বিমা হচ্ছে এক ধরনের চুক্তি, যার মাধ্যমে একপক্ষ অপরপক্ষকে প্রতিদানের বিনিময়ে (প্রিমিয়ামের বিনিময়ে) কোনো দুর্ঘটনায় ক্ষতিজনিত আর্থিক ঝুঁকি বহনের অঙ্গীকার করে।
বিমাকৃত বিষয়বস্তুতে বিমাগ্রহীতার স্বার্থ থাকায় বিমা ব্যবসায়ে বিমাযোগ্য স্বার্থ গুরুত্বপূর্ণ।
বিমাকৃত বিষয়বস্তুতে বিমাগ্রহীতার আর্থিক স্বার্থকে বিমাযোগ্য স্বার্থ বলে। আইনানুযায়ী বিমা একটি বৈধ ব্যবসায়। অসুস্থ মৃতপ্রায় কোনো ব্যক্তির জীবন বা অন্যের সম্পত্তি বিমা করে বিমা প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আদায় করা গেলে তা জুয়াখেলা হতো। কিন্তু বিমার ক্ষেত্রে বিমাকৃত বিষয়বস্তুতে বিমাগ্রহীতার আর্থিক স্বার্থ থাকে। এই স্বার্থকে আর্থিকভাবে সুরক্ষিত করতেই বিমার উদ্ভব হয়।
উদ্দীপকে বিমাগ্রহীতা মূল্যায়িত নৌ বিমাপত্র সংগ্রহ করেছিলেন।
এক্ষেত্রে বিমা চুক্তির সময় বিষয়বস্তুর মূল্য নির্ধারণ করা হয়। উক্ত মূল্যের ওপর বিমাপত্র সংগ্রহ করা হয়। বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিমাকারী বিমা মূল্যের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিয়ে থাকে।
উদ্দীপকে অগ্রগতি নামের একটি লঞ্চ পদ্মা নদীতে ডুবে গেছে। তবে লঞ্চটি বিমা করা ছিল। সেটির মালিক এর মূল্য ৫০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে বিমা করেছিলেন। তিনি বিমাদাবি উপস্থাপন করলে বিমাকারী প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেয়। এক্ষেত্রে অগ্রগতি লঞ্চের মালিক বিমাকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। তাই বলা যায়, অগ্রগতি লঞ্চের মালিক মূল্যায়িত নৌ বিমাপত্র গ্রহণ করেছিলেন।
বিমার স্থলাভিষিক্তকরণ নীতি অনুযায়ী লঞ্চ মালিকের উদ্ধার করা লঞ্চ হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানানো অযৌক্তিক ছিল।
এ নীতি অনুযায়ী বিমাগ্রহীতার দাবি (সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ) পরিশোধের পর উদ্ধার করা সম্পদের মালিকানা বিমাকারী লাভ করে। সম্পত্তি বিমার ক্ষেত্রে এ ধরনের নীতি প্রযোজ্য হয়।
উদ্দীপকে অগ্রগতি নামের একটি লঞ্চ ৫০ লাখ টাকায় বিমা করা হয়। কিন্তু লঞ্চটি পদ্মা নদীতে ডুবে যায়। বিমাকারী প্রতিষ্ঠান এর সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেয়। পরবর্তীতে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধার করা হয়। সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণের ফলে অগ্রগতি লঞ্চের ওপর এর প্রকৃত মালিকের আর কোনো অধিকার নেই। এখন লঞ্চের উদ্ধার করা অংশের মালিক হয়েছে বিমাকারী প্রতিষ্ঠান। তাই উদ্ধার করা লঞ্চটি হস্তান্তরে এটির মালিকের অস্বীকৃতি জানানো বিমার নীতি অনুযায়ী যৌক্তিক হয়নি।
Related Question
View Allজাহাজ ও জাহাজস্থিত পণ্যকে সামুদ্রিক বিপদের হাত থেকে রক্ষার জন্য বাহিত পণ্যের অংশবিশেষ সমুদ্রে ফেলে দেওয়াই পণ্য নিক্ষেপণ।
নৌ-বিপদের কারণে জাহাজ ও পরিবহন কোম্পানির সম্ভাব্য দায়ের বিপরীতে যে বিমা করা হয় তাকে নৌ দায় বিমা বলে।
পণ্য পরিবহনকালে জাহাজের কর্মচারীদের অসততা বা অবহেলার কারণে ক্ষতি হলে তার দায়ভার জাহাজ বা মালিকের ওপর পড়ে। এছাড়াও, নৌ-বিপদের কারণে জাহাজে কর্মকর্তা কর্মীদের শারীরিক ক্ষতি, জাহাজ বন্দরে ভিড়ানোর সময় অন্য জাহাজ বা সম্পত্তির ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ সব ঝুঁকি থেকে জাহাজ মালিকদের রক্ষা করার জন্য নৌ-দায় বিমা করা হয়।
উদ্দীপকে জাহাজটিকে প্রাকৃতিক নৌবিপদ মোকাবিলা করতে হয়েছে।
সমুদ্রপথে জাহাজ চলাকালে প্রাকৃতিক লকারণে সংঘটিত বিপর্যয়কে প্রাকৃতিক নৌবিপদ বলে। এরূপ বিপদে মানুষের কোনো হাত নেই। সতর্ক হওয়ার আগেই অনেক সময় এরূপ বিপদ ঘটে থাকে।
উদ্দীপকে তানিন শিপিং লি.-এর একটি পণ্য বোঝাই জাহাজ ০১-০৯-১৮ তারিখে যাত্রা শুরু করে। পথিমধ্যে একটি ভাসমান বরফ খণ্ডের সাথে ধাক্কা লেগে জাহাজটি নিমজ্জিত হয়। সামুদ্রিক ঝড়, সমুদ্রগর্ভে নিমজ্জিত পাহাড়ের সঙ্গে ধাক্কা লাগা, ভাসমান বরফ খণ্ডের সাথে ধাক্কা লাগা, প্রভৃতি প্রাকৃতিক নৌবিপদের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং, উদ্দীপকে জাহাজটিকে প্রাকৃতিক নৌবিপদ মোকাবিলা করতে হয়েছে।
উদ্দীপকে তানিন শিপিং লি. মাশুল বা ভাড়া বিমা না করায় মাশুল আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে।
জাহাজ ভাড়াজনিত ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যে বিমা করা হয় তাকে মাশুল বিমা বলা হয়। জাহাজের মালিক আর্থিক ক্ষতি মোকাবিলা করার জন্য এ বিমা গ্রহণ করে থাকে। জাহাজ ও পণ্য বিমার মত এটিও নৌ-বিমার আওতাভুক্ত। উদ্দীপকে তানিন শিপিং লি.-এর একটি পণ্য বোঝাই জাহাজ যথাসময়ে যাত্রা শুরু করে। যাত্রা শুরুর সময় জাহাজের ধাক্কাজনিত বিপদের জন্য বিমাচুক্তি করা হয়। পথিমধ্যে একটি ভাসমান বরফখণ্ডের সাথে ধাক্কা লেগে জাহাজটি নিমজ্জিত হয়। পরবর্তীতে, প্রতিষ্ঠানটি জাহাজ ও পণ্যের জন্য ক্ষতিপূরণ পেলেও মাশুল আদায় করতে পারেনি।
জাহাজ পরিবাহিত পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হলে পণ্যের মালিক জাহাজ ভাড়া পরিশোধ করতে চায় না। ফলে জাহাজ মালিক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই তারা মাশুল বিমা করে। উদ্দীপকে তানিন শিপিং লি. মাশুলের জন্য বিমা না করে শুধু জাহাজ ও পণ্যের জন্য বিমা করে। তাই বলা যায়, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে মাশুল আদায়ে ব্যর্থতা যৌক্তিক।
নৌ-বিপদের কারণে জাহাজ ও পরিবহন কোম্পানির সম্ভাব্য দায়ের বিপরীতে যে বিমা করা হয় তাকে নৌ দায় বিমা বলে।
জাহাজ বা জাহাজস্থ পণ্যকে বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে বাহিত পণ্যের অংশবিশেষ সমুদ্রে ফেলে দেওয়াকে পণ্য নিক্ষেপণ বলে।
এর মুখ্য উদ্দেশ্য পণ্যবাহী জাহাজকে কিছুটা হালকা করে ডুবে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা। এটি একটি সাধারণ আংশিক ক্ষতি। বিমাকারী আনুপাতিক হারে এ ক্ষতি পূরণ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!