শব্দ কত প্রকার?

Updated: 8 months ago
208
ব্যাখ্যাঃ

শব্দকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ভাগ করা যায়। যেমন, গঠন অনুসারে শব্দ দুই প্রকার (মৌলিক ও সাধিত), উৎস অনুসারে শব্দ পাঁচ প্রকার (তৎসম, অর্ধ-তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি) এবং অর্থ অনুসারে শব্দ তিন প্রকার। সাধারণত 'শব্দ কত প্রকার' বলতে অর্থের দিক থেকে শব্দের প্রকারভেদকেই বোঝানো হয়ে থাকে।

অর্থ অনুসারে শব্দ প্রধানত তিন প্রকার, যথা:

        
  • ১. যৌগিক শব্দ: যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ (মূল ও প্রত্যয় বা প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের যোগফল) এবং ব্যবহারিক অর্থ একই থাকে, তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
    উদাহরণ:         
                  
    • গায়ক (গৈ + অক) = যে গান করে।
    •             
    • কর্তব্য (কৃ + তব্য) = যা করা উচিত।
    •             
    • দোঁহেলা = যাকে দোহন করা হয়, অর্থাৎ গাভী।
    •         
        
  •     
  • ২. রূঢ় বা রুঢ়ি শব্দ: প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগে গঠিত যে সকল শব্দ তাদের মূল বা ব্যুৎপত্তিগত অর্থকে সম্পূর্ণ বর্জন করে একটি বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তাদের রূঢ় বা রুঢ়ি শব্দ বলে।
    উদাহরণ:         
                  
    • তৈল (তিল + স্ণ) = তিল থেকে জাত স্নেহ পদার্থ। কিন্তু বর্তমানে শুধু তিল থেকে উৎপন্ন স্নেহ পদার্থ নয়, যেকোনো শস্য থেকে উৎপন্ন স্নেহ পদার্থকে ‘তৈল’ বলা হয়।
    •             
    • বাঁশি (বাঁশ + ই) = বাঁশ দিয়ে তৈরি বাদ্যযন্ত্র। এখানে ‘বাঁশ’ থেকে ‘বাঁশি’ শব্দটি বিশেষ বাদ্যযন্ত্র অর্থ প্রকাশ করে।
    •         
        
  •     
  • ৩. যোগরূঢ় শব্দ: সমাসবদ্ধ পদ যখন তার সমস্যমান পদসমূহের আক্ষরিক বা সাধারণ অর্থ প্রকাশ না করে কোনো বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে যোগরূঢ় শব্দ বলে।
    উদাহরণ:         
                  
    • পঙ্কজ = পঙ্কে জন্মে যা (সাধারণ অর্থ), কিন্তু এর বিশেষ অর্থ হলো 'পদ্মফুল'।
    •             
    • মহাযাত্রা = মহা যে যাত্রা (সাধারণ অর্থ), কিন্তু এর বিশেষ অর্থ হলো 'মৃত্যু'।
    •             
    • জলধি = জল ধারণ করে যা (সাধারণ অর্থ), কিন্তু এর বিশেষ অর্থ হলো 'সাগর'।
    •         
        
Satt AI
Satt AI
1 week ago

শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ। বাক্যে ব্যবহৃত শব্দ বা পদকে সাধারণত আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো যথাক্রমে বিশেষ্য, সর্বনাম, ক্রিয়াবিশেষণ অব্যয়, ক্রিয়া বিশেষণ, অনুসর্গ, যোজক ও আবেগ। নিচে এগুলা আলোচনাচনা করা হলা

১) বিশেষ্য: যে-শব্দের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নামকে বোঝায় তা-ই বিশেষ্য। যেমন- মানুষ, বাঙালি, রাস্তা, উৎসব ইত্যাদি।
২) সর্বনাম: বিশেষ্যের পরিবর্তে যা ব্যবহৃত হয় তা-ই সর্বনাম। যেমন-
অনন্যা ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে।
সে দুই কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে আসে।
তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু পান্না।
তারা শিক্ষা সফরে গিয়েছিল।
উদাহরণে অনন্যার পরিবর্তে 'সে', 'তার' ও 'তারা' ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলা ভাষায় এজাতীয় সর্বনাম আরও রয়েছে। যেমন- আমি, আমরা, আমার, আমাদের, তুমি, তোমার, তোমাকে, আপনি, আপনার, আপনাকে, তুই, তোর, তোকে, তার, তাকে, তিনি, তাঁর, তাঁকে ইত্যাদি।
৩) বিশেষণ: যে-শব্দের মাধ্যমে বিশেষ্য বা সর্বনামের গুণ, অবস্থা বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায় তাকে বলে বিশেষণ। যেমন- বিশাল দিঘি; উঁচু বাঁধানো পুকুর; হরেক রকম পাছপালা, ঘন ঝোপ-জঙ্গলে আচ্ছন্ন পরিবেশ; পাথর-বাঁধানো ঘাট।

৪) ক্রিয়া: যে শব্দের দ্বারা কোনো কাজ করাকে বোঝায়, তাকে ক্রিয়া বলে। যেমন-
লিটন বই পড়ে।
সাকিব বল খেলেছিল।
কণা রবীন্দ্রসংগীত শোনাবে।

উপরের বাক্য তিনটিতে 'পড়ে', 'খেলেছিল', 'শোনাবে'- এ- তিনটি শব্দ কোনো-না-কোনো কাজ করাকে বোঝায়। ক্রিয়া প্রধানত দু প্রকার- (ক) সমাপিকা ক্রিয়া ও (খ) অসমাপিকা ক্রিয়া।

ক) সমাপিকা ক্রিয়া: যে-ক্রিয়া বাক্যের বা বক্তার মনোভাবের পূর্ণতা ও পরিসমাপ্তি প্রকাশ করে, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন- সে গান গাইবে; তুমি বিদ্যালয়ে গিয়েছিলে; আমি বই পড়েছি
খ) অসমাপিকা ক্রিয়া: যে-ক্রিয়া দ্বারা কাজের বা অর্থের অপূর্ণতা বা অসমাপ্তি বোঝায় তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন- আমার যাওয়া হবে না; আমি ভাত খেয়ে বাজারে যাব; আমাকে আমার মতো চলতে দাও।
৫) ক্রিয়া বিশেষণ: যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। যেমন:
ছেলেটি ভালো খেলে।
মেয়েটি দ্রুত হাটে।
লোকটি শান্তভাবে কাজ করে।

৬) অনুসর্গ: যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
৭) যোজক: পদ ও বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। যেমন: এবং, ও, আর, কিন্তু, তবু ইত্যাদি।
৮) আবেগ: যেসব শব্দ দিয়ে মনের বিচিত্র আবেগ বা অনুভূতিকে প্রকাশ করা হয়, সেগুলোকে আবেগ শব্দ বলে। যেমন: বাহ্, বেশ, শাবাস, ছি ছি ইত্যদি।

Related Question

View All
Updated: 10 months ago
  • আগুন
  • আগ্নেয়
  • হুতাশন
  • বহ্নি
269
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই