অংশ- ১ : দেহের খাদ্য ভাত ও রুটি
মনের খাদ্য কই?
খুঁজতে গিয়ে পাই যে আমি
নানান রকম বই।

অংশ-২ : যে কবিতা শুনতে জানে না
সে ঝড়ের আর্তনাদ শুনবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে।

Updated: 2 months ago
উত্তরঃ

বইপড়া প্রবন্ধ অনুসারে, যারা কেবলমাত্র পরীক্ষা পাসের জন্য বই পড়ে এবং পাশ করার পর আর বই পড়ে না, তাদের আমরা নিষ্কর্মার দলে ফেলে দেই।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কেবল শারীরিক পুষ্টি বা জাগতিক জ্ঞানার্জন নয়, বরং মনের প্রসার ও আত্মিক উন্নতিও বটে। সাহিত্য চর্চা মানুষের মনকে আলোকিত করে, চিন্তা-চেতনাকে শাণিত করে এবং জীবনের গভীর অর্থ উপলব্ধি করতে সাহায্য করে, তাই এটিকে শিক্ষার প্রধান অঙ্গ বলা হয়েছে।

প্রদত্ত উদ্দীপকে "মনের খাদ্য" হিসেবে বই ও কবিতার কথা বলা হয়েছে। শারীরিক সুস্থতার জন্য যেমন ভাত-রুটি অপরিহার্য, তেমনই মানসিক সমৃদ্ধি ও পূর্ণাঙ্গ বিকাশের জন্য সাহিত্য চর্চা অত্যাবশ্যক। যে ব্যক্তি সাহিত্যের রস আস্বাদনে অক্ষম, সে জীবনের সৌন্দর্য, গভীরতা ও মুক্তি থেকে বঞ্চিত হয় এবং মানসিকভাবে পরাধীন থেকে যায়। এ কারণে সাহিত্য চর্চাকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়।

Satt AI
Satt AI
5 days ago
উত্তরঃ

প্রমথ চৌধুরীর 'বইপড়া' প্রবন্ধে মূলত মনের খোরাক হিসেবে বই পড়ার অপরিহার্যতা ও মুক্তচিন্তা বিকাশে এর গুরুত্বকে তুলে ধরা হয়েছে। লেখক মনে করেন, দেহের সুস্থতার জন্য যেমন খাদ্যের প্রয়োজন, তেমনি মনের সুস্থতা ও বিকাশের জন্য বই পড়া একান্ত আবশ্যক। একমাত্র বই পড়েই মানুষ জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং নিজস্ব বিচারবুদ্ধির অধিকারী হতে পারে, যা তাকে প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থার দাসত্ব থেকে মুক্তি দেয়।

উদ্দীপকের অংশ-১ এ বর্ণিত "দেহের খাদ্য ভাত ও রুটি, মনের খাদ্য কই? খুঁজতে গিয়ে পাই যে আমি নানান রকম বই" পঙক্তিগুলোর মাধ্যমে 'বইপড়া' প্রবন্ধের এই বিশেষ দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে দেহের সঙ্গে মনের খাদ্যের তুলনা করা হয়েছে। দৈহিক চাহিদা পূরণে ভাত-রুটির যেমন কোনো বিকল্প নেই, তেমনি মানসিক ও আত্মিক বিকাশের জন্য বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। বই মানুষের মনের ক্ষুধা নিবারণ করে, তাকে উদার ও সংবেদনশীল করে তোলে।

প্রমথ চৌধুরী তাঁর প্রবন্ধে বলেছেন, প্রচলিত শিক্ষা মানুষকে সার্টিফিকেট অর্জনে সাহায্য করলেও প্রকৃত জ্ঞানার্জনে ততটা সহায়ক নয়। কিন্তু স্বেচ্ছায় বই পড়লে মানুষ নিজের মন ও বুদ্ধির বিকাশ ঘটাতে পারে, যা তাকে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। উদ্দীপকের উল্লিখিত পঙক্তিগুলো সেই সত্যটিই প্রকাশ করে যে, মনের অন্বেষণ ও বিকাশের প্রধান মাধ্যম হলো বই, যা মানুষকে স্বাধীন চিন্তাশীল করে তোলে এবং জীবনের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে সাহায্য করে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের অংশ-২ এ সাহিত্য বিমুখদের প্রতি লেখকের গভীর বক্তব্য অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। সাহিত্যবিমুখতার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে লেখক এখানে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

অংশ-২ এ লেখক কবিতার প্রতি উদাসীন ব্যক্তিকে উদ্দেশ করে বলেছেন, "যে কবিতা শুনতে জানে না সে ঝড়ের আর্তনাদ শুনবে," "যে কবিতা শুনতে জানে না সে দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে" এবং "যে কবিতা শুনতে জানে না সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে।" এই পঙ্‌ক্তিগুলোর মাধ্যমে লেখক স্পষ্টতই বুঝিয়েছেন যে, যারা সাহিত্যচর্চা বা শিল্প-সংস্কৃতির রস আস্বাদনে বিমুখ, তারা জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য ও গভীরতা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়।

সাহিত্য মানুষকে সংবেদনশীল করে তোলে, চিন্তার জগতকে প্রসারিত করে এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে। সাহিত্যের অভাবে মানুষের মন সংকীর্ণ হয়, কল্পনাশক্তি লোপ পায় এবং তারা বাস্তবতার গভীরে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে তারা নিজেদের অজান্তেই অজ্ঞতা ও কূপমণ্ডূকতার অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে, যা ঝড়ের আর্তনাদের মতো এক অস্থির ও অর্থহীন জীবনের প্রতিচ্ছবি। তারা স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা হারায় এবং মানসিকভাবে পরাধীন হয়ে পড়ে, যা 'আজন্ম ক্রীতদাস' হওয়ার নামান্তর। দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া মানে জীবনের বিশালতা ও সম্ভাবনার দিকগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা।

সুতরাং, উদ্দীপকের অংশ-২ এ সাহিত্য বিমুখদের প্রতি লেখকের ক্ষোভ, হতাশা এবং একইসাথে তাদের পরিণতি সম্পর্কে সতর্কবাণী অত্যন্ত কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। লেখক মূলত সাহিত্যের অপরিহার্যতা ও মানব জীবনে এর গুরুত্ব বোঝাতে চেয়েছেন।

Satt AI
Satt AI
5 days ago
69

Related Question

View All
উত্তরঃ

'পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার'- কথাটির মধ্য দিয়ে লেখক বাষ্প্রতিবন্ধী সুভার বিয়ের বয়স হওয়া সত্ত্বেও বিয়ে দিতে না পারায় পিতা-মাতার হৃদয়ের নীরব কষ্টকে বোঝাতে চেয়েছেন।

সুভা বাণীকন্ঠের ছোট মেয়ে। সে কথা বলতে পারে না। বাণীকণ্ঠ তার বড় দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ায় ছোট মেয়ে সুভাকে বিয়ে দিতে পারেননি। তাই সুভার ভবিষ্যৎ নিয়ে বাণীকণ্ঠ এবং তার স্ত্রী উভয়েই চিন্তিত। সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে তাদের হৃদয়ে নীরব কষ্ট সৃষ্টি হয়। লেখক সেই কষ্টকেই বলেছেন- পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার।

10.8k
উত্তরঃ

উদ্দীপকের প্রথম অংশের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার শারীরিক প্রতিবন্ধিতার দিকটির সংগতি দেখানো হয়েছে।

শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে অনেকে সমাজে অবহেলার শিকার হয়। এতে সমাজের মানুষ হীনম্মন্যতার পরিচয় দেয়। প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহানুভূশীল হলে তবেই তারা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে এবং সমাজে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারবে।

'সুভা' গল্পে সুভা কথা বলতে পারে না। আনন্দের বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে এলেও কথা বলতে না পারার বিষয়টি কিছুটা সুভার বাবা- মায়ের মনে নীরব হৃদয়ভারের জন্ম দেয়। উদ্দীপকের কল্যাণীর জন্মও পরিবারে আনন্দ নিয়ে আসে। কিন্তু তার মানসিক প্রতিবন্ধিতার দিকটি সবাইকে চিন্তিত করে তোলে। তার মানসিক বিকাশ কিছুটা কম হয়েছে। 'সুভা' গল্পের সুভাও বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার পরিবারের সবার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে উদ্দীপকের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার প্রতিবন্ধিতার দিকটি সংগতিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

7.7k
উত্তরঃ

কল্যাণী ও সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন- মন্তব্যটি যথার্থ।

শারীরিক প্রতিবন্ধীরা আমাদের সমাজে বিভিন্নভাবে অবহেলার সম্মুখীন হয়। তারা আমাদের সমাজেরই অংশ, আমাদের মতোই মানুষ। তাই তাদের কল্যাণে এগিয়ে আসা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের সহানুভূতি পেলে তারা জীবনের পূর্ণতা লাভ করবে।

উদ্দীপকে কল্যাণীর মানসিক বিকাশ ঠিকভাবে ঘটেনি। বিয়ের কথাবার্তায় তার বাবা পলাশ বাবু বরপক্ষের কাছে সে সব কথা খুলে বলেন। তারা সব শুনে উদারতার পরিচয় দেন। বরের বাবা সুবোধ বাবু মহত্ত্বের পরিচয় দিয়ে কল্যাণীকে ঘরে নিয়ে যেতে চান। অন্যদিকে 'সুভা' গল্পের সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী। সে কথা বলতে পারে না। সবার কাছ থেকে অবহেলা পেলেও সুভা তার বাবার ভালোবাসা পেয়েছে। সুভার সাথে কেউ মেশে না বলে সে পোষা প্রাণীদের মাঝে নিজের একটি বিশাল জগৎ তৈরি করেছে।

উদ্দীপকের কল্যাণী ও 'সুভা' গল্পের সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন। কল্যাণী সুবোধ বাবুর উদারতায় পেয়েছে সুন্দর ভবিষ্যতের সন্ধান। অথচ 'সুভা' গল্পের সুভার পরিণতি এতটা মানবিকতায় সিক্ত হয়নি। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

5.9k
উত্তরঃ

শঙ্খের মধ্যে যেমন সমুদ্রের শব্দ শুনা যায়, তেমনি এই লাইব্রেরির মধ্যে কি হৃদয়ের উত্থানপতনের শব্দ শুনিতেছ

8.1k
উত্তরঃ

‘জীবিত ও মৃত ব্যক্তির হৃদয় পাশাপাশি এক পাড়ায় বাস করিতেছে’ – উক্তিটির মাধ্যমে গ্রন্থাগার বা বইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। বইয়ের পাতায় মৃত বা বিগত প্রজন্মের জ্ঞানী-গুণী মানুষের চিন্তা, দর্শন, অভিজ্ঞতা ও সৃষ্টিশীলতা সংরক্ষিত থাকে। যখন একজন জীবিত পাঠক সেই বই পড়েন, তখন যেন মৃত লেখকের হৃদয় বা মননের সাথে জীবিত পাঠকের মনের নিবিড় সংযোগ ঘটে।

এভাবে বইয়ের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা জীবিত প্রজন্মের মধ্যে প্রবাহিত হয়, যা মানবজাতির নিরন্তর জ্ঞানচর্চাকে সম্ভব করে তোলে। লেখক এবং পাঠকের এই আত্মিক মিলনকে তুলনা করা হয়েছে একই পাড়ায় বসবাস করা হৃদয়ের সাথে, যেখানে সময় ও স্থানের বাধা অতিক্রম করে জ্ঞান ও উপলব্ধির এক নিরন্তর বিনিময় ঘটে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
6.1k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews