ডিজিটাল সিগন্যালে উচ্চ ভোল্টেজ স্তর (High Level) বাইনারি '1' নির্দেশ করে এবং নিম্ন ভোল্টেজ স্তর (Low Level) বাইনারি '0' নির্দেশ করে। প্রদত্ত সিগন্যালটিকে বাম থেকে ডানে পাঠ করে এর সমকক্ষ বাইনারি মান নির্ণয় করা যায়।
সিগন্যালটির প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
সিগন্যালটি প্রথমে একটি নিম্ন স্তরে (Low Level) থাকে, যা অনেক সময় ডেটার অংশ হিসেবে ধরা হয় না, বরং এটি একটি নিস্ক্রিয় অবস্থা (idle state) নির্দেশ করে। ডেটা সাধারণত প্রথম সক্রিয় উচ্চ স্তর (active high level) থেকে শুরু হয়।
সিগন্যালটি প্রথমবার উচ্চ স্তরে (High Level) ওঠে। এটি প্রথম বাইনারি বিট '1'।
এটি সেই উচ্চ স্তরেই (High Level) থাকে। এটি দ্বিতীয় বাইনারি বিট '1'।
এরপর সিগন্যালটি নিম্ন স্তরে (Low Level) নেমে আসে। এটি তৃতীয় বাইনারি বিট '0'।
এটি সেই নিম্ন স্তরেই (Low Level) থাকে। এটি চতুর্থ বাইনারি বিট '0'।
এরপর সিগন্যালটি আবার উচ্চ স্তরে (High Level) ওঠে। এটি পঞ্চম বাইনারি বিট '1'।
এটি সেই উচ্চ স্তরেই (High Level) থাকে। এটি ষষ্ঠ বাইনারি বিট '1'।
সবশেষে সিগন্যালটি নিম্ন স্তরে (Low Level) নেমে আসে। এটি সপ্তম বাইনারি বিট '0'।
এই ক্রম অনুযায়ী, সিগন্যালটির সমকক্ষ বাইনারি মান হলো 1100110।
কমিউনিকেশন বা যোগাযোগ হলো তথ্য আদান প্রদানের জন্য দুটি পয়েন্টের মধ্যে সংযোগ বা লিংক স্থাপনের প্রক্রিয়া। অর্থাৎ প্রেরণকারী ও গ্রহণকারীর মধ্যে নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে ডেটা আদান-প্রদানের একটি ব্যবস্থা। 2.1 চিত্রে একটি ইলেকট্রনিক ডেটা কমিউনিকেশন পদ্ধতির গঠন দেখানো হয়েছে।
এখানে দেখা যাচ্ছে যে ডেটা কমিউনিকেশনের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করে উৎস হতে শব্দ, প্রতীক, ভগ, ছবি ইত্যাদি একটি মাধ্যম হয়ে গন্তব্যে পৌঁছে। এ প্রক্রিয়ায় একটি ট্রান্সমিটার বা প্রেরক যন্ত্র এবং একটি রিসিভার বা গ্রাহক যন্ত্র প্রয়োজন হয়। উৎস বা সোর্স হতে প্রাপ্ত ডেটাকে ইনপুট ট্রান্সডিউসারের মাধ্যমে ইলেকট্রিক সংকেতকে আলোক সংকেতও হতে পারে) রূপাক্ষর করে ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে মিডিয়ামে (তার বা তারবিহীন) পাঠায়। এরপর মিডিয়াম হতে রিসিভার ইলেকট্রিক সংকেতকে আউটপুট ট্রান্সডিউসারের মাধ্যমে পূণরায় রূপান্তর করে গন্তব্য বা ডেস্টিনেশনে পৌঁছে দেয়। এখানে প্রাপ্ত ডেটা উৎস ডেটার ন্যায় হয়ে থাকে। উল্লেখ থাকে উৎস হতে গন্তব্যে ডেটা প্রেরণের সময় মিডিয়ামে নয়েজ (বিক্ষিপ্তভাবে অপ্রত্যাশিত ইলেকট্রিক সংকেত) যুক্ত হতে পারে যা সংশোধনের ব্যবস্থা থাকে ।
ডেটা কমিউনিকেশনে ব্যবহৃত উপাদানগুলোর উদাহরণ:
১. উৎস বা সোর্স (তথ্য উৎস ও ইনপুট ট্রান্সডিউসার)- মাইক্রোফোন, ক্যামেরা, কীবোর্ড ইত্যাদি।
২. ট্রান্সমিটার বা প্রেরক যন্ত্র - বেতার কেন্দ্র, টেলিভিশন কেন্দ্র, টেলিফোন, মোবাইল ফোন, মডেম, রাউটার ইত্যাদি।
৩. মিডিয়াম বা মাধ্যম- টেলিফোন/ফাইবার অপটিক ক্যাবল, রেডিও/মাইক্রোওয়েভ ইত্যাদি।
৪. রিসিভার বা গ্রাহক যন্ত্র- টেলিফোন এচেঞ্জ, মডেম, রাউটার ইত্যাদি।
৫. গন্তব্য বা ডেস্টিনেশন (আউটপুট ট্রান্সডিউসার ও তথ্য গন্তব্য)- লাউড স্পিকার, টেলিফোন, কম্পিউটার ইত্যাদি।