লেজার আলো একটি প্রিজমের ভিতর দিয়ে গেলে কী ঘটে?

Updated: 9 months ago
  • ক
    অপবর্তন ঘটে
  • খ
    সাতটি রঙে বিভক্ত হয়
  • গ
    বিভিন্ন রঙে বিভক্ত হয় না
  • ঘ
    সম্পূর্ণভাবে শোষিত
  • ঙ
    পূর্ণঅভ্যন্তরীন প্রতিফলন ঘটে
561
ব্যাখ্যাঃ

একটি প্রিজমের মধ্য দিয়ে আলো গেলে আলোর প্রতিসরণ (refraction) ঘটে। সাদা আলো (যা বহু রঙের আলোর সমষ্টি) যখন প্রিজমের মধ্য দিয়ে যায়, তখন এটি তার উপাদান রঙগুলোতে (যেমন - বেগুনী, নীল, আকাশি, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল - এই সাতটি রঙে) বিভক্ত হয়ে যায়। আলোর এই বিভাজনকে আলোর বিচ্ছুরণ (dispersion) বলা হয়। এর কারণ হলো, প্রিজমের উপাদানের মধ্য দিয়ে আলোর বিভিন্ন রঙের গতিবেগ ভিন্ন ভিন্ন হয়, ফলে তাদের প্রতিসরণাঙ্কও ভিন্ন হয় এবং তারা ভিন্ন ভিন্ন কোণে বেঁকে যায়।

তবে, লেজার আলো হলো একরঙা (monochromatic) আলো, অর্থাৎ এটি শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো নিয়ে গঠিত। যেহেতু লেজার আলোতে বিচ্ছুরিত হওয়ার মতো বিভিন্ন উপাদান রঙ থাকে না, তাই এটি প্রিজমের মধ্য দিয়ে গেলে বিভিন্ন রঙে বিভক্ত হয় না। এটি শুধুমাত্র প্রতিসরিত (refracted) হয়, অর্থাৎ এর গতিপথ পরিবর্তিত হয়, কিন্তু এটি তার একরঙা বৈশিষ্ট্য বজায় রাখে এবং একটি একক রশ্মি হিসেবেই প্রিজম থেকে নির্গত হয়।

        
  • অপশন ১: অপবর্তন ঘটে (Diffraction occurs) - অপবর্তন হলো আলোর বেঁকে যাওয়া বা ছড়িয়ে পড়া যখন এটি একটি ছোট ছিদ্র বা ধারালো প্রান্তের পাশ দিয়ে যায়। প্রিজমের মাধ্যমে আলোর বিচ্ছুরণই প্রধান ঘটনা, অপবর্তন এখানে গৌণ এবং লেজার আলোর ক্ষেত্রে রঙে বিভক্ত না হওয়ার মূল কারণ নয়।
  •     
  • অপশন ২: সাতটি রঙে বিভক্ত হয় (Divides into seven colors) - এটি সাদা আলোর ক্ষেত্রে ঘটে, লেজার আলোর ক্ষেত্রে নয়, কারণ লেজার আলো একরঙা।
  •     
  • অপশন ৪: সম্পূর্ণভাবে শোষিত (Completely absorbed) - স্বচ্ছ প্রিজমের মধ্য দিয়ে আলো সাধারণত সম্পূর্ণভাবে শোষিত হয় না। কিছু অংশ শোষিত হতে পারে, কিন্তু এটি মূল ঘটনা নয়।
  •     
  • অপশন ৫: পূর্ণঅভ্যন্তরীন প্রতিফলন ঘটে (Total internal reflection occurs) - পূর্ণঅভ্যন্তরীন প্রতিফলন ঘটে যখন আলো ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে সংকট কোণের চেয়ে বড় কোণে আপতিত হয়। প্রিজমের মাধ্যমে আলো পার হওয়ার সময় সাধারণত পূর্ণঅভ্যন্তরীন প্রতিফলন ঘটে না, এটি অন্য শর্তাধীন একটি ঘটনা।

সুতরাং, লেজার আলো প্রিজমের মধ্য দিয়ে গেলে বিভিন্ন রঙে বিভক্ত হয় না, কারণ এটি একরঙা আলো।

Satt AI
Satt AI
3 months ago

    আমরা দেখেছি যে, সূর্যের সাদা আলো যদি কোনো কাচের প্রিজমের মধ্য দিয়ে যায় তাহলে তা সাতটি রঙে বিশ্লিষ্ট হয় । প্রিজম থেকে নির্গত রশ্মিগুলোকে যদি কোনো পর্দার উপর ফেলা যায় তাহলে পর্দায় সাতটি রঙের পট্টি (Band) দেখা যায়। আলোর এই রঙিন পট্টিকে বর্ণালি (Spectrum) বলে। প্রিজমের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় সাদা রঙের আলো সাতটি মূল রঙের আলোকে বিশ্লিষ্ট হওয়ার প্রণালিকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে। 

    কোনো মাধ্যমে প্রতিসরণের ফলে যৌগিক আলো থেকে মূল বর্ণের আলো পাওয়ার পদ্ধতিকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে।

পরীক্ষা : 

 ৷ ১৬৬৬ সালে স্যার | আইজ্যাক নিউটন একটি সহজ পরীক্ষার সাহায্যে সর্বপ্রথম আলোর বিচ্ছুরণ আবিষ্কার করেন। তিনি তাঁর ঘরের জানালায় একটি ছোট ছিদ্র করে এই পরীক্ষা করেন। অন্ধকার ঘরে জানালার এই ছোট ছিদ্র দিয়ে সূর্যালোক বিপরীত দিকে দেওয়ালের উপর পড়ে। এখন  আলোর গতিপথে একটি প্রিজম স্থাপনকরে তিনি দেওয়ালে সাদা আলোর পরিবর্তে সাতটি রং দেখতে পান [চিত্র ৬.২০)। সাতটি রঙের এই পট্টিকে নিউটন  বর্ণালি আখ্যা দেন। 

চিত্র : ৬.২০

বর্ণালিতে তিনি বেগুনি (Violet), নীল (Indigo), আসমানী (Blue), সবুজ (Green), | হলুদ (Yellow), কমলা (Orange) ও লাল (Red)-এ সাতটি রং পর পর দেখতে পান। রংগুলোর নাম ও ক্রম | সহজে মনে রাখার জন্য এদের নামের আদ্যাক্ষরগুলো নিয়ে ইংরেজিতে VIBGYOR ও বাংলায় বেনীআসহকলা শব্দ গঠন করা হয়।

      বর্ণালি থেকে দেখা যায় যে, লাল রঙের আলোর বিচ্যুতি সবচেয়ে কম এবং বেগুনি আলোর বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি। হলুদ রঙের আলোর বিচ্যুতি লাল ও বেগুনি আলোর মাঝামাঝি বলে এর বিচ্যুতিকে গড় বিচ্যুতি বলে এবং হলুদ রশ্মিকে মধ্যরশ্মি বলে।

   এ পরীক্ষা থেকে নিউটন এই সিদ্ধান্তে আসেন যে, সূর্যের সাদা আলোর প্রকৃতি যৌগিক (Composite) এবং এই আলো সাতটি মূল রঙের আলোর সমষ্টি।

নিজে কর : কোনো সরু ছিন্ন পথে আসা সাদা আলোকে একটি প্রিজমের সাহায্যে সাতটি রঙে বিশ্লিষ্ট করে বর্ণালি গঠন কর।

 

  বর্ণালি উৎপত্তির কারণ

      কোন মাধ্যমে প্রতিসরণের ফলে যৌগিক আলোর বিচ্ছুরণের জন্য মূল রংগুলোর যে পট্টি পাওয়া যায় তাকে বর্ণালি বলে।

        আমরা জানি, আলোক রশ্মি যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অপর স্বচ্ছ মাধ্যমে প্রবেশ করে তখন আলোক রশ্মি বিভেদতলে বেঁকে যায় । এই বাঁকার পরিমাণ মাধ্যমম্বরের প্রকৃতি ও আলোর রঙের উপর নির্ভর করে। সূর্যের সাদা আলো সাতটি রঙের সমন্বয়ে সৃষ্টি তাই যখন সূর্যের সাদা আলো কোনো প্রিজমের মধ্যে প্রবেশ করে তখন প্রতিসরণের ফলে রশ্মির গতিপথ বেঁকে যায়। এখন ভিন্ন ভিন্ন বর্ণের আলোর বাঁকার পরিমাণ ভিন্ন হওয়ার জন্য প্রিজমের মধ্যে সাদা আলো সাতটি বর্ণে বিশ্লিষ্ট হয় এবং এই বিশ্লিষ্ট অবস্থায়ই প্রিজম থেকে নির্গত হয়। ফলে পর্দার উপর আমরা বর্ণালি দেখতে পাই । এখন প্রশ্ন হচ্ছে বর্ণভেদে আলোক রশ্মির বাকার পরিমাপ বিভিন্ন কেন? শূন্য মাধ্যমে সবক'টি বর্ণের আলোক রশ্মি একই বেগে চলে। কিন্তু অন্য যে কোনো মাধ্যমে এক এক বর্ণের আলোর বেগ এক এক রকমের হয়। যেমন কাচের মধ্যে লাল রঙের আলোর বেগ, বেগুনি রঙের আলোর বেগের প্রায় 1.8 গুণ বেশি। তাই বেগুনি আলো সবচেয়ে বেশি এবং লাল আলো সবচেয়ে কম বাঁকে। ফলে বর্ণালি উৎপন্ন হয়। এ কারণে একই মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক ভিন্ন ভিন্ন রঙের জন্য বিভিন্ন হয়। সুতরাং বলা যায়, বিভিন্ন বর্ণের আলোর জন্য মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্কের বিভিন্নতার জন্য বর্ণালি উৎপন্ন হয়।

কৌণিক বিচ্ছুরণ ও বিচ্ছুরণ ক্ষমতা

সরু প্রিজমের মধ্য দিয়ে একবর্ণের রশ্মি নির্গত হলে ঐ রশ্মির বিচ্যুতি,

δ = (μ - 1 ) A..(6.26)

এখানে, A= প্রিজমের প্রতিসরক কোণ 

μ= ঐ বর্ণের আলোর সাপেক্ষে প্রিজমের প্রতিসরাঙ্ক

এখন একটি পাতলা প্রিজমের ওপর সাদা আলো আপতিত হয়ে নির্গত হলে আলোক রশ্মি লাল থেকে বেগুনি পর্যন্ত সাতটি বর্ণের রশ্মিতে বিচ্ছুরিত হয় এবং প্রত্যেক রশ্মির বিচ্যুতিও ভিন্ন হয়। লাল ও বেগুনি আলোর জন্য বিচ্যুতি যথাক্রমে δ1, ও δ2, হলে,

δ =(μr- 1 ) A.. (6.27)

এখানে, μ1ও μ2যথাক্রমে লাল ও বেগুনি আলোর সাপেক্ষে প্রিজমের উপাদানের প্রতিসরাঙ্ক। লাল ও বেগুনি

আলোর মধ্যবর্তী বিচ্যুতিকে কৌশিক কিছুরণ বলে।

বিচ্ছুরণের মান প্রিজম উপাদানের প্রতিসরাঙ্কের উপর নির্ভর করে।

প্রতিসরাঙ্ক যত বেশি হবে বিচ্ছুরণের পরিমাণও তত বেশি হবে। বিভিন্ন পদার্থের তৈরি প্রিজমের বিচ্ছুরণ ঘটানোর ক্ষমতাও বিভিন্ন।

Related Question

View All
Updated: 5 months ago
  • ক
    VIBGYOR
  • খ
    লাল (Red)
  • গ
    লাল (Red) ও সবুজ (Green)
  • ঘ
    লাল, সবুজ ও নীল (Red, Green, Blue)
115
  • ক
    ব্যতিচার
  • খ
    বিচ্ছুরণ
  • গ
    সমবর্তন
  • ঘ
    অপবর্তন
76
Updated: 1 week ago
  • ক
    নীল
  • খ
    বেগুনি
  • গ
    সাদা
  • ঘ
    কালো
128
Updated: 1 week ago
  • ক
    কমলা
  • খ
    লাল
  • গ
    বেগুনি
  • ঘ
    হলুদ
403
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই