রাষ্ট্রীয় কারবারের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো-

Updated: 1 year ago
  • ক
    জনকল্যাণ
  • খ
    সরকারি কর্মচারীদের কল্যাণ সাধন
  • গ
    মুনাফা অর্জন
  • ঘ
    সদস্যদের আর্থিক কল্যাণ
104
ব্যাখ্যাঃ

রাষ্ট্রীয় কারবার (State-owned enterprise) হলো সরকারের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মুখ্য উদ্দেশ্য যেখানে মুনাফা অর্জন, সেখানে রাষ্ট্রীয় কারবারের প্রধান উদ্দেশ্য হলো জনকল্যাণ সাধন। সরকার জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিতকরণ এবং সমাজে স্থিতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় কারবার স্থাপন করে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়শই এমন সব খাতে পরিচালিত হয় যেখানে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ পর্যাপ্ত নয় অথবা যেখানে জনস্বার্থে সেবার মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

অন্যান্য অপশনগুলো বিবেচনা করলে:

  • সরকারি কর্মচারীদের কল্যাণ সাধন: এটি একটি অভ্যন্তরীণ লক্ষ্য হতে পারে, কিন্তু এটি রাষ্ট্রীয় কারবারের মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। কর্মচারীদের কল্যাণ সাধন জনকল্যাণেরই একটি অংশ, কিন্তু সামগ্রিক উদ্দেশ্য জনকল্যাণ।
  • মুনাফা অর্জন: যদিও কিছু রাষ্ট্রীয় কারবার মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করে, তবে এটি সাধারণত তাদের গৌণ উদ্দেশ্য। জনকল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য অনেক সময় রাষ্ট্রীয় কারবার লোকসান দিয়েও সেবা প্রদান করে থাকে।
  • সদস্যদের আর্থিক কল্যাণ: এই উদ্দেশ্যটি সাধারণত সমবায় সমিতি (cooperative society) বা সদস্য-ভিত্তিক সংগঠনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, রাষ্ট্রীয় কারবারের ক্ষেত্রে নয়। রাষ্ট্রীয় কারবারের সদস্য বলতে সাধারণ জনগণকেই বোঝায়, যাদের সামগ্রিক কল্যাণই মুখ্য উদ্দেশ্য।

অতএব, রাষ্ট্রীয় কারবারের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো জনকল্যাণ।

Satt AI
Satt AI
3 months ago

সমাজতান্ত্রিক অর্থ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় কারবারের প্রচলন বেশি। ধনতান্ত্রিক অর্থ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় প্রায় ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়। রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় উদ্দেশ্যগত দিক থেকে অন্যান্য ব্যবসায়ের চেয়ে ভিন্ন । অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের প্রধান উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন নয়। বিশেষ কিছু উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ ব্যবসায় গঠিত ও পরিচালিত হয়।

  • জনকল্যাণ (Public Welfare): জনকল্যাণকে প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে দাঁড় করিয়ে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় গঠিত ও পরিচালিত হয়। ব্যবসায়িক কার্যকলাপের মাধ্যমে মুনাফা অর্জিত হলেও সে মুনাফা আবার জনগণের কল্যাণেই খরচ করা হয়।
  • নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা (Maintenance of Secrecy & Security): বিশেষ কিছু খাতের গোপনীয়তা রক্ষা করা খুবই জরুরি। যেমন-প্রতিরক্ষা খাত, নোট ইস্যু ইত্যাদি। আর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার নিরিখে ঐ ধরনের খাতগুলো সরকারি মালিকানায় পরিচালিত হয়।
  • একচেটিয়া ব্যবসায় রোধ ( Prevention of monopoly business): একচেটিয়া ব্যবসায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ব্যক্তি মালিকগণ যাতে সমাজে অশুভ প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন বা স্বেচ্ছাচারী হওয়ার সুযোগ না পান তা রোধের উদ্দেশ্যেও অনেক সময় ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় গড়ে তোলা হয়।
  • দ্রুত শিল্পায়ন (Rapid industrialisation): দ্রুত শিল্পায়নের জন্য উদ্যোগ, পুঁজি ও ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা উদ্যোক্তাদের মাঝে থাকতে হয়। অথচ উন্নয়নশীল দেশসমূহের ব্যবসায়ীদের মাঝে এর অভাব থাকায় শিল্পায়ন ব্যাহত হয়। তাই সরকার সরাসরি উদ্যোগ গ্রহণ করে দেশে দ্রুত শিল্পায়নের জন্য এরূপ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠা করে ।
    আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ (Control of import and export): দেশের আমদানি ও রপ্তানির উপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার উদ্দেশ্যেও কিছু কিছু বাণিজ্যিক সরকারি মালিকানায় গঠন ও পরিচালনা করা হয় । আমাদের দেশে টি.সি.বি. এরূপ প্রতিষ্ঠানের একটি উদাহরণ।
  • জাতীয় আয় বৃদ্ধি (Increasing national income): সরকারি মালিকানায় শিল্প-বাণিজ্য পরিচালনা করা হলে পুঁজিগত সুবিধার কারণে এর দ্রুত উন্নয়ন ঘটে। তদুপরি এরূপ প্রতিষ্ঠানের কর বা রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা না থাকায় সহজেই জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায় ।
  • ভারী ও মৌলিক শিল্প প্রতিষ্ঠা (Establishing basic and heavy industries ): মূলধন সংস্থানের সীমাবদ্ধতা, অধিক ঝুঁকি এবং মূলধন প্রত্যাবর্তনে বা মুনাফা প্রাপ্তিতে বিলম্বের কারণে ব্যক্তিমালিকগণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মৌলিক ও ভারী শিল্পে বিনিয়োগ করতে চান না। অথচ শিল্পের বুনিয়াদ সৃষ্টির লক্ষ্যে এরূপ খাতে বিনিয়োগ একান্ত অপরিহার্য। তাই এধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেও রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় গঠন করা হয়।
  • গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ ও ক্ষতিকারক পণ্য নিয়ন্ত্রণ (Control of essential drug, herbal and harmful products): গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ ও ক্ষতিকারক পণ্যের উৎপাদন ও বন্টন বেসরকারি খাতে অর্পণ করলে তার অপব্যবহারের সম্ভাবনা বেশি থাকে। যেমন-জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, আফিম, মদ ইত্যাদি। তাই যাতে এসব পণ্যের অন্যায় উৎপাদন ও বণ্টন হতে না পারে তজ্জন্য রাষ্ট্রীয় মালিকানায় এরূপ পণ্যের ব্যবসায় করা যেতে পারে।

উপসংহারে বলা যায়, রাষ্ট্রীয়করণকৃত অথবা রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত যে সকল শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মালিকানা, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারি আওতাধীনে থাকে তাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় বলে । মুনাফা অর্জন এ ব্যবসায়ের মূল উদ্দেশ্য নয়; মূল উদ্দেশ্য হলো জনকল্যাণ ।

Related Question

View All
  • ক
    মুনাফা অর্জন
  • খ
    জনকল্যাণ
  • গ
    রাজস্ব বৃদ্ধি
  • ঘ
    সরকারি নিয়ন্ত্রণ
545
  • ক
    সমবায় সমিতি
  • খ
    ব্যবসায় জোট
  • গ
    অংশীদারি ব্যবসায়
  • ঘ
    রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়
287
  • ক
    মুনাফা অর্জন
  • খ
    ঝুঁকি বহন
  • গ
    জনকল্যাণ
  • ঘ
    অপচয় বৃদ্ধি
1.4k
  • ক
    উৎপাদন বৃদ্ধি করা
  • খ
    সম্পদ বৃদ্ধি করা
  • গ
    অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করা
  • ঘ
    জনকল্যাণ নিশ্চিত করা
278
  • ক
    মুনাফা অর্জন
  • খ
    একচেটিয়া ব্যবসায় রোধ
  • গ
    জনকল্যাণ সাধন
  • ঘ
    মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ
286
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই