতে পারে, যেমন - অর্থপ্রসার, অর্থসংকোচ, অর্থ-বদল, অর্থের উন্নতি ও অর্থের অবনতি।

        
  • অর্থপ্রসার (Expansion of Meaning): যখন কোনো শব্দের অর্থ সংকীর্ণ থেকে বিস্তৃত হয়। যেমন: 'কালি' শব্দটি একসময় শুধু কালো রঙের বস্তুকে বোঝাত, এখন এটি যেকোনো রঙের তরল লেখার সামগ্রীকে বোঝায়।
  •     
  • অর্থসংকোচ (Contraction of Meaning): যখন কোনো শব্দের অর্থ বিস্তৃত থেকে সংকীর্ণ হয় বা একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি নির্দিষ্ট ধারণায় সীমাবদ্ধ হয়। যেমন: 'অন্ন' শব্দটি একসময় সকল প্রকার খাদ্যকে বোঝাত, কিন্তু বর্তমানে এটি শুধু 'ভাত' বা রান্না করা চালকে বোঝায়। একইভাবে, 'মৃগ' বলতে একসময় যেকোনো পশুকে বোঝাত, এখন শুধু 'হরিণ'কে বোঝায়।
  •     
  • অর্থ-বদল (Semantic Shift/Change): যখন কোনো শব্দের অর্থ সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং পুরনো অর্থের সাথে নতুন অর্থের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক থাকে না। যেমন: 'মন্দির' শব্দটি একসময় 'গৃহ' বা বাড়ি বোঝাত, কিন্তু বর্তমানে এটি 'দেবালয়' বা উপাসনালয় বোঝায়।
  •     
  • অর্থের উন্নতি (Elevation of Meaning): যখন কোনো শব্দের অর্থ নিচু বা সাধারণ স্তর থেকে উন্নত বা সম্মানিত স্তরে যায়। যেমন: 'মহাজন' একসময় 'মহৎ ব্যক্তি' বোঝাত, এখন সম্মানিত অর্থে 'ব্যাংকার' বা 'সুদখোর' বোঝায়।

প্রদত্ত প্রশ্নে 'মৃগয়া' শব্দের দ্বারা 'হরিণ' বোঝানো হয়েছে। 'মৃগয়া' শব্দটির আদি অর্থ হলো 'শিকার করা' বা 'মৃগ (পশু) শিকার'। কিন্তু যখন এই শব্দটি দিয়ে সরাসরি 'হরিণ' (একটি নির্দিষ্ট পশু) বোঝানো হয়, তখন এটি শিকারের মতো একটি বিস্তৃত কাজ থেকে শিকারের একটি নির্দিষ্ট বিষয় বা বস্তুর (হরিণ) দিকে সংকুচিত হয়ে যায়। এটি 'মৃগ' শব্দের অর্থসংকোচের মতো যেখানে 'মৃগ' (যেকোনো পশু) থেকে 'হরিণ' বোঝানো হয়। তাই, 'মৃগয়া' থেকে 'হরিণ' বোঝানো অর্থের অর্থসংকোচ-এর উদাহরণ।

অতএব, সঠিক উত্তর হলো অর্থসংকোচ

Satt AI
Satt AI
1 week ago

ভাষা ব্যবহারের প্রধান উদ্দেশ্য মনের ভাব প্রকাশ করা। মনের ভাব প্রকাশ করতে মানুষ শব্দ ও শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে। এগুলোর অর্থই মূলত বক্তা ও শ্রোতার মধ্যে সংযোগ ঘটায়। শব্দ ও শব্দগুচ্ছের অর্থকে বাগর্থ বলে।

 

অর্থের শ্রেণিবিভাগ

শব্দের অর্থ অন্তত দুই রকমের। কোথাও শব্দের গাঠনিক উপাদানগুলোর অর্থ প্রাধান্য পায়, আবার কোথাও গাঠনিক অর্থ ছাপিয়ে শব্দের ভিন্ন অর্থ তৈরি হয়। এই দুই ধরনের অর্থের নাম বাচ্যার্থ ও লক্ষ্যার্থ।

বাচ্যার্থ: একটি শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মনে যে ছবি বা বোধ জেগে ওঠে, সেটাই শব্দটির বাচ্যার্থ। অভিধানে অর্থ গ্রহণের বেলায় শব্দের বাচ্যার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। 'মাথা' শব্দটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ঊর্ধ্বাঙ্গের যে ছবি মনে ভেসে ওঠে, তা-ই 'মাথা' শব্দের বাচ্যার্থ। বাচ্যার্থ হলো শব্দের মুখ্য অর্থ। এই অর্থকে আক্ষরিক অর্থও বলা হয়ে থাকে।

 

লক্ষ্যার্থ: একটি শব্দের বাচ্যার্থের বাইরেও আলাদা অর্থ তৈরি হতে পারে। এই আলাদা অর্থের নাম লক্ষ্যার্থ। যেমন: 'তিনি গ্রামের মাথা' এখানে 'মাথা' শব্দ শোনার পরে শ্রোতার মনে শরীরের ঊর্ধ্বাঙ্গের কোনো ছবি ভেসে ওঠে না, মাননীয় কোনো ব্যক্তির ছবি ভেসে ওঠে। লক্ষ্যার্থকে গৌণার্থ বা লাক্ষণিক অর্থ বলা হয়ে থাকে।

শব্দের অর্থ পরিবর্তন

ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন প্রক্রিয়ায় শব্দের অর্থ কখনো প্রসারিত হয়, কখনো সংকুচিত হয়; কখনো অর্থের উন্নতি ঘটে, কখনো অবনতি ঘটে; আবার শব্দ কখনো সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ গ্রহণ করে। অর্থের এসব পরিবর্তন প্রক্রিয়াকে নিম্নোক্ত ভাগে ভাগ করা যেতে পারে।

অর্থপ্রসার: একটি শব্দ পূর্বে যে অর্থ প্রকাশ করতো, তার থেকে আরো ব্যাপক অর্থ প্রকাশ করলে বুঝতে হয় অর্থপ্রসার ঘটেছে। যেমন 'অঞ্চল' শব্দের মূল অর্থ শাড়ির পাড়। অঞ্চল থেকে উদ্ভুত আঁচল শব্দটি এখনও তা নির্দেশ করে। তবে অঞ্চল শব্দটি এখন শাড়ির পাড় নির্দেশের পাশাপাশি এলাকা অর্থে ব্যবহৃত হয়। একইভাবে 'বর্ষ' শব্দের পূর্ববর্তী অর্থ বর্ষাকাল, প্রসারিত অর্থ 'বছর' (ছয় ঋতু সংবলিত)।

অর্থসংকোচ: অর্থসংকোচের ফলে একটি শব্দের পূর্ববর্তী অর্থের ব্যাপ্তি কমে। যেমন এক সময়ে 'মৃগ' শব্দের দ্বারা সকল পশুকে বোঝানো হতো। এর উদাহরণ পাওয়া যায় 'মৃগয়া', 'মৃগরাজ' প্রভৃতি শব্দের অর্থে। শব্দ দুটির অর্থ যথাক্রমে পশুশিকার ও পশুদের রাজা। কিন্তু অর্থ সংকোচনের ফলে 'মৃগ'র অর্থ দাঁড়িয়েছে কেবল হরিণ। আবার এক সময়ে 'অন্ন' বলতে বোঝানো হতো যে-কোনো খাদ্য (মিষ্টান্ন, পলান্ন)। কিন্তু এখন 'অন্ন' বলতে বোঝানো হয় ভাত।

অর্থের উন্নতি: একটি শব্দের অর্থ আগের চেয়ে ভালো অর্থ ধারণ করতে পারে। অর্থের এরূপ পরিবর্তনকে বলা হয় অর্থের উন্নতি। যেমন 'অপরূপ' শব্দটি পূর্বে নির্দেশ করত শ্রীহীনতাকে, এখন এটি অনির্বচনীয় সৌন্দর্যকে নির্দেশ করে। কিংবা 'সাহস' শব্দের পূর্বতন অর্থ চুরি, ডাকাতি প্রভৃতি কাজ কিন্তু বর্তমান অর্থ নির্ভীকতা, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে উদ্যম।

অর্থের অবনতি: ইতিবাচক অর্থের শব্দ নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হওয়াকে অর্থের অবনতি বলে। যেমন, দ্বন্দ্ব শব্দের অর্থ ছিল মিলন (দ্বন্দ্ব সমাস), এখন এর অর্থ বিরোধ। কিংবা 'জেঠামি' শব্দটি জেঠা-সংশ্লিষ্ট হয়ে সম্মানিত বোঝাতে পারত। কিন্তু তা ব্যবহৃত হয় 'পাকামি' অর্থে বা হেয়-অর্থে 'জ্যাঠার ভাব' বোঝাতে। বাংলাদেশে 'রাজাকার' শব্দটি এভাবে নেতিবাচক অর্থ লাভ করেছে।

অর্থ-বদল: অর্থের সংকোচন ও প্রসারণের ফলে কখনো শব্দের অর্থটি এমন দূরবর্তী হয়ে ওঠে যে, তা থেকে শব্দটির মূল অর্থ উদ্‌ঘাটন করা কঠিন হয়ে পড়ে। 'পাষণ্ড' শব্দের অর্থ ছিল ধর্মসম্প্রদায়। তবে পরিবর্তিত হয়ে এর অর্থ দাঁড়িয়েছে ধর্মদ্রোহী উৎপীড়ক কিংবা নিষ্ঠুর। আবার 'গবাক্ষ' শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ গরুর চোখ। এখন 'গবাক্ষ' শব্দের অর্থ হয়েছে জানালা।

বাক্যে অর্থ পরিবর্তন

শব্দের অর্থগত পরিবর্তন কেবল রূপমূলের অর্থের মধ্যে সীমিত থাকে না। বাক্যে প্রয়োগভেদে শব্দের নানারকম অর্থ-বৈচিত্র্য তৈরি হতে পারে। তাছাড়া এমনিতেও একটি শব্দের দ্বি-অর্থবাচকতা বা বহু- অর্থবাচকতা থাকতে পারে। এমনকি বাকভঙ্গির কারণে অর্থ-ভিন্নতা পাওয়া যায়।

উদাহরণ: ১. 

(ক) সে মাথায় আঘাত পেয়েছে। 

(খ) তিনি আমাদের গ্রামের মাথা। 

(গ) সে রাস্তার মাথায় অপেক্ষা করছে। 

(ঘ) আদর দিয়ে দিয়ে ছেলেটাকে মাথায় তুলেছ!

২. (ক) সে আমাদের রক্ষাকর্তা। 

(খ) হ্যাঁহ্, সে আমাদের রক্ষাকর্তা বটে!

দাগ-অঙ্কিত শব্দগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, উদাহরণ ১-এ 'মাথা' শব্দটি বাক্যের প্রেক্ষাপটে নানা রকম অর্থ তৈরি করেছে। উদাহরণ ২-এ বাকভঙ্গির কারণে এক বাক্যই ভিন্ন অর্থ উৎপাদন করছে। আসলে শব্দের অর্থ-বৈচিত্র্যের ব্যাপারটিকে সূত্র বা নিয়ম দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না।

Related Question

View All
  • শব্দার্থ
  • লক্ষ্যার্থ
  • বাচ্যার্থ
  • বাগর্থ
670
  • মুখ্য
  • গৌণ
  • প্রত্যক্ষ
  • পরোক্ষ
648
  • লক্ষ্যার্থ
  • আক্ষরিক অর্থ
  • গাঠনিক অর্থ
  • বাগর্থ
686
  • অর্থপ্রসার
  • অর্থসংকোচ
  • অর্থের উন্নতি
  • অর্থের অবনতি
633
  • অর্থ প্রসার
  • অর্থ বদল
  • অর্থের উন্নতি
  • অর্থ সংকোচ
3k
Updated: 1 year ago
  • নিৰ্ভীক
  • ডাকাতি
  • নিৰ্ভীকতা
  • আসল
815
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই