'আবার আসিব ফিরে' কবিতায় কবি হাঁস হতে চেয়েছেন।
জন্মভূমি বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ কবি মৃত্যুর পর কীভাবে ফিরে আসতে চান, সেই কথা বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত পঙ্ক্তিটি ব্যবহার করেছেন।
কবি বলেন, বাংলার সব অপরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যেই তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে। মৃত্যুর পর স্বদেশের প্রতি গভীর ভালোবাসার টানে প্রকৃতির নানা অনুষঙ্গে কবি নিজের অস্তিত্ব ফিরে পেতে চান। সন্ধ্যায় ডুবে যাওয়া সূর্যের রঙিন আলোয় আকাশে ছড়ানো মেঘগুলোও রঙিন হয়ে যায়। আর সেই রাঙা মেঘ সাঁতরে নীড়ে ফেরে সাদা বক। কবি সেই সাদা বকের মতো এই বাংলায় ফিরে আসতে চান।
উদ্দীপকের অংশ-১ এ 'আবার আসিব ফিরে' কবিতার বাংলা প্রকৃতির চিরন্তন রূপময়তা এবং মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার ভাবটি ফুটে উঠেছে।
মানুষ মাত্রই জন্মভূমিকে ভালোবাসে। জন্মভূমি প্রকৃতি তাই মানুষের এত আপন। দেশের গাছপালা, ফুলপাখি, তরুলতা ইত্যাদির রূপ-বৈচিত্র্য তাই আমাদের এত মুগ্ধ করে।
উদ্দীপকে বাংলা মায়ের অপরূপ রূপের কথা বলা হয়েছে। বাংলা মায়ের ফুল-ফসল, কাদা-মাটি-জলে যে অপূর্ণ রূপলাবণ্য মিশে রয়েছে তা দেখে কবি বিমোহিত। উদ্দীপকের এই দিকটি 'আবার আসিব ফিরে' কবিতায়ও উঠে এসেছে। কবি বাংলাদেশের প্রকৃতির চিরন্তন রূপকে তুলে এনেছেন। ধানসিঁড়ি নদী, শঙ্খচিল, শালিক, ভোরের ডাক, কুয়াশা ভেজা ভোরের কাঁঠাল পাতায় কৃষকের ধান কাটার স্বপ্নপূরণের শাশ্বত চিত্র ইত্যাদি কবিতায় ফুটে উঠেছে। কবিতার এই দিকটির সাথেই উদ্দীপকের অংশ ১-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকের অংশ-২ 'আবার আসিব ফিরে' কবিতায় মূলভাবেরই প্রকাশ- উক্তিটি যথার্থ।
বাংলা প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্য আমাদের মন ভুলায়। আমরা যেন মাতৃভূমির সৌন্দর্যকে ভালো না বেসে থাকতে পারি না। এদেশের বুকে জন্ম নিয়েছি, আবার এখানেই আমরা মরতে চাই। মাতৃভূমির সঙ্গে আমাদের রয়েছে এমনই অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক।
উদ্দীপকের অংশ ২-এ কবির অত্যুজ্জ্বল স্বদেশপ্রেম প্রকাশ পেয়েছে। কবি তার দেশকে এতটাই ভালোবাসেন যে এদেশ তিনি জন্মেছেন এবং এদেশেই মৃত্যুবরণ করতে চান। এ ভাবটি 'আবার আসিব ফিরে' কবিতার মূলভাবেরই প্রকাশ। কারণ আলোচ্য কবিতায়ও কবি বলেছেন মৃত্যুর পরও জন্মভূমির সাথে তার সম্পর্ক শেষ হবে না।
'আবার আসিব ফিরে' কবিতায় কবি দেখিয়েছেন যে, তিনি এদেশকে খুবই ভালোবাসেন। তিনি মনে করেন- যখন তাঁর মৃত্যু হবে তখন দেশের সঙ্গে তার মমতার বাঁধন শেষ হবে না। তিনি বাংলার রূপময় প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যাবেন। কবিতার এই মূল কথাটি উদ্দীপকের ২নং অংশে প্রকাশ পেয়েছে। সুতরাং বলা যায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
Related Question
View Allউঠানে খইয়ের ধান ছড়ায় এক শিশু।
কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলার প্রকৃতির সাথে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকতে চান বলে মানুষ না হলেও শঙ্খচিল বা শালিকের বেশে এদেশে ফিরে আসতে চান।
কবি জানেন, মৃত্যুর মধ্য একদিন তাঁকে এদেশ থেকে বিদায় নিতে হবে। কিন্তু কবি তাঁর দেশকে ভালোবাসেন। প্রিয় জন্মভূমির অত্যন্ত সাধারণ জিনিসগুলোও তাঁর দৃষ্টিতে সুন্দর হয়ে ধরা পড়েছে। তিনি এদেশের বিভিন্ন রূপবৈচিত্র্যের অনুষঙ্গ হয়ে আবার ফিরে আসতে চান। তিনি তাই বলেন যে, মানুষ হয়ে তিনি আর এদেশে ফিরে আসতে না পারলেও প্রকৃতির বুকে শঙ্খচিল বা শালিকের বেশে ফিরে আসবেন।
'আবার আসিব ফিরে' কবিতায় উদ্দীপকের ফরাসি জাতির দেশপ্রেমের দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করে।
জন্মভূমির সন্তানদের কাছে জন্মভূমির অত্যন্ত সাধারণ জিনিসগুলোও অনেক মূল্যবান। মানুষ তাই প্রিয় জন্মভূমির রূপময় প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যেতে চায়।
'আবার আসিব ফিরে' কবিতায় উদ্দীপকের ফরাসি জাতির দেশপ্রেমের দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করে। অমিত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চ শিক্ষার্থে ফ্রান্সে যায়। সেখানকার সুপ্রশস্ত রাজপথ, উদ্যান, নির্মল প্রকৃতি তার খুবই ভালো লাগে। রাস্তাঘাট, রেলস্টেশন, বাস-স্টপেজ সব জায়গায় দেশি-বিদেশি স্মরণীয় ব্যক্তিবর্গের মূর্তি স্থাপনের মধ্য দিয়ে ফরাসিদের দেশপ্রেম প্রকাশ পায় যা 'আবার আসিব ফিরে' কবিতার কবি জীবনানন্দ দাশের দেশপ্রেমের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবিও বাংলাকে ভালোবেসে বাংলার প্রকৃতি ও পরিবেশের সৌন্দর্য প্রকাশ করেছেন। তাই বলা যায় যে, 'আবার আসিব ফিরে' কবিতাটি উদ্দীপকের ফরাসি জাতির দেশপ্রেমের দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করে।
"অমিতের অনুভূতি আর জীবনানন্দ দাশের অনুভূতি সম্পূর্ণ ভিন্ন"- উক্তিটি যথার্থ।
জন্মভূমির প্রতি সবার অনুভূতি এক নয়। অনেকেই বিদেশে গিয়ে জন্মভূমিকে ছেড়ে থাকতে পারে না। আবার অনেকে বিদেশের সৌন্দর্যে মোহাচ্ছন্ন হয়ে জন্মভূমিকে ভুলতে বসে।
উদ্দীপকের অমিত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চ শিক্ষার্থে ফ্রান্সে যায়। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের সুপ্রশস্ত রাজপথ, বিচিত্র উদ্যান, নির্মল প্রকৃতি তার খুবই ভালো লাগে। তাদের ক্যাফে, মিউজিয়াম সবকিছুই তাকে আকৃষ্ট করে। উচ্চশিক্ষা শেষ করে অমিত স্থায়ীভাবে ফ্রান্সে থেকে যায়। ফরাসি সৌন্দর্যের মোহে ক্রমশ ধূসর হয়ে যায় তার স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা, স্বদেশের স্মৃতি। উদ্দীপকের অনুভূতি ও চেতনা সম্পূর্ণভাবে জীবনানন্দ দাশের চেতনা ও অনুভূতি থেকে ভিন্ন। কারণ দেশকে ভালোবেসে কবি পুনরায় যেকোনো রূপে স্বদেশে ফিরে আসতে চান।
'আবার আসিব ফিরে' কবিতার কবি তাঁর নিজের দেশকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। জন্মভূমির অতি তুচ্ছ জিনিসগুলো তাঁর দৃষ্টিতে সুন্দর হয়ে ধরা পড়েছে। উদ্দীপকের অমিত উচ্চশিক্ষার্থে ফ্রান্সে গিয়ে সেখানকার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তার অতীতের স্মৃতি ধূসর হয়ে যায়। আর কবি মৃত্যুর পরও শঙ্খচিল বা শালিকের বেশে হলেও ফিরে আসতে চান তাঁর জন্মভূমির রূপময় আকর্ষণের টানে। এ বিষয় থেকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, অমিতের অনুভূতি আর জীবনানন্দ দাশের অনুভূতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।
'আবার আসিব ফিরে' কবিতাটি 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
'বাংলার সবুজ করুণ ডাঙা' বলতে সবুজ প্রকৃতি ঘেরা বিষণ্ণ বাংলাদেশকে বোঝানো হয়েছে।
কবি জীবনানন্দ দাশের চোখে তাঁর জন্মভূমি সবচেয়ে সুন্দর। চারদিকে সবুজের ছড়াছড়ি। অসম্ভব সৌন্দর্যের মাঝে বিষণ্ণতাও থাকে। সেই সৌন্দর্য ও বিষণ্ণতা এক সঙ্গে প্রকাশ করতে কবি বাংলাকে সবুজ করুণ ডাঙ্গা আখ্যায়িত করে উক্তিটি করেছেন। তবে যেমনই হোক তিনি মৃত্যুর পরেও এই বাংলায় ফিরে আসতে চান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!